লাইফে যে কোন স্টেজে ভালো করার ৭টি সিক্রেট উপায়

লাইফে ভালো করতে কে না চায়। সবার লাইফই ভালো হোক এটা সবাই চায়। লাইফে যে কোন স্টেজে ভালো করার ৭টি সিক্রেট উপায়।  সবার জন্য না হলেও কিছু জিনিস অনেকের জন্যই ভালো। আর এই ভালো জিনিসগুলো আমাদেরকেই বেছে নিতে হবে আর জানতে হবে কিছু নিয়ম যা আমাদেরকে অনেক কিছু ভালো করার জন্য সহযোগীতা করবে। 


লাইফে যে কোন স্টেজে ভালো করার ৭টি সিক্রেট উপায়


লাইফের যে কোন সময়ে ভালো করার জন্য কিছু পদ্ধতি বা নিয়ে জেনে রাখাটা অনেক জরুরী। দেখা যাচ্ছে যে, আপনি একটা সময় স্কুল থেকে কলেজে যাবেন, আবার কলেজ থেকে ভারসিটিতে যাবেন আবার ভারসিটি থেকে চাকরীতে যাবেন। যে কোন সময়েই আপনার সমস্যা আসতে পারে আর যে কোন সময়ে আপনাকে ভালো করার জন্য চেষ্টা করতে হবে। 


আরো পড়ুন >> সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তথ্যের ভূমিকা কেমন ?


আপনি যদি ভালো বা সফল হওয়ার এই ৭টি সিক্রেট জেনে রাখতে পারেন তবে আপনার জন্য লাইফের যে কোন স্টেজে ভালো করাটা অনেক সহজ হয়ে যাবে। আর এখানে আমি সেই সিক্রেটগুলোই আলোচনা করবো। 


(১) ফ্রেন্ড নির্বাচনে সতেচন হতে হবে

ফ্রেন্ড বা বন্ধু নির্বাচনে আমরা অনেকেই ভুল করে থাকি সাধারণত। আপনাকে প্রথমেই নির্বাচন করতে হবে কে সত্যিকারের ফ্রেন্ড আর কে সত্যিকারের ফ্রেন্ড নয় না বেছে নিতে হবে শুরুতেই। আমি বন্ধু নির্বাচনের জন্য একটা বিষয় বা বাক্যকে অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকি সেটা হলো, “অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ” অনেক সময় দেখবেন আপনাকে অনেকেই অনেক বেশি পছন্দ করছে। আপনার কাছে এসে আপনার প্রশংসা করছে এবং আপনাকে ভালো পরামর্শ দিচ্ছে এসব বিষয় দেখে থাকলে সেসব বন্ধু থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন। কারণ বন্ধু মানেই হলো সে যেমন আপনার ভালো সময় পাশে থাকবে তেমনি থাকবে মন্দ সময়টাতেও। 


একজন লেখক বলেছিলেন, “একটা ভালো বই একটা বন্ধুর মত আর একটা ভালো বন্ধু একটা লাইব্রেরীর মত।” আসলেও তাই আর এই ধরনের বন্ধু নির্বাচন করার ক্ষেত্রে আপনাকে অনেক বেশি কৌশলী হতে হবে এবং আপনাকে সেই বন্ধু সম্পর্কে জানতে হবে। কারণ বন্ধু সম্পর্কে সঠিকভাবে না জেনে আপনি তাকে বেশি কাছে নিতে পারবেন না। মনে রাখবেন ক্ষতির করার দিক থেকে বন্ধু সবচেয়ে এগিয়ে থাকে। 


আরো পড়ুন >> মধ্যবিত্ত মেয়েদের শিক্ষাজীবন।


বন্ধু নির্বাচনের জন্য লেনদেন অনেক বেশি গুরুত্বপূণ একটা বিষয়। কারণ লেনদেন করলে বন্ধু চেনা ও জানা যায়। আমাদের মধ্যে বন্ধু অনেকেরই আছে অনেক বেশি পরিমাণেই আছে তবে প্রকৃত বন্ধু কতজন আছে সেটাই আসল দেখার বিষয়। 


(২) ভালো মত কোন কিছু শেখা

বিষয়টা অনেক সহজ হলেও এর ভাবার্থটা অনেক বড়। আপনি অনেক কিছুই জানেন কিন্তু কোন কিছুতেই ভালো এক্সপার্ট না। আসলে আমাদেরকে অবশ্যই কোন কিছু শেখার সময় অনেক গুরুত্ব দিয়ে শিখতে হবে এবং সেটাকে অনেক ভালো করেই শিখতে হবে। আর সেটা যেন পরবর্তীতে কোন প্রয়োজনে নিজেদের কাজে ব্যবহার করতে পারি সেরকম বিষয়টা আমাদের মাথায় রাখতে হবে। তাই শিখুন সেইভাবে যেভাবে শিখলে আপনি নিজেকে একজন এক্সপার্ট হিসেবে গড়ে তুলতে পারবেন। 


আপনি যখন শিখবেন তখন খুব কার্যকরি একা উপায় হলো অনেক বেশি প্রশ্ন করে শেখা। কারণ প্রশ্ন করলে অনেক সময় একটিভ থাকা যায় আর অনেক কিছু বোঝাও যায়। আপনাকে অবশ্যই শেখার সময়গুলোতে যে বিষয়টা শিখছেন তা ভালোমত গভীরে গিয়ে শিখতে হবে। আমাদের মধ্যে ফ্রেন্ডদের মধ্যে অনেকেই আছে যারা অনেক বিষয়েয় অনেক দক্ষ তাই আমার ব্যক্তিগত পরামর্শ হবে আপনি তাদের কাছ থেকে সেই বিষয়গুলো শিখুন দক্ষ হওয়ার মত করে শিখুন যেন সেটাতে আপনি অনেক দক্ষতা অর্জন করতে পারেন প্রয়োজনে বেশি সময় নিয়ে শিখুন। 


আরো পড়ুন >> বর্তমানে যুবকরা কেন সরকারী চাকরীতে আগ্রহী।


(৩) অলস হতে হবে 

এটার ইংরেজী করলে হবে OLLS যাকে বাংলায় লিখলে অলস দেখায়। যদিও এই অলস হলো ইংরেজীর বাংলায় নামটা। যার অর্থটা অন্যরকম। OLLS = Observe Listen Learn & Skill এখানে এই চারা শব্দ দ্বারা বোঝানো হয়েছে যে, আপনি কোন কিছু প্রথমে বুঝবেন তারপর সেটা সম্পর্কে তথ্য জানবেন না শুনবেন তারপর সেটা শিখবেন ভালোমত শিখবেন তারপর সেটার দক্ষতা কাজে লাগাবেন। 


আপনি কোন জিনিস দেখলে প্রথমেই সেটা সম্পর্কে মন্তব্য করবেন না এটা ভালো ব্যক্তিদের লক্ষণ নয়। আগে সেটা দেখে বুঝবেন জিনিসটা কি আর জিনিসটা দ্বারা কি বোঝানো হচ্ছে। তারপর সেটার তথ্যগুলো জানবেন তারপর সেটা যদি শেখার বিষয় হয় তবে শিখবেন তারপর সেটা থেকে অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগানোর চেষ্টা করবেন। 


(৪) Manage Yourself to balance your life 

বিষয়টা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আপনার নিজের জীবনটাকে আপনার নিজেকেই ম্যানেজ করা শিখতে হবে। নিজের কাজগুলো নিজেকেই করার চেষ্টা করতে হবে। আর এটার সাথে সাথে নিজের জীবনকে একটা ব্যালান্স করে নিতে হবে। অনেক সময় আমরা আমাদের নিজের কাজগুলো নিজেরা করি না । যেমন, নিজেদের পোকাশ পরিস্কার করা থেকে শুরু করে নিজেদের জিনিসপত্র গোছানো এসব কাজ পরিবারের আরেকজনের উপর রেখে দিয়ে থাকি। অথচ একটা সময় এই কাজগুলো নিজেকেই করতে হবে। 


আরো পড়ুন >> করোনায় শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে জানুন।


পরিবেশ পরিস্থিতির কারণে অনেক সময় নিজের কাজগুলো নিজেকেই করতে হবে আর নিজেকে যখন করতেই হবে এই অভ্যাসটা যদি আগে থেকেই শুরু করা যায় তখন নিজেকে ব্যালান্সভাবে তৈরি করা যায় বা তৈরি করা সহজ হয়। অনেকেই পড়াশোনার জন্য বা চাকরীর জন্য পরিবার থেকে অনেক দূরে চলে যান আর সেই সময়টাতে আপনার নিজের কাজগুলো নিজেকেই করতে। যদি কাজগুলো করার অভ্যাস থাকে তবে তো ম্যানেজ করে ফেলতে পারবেন আর যদি না থাকে তবে বিষয়টা একটু জটিল হবে। 


(৫) Manage your emotion & Failure 

নিজেকে নিয়ন্ত্রন করতে পারা আর নিজেদের ব্যর্থতাগুলো মেনে নেওয়ার বিষয়টা অনেকের কাছেই জটিল হয়ে যায়। আপনি আবেগের বসে কোন হুটহাট সিদ্ধান্ত নিতে গেলে সেটাই একটা সময় অনেক বড় ক্ষতির কারণ হয়ে যাবে আর যদি আপনি নিজের আবেগ অনুভতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন তবে আপনি অনেক কিছুই করতে পারবেন। 


আমরা অনেকেই ব্যর্থতাকে মেনে নিতে পারি না। যেটা অনেক ক্ষতিকর। কাজ করতে গেলে ব্যর্থতা আসবেই আর সেই ব্যর্থতাকে মেনে নিয়ে আবার নতুন করে শুরু করতে হবে। 


(৬) এক্সট্রা কারিকুলাম একটিভি জানা

স্টুডেন্টরা পড়াশোনা করবে এটাই তো নিয়ম আর এটাই তো স্বাভাবিক কথা। কিন্তু আসলে আমাদের পাঠ্যবইতেও এখন যুক্ত করা হয়েছে বিষয়টা যে, আপনি পড়াশোনার পাশাপাশি পড়াশোনার সাথে যুক্ত বিষয়গুলোও জানবেন। আর এটাকেই বলা হয় এক্সট্রা কারিকুলাম একটিভি। যেটা জানতে পারলে আপনি নিজেকে অনেক বিপরীত পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে পারবেন। 


কখনই অতিরিক্ত জিনিসকে অতিরিক্ত মনে করবেন না। কারণ অতিরিক্ত জিনিস সব সময়ই অতিরিক্ত না। 


আরো পড়ুন >> বেকারদের শুক্রবারের রুটিন।


(৭) Learning is absolutely necessary 

পৃথিবীতে এমন কোন জিনিস নেই যেটা ছাড়া আপনার চলবে না আর এমন কোন জিনিসও আজ পর্যন্ত তৈরি হয় নাই যেটা না হলে আপনি চলতে পারবেন না। তাই আপনার জন্য কোনটা প্রয়োজন সেই বিষয়টা জেনে তারপর সেটা শেখার জন্য সময় ব্যয় করার চেস্টা করুন। পৃথিবীতে অনেক কাজ আর অনেক কিছু শেখার জিনিস আছে আপনাকে বুঝতে হবে কোনটা আপনার জন্য আর কোনটা আপনার জন্য না। আপনি চাইলেই সবগুলো জিনিস একাই শিখে নিতে পারবেন না আর সেজন্যই আপনার নিজের জন্য পারফেক্ট বিষয়টা বেছে নিয়ে সেটা যথাযথভাবে শেখার চেষ্টা করুন। 


প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো অনেক ভালোমত শেখাটা অনেক বেশি জরুরী বিষয়। আর অপ্রয়োজনী জিনিসগুলো যদি জেনে রাখেন বা কম শেখেন তবে সেটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পরীক্ষার সাজেশানের সময় অনেক কোনগুলো পড়তে হবে সেটা না ভেবে কোনগুলো পড়তে হবে না সেই জিনিসগুলো ভালোমত বেছে নিয়ে থাকেন। কারণ অপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলো বের করতে পারলে প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো বের করা অনেকটাই সহজ হয়ে যায়। 


আরো পড়ুন >> চাকরীর ভাইবাতে কেন ফেল করানো হয়।


উপরের ৭টি বিষয় আপনি বুঝতে পারলে বা জানতে পারলে আপনি লাইফের যে কোন সময় যেকোন স্টেজেই ভালো করতে পারবেন। ধরুন আপনি চাকরী করতে করতে চাকরী চলে গেছে তো আপনি ড্রাইভারী জানেন তাহলে আপনি ড্রাইভারী করেও টাকা আয় করতে পারবেন ইচ্ছা করলে। 


আশা করি আর্টিকেলটি উপকারে আসবে আর ভালো লেগেছে। অনেক ধন্যবাদ মূল্যবান সময় নিয়ে আর্টিকেলটি পড়ার জন্য। 

Leave a Comment