বাংলাদেশে যে প্রযুক্তিতে তৈরি হচ্ছে পরিবেশবান্ধব ভবন

দিনে দিনে এগিয়ে যাচ্ছে প্রযুক্তি বিশ্ব। প্রযুক্তির নানা ধরনের উদ্ভাবনের পাশাপাশি পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তিও এখন উঠে আসছে। ইতোমধ্যেই টেসলা কম্পানি যার প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক যিনি পরিবেশ বান্ধব গাড়ি আবিষ্কার করেন। যা পুরো পৃথিবীকে অবাক করে দিয়েছে। 

বাংলাদেশে যে প্রযুক্তিতে তৈরি হচ্ছে পরিবেশবান্ধব ভবন


বেশ কযেক বছর হলো বাংলাদেশেও পরিবেশ বান্ধব পরিবেশের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ঢাকাসহ বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি জায়গায় গড়ে উঠেছে পরিবেশ বান্ধব ভবন ও কারখানা। কোন স্থাপনা পরিবেশ বান্ধব কিনা তা নির্ধারণ করার জন্য অনেকগুলো সংস্থা আছে। যারা সেই স্থাপনার কাছে গিয়ে প্রত্যক্ষ ভাবে দেখে একটা রিপোর্ট তৈরি করেন সেই স্থাপনাটি পরিবেশ বান্ধব কিনা। 


এই সকল সংস্থা একটি বিশেষ পদ্ধতির মাধ্যমে একটা স্থাপনা কতটুকু পরিবেশ বান্ধব তা নির্ধারণ করে থাকে। তারা বিশেষ পদ্ধতিতে পরীক্ষার করার পরই সেই স্থাপনাকে পরিবেশ বান্ধব বলে স্বকৃতি দেয়। আর যেসব সংস্থা এসব কাজ করে থাকে তাদের মধ্যে USGBC (The U.S. Green Building Council) অন্যতম। তারা বিভিন্ন ভবন পরীক্ষা করে লিড বা Leadership in Energy and Environmental Design (LEED)  সার্টিফিকেট দেয়। 

ভবনটি নির্মান করার সময় কি ধরনের পরীক্ষা কল্পনা করা হচ্ছে। পানি ও জ্বালানি শক্তি এবং কাচামাল ও নির্মাণ সামগ্রি ব্যবহারে অপচয় রোধ করা, ভবনের ভেতরে বাতাসের মান নিয়ন্ত্রন করাসহ আরও বেশ কয়েকটি বিষয় তারা দেখে থাকে। আর প্রযুক্তির যুগে বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে এসব কাজ করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশে যে প্রযুক্তিতে তৈরি হচ্ছে পরিবেশবান্ধব ভবন তৈরি করা হচ্ছে সেটাও এই কম্পানিই দেখে থাকে। 

আমাদের দেশের বেশ কয়েকজন স্থপতি ইজ্ঞিনিয়ার এই The U.S. Green Building Council যেটাকে সংক্ষেপে USGBC বলা হচ্ছে তার সাথে যুক্ত আছে। তারা বাংলাদেশের নতুন ভবন নির্মানগুলো তাদের সাথে পর্যবেক্ষন করেছেন ইতোমধ্যেই। তারা উপরোক্ত বিষয়গুলোই নিশ্চিত করেছেন বিবিসি বাংলা সংবাদ মাধ্যমটিকে। 


নাজলি হোসেন যিনি কর্মরত আছেন প্র্যাক্সিস আর্কিটেক্টস এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান স্থপতি। তিনি জানান বিবিসি বাংলা সংবাদ মাধ্যমকে, “আমাদের দেশে মূলত Energy নিয়েই বেশি গবেষণা হয়েছে এর মধ্যে। কারণ বাংলাদেশে যেই পদ্ধতিতে ইলেকট্রিক্যাল ডিজাইন করা হয় সেটা আসলেই একটা নতুন উদ্ভব বলা যায়। প্রাকৃতিক আলো যেসব জায়গায় আসছে সেখানে প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার করে আর্টিফিশিয়াল আলোর ব্যবহার কতটা কমানো যায় এসব বিষয়ও দেখা হয় গ্রিন বা পরিবেশ বান্ধব ভবন তৈরি করার সময়টাতে। আর প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার করার ফলে আমাদের শক্তির অপচয় রোধ হচ্ছে যা পরিবেশের উপর কোন প্রভাব ফেলছে না। তিনি জানান গ্রিন টেকনোলোজি ৩৫% এনার্জি  সেভ করে থাকে প্রায় যেটা পরিবেশ বা প্রাকৃতিকভাবেই পাওয়া যায়।” 

পরিবেশ বান্ধব ভবনের একটা বড় বিষয় হলো এসির ব্যবহার কমিয়ে নিয়ে আসা। এসি ব্যবহার করার ক্ষেত্রে কতটুকু অক্সিজেনযুক্ত বাতাস পাচ্ছে আর কতটুকু ্ফ্রেস বাতাস আসবে সেই বিষয়টাও দেখা হয় এই ভবন নির্মান করার ক্ষেত্রে। এসি ও প্রাকৃতিক পরিবেশ মিলিয়ে বিদ্যুতের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমেই তৈরি করা হয় এই গ্রিন ভবন বা পরিবেশ বান্ধব ভবন। 


ইদানিং বিল্ডিং করার ক্ষেত্রে সৌরশক্তি বা সোলার প্যানেল করার পরিকল্পনাটাও এই পরিবেশের কথা বিবেচনা করেই করা হয়েছে। বিভিন্ন অঞ্চলে এখন সোলার প্যানেল এর মাধ্যমে লাইটসহ আরও অনেক কাজ বিল্ডিং এর করা হয়ে থাকে যেটা পরিবেশ রক্ষা করার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করে। আর্টিফিশিয়াল বা Artificial Energy কম ব্যবহার করে প্রাকৃতিক শক্তির বেশি ব্যবহার করে পরিবেশকে রক্ষা করার বিশেষ পদ্ধতির কারণেই দিনদিন এই প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েই চলেছে। তাছাড়াও এখন এসি ব্যবহার করার ক্ষেত্রে অনেকেই কম এনার্জি ব্যবহার করা হয় এরকম এসি কেনার পরামর্শ দিয়ে থাকেন যেন পরিবেশের কম ক্ষতি হয় আর সেটা বসানোর ক্ষেত্রেও বিশেষ নজর দেওয়া হয় যেন সঠিক বাতাস পায়। ভেতরে যেন কার্বন মনোঅক্সাইড এর পরিমাণ ঠিক থাকে সেই বিষয়টা বিশেষভাবে সেনসর ব্যবহার করার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। 

প্রাকৃতিক বৃষ্টির পানিকে ছাদ থেকে পাইপের মাধ্যমে নিচে ট্যাংকি করে জমা রেখে ফিল্টারিং করে সেটা ট্রয়লেট ফ্লাস ও কার ওয়াস বা গাছে পানি দেওয়ার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। অনেক সময় এসির পানিকেও এভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে এই প্রযুক্তিতে যেখানে ওয়াসার পানির ব্যবহার যেন কম করা হয়। 

বিশেজ্ঞরা বলছেন পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তির উপর এখনই আমাদের জোর দিতে হবে। কারণ পৃথিবীর উষ্ণতা দিনদিন বেড়েই চলেছে আর এ থেকে আমাদের বেচে থাকার জন্যই যত দ্রুত সম্ভব আমাদেরকে পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। 

Leave a Comment