মাইগ্রেন কি ও মাইগ্রেন কেন হয় ? মাইগ্রেন সমস্যায় আপনি কী করতে পারেন ?

মাইগ্রেন কী ? কেন হয় ? চিকিৎসা আছে কি ? অনেকেই মাইগ্রেনের সমস্যায় ভোগেন তার কারণ কী ? বিবিসির এক জরিপে দেখা গেছে যে, বাংলাদশে অনেকেই মাইগ্রেনের তীব্র সমস্যায় ভোগেন নিয়মিত। এটি একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা যা প্রতি ৫ জনে ১ জন নারী এবং প্রতি ১৫ জনে ১ জন পুরুষের হয়ে থাকে। আজকের আর্টিকেলে আমরা জানবো, মাইগ্রেন কি ? মাইগ্রেন কেন হয় ? মাইগ্রেন হলে কি করতে হবে ? এবং কিভাবে আপনি মাইগ্রেন সমস্যাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন।


মাইগ্রেন


জীবনে মাথা ব্যথা হয় নাই এরকম কাউকেই পাওয়া যাবে না। বিভিন্ন কারণে হয়ে থাকে এই মাথা ব্যথা তারমধ্যে অন্যতম কারণ হলো মাইগ্রেনের ব্যথা বা মাইগ্রেনের সমস্যা। অনেকেরই মাইগ্রেনের সমস্যার কারণে মাথা ব্যথা করে। তবে মাইগ্রেনের মাথা ব্যথা কিনা সেটা অবশ্যই ডাক্তারের কাছ থেকে নিশ্চিত হতে হবে। বড় কোন সমস্যা না হওয়ায়ই এর প্রতিরোধ বা চিকিৎসা নেওয়া লোকজনের সংখ্যা অনেকটাই কম। এবার আসুন মাইগ্রেন সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক। প্রথমেই আসি মাইগ্রনটা কি আসরে সেটা নিয়ে। 

মাইগ্রেন কি ? 

মাইগ্রেন হচ্ছে মাথার এক পাশে মাঝারি থেকে তীব্র এক ধরনের ব্যথা। কখনও কখনও মাথার এই ব্যথা মাথার একপাশে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে ঐ পাশের পুরো অঞ্চল জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। মাথার সাথে সাথে কখনও কখনও দৃষ্টির সমস্যা বা বমি বমি ভাব থাকতে পারে। তবে বিবিসি বাংলা জানায় মাইগ্রেন একটি অতি সাধারণ রোগ। সাধারণ বলতে, যা প্রতি ৫ জনে ১ জন নারী এবং প্রতি ১৫ জনে ১ জন পুরুষের হয়ে থাকে এই মাইগ্রেনের সমস্যা। 

সব মাইগ্রেনের সমস্যা কি একই ধরনের ?

মাইগ্রেন বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। তবে মাইগ্রেনের সমস্যা হওয়ার আগে আমাদের শরীর আমাদেরকে কিছু সতর্কবার্তা দেয়। তারমধ্যে একটি হলো চোখে হঠাৎ করে আলোর ঝলকানি দেখা। তবে বেশিভাগ ক্ষেত্রেই মাইগ্রেনের কোন পূর্ব লক্ষণ থাকে না। কোন পূর্ব লক্ষণ না থেকে তীব্র মাথা ব্যথা এই ধরনের মাইগ্রেনই সবচেযে বেশি হয়। 

তবে আরেক ধরনের মাইগ্রেন আছে যাকে বলা হয় সাইলেন্ট মাইগ্রেন। এসব মাইগ্রেনের তেমন কোন পূর্ব লক্ষণ থাকে না তবে মাথা ব্যথাও সব সময় তীব্র হয় না। কিন্তু এটাও এক ধরনের মাইগ্রেন। ডাক্তারটা এই সাইলেন্ট মাইগ্রেন চেনার বা এটার জন্য সামান্য কিছু পরামর্শ কখনও কখনও বা তীব্র হলে সেটার জন্য ঔষধও দিয়ে থাকেন সাময়িক। 

মাইগ্রেনের উপসর্গ গুলো কী ? 

মাইগ্রেনের প্রধান উপসর্গ হচ্ছে মাথার যে কোন একপাশে মাঝারি থেকে তীব্র ব্যথা। এই ব্যথার সাথে অনেক সময় বমি বমি ভাব থাকতে পারে। অনেকেরই এসব বিষয় ছাড়াও আরও কিছু উপসর্গ থাকে। যেমন, 

(১) অতিরিক্ত পরিমাণে ঘেমে যাওয়া।

(২) কাজে মনোযোগহীনতা।

(৩) অনেক বেশি ঠান্ডা অনুভব হওয়া।

(৪) বা অনেক বেশি গরম অনুভব করা।

(৫) পেটে ব্যথা হওয়া। 

(৬) ডায়রিয়ার সমস্যা হওয়া।

এগুলোর যে কোন একটি হওয়া বা একাধিক লক্ষণ থাকতে পারে একসাথে। তবে এগুলোর যে কোন একটি যদি আপনার মধ্যে থেকে থাকে তবে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করুন। মাইগ্রেনের ব্যথায় কাবু হওয়া লোকের সংখ্যা নেহাত কম নয় তাই এটাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত সবারই। 


মাইগ্রেন কেন হয় ?

মাইগ্রেন সাধারণত কেন হয় সেটি সঠিকভাবে জানা যায় না। তবে কিছু কারণ আছে যেগুলোকে মনে করা হয় এগুলো কারণেই সাধারণত মাইগ্রেনের সমস্যা হয়। তারমধ্যে অন্যতম হচ্ছে মস্তিষ্কের অস্বাভাবিক স্নায়ু ব্যবস্থা ও শরীরের রাসায়নিক উপাদান যখন রক্তনালীকে আক্রান্ত করে ফেরে তখনই এই ধরনর সমস্যা হয়ে থাকে। তবে মাইগ্রেন কেন হয় সঠিকভাবে জানার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়ার চাইতে নিজের কি কি লক্ষণ যেটা জেনে রাখা জরুরী। 

অনেক সময় রক্তনালীর সমস্যা থেকে তীব্র মাথা ব্যথা হয়। মনে করা হয় এটিই একমাত্র বড় কারন মাইগ্রেনের সমস্যার। মাইগ্রেনের আরেকটি কারণ হচ্ছে হরমোন জনিত পরিবর্তন। চিকিৎসকরা বলেন, ঋতুস্রাবের সমস্যা নারীরা সবচেয়ে বেশি মাইগ্রেনের সমস্যায় ভোগেন। আরও নানা করণ মাইগ্রেনের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। যেমন, 

(১) মানসিক চাপ।

(২) অতিরিক্ত দুঃচিন্তা করা। 

(৩) উদ্বেগ।

(৪) হঠাৎ পাওয়া আঘাত।

(৫) উত্তেজনা। 

এসব কারণেও অনেক সময় মাইগ্রেনের সমস্যাটা বেশি হয় বা মাইগ্রেন সমস্যা তৈরি হয়। শারীরিক বিভিন্ন কারণ রয়েছে মাইগ্রেনের পেছনে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে ঘুম কম হওয়া। শীফট এ কাজ করা ও হঠাৎ করে অভ্যস্ত নয় এমন কাজ বেশি করাও অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয় মাইগ্রেনের সমস্যার। এছাড়াও আরও বেশ কিছু কারণ রয়েছে যেমন পরিবশেগত কিছু কারণেও মাইগ্রেন হতে পারে। আপনি যদি হঠাৎ করে গরম থেকে ঠান্ডা বা ঠান্ডা থেকে গরম পরিবেশে যান সেক্ষেত্রেও আপনার মাইগ্রেন সমস্যা হতে পারে। 

আবার আপনি হঠাৎ করে অনেক বেশি আলো রয়েছে এমন জায়গায় প্রবেশ করেন সেটিও একটা বড় কারণ হিসেবে দেখা হয় মাইগ্রেনের সমস্যার। আমরা কি ধরনের খাবার খাচ্ছি সেটিও অনেক সময় মাইগ্রেন সৃষ্টিতে ভূমিকা পালন করতে পারে। খাবার-দাবারে অনিয়ম করা, পানি কম পান করা, পানিশূন্যতায় ভোগা, মদ বা নেশাজাতীয় দ্রব্য পান করা, চা বা কফি বেশি পান করা এসব নানা ধরনের অনিয়ম মাইগ্রেন হওয়ার অন্যতম কারণ। 

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন ?

যদি ঘন ঘন তীব্র মাথা ব্যথার সৃষ্টি হয় তবে অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যাবেন। তীব্র মাথা ব্যথার সাথে যদি বমি হয় সেক্ষেত্রেও আপনাকে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। আপনার যদি মাইগ্রেন থেকে থাকে তবে উচ্চমাত্রার ব্যথানাশক ঔষধ সেবন থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ এটি সাময়িক আরাম দিলেও সময়ে সাথে সাথে ধীরে ধীরে এটি মাইগ্রেনের চিকিৎসাকে কঠিন করে তোলে। 

একমাসে যদি ৫ বারের বেশি মাইগ্রেন বা মাথার ব্যাথায় ভোগেন তবে সেক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এছাড়াও আরও কিছু গুরুতর উপসর্গ আছে যেগুলো দেখা দিলে অবশ্যই আপনাকে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। যদি মুখ বা হাতের যে কোন একাংশ যদি দূর্বল অনুভত হয় সেক্ষেত্রে আপনাকে মাইগ্রেনের চিকিৎসা গ্রহন করা অনেক বেশি জরুরী। 

কথা বলার সময় সেটি যদি অস্পষ্ট হয় বা সেটি যদি ভেঙে যায় তখন চিকিৎসকের কাছে যাওয়াটা অনেক বেশি জরুরী। এছাড়াও মাথা ব্যথার সাথে তীব্র জ্বর থাকে বা এর আগে হয়নি এমন তীব্র যদি মাথা ব্যথা হয়ে থাকে তবে দেরি না করে অবশ্যই ডাক্তার দেখাতে হবে। জ্বরের সাথে যদি মাথা ব্যথা থাকে, ঘাড় শক্ত হয়ে যায়, শরীরে র‌্যাশ দেখা যায় এবং রোগী ডাবল ভিশন দেখতে থাকে তাহলে অবশ্যই দেরি না করে যতদ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নিতে হবে। 

মাইগ্রেন কিন্তু একেবারেই হয়ে যায় নাই। মাইগ্রেনের বেশ কয়েকটি ধাপ থাকে। তারমধ্যে প্রোডোমা হচ্ছে প্রথম ধাপ। এই ধাপের আগে বেশ কিছু লক্ষণ থাকে। তারপধ্যে একটি হচ্ছে মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া এবং শরীরে শক্তি না পাওয়া। আচরণগত কিছু সমস্যা এবং ক্ষূধা নষ্ট হয়ে যাওয়াও অন্যতম কারণ মাইগ্রেনের প্রথম ধাপের। 

আর ২য় ধাপটি হচ্ছে অরা ধাপ। এই ধাপে রোগী রোখে আলোর ঝলকানি দেখে থাকে। অনেক সময় একেবারেই চোখে না দেখা এমন সমস্যাও হতে পারে। আর এই লক্ষণগুলো ৫ মিনিট থেকে ১ ঘন্টা পর্যন্ত হয়ে থাকে। আর ২য় পর্যায় বা ধাপ হচ্ছে মাথা ব্যথা পর্যায় বা মাথা ব্যথা ধাপ। এই পর্যায়ে বা ধাপে তীব্র মাথা ব্যথা সহ অসুস্থতা বোধ করা, বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া, শব্দ ও আলোর প্রতি সংবেদনশীলতা থাকে। আর এই ধরনের লক্ষণ চার ঘন্টা থেকে শুরু করে ৭২ ঘন্টা পর্যন্ত হয়ে থাকে। 

৪র্থ পর্যায় হচ্ছে রেজুলেশন ধাপ। এই ধাপে এসে মাথা ব্যথা আস্তে আস্তে কমতে থাকে। তবে শরীরে দূর্বল লাগার বিষয়টা বেশ কয়েদিন ধরেই চলতে থাকে। 


মাইগ্রেনের চিকিৎসা কী ? 

সহজ কথায় বলতে গেলে মাইগ্রেনের আসলে সে ধরনের কোন চিকিৎসা নেই। তবে চিকিৎসক কাছে গিয়ে পরামর্শ গ্রহন ও নিয়ন্ত্রিত জীবন-যাপন মাইগ্রেনকে এড়িয়ে চলতে অনেকাংশ সাহায্য করে থাকে। বর্তমানে মাইগ্রেনের কোন প্রতিশেধক নেই। তবে এই রোগের বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি প্রচলিত আছে। তবে এগুলো সব সময়ই বেশ সময় সাপেক্ষ্য। মাইগ্রেন থেকে থাকলে গর্ভবতী নারীদের বেশি সতর্ক থাকতে হবে। তবে যে পর্যায়েরই হোক আর যে ধাপেরই হোক চিকিৎসকের কাছে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াটাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। 

আজকের আর্টিকেলটি অনেক গুরুত্বপুর্ন কারন এই ধরনের সমস্যা আমাদের দেশে নিয়মিতই দেখা যায়। আর এই ধরনের সমস্যা হলে আমরা ঘরে বসেই চিকিৎসা নিয়ে থাকি যেটা শরীরের জন্য অনেক বেশি ক্ষতিকর। অনেক সময় সাময়িক সুবিধা মনে হলেও দীর্ঘস্থায়ীভাবে এটি আমাদের শরীরকে ক্ষতির দিকে নিয়ে যেতে পারে। 

অনেক ধন্যবাদ আপনাকে মূল্যবান সময় নিয়ে আর্টিকেলটি পড়ার জন্য। আপনার মন্তব্য জানাবেন অবশ্যই আর এরকম সমস্যা বিষয়ে আপনার কোন পরামর্শ থাকলেও সেটিও জানাবেন। আমাদের সাথে যোগাযোগের ঠিকানাঃ 

(১) ফেইসবুক পেজের লিংক = ডিজিটাল আইটি সেবা 

(২) ফেইসবুক গ্রুপ = ডিজিটাল আইটি সেবা 

(৩) ফেইসবুক আইডি = ডিজিটাল আইটি সেবা 

(৪) ই-মেইল = [email protected] 

Leave a Comment