ফ্রান্সে মুসলিম বিরোধী আইন পাস || France is not so good for Muslim

 “মুসলিম বিরোধী” আইন তৈরি করলো ফ্রান্স। ফ্রান্সে মুসলিম বিরোধী আইন পাস করা হয় সম্প্রতি। 


ফ্রান্সে মুসলিম বিরোধী আইন পাস



সম্প্রতি ফ্রান্সের মন্ত্রিসভায় মুসলিম বিরোধী একটি নতুন আইন পাস হয়। এ আইনের মাধ্যমে নারীর ধর্মীয় পোশাক, ঘরোয়া ইসলামী শিক্ষায় কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়। 


পার্লামেন্টে আইনটি নিয়ে বিতর্কের পর তা চূড়ান্তভাবে পাস হবে। মসজিদ, সমিতি, সরকারি অফিস এবং স্কুলগুলোতে নজরদারি বাড়াতে আইনটি আনছে ফ্রান্স। তবে ৫০টি ধারার এ আইনে “ইসলাম” বা “মুসলিম” কোনো শব্দই উল্লেখ করা হয়নি। 


অন্যদিকে ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রি জ্যাঁ ক্যাসটেক্স জানান, এটি সুরক্ষার আইন। কোনো ধর্মের বিরুদ্ধে এ আইন নয়। চরমপন্থা থেকে মুসলিমদের এটি মুক্তি দেবে। 


আরো পড়ুন >> বিদাত কি ? নামাজ শেষে মোনাজাত ধরা কি বিদাত ?

আরো পড়ুন >> বাংলাদেশে ডিভোর্সের সংখ্যা দিনদিন কেন বাড়ছে।

আরো পড়ুন >> উচ্চরক্ত চাপের রোগীদের খাবার ও যত্ন জেনে নিন।


আইনের উল্লেখযোগ্য বিষয়সমূহ হলোঃ 

(১) শিশুদের বয়স তিন বছর হলেই স্কুল বাধ্যতামুলক। 
(২) বিশেষ কোনো কারণ ছাড়া ঘরোয়া শিক্ষা দেয়া যাবে না। 
(৩) প্রত্যেক মসজিদকে সরকারিভাবে নিবন্ধিত হতে হবে। 
(৪) মসজিদে বিদেশি অর্থায়ন নিষিদ্ধ নয়, তবে তা ১০,০০০ ইউরোর বেশি হলে অবশ্যই ঘোষণা দিতে হবে। 
(৫) সরকারি অফিসসহ মার্কেট, সুইমিংপুল ও পরিবহন খাতে ধর্মীয় পোশাক পরায় নিষেধাজ্ঞা বাড়ানো হয় এই আইনের মাধ্যমে। 


“মুসলিম বিরোধী” আইন প্রণয়নে ফ্রান্সই প্রথম ভুমিকা রাখে। বিস্তরিত জানার জন্য আর্টিকেলটি পড়তে পারেন। চরমপন্থাকে রাষ্টীয়ভাবে দমন করার জন্যই মূলত এই আইন প্রণয়ন করা হয় বলে জানা গেছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানান এই আইনের মাধ্যমে মুসলিমদের একটা নীতিমালায় আনা হবে যা তাদের জন্য ভালো হবে। 


তবে আইনের কোথায় মুসলিম ধর্মের কোন নাম উল্লেখ করা হয় নাই যেটার কারণে ফ্রান্স সরকার প্রত্যেক্ষভাবে প্রচার করছে না তবে পরোক্ষ্যভাবে বোঝা যাচ্ছে যে, এই আইনটি কেবলমাত্র মুসলিমদের উপর নজরদারী বাড়ানোর কারণেরই করা হয়েছে। 


তুর্কি প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক একটি সংবাদ মাধ্যম জানায় যে, “ইত্যোমধ্যেই এই আইনটি বিতর্ক তৈরি করেছে। আইনে শিশুদের ৩ বছর হলেই স্কুলে ভর্তি করাতে হবে। বিশেষ অনুমতি ছাড়া ঘরোয়া কোন শিক্ষা দেওয়া যাবে না। মুসলিম নারীদের বাইরে পোশাকের বিধিনিশেষ। এসব মুসলিমদের জন্য সামনের কঠোর অবস্থানের ঘোষনা দিচ্ছে ফ্রান্স।” 


আরো পড়ুন >> টাকা-পয়সা খরচের আগে জেনে নিন ৫টি বিষয়।

আরো পড়ুন >> সফল ব্যাক্তিদের সকালের রুটিন কেমন হয় ?

আরো পড়ুন >> শরীর সুস্থ রাখার ৭টি উপায় জানুন এখনই।


ফ্রান্স বেশ কিছুদিন আগে থেকেই মুসলিমদের নিয়ে একটা পরিকল্পনা তৈরি করছিল তারই ধারাবাহিকতাই এই আইন হিসেবেই দেখছেন মুসলিম বিশ্ব নেতারা। কিছুদিন আগে সমালোচনার পাত্র হয়েছিলেন ম্যাক্রোর সরকার হয়রতম মুহাম্মদ (সাঃ) এর ব্যাঙ্গাত্বক ছবির অনুমতি আর মন্তব্য করে। পুরো মুসলিম বিশ্বসহ বিশ্বের বেশিভাগ নেতাই এর সমালোচনা করা শুরু করেছিল। আমাদের মানুষও ফ্রান্সের পণ্য বর্জনের ডাক দেয় এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বাজার থেকে ফ্রান্সের পণ্য বর্জন করা হয়। এর পরেই ম্যাক্রোর সরকার এই আইনের বিষয়ে পরিকল্পনা তৈরি করে। তবে মুসলিম বিশ্বের নেতারা একে ফ্রান্সের জন্য একটা হুমকি হিসেবেই মনে করছেন। কারণ বিশ্বের সকল মুসলিম দেশ এখন এক প্লাটফরমের আসার জন্য চেষ্টায় বদ্ধ পরিকর। 

ইতোমধ্যেই তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান তিনি মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের সহযোগীতা ও বিভিন্ন ধরনের পরিকল্পনা করেছেন। যার ফলাফর হয়তো পুরো মুসলিম বিশ্ব আরও কয়েক বছর পর দেখতে পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

Leave a Comment