মানুষ কেন সিদ্ধান্ত নিতে পারে না ! এটা কাটিয়ে উঠার উপায় কি !

 আমাদের মধ্যে অনেকেই আছে কোন সিদ্ধান্ত নিতে গেলে কনফিউজ হয়ে যায় সে তখন আর কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। আর এই না পারার অন্যতম কিছু কারণ ও সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে কি সমস্যা হতে পারে আর এই সমস্যা থেকে বেচে থাকার উপায় কি সে সকল বিষয় ‍নিয়ে আলোচনা করা হবে এখানে। আশা করি ব্লগটি সকলের জন্য উপকারী হবে। আমাদের মধ্যে এই সমস্যাটা অনেক বেশি দেখা যায়। আর নিয়মিতই আমরা নিজেদেরকে এসব সমস্যার মধ্যে জড়িয়ে নানা রকম মানসিক ও শারীরিক রোগে আক্তান্ত হই। মনোবিজ্ঞানীদের মতে আমাদের শরীরের ৬০ রোগ হয়ে থাকে আমাদের মানসিক সমস্যাগুলো থেকে। আর আমরা শারীরিক রোগের চিকিৎসা করলেও মানসিক রোগগুলোর কখনও চিকিৎসা করি না। 


আত্মবিশ্বাসের অভাব 


আত্মবিশ্বাসের অভাব অনেক বড় ভূমিকা পালন করে সিদ্ধান্ত না নেওয়ার ক্ষেত্রে। আসলে আমরা নিজেরাই অনেক সময় এর জন্য দায়ী। কারণ ছোট থেকেই আমরা এমন পরিবেশে বেড়ে উঠি যেখানে আমাদের সকল গুলো করে দিতো মা-বাবা যার কারণে আমরা আত্মবিশ্বাসটা নিজের ভেতরে নিয়ে আসতে পারি না। আর আত্মবিশ্বাসের অভাবের কারণে অনেক সময় এই সমস্যাটা অনেক বেশি হয়। 


লোকে কি বলবে 


আপনি একটা কাজ শুরু করার আগেই চিন্তা করেন যে এই কাজটা করলে লোকে আমাকে কি বলবে। আর এই লোকের কথাগুলোর মাথায় রাখার কারণে নিজের কথাগুলো নিজের মাথা থেকে বের হয়ে যায়। সিদ্ধান্তহীনতার অনেক বড় একটা কারণ হলো লোকে কি বলবে এটা ভেবে রাখা। আমরা সাধারণত বেশিভাগ সময় নিজের আত্মীয়স্বজনের দ্বারাই বেশি আক্রান্ত হই। কারণ অনেক সময় আছে বাবা সরকারী চাকরী করে ছেলে কম্পানির চাকরী করলে নাান ধরনের কথা শোনায় আর এই চিন্তা করে করে সে অনেক সময় চাকরী থেকে দূরে সরে যায় আর মানসিক ভাবে দূর্বল হওয়ার কারণে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। 


শুরুতেই নেগেটিভটাকে বেশি মূল্যায়ন করা 


আমরা অনেক সময় কোন কাজ শুরু করার আগেই তার ফলাফলটা বের করে ফেলি। আর পজেটিভ ফলাল হলে তা করতে আগ্রহী হই আর নেগেটিভ হলে তা করতে আগ্রহী কম হয় বা হই না। তাই অনেক সময় আমরা নেগেটিভ কাজগুলোতে বেশি ফলাফল পায় না যার কারণে আমরা আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলি এবং সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগী। আসলে নেগেটিভ চিন্তাগুলো আমাদের মনোবলটাকে কমিয়ে দেয়। বেশিভাগ মানুষকে যখন কোন নতুন কাজ করতে দেওয়া হয় বা কোথাও যেতে বলা হয় তখন তার উত্তরটা গেগেটিভ আসে যার কারণে আমাদের সিদ্ধান্তগুলো সঠিক হয় না। আসলে কোন কাজের শুরুতেই যদি সেই কাজ সম্পর্কে নেগেটিভ ধারণা তৈরি হয়ে যায় তখন সেটা আসলে ভালো হয় না। তাই সিদ্ধান্ত না নেওয়ার পেছনে বা সিদ্ধান্ত না দিতে পারার পেছনে এই বিষয়টা অনেকটাই গুরুত্ব বহন করে থাকে। 


পদ্ধতি না জানা বা যোগ্যতার অভাব 


অনেক সময় আমরা এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিতে চেষ্টা করি যেগুলো আমাদের যোগ্যতার সাথে মিল নেই বা আমাদের পদ্ধতিগুলো জানা থাকে না। যেমন ধরুন আপনা একটা কম্পানিতে চাকরী করা বাদ দিয়ে নিজেই ব্যবসা ‍শুরু করবেন আর সেই ব্যবসার কোন কিছুই জানেন না। তাহলে কিন্তু আপনি শুরু করলেও পরে গিয়ে কোন কাজ কিভাবে করতে হয় বা ব্যবসার মূলধন কিভাবে সংগ্রহ করতে হয় বা কিভাবে কাচামাল সংগ্রহ করতে হবে এবং কিভাবে মার্কেটিং করতে হবে এসব বিষয় জানা থাকে না। এটা অনেক বড় একটা বিষয় যে আমর সিদ্ধান্ত নিবো কিন্তু যেই কাজের জন্য নিবো সেটা সম্পর্কে আমরা তেমন কোন তথ্যই জানি না। আসলে এই মানসিকতার কারণে আমরা অনেক সময় সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। কনফিউশানে পড়ে যায় বেশিভাগ সময় আর এই কনফিউশানটা আমাদের যোগ্যতার অভাব তৈরি করে দেয়। 


বেশি অপশান থাকলে কোনটি ভালো তা নিশ্চিত করা 


আপনাকে কোথাও যেতে বলা হলো আর সেখানে যাওয়ার জন্য বাস, ট্রেন সহ আরও কিছু ব্যবস্থা আছে। কিন্তু আপনাকে একটা নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হয়েছে যে আপনি এই সময়ের মধ্যে সেখানে যাবেন কিন্তু আপনি শরুতেই সিদ্ধান্ত নিতে অনেক টা সময় নষ্ট করে ফেলবেন কারন আপনার কাছে অনেকগুলো অপশান আছে আর আপনি কোনটা পছন্দ করবেন সেটা নিয়ে কনফিউশানে পড়ে যাবে। অথচ আপনি দ্রুতেই যে কোন একটা বেছে নিয়ে সময়টা কাজে লাগাতে পারতেন। 

সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে কি কি সমস্যা হতে পারে জেনে নেওয়া যাক এখন। 


সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে নানা রকমের সমস্যা হতে পারে। আর সঠিক সিদ্ধান্ত অনেক  ‍গুরুত্বপূর্ণ আমাদের জীবনে। অনেক সময় আমরা শারীরিক নানা রকমের রোগে আক্রান্ত হই যার অন্যতম কারণ হলো এই সিদ্ধান্ত নিতে না পারা। আপনার একটা সমস্যা হলো আপনি ডাক্তারের কাছে যাবেন কি যাবেন না সেটা ভাবতে ভাবতেই সমস্যাটা অনেক সময় দেখা যায় যে বড় হয়ে যায় আর সেটা ঠিক করা অনেকটা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। আর এই কারণে আমাদের নানা রকমে সমস্যা হয়। নিচে আমি কয়েকটা বিষয় আলোচনা করবো কি কি সমস্যঅ হতে পারে যদি আমরা সঠিক সিদ্ধান্ত না নিতে পারি তাহলে। 


নতুন কোন পদক্ষেপ নেওয়া যায় না 


আপনি নতুন কোন কাজ শুরু করবেন সেটা অনেক সময় হয়ে উঠবে না যদি আপনি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারেন। আপনার যোগ্যতা থাকার পরেও আপনি সিদ্ধান্ত না নিতে পারার কারণে কোন নতুন কাজই শুরু করতে পারবেন না। আর অনেক সময় আমাদের এই বিষয়টা ব্যবসায়ে লসের অন্যতম কারণ হয়ে যায়। আপনি একটা নতুন প্রজেক্ট করবেন আর সেটা কিভাবে নিবেন এখনই প্রজেক্টটা শুরু করবেন নাকি আরও পরে শুরু করবেন সেটা যদি সিদ্ধান্ত নিতে না পারেন তবে সেই প্রজেক্টটাই শুরু করা হবে না। 


আত্মবিশ্বাসের অভাব হয় 

আমরা সিদ্ধান্ত না নিতে পারলে আমাদের আত্মবিশ্বাসের অভাব দেখা দেবে। যা আমাদে পরবর্তীতে অনেক ক্ষতি করবে কোন কাজ করার ক্ষেত্রে। আত্মবিশ্বাস অনেক বড় বিষয় আমাদের জীবনে। কারণ মনোবিজ্ঞানীদের মতে একজন আত্মবিশ্বাসী ব্যাক্তি যে কোন কষ্টসাধ্য কাজ করতে পারে বা যে কোন কাজে সফল হতে পারে অনেক দ্রুতই। আত্মবিশ্বাস ছাড়া যেমন কোন কাজ হয় না তেমনি সিদ্ধান্ত দওয়ার যোগ্যতা বা সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে আমাদের আত্মবিশ্বাসের অভাব দেখা দেয়। 


মানসিক চাপ বাড়ে 


একের পর এক সিদ্ধান্ত না নেওয়ার কারণে আমাদের মানসিক চাপটা বাড়তে থাকে। অনেক সময় মেয়েদের এই জিনিসটা বেশি দেখা যায় বা উপযুক্ত পাত্রের ক্ষেত্রে এই বিষয়টা অনেক বেশি দেখা যায়। বিয়ের জন্য পাত্র বা পাত্রী পক্ষের প্রস্তাব আসার পরেও আমরা অনেক সময় সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। আর এর কারণে আমাদের মানসিক চাপটা বেড়ে যায়। কোন ব্যবসার ক্ষেত্রেও বিষয়টা এরকমই হয়। সঠিক সিদ্ধান্ত সময় মত না নেওয়ার কারণে গুণতে হয় অনেকটা লস আর এইটা আমাদের মানসিক চাপ বাড়ার অন্যতম একটা কারণ হয়ে যায়। আসলে মানসিক চাপ মুক্ত থাকতে হলে আমদের সহজভাবে নিয়ে কাজগুলো করার চেষ্টা করতে হবে। 


ডিপ্রেশান 


বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বেশি যেই রোগটা দেখা যায় তা হলো ডিপ্রেশান। জাপানের জীবন ব্যবস্থা অনেক ভালো। পৃথিবীর মধ্যে অন্যতম একটা সভ্য দেশ হলো জাপান কিন্তু সবচেয়ে আত্মহত্যা বেশি ঘটে এই জাপানেই তার অন্যতম কারণ হলো সিদ্ধান্ত নিতে না পারা। যার ফলাফল ডিপ্রেশান এবং শেষ পরিণতি হলো নিজের জীবনকে নিজেই নষ্টে করে ফেলা বা আত্মহত্যা করা। 


হঠাৎ রেগে যাওয়ার সম্ভবনা বাড়ে 


আমরা অনেক সময় অনেককেই দেখি থাকি হঠাৎ করে রেগে যাচ্ছে। ডাক্তারের কাছে গেলেও কোন সমাধান পায় না আর এর আসল কারণ হিসেবে মনোবিজ্ঞানীরা বলেন যে, যে সমস্ত ব্যাক্তিরা সিদ্ধান্ত নিতে পারে না সাধারণত তাদের মধ্যে এই ধরনের সমস্যা দেখা যায়। 


কোন কাজের প্রতি ভয় বাড়ে 


সিদ্ধান্ত না নেওয়ার কারণে আস্তে আস্তে কাজের প্রতি ভয়টা আমাদের বেড়ে যায়। আর কোন কাজই ঠিকমত আমরা করতে পারি না। এটা আসলে এক ধরনের মানসিক রোগ ও বলা যায়। আর এই সমস্যাটা সবচেযে বেশি দেখা যায় ২৮-৪৮ বছর বয়সীদের মধ্যে বেশি। কারণ অনেক সময় আমাদের দেশের দেশেল পড়াশোনা করে এমন ব্যাক্তির অধিকাংশ সিদ্ধান্ত তাদের মা-বাবারাই নিয়ে থাকে। আর নিজে নিজের কোন কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আসে যখন সে পারিবারিক জীবনে পা দেয় তখন। আর আমাদের দেশে এই সমটা সাধারণত ছেলেদের ক্ষেত্রে ২৮ টার পর আর মেয়েদের অনেক সময় আগেই হয়ে যায় পরিবেশগত কারণে। 

কিভাবে সারিয়ে তোলা যায় এই সমস্যাগুলো তা নিচে আলোচনা করবো। 

আসলে সকল রোগেরই একটা চিকিৎসা আছে কোনটার ভালো আবার কোনটার একটু মন্দ বা কোনটার একটু সময় সাপেক্ষ্য। আর সিদ্ধান্ত নিতে না পারার সমস্যাটা আসলে আমাদের দীর্ঘ দিনের একটা অভ্যাস বা ভয় হয় এর কারণে আমরা এ থেকে বের হয়ে আসতে পারি না। আমরা নিজেরাই কিছু কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করলে এই সমস্যা থেকে দ্রুতই বের হয়ে আসতে সক্ষম হবো ইনশাআল্লাহ। আর এসব বিষয়ই এখানে আলোচনা করা হয়েছে যা অনেকেরই উপকারে আসবে আশা করি। 


সবকিছু সহজভাবে মেনে নিতে হবে 


ধরুন আপনি কোন কাজ করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছে বা চাকরীর ইন্টাভিউ দিতে গিয়ে তাতে ভালো কোন ফলাফল আসে নাই সেক্ষেত্রে কি করবেন আপনি ? নিশ্চয় হতাশ হবেন বা এই সমস্যা নানা সমস্যার কথা বলবেন। আর এই সমস্যাটার কারণে আমরা পরবর্তীতে কোন সিদ্ধান্ত নিতে আগ্রহী হবো না। আসলে এই সময়টাতে আমাদের উচিত অবশ্যই এই বিষয়টা সহজেই মেনে নেওয়া কারণ কিছু বিষয় আমাদের নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকে না আর সেই সকল বিষয় যদি আমরা আগায় বা সেই সকল বিষয়ে যদি আমরা ভালো করার জন্য চেষ্টা করি তবে ব্যার্থ হবো এই বিষয়টা সহজেই মেনে নেওয়ার মত মানসিকতা রাখতে হবে। 


কোন সিদ্ধান্তের পজেটিভ ও নেগেটিভ দিকগুলো ভেবে নিন 


আপনি যখন কোনকিছুর নেগেটিভটা আগে ভাববেন তখন আপনি সেই কাজের ফলাফলটা পজেটিভ আনতে পারবেন না। আর আপনাকে কোন কাজ শুরু করার আগে এই বিষয়গুলো সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারণা রেখে শুরু করতে হবে। ধরুন আপনি একটা অনলাইনে মার্কেটিং এর কাজ করবেন সেখানে আপনি শার্ট বিক্রি করবেন আর এই বিষয়ে আপনাকে পজেটিভ ও নেগেটিভ সবগুলোই ধারণা করে রাখতে হবে। কারণ আপনি আগে থেকেই যদি নেগেটিভ ধারণা রাখেন আর যদি সেটা হলে আপনি তা সহজেই মেনে নেওয়ার মতো মানসিকতা তৈরি করতে পারেন তবে আপনার জন্য পরিবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়াটা অনেকটা সহজ হবে আশা করি। 


নিজেকে অন্যের সাথে তুলনা করা যাবে না 


তুলনা চলে সমান শক্তিসম্পূর্ণ দুইটা বা ততোধিক জিনিস নিয়ে। ধরুন আপনার সন্তান বা আপনার বাবা একজন কম্পানির কর্মচারী আর আপনার বন্ধুর সন্তান বা তার বাবা একজন সরকারী কর্মচারী তবে আপনার চাইতে তার জীবনব্যাবস্থা একটু পার্থক্য হবেই। আবার আপনি বাংলাদেশ দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া দলের তুলনা করেন তবে কিন্তু আপনি ভুল করবেন কারণ অস্ট্রেলিয়া দল সবচেয়ে ভালো দল যাদের Ranking অনেক ভালো তারা ভালো খেলবে এটাই স্বাভাবিক আর বাংলাদেশ যেহেতু ছো মাপের দল তারা অপেক্ষাকৃত খারাপ খেলবে এটাই স্বাভাবিক তবে বর্তমানে প্লেয়ারদের পারফমেন্স এর উপর বর্তমান হারাজেতা নির্ভর করে। আমরা অনেক সময় নিজেদেরকে অন্যের সাথে তুলনা করে ব্যার্থ হই আর পরে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। আর এই জিনিসটা আমাদের কমাতে হবে অর্থ্যাৎ কখনই নিজেকে আরেকজনের সাথে তুলনা করা যাবে না। আপনি যেমনই হোন না কেন আপনার তুলনা কেবল আপনার নিজের সাথেই করবেন। যেমন আপনি গতমাসে পাঁচটা কাজ করেছেন এই মাসে চেষ্টা করবেন ১টা বেশি করার এভাবে আপনার নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাসটা বাড়াবেন। 


কাজের প্রতি গুরুত্ব বা মনোযোগী হওয়া 


আমরা কোন কাজ শুরু করার পর সেটাতে মনোযোগী না হয়ে আরও পরিপূরক কাজে মনোযোগী হয়ে থাকি। আর এই জিনিসটা আমাদের কাজের নেশাটাকে কমিয়ে দেয়। আমি কিছুদিন আগে একটা বক্স দেখেছিলাম যেটাতে একটা গেম খেলার মত একটা সিস্টেম ছিল যেখানে আপনি কাজটা করতে পারলে বুঝবেন আমার মনোযোগটা অন্য কাজের দিকে নেই। আর অনেকেই অনেক ধরনের কাজের মাধ্যমে নিজের মনোযোগটা ঠিক রাখে। সাধারণত মানুষ পছন্দের কাজে বিরক্ত হয় না আর তাই আপনি যেই কাজটা করবেন সেটাকে অবশ্যই আপনার পছন্দের কাজের পরিণত করতে হবে। 


নিজের প্রসংসা করুন 


আমরা অনেকেই নিজের প্রসংসা করি না। আমার এক স্যার তিনি একটা কাজের টাইম লাইন করতেন এবং সেই কাজটা পারলে তিনি নিজেকে হোটেলে গিয়ে নাস্তা করাতেন। আর নিজেই আয়নার সামনে দাড়িয়ে নিজের নাম ধরে বলতেন, “ …. তুই তো অনেক ভালো কাজ করতে পারিস পরের বারও এভাবে করবি তাহলে আরও ভালো পুরস্কার দেবে তোকে।” এভাবে নিজেকে পুরস্কার দিতে পারেন এটা আসলে অনেক কাজে দেয়। পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, অনেক সময় আমরা পুরস্কারের আশায় কাজের পরিমাণটা বাড়িয়ে দিয়ে থাকি। 


শিশুদের প্রতি নজর দিতে হবে 


আমরা আমাদের বেশিরভাগ শিক্ষায় ছোট বয়সে শিখে থাকি আর এই কারণে আমরা যেই ভুলটা করেছি সেই ভুলটা আমাদের সন্তান বা আমাদের ছোট ভাই-বোনরা যেন না করে সেটা মাথায় রাখা উচিত। ছোটদেরকে ছোট থেকেই আত্মবিশ্বাসী বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। যেমন, সকাল বেলায় আপনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করতে পারেন সে কি দিয়ে নাস্তা করবে, রাতে সে কি খাবার খাবে, তার স্কুলের কাজগুলো সে একা কতটুকু শেষ করতে পারবেন এসব না ধরনের কাজগুলো তাকে দায়িত্ব দিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া শেখাতে পারেন। তাদেরকে ছোট বয়সেই কিছু কাজ বা দায়িত্ব দিয়ে দেবেন যেমন, নিজের পোশাকগুলো সাজিয়ে রাখা, নিজের জোতা নিজেই পরা এভাবে তাদেরকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে পারেন ছোট বয়স থেকেই। 


উপরোক্ত বিষয়টি আমাদের জীবন ও সমস্যার সাথে সম্পর্কযুক্ত আর এগুলো জানা আমাদের জন্য অনেক ভালো। আমরা অনেক সময় কিছু অসুস্থতায় ভুগি যার কোন আসলে শাররিক উপসর্গ থাকে না যা আসলে এই ধরনের মানসিক সমস্যা। আর এ থেকে আমাদের জেনে বের হয়ে আসতে হবে যেন এই ধরনের মানুসিক সমস্যাগুলো আমাদের শারীরিক ক্ষতি না করে। আসলে আমরা নিজেরাই আমাদের ছোট ছোট সমস্যাগুলোকে সমাধান করে ফেলতে পারি। আর সিদ্ধান্ত নেওয়ার মত সমস্যাগুলো আসলে অনেক বেশি জটিল না যখন এটা মানসিক রোগে পরিনত হয় তখনই কেবল এটা বেশি সমস্যা হযে দাঁড়ায়। আমার মনে হয় উপরের লিখাটা সকলেরেই উপকারে আসবে এই বিষয়টা সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারণা ও এ থেকে দূরে থাকার জন্য। পরবর্তীতে কোন কিছু সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য অবশ্যই কমেন্ট করবেন আর ব্লগটি কেমন লাগলো তা জানাবেন। অনেক ধন্যবাদ সময় নিয়ে ব্লগটি পড়ার জন্য। 

Leave a Comment