রাতে দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ার উপায়গুলো জেনে নিন।

ঘুম আমাদের জীবনের জন্য অপরিহার্য্য একটা বিষয়। ভালো ঘুম একটা ভালো মানসিকতা তৈরি করতে সহযোগীতা করে। শারীরিক সুস্থতার জন্য আপনাকে অবশ্যিই প্রতিদিন একটা নির্দিষ্ট সময় ঘুমাতে হবে। আমাদের অনেকেই ঘুমটাকে খুব বেশি গুরুত্ব দেয় না। অনেক সময় আমরা আমাদের কাজকে এতটাই বেশি মুল্যায়ন করে থাকি যে, ঘুমানোর বিষয়টাকে বেশি গুরুত্ব দিতে চাই না। ছোট বেলায় একটা কবিতা পড়তাম যেখানে ছিল, 

Early to bed and Early to rise

Makes a man 

healthy, wealthy and wise. 

সেই ছোট বেলায় বুঝতে না পারলেও এখন বোঝা যায় যে, আসলেও সময় মত ঘুম আমাদের শরীরের জন্য অনেক উপকারী। আমাদের চিন্তার সব কাজটাই করে থাকে আমাদের ব্রেন আর ব্রেনের শান্তির জন্য অবশ্যই আমাদের ঘুমের প্রয়োজন। অল্প ঘুমের ফলে আমাদের দেহে তৈরি হতে পারে নানা রকমের রোগ আর মস্তিষ্কের অনেক নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে জানিয়েছে গবেষকরা। এর ফলে আমাদের শেখা, স্মৃতি, মেজাজ, আবেগ এবং বিভিন্ন জৈবক কাজের সমস্যাও হতে পারে বলে গবেষনায় বলা হয়েছে। 


রাতে দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ার উপায়গুলো জেনে নিন।


আসুন আমরা আগে জেনে নেই কিভাবে দ্রুত ঘুমিয়ে পড়া যায়। নিচের কিছু পয়েন্ট আলোচনা করা হবে যা মেনে চললে অনেক সমজেই আমরা দ্রুত ঘুমিয়ে পড়তে পারবো ইনশাআল্লাহ। যেমন, 


খাবারের দিকে খেয়াল রাখা 

অনেক সময় খাবারের কারণেও আমাদের ঘুমের সমস্যা হয়। ডাক্তাররা বলে থাকেন রাতে ঘুমানোর কমপক্ষে ৩ থেকে ৪ ঘন্টা আগে খাবার খেয়ে ফেলা তবে ২ ঘন্টা পার্থক্য বা গ্যাপ থাকার অনেক জরুরী। অনেক সময় দেখা গেছে আমরা এই নিয়মটা ফলো করি না। দেখা যাচ্ছে যে অনেক সময় খাবার সন্ধ্যার দিকে খাওয়া হয়েছে এবং ৬ ঘন্টা পর ঘুমাতে যাওয়া হচ্ছে তখন পেটে ক্ষুধা থাকে বিধায় ঘুম আসতে চায় না। আবার অতিরিক্ত খাবারের কারনেও অনেক সময় ঘুম আসে না। যেমন, খাবার সাথে সাথেই অনেকেই ঘুমিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে আর অনেকেই ক্লান্ত থাকার কারণে ঘুমিয়ে পড়লেও এটা আমাদের শরীরের জন্য অনেক ক্ষতিকর। কারণ আমাদের দেশের অনেকেই এখন স্বাস্থ্য সময় ভুগতে দেখা যাচ্ছে যার অন্যতম কারণ হলে এই নিয়মটা না মেনে চলা হয়। 


অনেকেই দেখা যাচ্ছে অল্প বয়সেই অনেক মোটা হয়ে যাচ্ছে আবার অনেকেই অনেক রোগা হয়ে যাচ্ছে। অনেক সময় রাতের খাবার খাওয়ার সাথে সাথে ঘুমানোর ফলে পেটে চর্বি জমে যায় যার ফলে শরীর মোটা হয়ে যায় যা ঘুমের জন্য ক্ষতিকর। আবার অনেক সময় রাতের খাবার আর ঘুমানোর সময়ের পার্থক্যটা এত বেশি হয় যে, রাতে ঘুমানোর সময় খাবার খাওয়ার প্রয়োজন পড়ে বা অনেক সময় না খেয়েই ঘুমানো হয় কারণ সেই সময়টাতে খাবার খেলেও সমস্যা আবার না খেলেও সমস্যা। যেহেতু তখনই ঘুমানো হবে খাবার খেয়ে ঘুমানো স্বাস্থ্য মোটা আর না খাওয়ার কারণে পেটে খাবারের ক্ষুধা থাকায় রোগা হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে। তাই বিষয়টা অনেক গুরুত্বসহকারে দেখা উচিত আমাদের। 

ডিজিটাল ডিভাইস থেকে দুরে থাকা

অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টা এইটা। আমরা বর্তমানে মোবাইল, ট্যাব বা ল্যাপটপের কাছে বসে থাকতে থাকতে সময়মত ঘুমানোর বিষয়টা একদম মাথাতেই রাখি না। অনেক সময় মোবাইলে ফেইসবুক বা ইউটিউবে কোন কিছু ভিডিও দেখতে দেখতে ঘুমানোর কথা মনেই থাকে না। কারণ আমাদের বর্তমানের মোবাইল ডিভাইসগুলো এতটাই দামি আর এতটাই ডিজিটাল যে, পৃথিবীর অনেক কাজই এখন করা যায় এই মোবাইল দিয়ে। আর অন্যতম কাজ ঘুমানোর সময় যদি হাতে এরকম একটা ডিভাইজ থাকে তবে ঘুম নষ্ট হওয়ার জন্য অনেক বেশি কারণ খুজতে হবে না। তাই ঘুমানোর আগে অবশ্যই ডিজিটাল ডিভাইস থেকে দুরে থাকার চেষ্টা করুন। এতে করে আপনি চিন্তা মুক্ত ও মেডিটেশান করতে পারবেন যা আপনাকে সুন্দর ঘুম উপহার দেবে আশা করি। 

গান শোনা বা বই পড়া 

অনেকেই শব্দ কম পছন্দ করলেও ঘুমানোর আগে গান শুনতে পছন্দ করে। আবার অনেকেই আছে যে, নিরিবিলিতে ঘুমাতে অনেক বেশি পছন্দ করে। আর গান শোনার অভ্যাসটা অনেক ভালো বলবো বিষয়টা তেমন নয় তবে এতে আরেকজনের ঘুমের সমস্যা হতে পারে। তবে হ্যা বই পড়ার অভ্যাসটা অনেক ভালো। পৃথিবীর সফল ব্যাক্তিদের জীবনীতে দেখা গেছে প্রায় সবারই বই পড়ার মত ভালো অভ্যাস ছিল। সকল জ্ঞানি ব্যক্তিরাই বই পড়তে পছন্দ করতেন বলে গবেষকরা পেয়েছেন। তাই আপনিও ঘুমানোর আগে কিছু সময় বই পড়তে পারেন। এতে করে আপনার জ্ঞান বাড়ার পাশাপাশি ভালো ঘুমও হবে। কারণ বই পড়লে আমাদের কল্পনার একটা জগৎ তৈরি হয় যা আমাদেরকে অনেক দ্রুত ঘুমাতে সাহায্য করে। 

প্রতিদিনের ঘুমের জন্য একটা নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে নিন

ধরুন আপনি প্রতিদিন রাত ১১টায় ঘুমাবেন চেষ্টা করুন সেই সময়টা অনুসরণ করার জন্য। একটা রুটিন করে কাজ করলে অনেক সময় সেই সময়টাতে আমাদের ব্রেন একটা কাজের প্রয়োজন অনুভব করে আর সেই কাজটা করা অনেকটাই সহজ হয়ে যায়। তাই নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে নেওয়া অনেক বুদ্ধিমানের কাজ। আর ঘুমানোর সময় আপনি কখন উঠবেন সেটাও এলার্ম দিযে ঠিক করে রাখতে পারেন। কারণ নির্দিষ্ট সময় থেকে নির্দিষ্ট সময় পর্যণ্ত ঘুমালে আমাদের শরীর সুস্থ থাকবে। অনেক সময় অতিরিক্ত ঘুম আমাদের শরীরের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। 


আরো পড়ুন >> সহজে চাকরী পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতাসমূহ।


আরো পড়ুন >> ওয়েব ডিজাইন শেখার ধাপ ও পদ্ধতিসমূহ।

রুমের তাপমাত্রা অনুকুল রাখার চেষ্টা করুন

আসলে অনেক সময় আমরা অনেকেই বিষয়টার দিকে খেয়াল রাখি না। এখানে রুমের তাপমাত্রা বলতে অনুকুল পরিবেশের কথা বোঝানো হয়েছে। দেখা যাচ্ছে যে, অনেক গরম এর মধ্যে আপনি বিছানাতে গেছেন যার ফলে আপনার ঘুম আসছে না। আবার অনেক সময় অতিরিক্ত শীতের সময়ও এরকম হতে পারে। আর তাই নিজের অনুকুল তাপমাত্রা তৈরি করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। আপনার পছন্দ মত উপযুক্ত তাপমাত্রা সেট করে নিতে পারে ভালো ও দ্রুত ঘুমানোর জন্য। অনেকেই আছে অফিস থেকে এসেই ঘুমিয়ে পড়ার চেষ্টা করে অথচ ঘুমাতে ঘুমাতে অনেক সময় ব্যয় করে ফেলে। আসলে অফিস থেকে এসে একটু রেস্ট নিয়ে বা গরম লাগলে গোসল করে নিয়ে বিছানায় গেলে অনেক সময় ভালো ঘুম হয়। 


আরোও পড়ুনঃ কিভাবে কনটেন্ট মার্কেটিং করতে হয়।

শব্দ ও আলো অনুকুল রাখার চেষ্টা করুন

অনেকেই অনেক আলোকে ঘুমাতে পারে না। আবার অনেক সময় দেখা যায় যে, পাশে কোন শব্দের কারনেও আমাদের ঘুমের সমস্যা হয়। জাপানের এই সমস্যা নিয়ে একটা গবেষণা করা হয়েছিল যেখানে জাপানিরা ভালো গাড়ি আবিষ্কার করার পর দেখা গেলে সেই গাড়ির শব্দের কারণে অনেকেরই ঘুম ভেঙ্গে যাচ্ছে আর নানা রকম শারীরিক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। তারপর তারা গাড়ির শব্দ কমানোর জন্য আইন করার পাশাপাশি সেই রকম পরিবেশ তৈরি করার জন্য অনেক কাজ করেছিল যার ফলে তারা বর্তমানে পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গড় আয়ু নিয়ে বেচে থাকে। জাপানিরা তাদের শরীরিরের সুস্থতার জন্য অনেক বেশি পরিশ্রম করে। আর তাই শব্দ ও আলো যেন আমাদের শরীরের জন্য অনুকুল রকমের থাকে সেই বিষয়টা নিশ্চিত করতে হবে। 


Sleeping Night

আরোও পড়ুনঃ ঘুমের কেন এত বেশি জরুর বিষয় জানতে পড়ুন।

মেডিটেশান ও কিছু সময় ধ্যন করা

বর্তমান সময়ের অনেক জনপ্রিয় একটা পদ্ধতি হলো কোন কাজের মনোযোগ নিয়ে আসার জন্য অনেকেই মেডিটেশান করে থাকে। আবার অনেক সময় কোন কাজ শুরু করার আগে কিছু সময় ধ্যান করলেও সেই কাজের একটা পজেটিভ ফলাফল আসে। আমি দেখেছিলাম অনেক দিন আগে ডাক্তার কোন রোগীর অপারেশান করার আগে তিনি কিছু সময় একা নিরবে বসে থাকেন আর কোন কিছু নিয়ে ভাবতে থাকেন তারপর কারো সাথে কোন কথা না বলেই তিনি রোগীর অপারেশান করেন। আসলে সেই কাজটাকেই বলা হয় মেডিটেশান করা। আমাদের দেশে আগে একটা প্রচলন না থাকলেও এখন অনেক বেশি প্রচলন এই বিষয়টার। তাই আপনিও যদি ঘুমের সমস্যা ভুগতে থাকেন তবে নিয়মটা মেনে দেখতে পারেন। শুধু ঘুম না কোন কাজে মনোযোগ নিয়ে আসার জন্য পদ্ধতিটা অনেক কার্যকর বলেও জানানো হয়েছে বিভিন্ন গবেষণাতে। 


আরোও পড়ুনঃ তাড়াতাড়ি ঘুমানোর জাদুকরি টিপস।

আমি উপরে বেশ কয়েকটা পয়েন্ট উল্লেখ করেছি আপনি যে কোন একটা অনুসরণ করতে পারেন ভালো ঘুমানোর জন্য। আসলে নিয়ম মেনে অনেক সময় কিছু হয় না আবার দেখা যাচ্ছে যে, আপনি ইচ্ছে করেও যেটা করতে পারছেন না সেটা একটা নিয়ম মেনেই করতে পারছেন। তাই কোন বিষয়টা আপনার জন্য ভালো আর কোনটা ভালো হবে না তা জানার চেয়ে আপনি চেষ্টা করে দেখতে পারেন। অনেক সময় ছোট কোন কারনে বা ছোট কোন নিয়মের কারণে আপনি আপনার সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন। আর তাই আমার ব্যাক্তিগত পরামর্শ হবে যদি আপনি ঘুমের সমস্যা ভুগতে থাকেন তবে এখনই এই গুলোর মধ্যে যে কোন একটা অনুসরণ করেন যা আপনাকে আপনার সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে বলে আমি বিশ্বাস করি। 


আরোও পড়ুন >> সরকারী চাকরীর প্রতি এত আগ্রহের কারণ কি ?

আরোও পড়ুন >> অনলাইনে আয় করার সহজ পদ্ধতির একটি জানতে পড়ুন।


Leave a Comment