তরুণদের সরকারী চাকুরীতে আগ্রহের কারণ

বাংলাদেশের মানুষ বর্তমানে একটা সরকারী চাকরীকে সোনার হরিণের সাথে তুলনা করে থাকে। তারা মনে করে একটা সরকারী চাকরী পেলেই জীবন ধন্য। ২০১৫ সালে সরকারী বেতন প্রক্রিয়া বৃদ্ধির কারণে আগ্রহের পরিমাণাটা আরও বেড়েছে। ২০১৫ সালে সরকারী কর্মচারীদের বেতন প্রায় ১০০% বৃদ্ধি করা হয়। একটা সময় সরকারী কর্মচারীদের বেতন কম হওয়ার কারণে অনেকেই চাকরীতে এত বেশি আগ্রহ ছিল না যা বর্তমানে দেখা যাচ্ছে। এখন সরকারী চাকরী পাওয়ার জন্য অনেকেই ইউইনিভারসিটিতে পড়াশোনার শুরুর বছর থেকেই আবেদন করে থাকে। আর এই আবেদন করার পেছনে পরিবারের অনেক চাপ থাকে অনেকের। আজকের আর্টিকেলটিতে আলোচনা করবো কেন এত বেশি আগ্রহ আমাদের দেশের তরুনদের। আর কেনই বা তরুন সমাজ একটা সরকারী চাকরীকে এত বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে। একটা জরিপে দেখা গেছে কম্পানির চাকরীতে বেতন বেশি হওয়ার পরেও অনেকেই কম্পানিতে চাকরী করতে আগ্রহী হয় না তারা সবাই সরকারী চাকরীর প্রতি বেশি আকর্ষন অনুভব করে। বর্তমান সময়ে সরকারী চাকরীর বেতন বাড়ানোর কারণে সেই আগ্রহের পরিমাণটা অনেক বেড়েছে। 

 

তরুণদের সরকারী চাকুরীতে আগ্রহের কারণ

দেশ স্বাধানী হওয়ার আগে পূর্ব পাকিস্থান ও পশ্চিম পাকিস্থানের মধ্যে সরকারী চাকরীর ক্ষেত্রে কোটা পদ্ধতি ছিল আমাদের দেশে ২০১৮ সালে যেটা বাতিল করা হলেও এখনও পুরোপুরি তা কার্যকর হতে দেখা যায় নাই। আসলে তখনকার সময়ে সরকারী চাকরীর পরিমাণটাও অনেক ছিল এবং এত বেশি কম্পানি ছিল না বিধায় আগ্রহের একটা কারণ ছিল। ২০০৫ এর সময়টাতেও অনেকেই সরকারী চাকরীর চাইতে কম্পানির চাকরীকেই বেশি মূল্যায়ন করতো। এমন কি যারা প্রাইভেট ইউনিভারসিটিতে পড়ে তাদের অনেক বড় একটা অংশ যারা কম্পানিতে আবেদন করতো আর সরকারীতে আবেদনই করতো না। অথচ এখন যারা সরকারী ইউনিভারসিটিতে পড়ে বা যারা প্রাইভেট ইউনিভারসিটিতে পড়ে তারা সবাই ই সরকারী চাকরীর জন্য আবেদন করে থাকে। 

 

কিছুদিন আগে একটা জরিপের ফল প্রকাশ করেছে সেখানে বলা হয়েছে, আমাদের দেশে প্রতি বছর প্রায় নতুন পুরাতন মিলে ৩০ লক্ষ লোক কর্মবাজারে আসে। যার মধ্যে সরকারীভাবে সর্বোচ্চ্য ২৫ হাজার নিয়োগ পেয়ে থাকে। বেসরকারী বা কম্পানিতে নিয়োগ পেয়ে থাকে ১০ লক্ষ এবং বিদেশেী চাকরীর জন্য যায় প্রায় ৫ লক্ষ। এবং বাকি অংশটা বেকার থাকে। এখন প্রশ্ন আসতে পারে এত কম সরকারীতে নিযোগ পাওয়ার পরেও কেন এত বেশি আগ্রহ। এই বিষয়টা নিয়েই আজকে আলোচনা করবো ইনশাআল্লাহ। চলুন আলোচনা করা যাক কিছু কারণ যার জন্য আমাদের দেশের মানুষ সরকারী চাকরীর প্রতি এত বেশি আকৃষ্ট। 

 

(ক) নেতৃত্ব দানের অংশ 

আমাদের দেশের মানুষ সরকারী চাকরী পাওয়ার পরে মনে করে সে একজন নেতা। সরকারী চাকরী মানে বলা হয় জনগনের সেবক বা জনগনের চাকর। কিন্তু আমাদের দেশে সরকারী চাকরী বা কোন পজিশান পাওয়ার অর্থ মনে করা হয় সে একজন নেতার মত তার অনেক ক্ষমতা আছে সে এই ক্ষমতার মাধ্যমে নেতৃত্ব প্রদান করতে পারবেন। আর নেতৃত্ব বা সবাই তাকে বড় মনে করবে এই বিষয়টার কারণে অনেকেই মনে করে সরকারী চাকরীটা অনেক ভালো এবং আবেদন করে একটা চাকরী সেও পেতে চায়। আর একটা বিষয় হলো একজন জিলা প্রশাসক বা শিক্ষা অফিসার যখন এলাকায় যায় তখন সরকারী গাড়ি বা সিকিউরিটি পায় যার কারণে সে নিজেকে সবার বড় ভাবতে শুরু করে এবং এলাকায় একটা আলাদা মর্যদাও পায় যার কারণেও অনেক যুবক সমাজ সরকারী চাকরীর প্রতি আগ্রহী হয়। একজন সরকারী চাকরীজীবির ভেতরে শাসক শ্রেণির একটা ভাব চলে আসে অনেক সময় সরকারী পুলিশ বা বিভিন্ন কর্মচারীরা জনগনের সেবার পরিবর্তে বিভিন্ন ভাবে ভয় ভীতি দেখাতে পারে বা জনগনও তাদেরকে ভয় পায় যার কারণে অনেকেই আগ্রহী হয় সরকারী চাকরীর প্রতি। 

 

(খ) চাকরীর নিরাপত্তা 

আমি যদি নিরাপত্তার দিক থেকে চিন্তা করি তবে বলাই যায় সরকারী চাকরী অনেক বেশি নিরাপদ। এখানে আপনি চাকরী পাওয়ার পর একটা নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত চাকরী করতে পারবেন। এখন সেটা ৬৫ বছর করা হয়েছে আর এর মধ্যে চাকরী চলে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। একবার চাকরীতে ঢোকার পর শেষ বয়স পর্যন্ত আপনি চাকরী করতে পারবেন যেটা কোন কম্পানিতে করা হয় না। আর কম্পানিতে আপনার যোগ্যতা অনুসারে কাজের উপর ভিত্তি করে বেতন নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। আপনি যতদিন সার্ভিস ভালো দিতে পারবেন ততদিনই আপনি কম্পানিতে কাজ করতে পারবেন। কম্পানিতে চাকরী পাওয়া আগেই আপনাকে সেই কাজের যোগ্যতার জন্য পরীক্ষা দিতে হয় কিন্তু বর্তমানে সরকারী বিভিন্ন চাকরীর ক্ষেত্রে চাকরী পাওয়ার পরে তাকে ট্রেইনিং করে সেই কাজের জন্য যোগ্য করা হয়। সেই ক্ষেত্রে কম্পানির চাইতে সরকার অনেক বেশি দায়বদ্ধ। কোন কম্পানিকে পাওয়া যায় নাই এমন যে তারা চাকরীতে ঢোকার পরে ট্রেইনিং করে সেটার যোগ্য করে গড়ে তুলবে অথচ প্রত্যেকটা সরকারী চাকরী পাওয়ার পর কয়েক মাস পর্যন্ত ট্রেইনিং করানো হয়। এই দিক থেকে বিবেচনা করলে সরকারী চাকরী কম্পানির চাইতে অনেক বেশি নিরাপদ। কম্পানির চাকরীর আবেদন করতে অনেক সময় যোগ্যতা বা অভিজ্ঞতার সনদপত্র লাগে যেটা সরকারী চাকরীতে লাগে না। 

 

তরুণদের সরকারী চাকুরীতে আগ্রহের কারণ ৪

(গ) বিয়ের বাজারে আলাদা দাম

বর্তমান সময়ে একজন সরকারী চাকরীজীবির সাথে সকল অভিভাবকই বিয়ে দিতে রাজি হয়। বিয়ে করার জন্য ভালো পাত্রী নির্বাচন করার আগে যে কোন একটা সরকারী চাকরী পাওয়াটা অনেক জরুরী। হোক অনেক চোট পোস্ট এর নাম যদি হয় সরকারী চাকরী তবে বিয়ের জন্য মেয়ে পাওয়াটা অনেক সহজ হয়ে যায়। যে কোন মেয়ের অভিভাবকই একজন সরকারী চাকুরীজীবির সাথে মেয়েকে বিয়ে দিতে রাজি হয়। বর্তমান সময়ে কম্পানির চাকরীজীবির সাথে মেয়েকে খুব কম মানুষই বিয়ে দিতে চায়। অভিভাবকরা মনে করেন সরকারী চাকরী মানেই চাকরীর নিশ্চয়তা অনেক বেশি আর সিকিউরিটিটাও অনেক বেশি তাই তারা বিয়ের ক্ষেত্রে সরকারী চাকরী করে এমন পাত্রকে বেশি মূল্যায়ন করে থাকে। কারণ অভিভাবকরা মনে করেন কম্পানির চারকীর কোন নিশ্চয়তা নেই। এই বছরের শুরুর দিকে আমার পরিচিত একজন নরমাল সরকারী একটা চাকরী পাওয়ার ট্রেইনিং থাকা অবস্থাতেই সে বিয়ে করে ফেলে অথচ তার বয়স ৩০ এর কাছাকাছি একটা মাত্র চাকরী না থাকার কারণে সে এতদিন বিয়ে করতে পারে নাই। চাকরীটা যে অনেক বড় পোস্ট এ বিষয়টা সেটাও নয় তবে নাম হলো সরকারী চাকরী। বর্তমানে কম্পানির চাকরীটা অনেক কঠিন কারণ বেতন অনুসারে অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হয় যার কারণে দেখা যাচ্ছে যে চাকরীর পাশাপাশি কোন কিছু করার কোন সুযোগই থাকে না। সরকারী চাকরীর জন্য সময়টা অনেক কম লাগে আর আপনি পাশাপাশি কোন কাজ করলেও করতে পারবেন বিধায় অনেকেই সরকারী চাকরীর প্রতি বেশি আগ্রহী হয়ে থাকে। 

 

(ঘ) দ্রুত আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন 

কিছুদিন আগের ঘটনা একজনকে প্রশ্ন করেছিলাম কেন আপনি সরকারী চাকরী করতে আগ্রহী। সে টাকার বিনিময়েও চাকরী পেতে আগ্রহী। সে আমাকে জানিয়েছিল যে, অন্য ব্যবসাতে ইনভেস্ট করার চাইতে সরকারী চাকরীতে ইনভেস্ট করা অনেক সুবিধার কারণ এখানে ইনভেস্ট করার মাধ্যমে সেই টাকাটা দুর্নিতি করে অনেক দ্রুত উঠানো যায়। ২০২০ সালের মাঝমাঝি সময়ে দুর্নিতি দমন কমিশান কানাডাতে বাড়ি আছে এমন একটা লিস্ট বের করেছিল। যাদের মধ্যে ৩০ এর বেশি নাম যারা সরকারী বিভিন্ন পোস্ট এ চাকরী করে এরকম নাম আসছিল। আসলে একজন সরকারী চাকরীজীবির যা বেতন তাতে এত দ্রুত উন্নতি করা সম্ভব নয় দুর্নিতি করা ছাড়া। আর কম্পানিতে দুর্নিতি করার কোন সুযোগ নেই কারণ কম্পানির মালিক নিজেই তা নজরদারি করে থাকেন। ২০১৫ সালের আগে দুর্নিতি বেড়ে যাওয়ার কারণে সরকার সরকারী চাকরীজীবিদের বেতন ডাবল করার সিদ্ধান্ত নেয় যেন তারা টাকার অভাবে দুর্নিতি না করে তবে এটার পরেও দুর্নিতি কমে নাই বরং আগের থেকে আরও বেড়েছে। আসলে এখানে টাকা দিয়ে চাকরী নিলেও সেই টাকাটা উঠাতে অনেক কম সময় লাগে যার কারণে অনেকেই সরকারী চাকরী পেতে আগ্রহী হয়ে থাকে। তবে ইদানিং বিভিন্ন কম্পানিও সরকারী চাকরীর মত সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে যার কারণে দেখা যাচ্ছে যে, কম্পানির চাকরী পেতে গেলেও আপনারকে মোটা অংকের টাকা দিতে হবে। বেকারের সংখ্যা যখন বেড়ে যায় তখন এ রকম সমস্যাগুলোও বাড়তে থাকে। আর আমাদের মত দেশে জনসংখ্যার তুলনায় চাকরীর বাজারে চাকরীর সংখ্যাটা অনেক কম তবে আগের থেকে অনেক বেড়েছে । 

 

(ঙ) অনেক ভালো সম্মান পাওয়া যায় 

উপরের পয়েন্টগুলো যদি আপনি পড়েন তাহলে হয়তো আপনি বুঝতে পারছেন কতটা সম্মানের চাকরী এই সরকারী চাকরীটা। আর এই কারণেই অনেকেই সরকারী চাকরীটাকেই প্রধান লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করে থাকে। একটা সরকারী চাকরীজীবির সম্মান অনেক বেশি যিনি সব জায়গাতে সম্মান পেয়ে থাকেন অনেক বেশি পরিমানে। আমি গত বছরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে গিয়েছিলাম সেখানে গিয়ে দেখলাম সেখানকার অফিস সহায়ক পদে আছেন যিনি তিনি অনেক সুন্দর পোশাক করে আছেন তাকে দেখে মনেই হচ্ছে না যে সে এখানকার অফিস সহায়ক এর চাকরী করেন। আর এই বিষয়টা দেখেই আমি ভাবলাম হয়তো পোস্ট ছোট কিন্তু তার সম্মানটা অনেক বেশি যেটা কম্পানির চাকরীতে বেতন বেশি হলেও পাওয়া যায় না। তাছাড়াও বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা তো আছেই যেটা সরকারী চাকরীজীবিরা পেয়ে থাকেন। 

তরুণদের সরকারী চাকুরীতে আগ্রহের কারণ ৩

 

(চ) সামাজিক মর্যদা 

অনেকেই মনে করেন যে পরিবারে একজন সরকারী চাকরীজীবি থাকা মানেই সেই পরিবার সামাজিকভাবে অনেক ভালো বা বড়। সমাজ সেই পরিবারটাকে অনেক ভালোভাবে দেখে এবং একটা পরিবারের কোন সন্তান যদি বড় কোন সরকারী অফিসার হয়ে থাকে তখন সে যেমন পরিবারের কাছে দামী হয় তেমনি দামী হয় তার সমাজের কাছে। সামাজিক বিভিন্ন কাজ বা বিভিন্ন ধরনের সেবামূলক কাছে তাকে ডাকা ও তার মতামত নেওয়া হয়। বর্তমানে আমাদের দেশের সর্বোচ্চ্য বিদ্যাপিঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদেরকে জিজ্ঞেস করলে দেখা যাবে যে, তারা সকলেই সারকারী চাকরীতে বেশি আগ্রহী এবং তারা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি থেকে শুরু করে চেষ্টা করে বি সি এস পরীক্ষার প্রস্তুতি। তাদেরকে জিজ্ঞেস করলে দেখা যাবে তারা তাদের পরিবারের কথা ভেবেই পড়াশোনা চলাকালিন সময় থেকেই প্রস্তুতি নেয় বিভিন্ন সরকারী চাকরীর জন্য। সামাজিক মর্যদা ও সমাজে ভালো মূল্যায়ন পাওয়ার জন্য হলেও সবাই আগ্রহী হয়ে উঠে সরকারী চাকরীর প্রতি। ২০১০ সালের দিকেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সরকারী চাকরীতে এত বেশি আগ্রহী ছিল না যতটা বর্তমানে দেখা যায়। অনেক সময় দেখা যায় যে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বড় ভাইয়েরা ছোটদেরকে বোঝায় বলে সরকারী চাকরী করার জন্য এসব নানা কারণে আসলে আমাদের দেশের তরুনরা সরকারী চাকরীর প্রতি আগ্রহী। 

 

(ছ) ঝুকি নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না 

অনেক বড় একটা বিষয় হলো আপনি নিজেকে কোন ঝুকির মধ্যে রাখতে চান না। কারণ একজন উদ্যোক্তাকে সব সময়ই টেনশানে থাকতে হয় এবং বিভিন্ন সময় তার অনেক মানসিক চাপ নিতে হয় এবং সে নিজেকে অনেক বেশি দায়িত্বশীল হিসেবে মনে করে পরিবারের কাছে। আর এসব ঝুকি নেওয়ার হাত থেকে বাচার জন্য হলেও অনেকেই একটা সরকারী চাকরীর প্রত্যাশা করে থাকে। সরকারী চাকরীতে কোন ঝুকি নিতে হয় না আর এখানে আপনি একবার চাকরী পেলে সারাজীবন সিকিউর লাইফ লিড করতে পারবেন এই বিশ্বাস থেকেই এত বেশি আগ্রহ। কম্পানির চাকরী চলে যাওয়ার একটা আসংখ্যা থাকে বা উদ্যোক্তা বা কোন ব্যবসা করতে গেলে রিক্স বেশি থাকে যার কারণে একজন মানুষ পড়াশোনার শেষের দিকে এসেই সরকারী চাকরীর জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকে। 

 

(জ) লোভ 

অর্থনীতিবিদরা মনে করেন শুধু নিরাপত্তা, বেতন বেশি এসব কারণেই নয় অনেক সময় আছে লোভের কারণেও সরকারী চাকরীর প্রতি তরুনদের আগ্রহ অনেক বেশি থাকে। কারণ তারা সরকারী চাকরীর প্রত্যাশার মধ্যেও যেসকল চাকরী অনেক বড় পজিশানের যেমন, বিসিএসের কাস্টমস, বা জেলা প্রশাসন ক্যাডার এসব বড় বড় পোস্ট এ আসার প্রবনতাটা অনেক বেশি। কারণ এসব প্রফেশানে বেতন যেমন বেশি তেমনি টাকা আসার বা আয়ের সুযোগটাও বেশি। অর্থনীতিবিদরা মনে করেন একজন সৎ সরকারী কর্মকর্তা অনেক বেশি ভালো এবং সে দেশের সম্পদ হিসেবে কাজ করে থাকে যেখানে একজন অসৎ সরকারী কর্মকর্তা হুমকি স্বরূপ। ২০১৫ এর আগে যেখানে বেতন ছিল ১১ হাজার টাকা আর ২০১৫ সালের পরে সেই বেতন ২২ হাজার টাকা অর্থ্যৎ ডাবল বেতন হওয়ার কারণে অনেকেই মনে করেন বেসরকারী চাকরীর চাইতে সরকারী চাকরীতেই বেতন বেশি। টাকা-পয়সার প্রতি অনেক বেশি আগ্রহ বা লোভ থাকার কারণেও বর্তমানে ঘুষ বা দুর্নিতি করে হলেও একটা সরকারী চাকরীর প্রত্যাশা করে থাকে। কোন বেসরকারী চাকরীতে চিকিৎসা ভাতা, বাড়িভাড়া, টিফিনবেতন এসব দেয় না তাদের বেতনের একটা অংশ থেকে কেটে রাখা হয় আর সরকারী চাকরীতে এসব যুক্ত করে দেখা যাচ্ছে যেন অনেক বেশি টাকা মাসিক বেতন হিসেবে পেয়ে থাকে। 

 

তরুণদের সরকারী চাকুরীতে আগ্রহের কারণ ১

২০১৫ সালের পর ব্যক্তিমালিকানা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অবস্থা খুব বেশি ভালো ছিল না যার প্রভাব বর্তমানে চলছে। যার কারণে অনেক বেশি মানুষ বেকার হচ্ছে যার কারণে তারা সরকারীতে আবেদন করে একটা চাকরীর আশায় ব্যস্ত হয়ে পড়ছে। ৩৭তম থেকে শুরু করে বিসিএসগুলোর নিয়োগ ও আবেদনের সংখ্যাটা দেখলে আপনি বুঝবেন একটা পদের বিপরীতে কতটা আবেদন জমা পড়েছে। আমি ২০২০ সালের প্রাইমারির নিয়োগটা যদি বলি আপনাকে তবে দেখে থাকে প্রায় ১৩ লক্ষ এর কিছু কমবেশি হবে আবেদন করেছে। অথচ পদ আছে মোট ৩২ হাজারের মত। এর আগের বিসিএস অর্থ্যৎ ৪১তম বিসিএসে আবেদনের সংখ্যাটা যদি দেখেন তবে বুঝবেন সরকারী চাকরীর প্রতি কি পরিমাণ ঝোক আছে আমাদের মধ্যে। আসলে এর সবগুলো কারণ এখানে সম্ভব না তবে উপরে সে সকল কারণ বলা হয়েছে এগুলোই অন্যতম। আমরা দেশের চাইতে নিজের প্রতি বেশি চিন্তাশীল যার কারণে আমরা নিজেদের জীবনের সিকিউরিটি নিয়ে অনেক বেশি চিন্তিত। ১৫ বছর আগেও যখন একজন মানুষ সরকারীতে আবেদনই উঠাতেন না তিনি মনে করতেন সরকারী চাকরী করলে সন্তানদের লালন-পালন করতে পারবো না অথচ তার ৫ বছর পর থেকেই কি এমন পরিবর্তণ আসলো যেখানে সবাই একটা সরকারী চাকরীর জন্য উঠে পড়ে লেগেছে এমন কি আপনি যদি একটা চাকরীর জন্য ৫ লক্ষ বা ১০ লক্ষ টাকা চেয়ে বসে সেটা পর্যণ্ত নিতেও রাজি অনেকেই। 

 

আসলে এসবের কারণগুলোই উপরে বলা হয়েছে। একটা বিষয় লক্ষ্য করলে দেখবেন আপনি ১০ লক্ষ টাকা যদি একটা ব্যাংকেও রেখে দেন তাহলেও প্রতিমাসে ভালো টাকা পাবেন অথচ আপনি সেটা না করে সরকারী চাকরীর জন্য দিতে প্রস্তুত হয়ে যাচ্ছেন। এসব বিষয়গুলো দিনদিন আমাদের মধ্যে অনেক বাড়তেছে যেটা আসলে আমার মনে হয় দেশের জন্য কল্যাণকর হবে না তার অন্যতম কারণ আমরা দেশপ্রেমী যতটা তার চাইতেও বেশি আত্মপ্রেমী যার কারণেই বর্তমানে দুর্নিতির দমন কমিশানে গেলে দেখা যায় দুর্নিতি করার লোকগুলোর মধ্যে বেশিভাগই সরকারী বিভিন্ন কর্মচারী বা কর্মকর্তা। এরা ছোট বড় পোস্ট এ চাকরী করে সামান্য অর্থের লোভে নিজের দেশের সাথে প্রতারনা করছে। অনেক সময় জনগনকে সেবার দেওয়ার নামে তারা এটাকে নিজেদের অর্থ উপর্জনের মাধ্যম হিসেবে মনে করছে। আসলে এই মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসার এতটা সহজ হবে না কারণ বেসরকারী খাত আস্তে আস্তে উন্নতি থেকে ‍দূরে সরে যাচ্ছে। বেসরকারী খাতের বেতন এখন অনেক সময় দেখা যায় সরকারী খাতের বেতন থেকে কম যার কারনে অনেকেই মনে করে বেসরকারীর চাইতে যেহেতু বেতন ও নিরাপত্তা সরকারী চাকরীতে বেশি সেহেতু চেষ্টা করে হলেও সরকারী চাকরীর প্রতি বেশি অগ্রসর হচ্ছে দিনদিন। 

 

তরুণদের সরকারী চাকুরীতে আগ্রহের কারণ ২

আমাদের দেশের কথায় বড় না হয়ে কাজে বড় হবে এসব কবিতার লাইনগুলো হারিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে দেশপ্রেম বা সমাজপ্রেমটাও হারিয়ে যাচ্ছে। আমার মনে হয় উপরের আলোচনা বা আর্টিকেল থেকে কেন এত বেশি আগ্রহ আমাদের তরুন সমাজের সরকারী চাকরীর প্রতি সেটা বুঝতে পারবেন। নিজেদের কোন মন্তব্য থাকলে অবশ্যই কমেন্ট এরমাধ্যমে জানাবেন। ধন্যবাদ মূল্যবান সময় দিয়ে পড়ার জন্য। 


Leave a Comment