NTMC ভাইবা পরীক্ষা || NTMC Viva Exma 04-02-2021

NTMC 4th February Viva Exam Summary. ৪ ফেব্রুয়ারী ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার এর ভাইবা পরীক্ষার অভিজ্ঞতা। 

National Telecommunication Monitoring Center (NTMC) যেটাকে বাংলায় বলা হয় ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশান মনিটরিং সেন্টার। মূলত জাতীয় নিরাপত্তার সার্থে এটি কাজ করে। ফেইসবুক, ইউটিউব, যোগাযোগের সকল মাধ্যম ব্যবহার করে কেউ যেন দেশকে পিছিয়ে দিতে না পারে সেই ব্যবস্থাটাকে নজরদারি করাই মূলত এই সংস্থার কাজ। 

NTMC Viva Exma 04-02-2021


অবস্থানঃ পুরানো বিমান বন্দর এলাকায় অবস্থিত। সহজেই যদি বলা হয় তবে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর গেটের রাস্তার অপজিট পাশে এটি অবস্থিত। যদিও এই প্রতিষ্ঠানের বড় কোন সাইনবোর্ড লাগানো হয় নাই এখনও এবং ভেতরে কাজ চলছি। 

ভাইবা পরীক্ষা একেক জনের একেক রকম হয় তবে আমি যেটা বর্ণনা করছি সেটার মতই যে সবার হবে বিষয়টা তেমন না। যাইহোক মূল আলোচনায় আসা যাক। 


২.৩০ মিনিটে অনুষ্টিত হবে ভাইবা বিধায় একটু আগেই যাওয়ার চেষ্টা করলাম এবং ১টার কিছু সময় পর সঠিক বললে ১.৩০ মিনিটের দিকে সেখানে পৌঁছালাম। তারপর রাস্তার অপজিটে জিজ্ঞেস করার পর সেখানকার সিকিউরিটি সিস্টেম শেষ করার পর আরও অপেক্ষায় আছেন এমন ব্যাক্তিদের সাথে বসা হলো। ভাইবা সম্ভবত আরও আগে থেকেই নেওয়া হচ্ছে যদিও দিনের শেষ ব্যাচ আমরাই। এখন একসাথে ১০ জন ভাইবা দেবে আর এর আগের কতজন দিয়েছে আর কতজনই বা টিকেছে সেটা জানানো হয় নাই। অর্থ্যৎ কত মার্কস আর রেজাল্ট কি এসব কোন তথ্যই জানানো হয় নাই। 


৪ ফেব্রুয়ারী বাংলাদেশ ও ওয়েস্টইন্ডিজের টেস্ট চলছি আর তখন বাংলাদেশের শেষ ব্যাটিং চলছি তো আমি আবার কত ওভার খেলেছে আর কত রান করেছে এবং কে সবচেয়ে বেশি রান করেছে সেটা দেখে নিলাম যদি কোন কারণে জিজ্ঞেস করে সেটার জন্য। আমার জন্য এটাই ছিল আমার প্রথম ভাইবা তারপর আরও কয়েকজনের সাথে পরিচিত হওয়ার চেষ্টা করলাম। তারাও আমার মতই অনেকেই তবে বেশিভাগই আসছে ঢাকার বাইরে থেকে। অপেক্ষার করতে করতে ২.৩০ এর দিকে আমাদেরকে নিয়ে যাওয়া হলো ভাইবা নেওয়ার স্থানে। সেখানে ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে ঢুকতে হয় সকল গেটে। আমার ফিঙ্গার প্রিন্ট কোন গেটেই নেয় নাই তবে অন্যদেরটা দিয়ে আমি সকল গেট অতিক্রম করেছি। তারপর কিছু সময় দেরিতে শুরু হলো ভাইবা একজন ভেতরে প্রবেশ করলেন আর আমাদেরকে দেওয়া হলো কফি। 


প্রথম জনের মনে হয় ২০ মিনিটের মত লেগেছিল তবে এত বেশি সময় লাগা দেখে মনে করা হয়েছি টাইপিং টেস্টটাও নেওয়া হচ্ছে মনে হয়। তারপর আমাদেরকে সিরিয়াল জানানো হলো এবং আমার সিরিয়াল ছিল ৯ নাম্বারে। রুমে বসে থাকা অবস্থায় আমার কোন টেনশান কাজ করছি না তবে সিভি নিয়ে যাওয়া হয় নাই এটার জন্য আমি চিন্তিত ছিলাম। কারণ একজনকে শুনলাম বলতেছে ফোন করে আপনাকে জানানো হয় নাই কি কি নিয়ে আসতে হবে আপনার ভাইবা বোর্ডে। তারপরেও আমি আবার আমার নরমাল তথ্যগুলো একটা কাগজে লিখে রাখলাম যেখানে হয়তো সিভি দেখতে চাইলে বলবো, “স্যার ফোনে জানানো হয়েছি তবে আমার ভুলের জন্যই আমি নিয়ে আসি নাই এজন্য দুঃখিত।” যদিও এটা বলার পিপারেশান ছিল আমার। 


ভাইবার রুমে যাওয়ার আগে আমি যেখানে বসে ছিলাম সেখান থেকে একটা মনিটরে একটা স্লোগান দেওয়া ছিল সেটা হলো “সবার আগে দেশ” অর্থ্যৎ এই সংস্থার স্লোগান হলো এইটা। তবে ভাইবা বোর্ডে যাওয়ার আগে নিজেদের মধ্যে বেশ কিছুটা কথা হয়েছিল আমরা যারা আসছিলাম এবং বেশিভাগেই টাইপিং প্রাকটিস নেই যেটা দেখে মনে হলো। তবে আমার যেহেতু আছে তাই আমি একটু নিজেকে অন্যদের থেকে ভালো অবস্থানে মনে করছিলাম।


যাইহোক তারপর আমাকে যখন ডাকা হলো আমি তখন গেটে গিয়ে মাস্কটা খুলে ভেতরে ঢুকেছিলাম কারণ আরেকজনকে মাস্ক ছাড়াই বের হতে দেখলাম। তো গিয়েই আমাকে বলা হলো আপনার মাস্ক কোথায় তো আমি বললাম স্যার আরেকজনকে মাস্ক ছাড়া দেখে আমি আগেই খুলে ভেতরে ঢুকছি। তারপর আমার ডিটেইলস দেখে আমার থেকে কাগজপত্রগুলো নিয়ে তারা দেখছে আর আমাকে প্রশ্ন করছে। 


ভাইবা স্যারঃ Rakibul Islam. Describe Yourself two minutes. 

আমিঃ ্প্রশ্নের উত্তরটা বাংলায় বলতে গিয়ে আমাকে থামানো হলো এবং ইংরেজীতে বলার জন্য বলা হলো। আমি যদিও উপস্থাপনাটা ঠিকমতো করতে পারি নাই তবে নিজের নামসহ আরও কিছু তথ্য বললাম। তারপর ….

ভাইবা স্যারঃ এর আগে আপনি ভাইবা দেন নাই ?

আমিঃ জি না স্যার। এটাই আমার প্রথম ভাইবা। 

ভাইবা স্যারঃ আপনি কত সালে পড়াশোনা শেষ করেছেন ? 

আমিঃ ২০১৯ সালে। 

ভাইবা স্যারঃ ২০১৯ সালের কোন মাসে ?

আমিঃ ২০১৯ সালের মার্চ মাসে। 

ভাইবা স্যারঃ আপনার বাবা কি করেন ? 

আমিঃ স্যার আমার বাবা মসজিদের ইমাম। 

ভাইবা স্যারঃ কোথায় ইমামতি করান। 

আমিঃ স্যার, কুষ্টিয়াতে একটা মসজিদে ইমামতি করেন। 

ভাইবা স্যারঃ বেতন কত টাকা পান ? 

আমিঃ স্যার, ……. টাকা পান। 

ভাইবা স্যারঃ আপনারা কয় ভাইবোন ? 

আমিঃ স্যার, আমরা দুই ভাই ও এক বোন। 

ভাইবা স্যারঃ আপনার পজিশান কত ? 

আমিঃ স্যার, আমিই সবার বড়। 

ভাইবা স্যারঃ তারপর ?

আমিঃ স্যার, তারপর আমার বোন এবং সবার ছোট আমার ছোট ভাই। 

ভাইবা স্যারঃ তারা কি করে ? 

আমিঃ স্যার, আমার বোনের বিয়ে হয়েছে আর ছোট ভাই গত বছর এসএসসি পাস করেছে। 

ভাইবা স্যারঃ কোথায় বিয়ে হয়েছে ? 

আমিঃ গ্রামেই হয়েছে। 

ভাইবা স্যারঃ ছেলে কি করে ? 

আমিঃ কৃষি কাজ আগে বিদেশ ছিল। 

ভাইবা স্যারঃ ছোট ভাই কি মাদ্রাসাতে পড়েছে ? 

আমিঃ জি না স্যার। সে জেনারেল লাইনে পড়েছে। 


ভাইবা স্যারঃ মাদ্রাসায় কেন পড়ে নাই ? 

আমিঃ স্যার ওকে দেওয়া হয়েছিল কিন্তু সে নিজেই পড়ে নাই। 

ভাইবা স্যারঃ কেন ? 

আমিঃ স্যার, সে নিজেই পড়ে নাই একবার মাদ্রাসায় দেওয়া হয়েছিল কিন্তু না পড়ার কারণে আমি আর জোর করি নাই। আমি নিজেই পরে তাকে জেনারেলে পড়ার জন্য বলেছি। 

ভাইবা স্যারঃ আপনি দাড়ি রেখেছেন কেন ?

আমিঃ আমি উত্তর দেওয়ার আগেই তিনিই বললেন “ওহ আপনার বাবা তো মসজিদের ইমাম।” 

ভাইবা স্যারঃ ঢাকায় কতদিন আর কি করেন ?

আমিঃ পড়াশোনা শেষে আমি একটা স্কুলের সাথে যুক্ত আর পাশাপাশি টিউশানি ও কোচিং করাই। 

ভাইবা স্যারঃ কি ধরনের স্কুল ? 

আমিঃ স্যার, ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত সরকার অনুমোদিত কিন্ডারগার্টেন আর ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হয় সেখানে।

ভাইবা স্যারঃ আপনি কি কি ক্লাস নেন ?

আমিঃ আইসিটি ও ম্যাথ ক্লাস আমি নেই স্যার। 

ভাইবা স্যারঃ রাউটার ও সুইচের মধ্যে পার্থক্য কি বলেন ?

আমিঃ তারপর উত্তরটা বললাম। যদিও উত্তরটা ওনার কাছে একদম পারফেক্ট মনে হয় নাই। 

ভাইবা স্যারঃ ওএস এর লেয়ার কয়টা ? 

আমিঃ আমি উত্তরটা দিলাম। যদিও নামগুলো আমার মনে নেই এই মূহূত্বে সেটাও বললাম। 

(আমার উত্তরগুলো ভয়ে ভয়ে হওয়ার কারণে একজন ভাইবা স্যার আমাকে হাত উপরে উঠানো সহ আমি পাচ্ছি কেন জিজ্ঞেস করলেন। আমার প্রথম এইটা বললাম তবে ওনারা আমাকে ভয় না পাওয়ার আর গল্প করা হচ্ছে এরকমই বললেন। তারপরও যদিও সামনে ৫ জন আমি একেবারেই নতুন ‍যদিও সাহস রাখা উচিত ছিল।) 


ভাইবা স্যারঃ স্কুলে কত বেতন পান ? 

আমিঃ স্যার ……. বেতন পায়। 

ভাইবা স্যারঃ ঢাকায় তাহলে কিভাবে খরচ বহন করেন ? (যদিও প্রশ্নটা সঠিক মনে নেই)

আমিঃ কোচিং করাই আর অনলাইনে কাজ করি একটু। 

ভাইবা স্যারঃ কি কাজ করেন অনলাইনে ? 

আমিঃ ওয়েবসাইটের কাজ করি। আর আর্টিকেল রাইটিং করি।

ভাইবা স্যারঃ আপনি দেখাতে পারবেন এখন ওয়েবসাইটটা ? 

আমিঃ জি স্যার। 


এর পরে এক স্যার আমাকে তার মোবাইল ফোনটা দিলেন এবং আমি আমার ওয়েব সাইটের লিংকটা দিলাম এবং তিনি এটা আমার কিনা বললেন। আমি বললাম ওখানে কনট্রাক্ট িএ আমার ছবি ও ডিটেইলস দেওয়া আছে। তার ওনি সেখান থেকে কি ধরনের লিখা লিখি, কোথায় থেকে লিখি, বিষয় কি ? কত টাকা আয় হয় ? কিভাবে আয় করেন ? কত ভিউ হয় ? আরও ছোট ছোট প্রশ্ন করেন। 


যদিও আমি লিখাগুলো অনেক সহজেই লিখলাম তবে ওখানকার উপস্থাপনাটা আমার মনে হয়েছে তেমন ভালো হয় নাই। তবে ্পরিবেশ ও প্রথম ভাইবা হিসেবে অভিজ্ঞতা হলো এটাই আমার কাছে প্রাপ্তি। টেবিলে আমার খাতাটাও রাখা ছিল দেখলাম। তারপর আমাকে আমার ফাইলটা দেওয়া হলো। যদিও সামনে ল্যাপটপ ছিল আর আমি যেহেতু লিখালিখি করি তাই আমাকে আর লিখতে বলা হলো না যতটুকু মনে হলো। জানি না ভাইবাটাতে চাকরী হবে কিনা তবে চাকরী হওয়া না হওয়াটা আমার কাছে ‍মূল বিষয় ছিল না তবে অভিজ্ঞতা হয়েছে এটাই আসল কথা। 




বি. দ্র. একজনের অভিজ্ঞতা এখানে শেয়ার করা হয়েছে যদিও ব্যক্তি বিশেষে আলাদা। 

Leave a Comment