১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানঃ কি ঘটেছিল ১৯৬৯ সালের আজকের এই দিনে

১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান কি ? ১৯৬৯ সালের ২৪ জানুয়ারী কি ঘটেছিল বাংলাদেশে ? অত্যাচার, নিপিড়ন থকে বাচার জন্যই মূলত হয়েছিল ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান। 

১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান কি ?

বাঙালীর রাজনৈতিক উদ্বিপনায় ভয়ে সংকিত হয় পাকিস্তান। মিথ্যা মামলায় আটক করে পূর্ব-পাকিস্তানের নেতাদেরকে। আর তাদের মুক্তির দাবিতে সোচ্চার হয় পূর্ব-পাকিস্তানের ছাত্র-সমাজ। জড়িয়ে পড়ে তীব্র প্রতিবাদে। ঢাকা ঢাকসুর নেতৃত্বে প্রগতিশীল ছাত্র-সংগঠনগুলো এক হয়ে গঠন করে স্টুডেন্ট একশান কমিটি। নেতাদের মুক্তি আর শ্রমজীবি মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে শুরু হয় গন অভ্যুত্থান যাকে আমরা ১৯৬৯ এর গনঅভ্যুত্থান বা ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান নামে শুনে থাকি। ইতিহাসে একে ৬৯ এর অভ্যুত্থান নামেই ডাকা হয়। 


১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান


নিপিড়িত মানুষের ক্ষোভ পরিণত হয় বাংলার মানুষের মুক্তির আন্দোলনে। মিছিল থামাতে গুলি চালায় পুলিশ। নিহত হয় ছাত্র নেতা আসাদ। আসাদের মৃত্যু পুরো দেশের মানুষের মাঝে তৈরি করে সংগ্রামের আগুন। ১৫ই ফেব্রুয়ারী আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা বন্দি থাকা সারজন জহুরুল হক নিহত হয়। তার মৃত্যুর সংবাদে লক্ষাধিক মানুষের জনসভায় মাওলানা ভাসানি ভাসন দেন তখন। তিনি বলেন ২ মাসের মধ্যে ১১ দফা দাবির বাস্তবায়ন েএবং সকল বন্দিদের মুক্তি না হলে খাজনা ও ট্যাক্স বন্ধ করে দেওয়া হবে। ১৮ই ফেব্রুয়ারী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. শামসুজ্জোহা নিহত হলে ছাত্র-জনতা নেমে আসে রাজপথে। রাজবন্দিদের নিঃসত্ব মুক্তি দিতে বাধ্য হয় তৎকালিন পাকিস্তানি সরকার। 

আইয়ুব খান ক্ষমতা তুলে দেন ইয়াহিয়া খানের হাতে। ঘনিয়ে আসে তখন ৭০ এর নির্বাচন। বাঙালি তখন অনুভব করে বাঙালির অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সব না পাওয়া দাবি আদায়ের। আর এভাবেই শুরু হয় বাঙালি এক নতুন জাতির। উপরের আলোচনাটি ছিল ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থানের সারাংশ ও এর ফলে নতুন এক জাতি গঠনের ইতিহাস। 

৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস কি ?

জানুয়ারী ১৯৬৯ এমনিতেই আগে থেকেই পূর্ব-পাকিস্থানে বা পূর্ব-বাংলায় অসন্তোস দানা বেধে রয়েছে। আর এই দানাতে ঘি পড়েছিল আগের বছর করা আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় গ্রেফতার দেখানো। ৪ই জানুয়ারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জন জহুরুল হক হল যেটা তখন ইকবাল হল নামে পরিচিত ছিল সেইদিনেই দেশের সবগুলো ছাত্র সংগঠন মিলে ছাত্র-সংগ্রাম নামের একটা কমিটি গঠন করে যেটাকে স্টুডেন্ট একশান কমিটিও বলা হয়। 

আর এই স্টুডেন্ট একশান কমিটি সেই হলে বসেই ৪ই জানুয়ারী ১৯৬৯ সালে বসে ১১ দফা দাবি চুড়ান্ত করে। এদিকে তখন মূল ধারার রাজনীতির নেতারা ৮ দফা দাবি পেশ করেছিল। কিন্তু ১৯৬৯ সালের ১৭ই জানুয়ারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমানে যেটি কলা ভবন সেখানের বটতলা বসে সে সফা করে যেটি কার্যত তখন অনেক বড় আকার ধারণ করে। ছাত্ররা ঐ দিন ছাত্রধর্মঘটের ডাক দেয়। 

এরই মধ্যে তখনকার ঢাকসুর ভিপি তোফায়েল আহম্মেদ অনেকটাই বদ্ধ পরিকর হয়েছিলেন আন্দোলনের বিষয়ে। বর্তমান নেতা তোফায়েল আহম্মেদ তখন নেতৃত্ব দেন সেই ছাত্র-সংগ্রাম পরিষদের। ‍

আরো পড়ুন >> এলার্জি সমস্যা ও সমাধান এবং চিকিৎসা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য।

আরো পড়ুন >> বাংলাদেশে যে প্রযুক্তিতে তৈরি হচ্ছে পরিবেশবান্ধব ভবন।

২০ জানুয়ারী ১৯৬৯ সাল। তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েল কলা ভবনের সামনে ছাত্র-সংগ্রাম পরিষদ একটি মিছিল নিয়ে হেটে হেটে ঢাকা মেডিকেলের জরুরী বিভাগের দিকে আসছিল আর সেই দিনেই ঢাকা ল কলেজের ছাত্র আসাদুজ্জামান তখন পুলিশের গুলিতে নিহত হন। ‍তখন তোফায়েল আহম্মেদ সেই আসাদের লাস শহীদ মিনারে নিয়ে সর্বদোলীয় ছাত্র-সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে শপথ নেন “তোমার এই রক্তা আমরা বৃথা যেতে দেবো না।” বলে। 

২১ জানুয়ারী ১৯৬৯ সাল। সেইদিন তিনদিনের কর্মসূচি দেওয়া হয়। এবং ২২ জানুয়ারী ১৯৬৯ এই দিনে সারাদেশের সকল বাড়িতেই কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। এবং ২৩ জানুয়ারী ১৯৬৯ এই দিনে ঢাকায় মশালের নগরিতে পরিণত হয়। ২৪ জানুয়ারী ১৯৬৯ সাল এই দিনটি ছিল হরতাল। ২৪ জানুয়ারী বেশ কয়েকজন নিহত হওয়ার ঘটনার পরপরই ঢাকার প্রতিটি রাস্তায় মানুষ নেমে আসতে শুরু করছিল। 

সেই দিনটিতে আগর তলায় মামলার আসামীদের বাড়িতে আগুন লাগানো হয়। আবার আগর তলার ষড়যন্ত্র মামলার বিচারপতির বাসাতেও আগুন দেওয়া হয় সেসময় বিচাপত্রি লুঙ্গি পরে বাসা থেকে পালিয়ে যান। সন্ধ্যায় আগুন ও ভাংচুর করা হয় পত্রিকা অফিসে। এভাবেই সেই সময় শুরু হয় সেই ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান।

তখন আন্দোলনের মুখে ফেব্রুয়ারীতে সকল রাজবন্দিদের মুক্তি দেওয়া হয়। এবং মার্চ মাসে আইয়ুব খান পদত্যাগ করে ক্ষমতা দেন ইয়াহিয়া খানকে। এভাবেই ৬৯ এর আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি জাতির নতুন একটা অধ্যায় রচিত হয়। 

আরো পড়ুন >> পদ্মা সেতুর ৪১ স্প্যানের বর্ননা।

আরো পড়ুন >> পদ্মা বহুমুখী সেতু সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা।

অনেক ধন্যবাদ মূল্যবান সময় নিয়ে আর্টিকেলটি পড়ার জন্য। আমাদের সাথে যোগাযোগের ঠিকানাঃ 

(১) ফেইসবুক আইডি = ডিজিটাল আইটি সেবা

(২) ফেইসবুক পেজ = ডিজিটাল আইটি সেবা

(৩) ফেইসবুক গ্রুপ = ডিজিটাল আইটি সেবা

(৪) ই-মেইল = [email protected]

Leave a Comment