গুগল থেকে আয় করার ৬ টি উপায়

গুগল থেকে আয় করার ৬ টি উপায়

গুগল থেকে আয় করার জন্য বর্তমান সময়ে গুগল অ্যাডসেন্স, ব্লগিং, কনটেন্ট রাইটিং, কনটেন্ট মার্কেটিং সহ আরও নানা রকম উপায়ে অর্থ আয় করা যাচ্ছে। 

 

আজকের আর্টিকেলে আমি গুগল থেকে কিভাবে আয় করা যায় এ নিয়ে ৬টি উপায় বলার চেষ্টা করবো। 

ইন্টারনেট জগতে আমরা গুগল কে একটি আলাদিনের চেরাগ নামে জানি। যেখানে আপনি হয়ত প্রায় সকল বিষয় সার্চ করে পাওয়া যায় । গুগল থেকে আয় করা যায় তা যানে অনেকে। কিন্তু কিভাবে সহজে করা যায় সে বিষয়ে সন্ধিহান।

 

গুগল থেকে আয় করার অনেক সহজ পদ্ধতি আছে। বিভিন্ন মানুষ বিভিন্ন ভাবে গুগল থেকে আয় করে। আপনি গ্রুগল থেকে অনলাইনে ঘরে বসে আয় করে আপনার ব্যাংক হিসাব থেকে কাজ শেষে টাকা তুলে নিবেন।

 

Google ইন্টারনেট ভিত্তিক  একটি সেবা প্রতিষ্ঠান।এটি আমেরিকান মাল্টিন্যাশনাল প্রযুক্তি  Company হিসাবে পরিচিত।গুগল কে বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে বড় কোম্পানি হিসেবে ধরা হয়ে থাকে।

 

গুগলের অনেক রকমের অনলাইন সার্ভিস আছে, যেগুলো ব্যবহার করে আপনি ও অতি সহজে ঘরে বসে অনলাইনে আয় করে নিতে পারেন।

 

অনেকে সঠিক ভাবে কাজ করে দিনে ১০ থেকে ১০০ ডলার পর্যন্ত উপার্জন করে থাকে। আবার, কিছু ব্যক্তি ও আছে যারা এর থেকে বেশি আয় করে থাকেন।

 

Google থেকে  আপনি যদি অনলাইন ইনকাম করার কথা ভেবে থাকেন, তাহলে এই পোস্টটি আপনার জন্য অনেক কাজে আসবে।

 

নিচে গুগল থেকে আয় করার ৬ টি উপায় সম্বন্ধে আলোচনা করা হলো।

 

১. বিজ্ঞাপন প্রোগাম বা গুগল অ্যাডসেন্স (Google Adsense) দিয়ে আয়

গুগল অ্যাডসেন্স দিয়ে আপনি প্রচুর আয় করতে পারবেন। বর্তমানে গুগল অ্যাডসেন্স দিয়ে অনেকে আয় করে। কিছু মানুষ আছে যারা হয়ত এ সম্বন্ধে তেমন ভাল ধারণা না থাকার কারণে সহজে আয় করতে পারছে না।

 

গুগল অ্যাডসেন্স এর মাধ্যমে আপনি আপনার ওয়েবসাইটের মধ্যে, ব্লগের মধ্যে, ইউটিউভ ভিডিও এর মধ্যে বিজ্ঞাপন দেওয়ার অনুমতি দেয়। যখন গ্রাহক এই বিজ্ঞাপনের মধ্যে Click করে তখন অ্যাডসেন্স ব্যবহারকারী অর্থ পেয়ে থাকে।

 

প্রতি মাসে ১৮ থেকে ২০ তারিখের মধ্যে আপনার ব্যাংক হিসাবে টাকা জমা হবে। তবে টাকা জমা হওয়ার নিয়ম আছে। আপনি ইচ্ছা করলে যখন খুশি টাকা উত্তোলন করতে পারবেন না। আপনার হিসাবে তখনি টাকা জমা হবে যখন আপনার হিসাবে কম পক্ষে ১০০ ডলার হবে।

 

তাই বুঝা গেল গুগল অ্যাডসেন্স এর মাধ্যমে টাকা করা আয় সহজ যদি এটা নিয়ম মেনে হয়।

 

ব্লগে অ্যাডসেন্স করার নিয়ম

 

গুগলে অ্যাডসেন্স করার জন্য প্রথমে আপনার যাবতীয় ব্লগ এর কাজ, ওয়েবসাইটের কাজ শেষ করতে হবে। এরপর আপনাকে অ্যাডসেন্স জন্য গুগলের কাছে আবেন করতে হবে। গুগল আপনার আবেদনের যাবতীয় কার্যক্রম  চেক করে আপনার মেইলে তথ্য পাঠাবে।

 

CPC হলো Cost Per Click । একজন User  কতটুকু আয় করে তা CPE এর মাধ্যমে জানা যায়। সবাই চায় তাদের ব্লগ বা ইউটিউব অনুসন্ধানের প্রথম পৃষ্ঠাতে রাখতে। আপনি এসইও (SEO) এর মাধ্যমে আপনার ব্লগ বা ইউটিউব প্রথম পৃষ্ঠাতে  রাখতে পারবেন।

 

যদি আপনার ‘অ্যাকসেন্স একাউন্ট অনুমোদিত’ হয় , তাহলে আপনার ব্লগ অথবা ভিডিও তে অ্যাডসেন্সে বিজ্ঞাপন দিতে পারবেন। ব্লগিং প্লাটফর্ম হিসেবে ওয়ার্ডপ্রেস এবং ব্লগার দুটোই ব্যবহার করা যায়। অ্যাডসেন্স প্রোগ্রাম এর জন্য নিজস্ব কাস্টমাইজ Domain থাকতে হয়।

 

 

. ইউটিউভের (Youtube) মাধ্যমে গুগল থেকে আয়

 

আজকাল ভিডিও হলো ইন্টারনেট জগতের সবচেয়ে অন্যতম আকর্ষণ। ইন্টারনেট সেবা দ্রুত গতি হওয়ার কারণে মানুষ বিভিন্ন ভিডিও দেখে।

 

এই ভিডিও শেয়ারের সবচেয়ে বড় সোশ্যাল সাইট হলো You Tube. কেউ নাটক, মুভি বা নানান রকর ভিডিও দেখে। এই ভিডিও আপনার বা আমার  মতই  মানুষ তৈরি করে থাকে।

 

ভিডিও দেখার সময় দেখা যায় কিছুক্ষণের জন্য Advertisement হয়। আর এই বিজ্ঞাপনের (Advertisement) জন্য আপলোডকারী গুগল থেকে আয় করে থাকে।

 

আপনি চাইলে ভিডিও তৈরী করে Youtube আপলোড করে আয় করতে পারবেন। তবে মনে রাখার বিষয় হলো এই যে, আপনার চ্যানেলে কমপক্ষে ১০০০ Subscribe এবং ৪০০০ Watch Time এর মতো হতে হবে।

 

এরপর  Google Adsense এর সাথে আপনি চ্যানেল Monitise করে গুগল থেকে আয় করা যায়।

 

৩. You Tobe থেকে আয় করার নিয়ম

 

প্রথমে একটি ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করতে হবে। তারপর চ্যানেল এর  জন্য  সুন্দর ও আকর্ষণীয় নাম রাখতে হবে। ভাল একটি কভার ফটো লাগাতে হবে। চ্যানেল এর  সুন্দর ও আকর্ষণীয় লগো তৈরি করতে হবে।

 

নিয়মিত ভিডিও আপলোড করতে হবে।ভিডিও এর মধ্যে কাস্টমস থাম্বনাইল ব্যবহার করতে হবে। ভিডিও এর মধ্যে টাইটেল, ট্যাগ, ও ডেসক্রিপশন দিতে হবে।

 

ভিডিওগুলোকে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করতে হবে।১০০০ হাজার সাবস্ক্রাইবার জোগাড় করতে হবে। ইউটিউব চ্যানেলে গুগল এডসেন্সে যোগ করতে হবে। আপনার চ্যানেল মনিটাইজ হয়ে গেলে  তখন আপনার চ্যানেল এর  ভিডিওতে বিজ্ঞাপন আসা শুরু হবে।

 

মনে রাখুন, আপনি যদি ইউটিউবের নীতিমালা সঠিক ভাবে মেনে ভিডিও আপলোড করতে পারেন তাহলে আপনি এক সময় হয়ত অনেক বেশি  টাকা আয় করতে পারবেন।

 

. ব্লগিং (Blogging)  করে আয়

 

ব্লগার নামে গুগলে একটি Platform আছে যেখানে গিয়ে যে কেউ একটি ব্লগ বা ওয়েভসাইট তৈরি করতে পারেন।

 

ব্লগ কি ? কিভাবে ব্লগ থেকে আয় করবেন ?

ব্লগ বা ওয়েবসাইট তৈরী কারার জন্য হোস্টিং (Hosting) খরচ, ডমেইন (Domain) খরচ ও অনেক আনুষঙ্গিক খরচ করা দরকার হয়।

 

গুগল Blogger Platform টি  ব্যবহার করে আপনারা সম্পূর্ন ফ্রি একটি ব্লগ সাইট তৈরী করেতে পারেন।

 

৫. গুগলের প্লে স্টোরের মাধ্যমে আয় ( Earn from Google Play Store)

 

গুগলের মধ্যে একটি সার্ভিস (Service) অথবা প্রডাক্ট (Product) আছে যার নাম হলো, Google Play Store.

 

আপনি ইচ্ছা করলে Android App  তৈরী করে গুগল থেকে আয় করতে পারবেন।

 

Google Play Store  এ নিজের Android App  জমা দিয়ে তারপরে Advertisement বা বিজ্ঞাপন দিয়ে আপনি ও আয় করে নিতে পারেন।

 

আমরা নিজেদের মোবাইলে বিভিন্ন App  ব্যবহার করে থাকি। এই App এর মধ্যে নানা রকম বিজ্ঞাপন হয়ে থাকে। মূলত এ কাজগুলো আপনাকে করতে হবে।

 

অনেকের মতে গুগল এডমোভ হলো গুগল অ্যাডসেন্সের মামাতো ভাই।

 

. গুগল পে অথবা Gpay মাধ্যমে আয়

গুগল পে বা Gpay এক রকমের পেমেন্ট Apps। এই এপসের মাধ্যমে অনলাইন পেমেন্ট করা হয়। এই এপসের মাধ্যমে টাকা আয় করা সম্ভব।

 

এখানে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অফার দেওয়া হয়। সেই অফার মতো কাজ করলে টাকা আয় হয়। এ এপের মাধ্যমে মোবাইল রিচার্জ, ইলেকট্রিক বিল, ব্যালেন্স ট্রান্সফার সহ বিভিন্ন কাজ করা যায় সহজে।

 

এখানে বিভিন্ন বন্ধুদের ইনভাইট করে ও আয় করা যায়। ইনভাইট করলে যে পরিমান টাকা দেওয়া হবে, তাই হোম Page লিখা থাকবে।

 

আয় করার প্রয়োজনীয় ধাপ সমূহ

 

প্রথপে App টি কে ইন্সটল করবেন। এরপর রেজিস্ট্রেশন করে নিন ও আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট যুক্ত করে নিন। আপ পিন (UPI PIN) তৈরি হয়ে যাবে।

 

এ পিন এর মাধ্যমে পরবর্তীতে পেমেন্ট করা যাবে। এরপর আপনার বন্ধুদের Invite করে নিন। Invite  করার মাধ্যমে গুগল থেকে Easily আয় করুন।

 

. গুগল এডওয়ার্ড এর মাধ্যমে আয়

 

এড দেয়ার আরেক টি মাধ্যম হলো গুগল এডওয়ার্ড। এই Application  এর মাধ্যমে আপনি বিভিন্ন Product এর এড দিতে পারবেন এবং এখান থেকে বিক্রয় করতে পারবেন।

 

Business Page বা ওয়েভসাইট কে সবার সামনে নিয়ে আসতে পারেন এবং বিক্রয় করতে পারেন Google Adwoard এর মাধ্যমে। কিছু অর্থ ব্যয় এর মাধ্যমে এড দেখাতে পারেন। এডওয়াডের মাধ্যমে আপনি অ্যাফিলিয়েট করা পণ্য বিক্রয় করতে পারেন।

 

মনে করুন, একটা পণ্যের দাম ১০,০০০/= টাকা। এই পণ্য বিক্রয় করে আপনি পেতে পারেন ১,০০০/= টাকা।  তাহলে ৫০০/= টাকা এডওয়ার্ড খরচে ক্ষতি কি?

 

শেষ কথা

বন্ধুরা আপনারা ইতি মধ্যে উপরোক্ত বিষয় (Earn from google) গুগল থেকে আয় করার সবচেয়ে ভাল নিয়মগুলো আলোচনা করেছি।

 

আপনি ইচ্ছা করলে উপরের যে কোন একটি বিষয় নিয়ে আয় করতে পারবেন অথবা একাধিক বিষয় নিয়ে আয় করা সম্ভব। ইতিমধ্যে আমি বলেছি আজ অনেকে গুগল থেকে ভাল আয় করছে।

 

আশা করি, এই আর্টিকেল গুলো আপনাদের ভাল লেগেছে এবং আর্টিকেল গুলো আপনাদের উপকারে আসবে।

Leave a Comment