সফল ব্যক্তিদের সকালের রুটিন কেমন হয়

সফল লোকেরা সকালে কী কী কাজ করে। দ্রুত সফলতার জন্য কি করা উচিত। সকল মানুষেরাই সফল হতে চায় কিন্তু সফল কি সবাই হতে পারে ? আসলে সফল হওয়া জন্য যা যা করা দরকার আমরা কি তাই করি ? 

successful morning


এসব প্রশ্ন সবার মনেই থাকে আর এসব প্রশ্ন নিয়েই আজকের আর্টিকেলটি। আর্টিকেলটি শুরু করার আগে ছোট একটি গল্প বলবো। গল্পটি হলোঃ 

গ্রামের চাষীরা পাট গাছ থেকে কিভাবে সোনালী আঁশ বের করে সেটা জানাবো গল্পের মাধ্যমে। আমি গ্রামের ছেলে বিধায় বিষয়টা আমার কাছে সহজ ছিল জানা। পাট গাছকে প্রথমে কেটে সুন্দর করে ছোট ছোট করে বেধে রাখা হয় তারপর সেগুলোকে একসাথে করে পানির নিচে উপরে কিছু চাপ দিয়ে রাখা হয়। একে গ্রামের ভাষায় জাগ দেওয়া বলা হয়। আপনারা সকলেই হয়তো জানবেন বিষয়টা। পানির নিচে ২০-২৫ দিনের মত রাখা হয় এসব পাটগাছকে। তারপর আবার সেগুলোকে সেখান থেকে বের করে গাছকে পিটিয়ে পিটিয়ে সেগুলোকে লাঠি দিয়ে পিটাতে হয় কিছূ সময়। 

তারপর যখন পাট গাছ থেকে আশগুলো ছাড়া ছাড়া হয় তখন পাটখড়ি বের করে নেওয়া হয় আর পাতলা আশকে রাখা হয় রোদে। এভাবে ভালো করে রোদে শুকানোর পর সেগুলোকে সুন্দর করে রেখে বাজারে বিক্রির উপযুক্ত করা হয়। এটা একটা প্রসেস মানে যাকে বলা হয় এটাই নিয়ম আর এভাবেই আমরা তৈরি করি সোনালী অর্থকারী ফসল। 

সফল ব্যক্তিদের ইতিহাস দেখলে এমনটাই পাওয়া যাবে সবার ক্ষেত্রেই। হয়তো পাট থেকে আশ বের করতে কয়েক ঘন্টা সময় লাগে কিন্তু এর পেছনে পাটগাছ বোপন করা, কেটে পানির নিচে রেখে দেওয়া, তারপর পাটকে পিটিয়ে আশ বের করা, তারপর আবার রোদে শুকিয়ে সুন্দর করে রাখা। এত সব প্রসেস কি একদিনেই সম্ভব বলে মনে হয় ? আসলে একদিনে হয় না এসব একটা নির্দিষ্ট সময় ধরে লেগে থাকতে হয় আর এমনটাই করে থাকেন সফল ব্যক্তিরা। তারাও নিজেদেরকে প্রথমে সুন্দর করে তৈরি করে নিজেকে সবার থেকে আলাদা করে রাখেন তারপর যখন সোনালী আশের মত হয় তখন তারা নিজেদেরকে সকলের সামনে নিয়ে আসেন। 

সফল ব্যক্তিরা মনে করেন নিজেকে প্রতিদিন Stress Free, Healthy & Productive রাখতে পারলে নিজের কাছ থেকে ভালো কিছু পাওয়া যায়। আর এই কারণেই তাদের সকালটা আমাদের মত হয় না। তারা নিয়মিত একটা রুটিন মেনে চলেন আর নিজের ব্যক্তিসত্ত্বকে সময় দেন। আমরা সবাই সকালে উঠেই প্রথমে মোবাইল চেক করি। আমরা আসলে মোবাইলের স্কিনে যাদেরকে দেখি তখন তাদের সকালটা আমাদের মত নয়। আর সকালে ঘুম থেকে উঠার ১০ মিনিট অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমি আজকে ১০ মিনিটের নিয়ম বা 10 Minute Rule নিয়ে কথা বলবো এখানে যা অনেক কার্যকরি। 

10 Minute Rule 

Get Some Water = 2 Minute সাকালে ঘুম থেকে উঠে আপনি যদি পারেন কিছু বা সামান্য পরিমাণে পানি পান করুন। আসলে আমাদের দেশে সকালে অনেকেই চা বা কফি পান করে থাকেন। আসলে ডাক্তাররা বলেন চা বা কফির চাইতে পানির উপকারীতা অনেক বেশি। আমাদের ব্রেনের কার্যক্ষমতা ঠিক রাখার জন্য পানি অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সারারাত ঘুমানোর কারণে আমরা তো পানি থেকে দূরেই থাকি তাই সকালে ঘুম থেকে এক গ্লাস পানি পান করা অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ। ডি-হাইড্রেশান থেকে বেচে থাকার জন্য পানির কোন বিকল্প নেই। মানসিকভাবে একটিভ থাকার জন্য আপনি এই নিয়মটি মেনে চলতে পারেন। 

Deep Breathing = 2 Minute অর্থ্যৎ নিজেকে কিছুটা সময় দিন নিজের শ্বাস-প্রশ্বাসের বিষয়ে। চুপ করে বসে নিজের শ্বাসটাকে নিজের নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসার চেষ্টা করুন। সময় ধরেই কাজটা আপনি করতে পারেন। শ্বাস প্রশ্বাসের কাজটা নিজে থেকেই চলতে থাকে বিধায় আমরা একে কোন গুরুত্ব দেয় না কিন্তু এটাকে গুরুত্ব দেওয়া অনেক জরুরী একটা বিষয়। 

কেন আমরা এই Deep Breathing বা শ্বাস প্রশ্বাসের কার্য চালাবো ?

একটা গবেষণায় দেখা গেছে আমরা যদি আমাদের এই শ্বাস-প্রশ্বাস কিছু সময় চালায় তবে আমাদের দেহে অক্সিজেনের কার্যকারি অনেক ভালো থাকে। আর Stress Response System টা ব্যালান্স হয়ে যাওয়ার জন্য এটা অনেক জরুরী একটা বিষয়। ডিপ্রেশান ও  Anxiety লেবেলটাও কম হওয়া শুরু করে এভাবে নিয়মিত চর্চা করার মাধ্যমে। তাই ডাক্তাররা বলেন আপনি সকালে দুই মিনিট যদি Deep Breathing করেন তাহলে নিজেকে একটা এনার্জি বা নিজের মানসিক কার্যক্ষমতাটা কে বাড়াতে পারবেন। 

So Some Stretching = 2 Minute স্ট্রেচিং বা ব্যায়াম করা। যদিও এটা অনেক সময় ধরে অনেকেই করে থাকে তবে আপনি মাত্র ২ মিনিটে করা হয় এরকম কোন ব্যায়াম শিখে নিয়ে করতে পারেন। আপনি যেহেতু বডি বিল্ডার হবেন না তাই আপনার দীর্ঘ সময় করার কোন প্রয়োজন নেই। শারীরিক ব্যায়াম অনেক উপকারী বলেও মনে করা হয় তাই আপনি ২ মিনিট সময় এর জন্য বরাদ্ধ করে রাখতে পারেন প্রতিদিন সকালে। 

Make a To Do List = 2 Minute অর্থ্যৎ আপনি সকালেই ঠিক করে নেবেন আপনি সারাদিন কি কি কাজ করবেন। হয়তো সব লিখা হবে না তবে আপনার কাজের মূল অংশগুলো ঠিক কের রাখবেন। অনেকেই এই কাজটা আগে মানে রাতেই করে রাখে। আপনি তাহলে এটা সকালে ২ মিনিটে চেক করে আপডেট করে রাখতে পারেন। আপনি যদি সকালে ঘুম থেকেই উঠেই ব্রেনকে বলে দেন সারাদিনের রুটিন তাহলে ব্রেন আগে থেকেই টিক করে রাখবে আপনাকে সেগুলো করার জন্য। 

Visualize = 2 Minute অর্থ্যৎ আপনি নিজেকে ধ্যানের মত সময় দিন ২ মিনিট। এই সময়টাতে আপনি আপনার সারাদিনের রুটিনটা দেখে নিতে পারেন আবার নিজেকে নিজের মত করে সময় দিতে পারেন মানে নিজেকে নিয়ে ভাববেন এই ২ মিনিট। চোখ বন্ধ করে আপনি আপনার কাজ, মিটিং, জিম করা, পড়াশোনা করা, অনলাইনের বিষয় সব দেখে নেবেন। নিজেকে গতকালকের চাইতে ভালো করে শুরু করুন আর নিজে কতটা সুন্দর মত করতে পারবেন সেটা নিজে নিজেকে বলুন। নিজেই নিজের সাথে কথা বলুন এই দুইটা মিনিট। 

আমি উপরে ৫টা কাজ প্রতিটা ২ মিনিট করে করার কথা বলেছি। আপনি নিয়মিত এই ৫টি কাজ ২ মিনিট করে করে দেখুন অনেক ভালো ফল পাবেন আশা করি। 

আর্টিকেলটি কেমন লাগলো জানাতে ভুলবেন না আশা করি আরও নতুন কিছু বিষয় নিয়ে আপনাকে জানাতে পারবে। আর আর্টিকেলগুলো সম্পর্কে আপনার মন্তব্য অবশ্যই লিখে জানাবেন। ধন্যবাদ মূল্যবান সময় নিয়ে আর্টিকেলটি পড়ার জন্য। 

Leave a Comment