কেন আপনি উদ্যোক্তা হবেন / উদ্যোক্তা হবার ১০টি কারণ

উদ্যোক্তা হওয়া আগে আসুন জেনে নিই উদ্যোক্তা কি বা কাকে বলে ? আমরা পড়াশোনা শেষ করে একটা ভালো চাকরী করতে চায় আর যারা চাকরী দেয় আমাদের তারাই মূলত উদ্যোক্তা। অর্থ্যৎ আপনি নিজের কাজ করবেন এবং কাউকে যদি সেই কাজ করানোর জন্য চাকরী দেন তাহলে সেই কাজটাকেই বলা হয় উদ্যোক্তার কাজ। আর বর্তমানে আমরা সবাই এই জিনিসটা শেখার চেষ্টা করছি। আসলে একটা মানুষ কেন উদ্যোক্তা হবে বা কেনই বা সে চাকরী না করে এই পথটা বেছে নেবে সেটাই আলোচনা করবো এখানে। আশা করি লিখাটা পড়া শেষে আপনি বুঝতে পারবেন কেন একজন মানুষ উদ্যোক্তা হতে চায়।

কেন আপনি উদ্যোক্তা হবেন


বর্তমান সমযে নিচের প্রশ্নগুলো আমাদের মনে অনেক বেশি আসে যেমন,

(ক) সরকারী চাকরী পাওয়াটা কি সত্যিই অনেক জরুরী ?

(খ) অনলাইনে আয় করলেও তো হয় তাহলে চাকরী কেন করতে হবে ?

(গ) উদ্যোক্তা হওয়া কেন জরুরী ?

(ঘ) আমি উদ্যোক্তা হতে চায় আমাকে কি করতে হবে ?

(ঙ) উদ্যোক্তা হওয়ার ধাপগুলো কি কি ?

 

১.নিজের ইচ্ছাশক্তির মূল্য থাকবে

 

আপনি যখন কোথায় চাকরী করেন তখন কি হয়। আপনাকে একজন অর্ডার করে আর আপনি তা মেনে চলেন। ধরুন আপনি একটা ব্যাংকে চাকরী করেন তাহলে আপনাকে সপ্তাহে ৫দিন যেতে হবে আর নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আপনাকে ডিউটি করতে হবে এবং আপনি এই নিয়মের বাইরে যেতে পারবেন না। যদি কখনও আপনার ছুটির দরকার হয় তবে আগে থেকেই জানিয়ে দিতে হবে। অর্থ্যৎ আপনার নিজের লাইফ বলে কিছু নেই। আসলে আপনি যদি নিয়মগুলো মেনে চলতে পারেন তবে আপনার লাইফটা ভালো আর যদি না পারেন তবেই সমস্যাটা তৈরি হবে। যাইহোক নিজের ইচ্ছাশক্তির মূল্যায়ন করার জন্য অবশ্যই আপনাকে উদ্যোক্তা হতে হবে যেন আপনি স্বাধীনমত কোন কিছু করতে পারে। 

 

২. একজন আত্মনির্ভরশীল ব্যক্তি হতে চাই

 

সবাই চায় আত্মনির্ভলশীল হতে আর নিজর টাকা দিয়ে নিজে চলবে এরকম লাইফ সবাই চায়। আর এর জন্যই উদ্যোক্তা হওয়াটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একজন উদ্যোক্তা আত্মনির্ভরশীল ব্যক্তি সে নিজের উপার্জিত অর্থ দিয়ে নিজের জীবন পরিচালনা করে থাকে আর এটাই মূলত সবাই চায়। আপনি সকালে ঘুম থেকে উঠবেন একটা নির্দিষ্ট ড্রেস পরে অফিসে যাবেন আবার ছুটির পর বাসায় আসবেন এবং তারপর ঘুমাবেন আবার সকালে উঠে সেই একই রুটিন এই লাইফটাতে অনেকেই বোরিং হয়। আর এ থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য অন্যতম উপায় হরো উদ্যোক্তা হওয়া। 

 

৩. নিজের বলার মত একটি গল্প থাকবে

 

আমরা ইউটিউবে সার্চ দিযে সব বড় বড় ব্যাক্তির লেকচার শুনি তারা কিন্তু কেউ ই চাকরী জীবি নয় তারা সবাই উদ্যোক্তা বা ব্যবসায়ী। আসলে উদ্যোক্তা আর ব্যবসায়ী বিষয়টা একই রকম ছোট অবস্থায় আমরা সবাই উদ্যোক্তা আর সেটা সময়ের সাথে সাথে বড় হয়ে গেলে বা কম্পানির মত হযে গেলে তখন তাকে ব্যবসায়ী বলে থাকি। একজন উদ্যোক্তার নিজের জীবনের একটা সুন্দর গল্প থাকে যা সে অন্যদেরকে বলে। আমরা বিভিন্ন সেমিনার দেখে থাকলে বিষয়টা বুঝবো কারণ বিভিন্ন সেমিনারে বক্তারা নিজেদের জীবনের গল্পগুলো সুন্দর করে অন্যদেরকে শোনায় যেন তারা তা থেকে শিক্ষা নিয়ে অনুপ্রাণিত হয়। প্রত্যেকটা উদ্যোক্তারই নিজের জীবনের একটা ধাপ আছে বা গল্প আছে আমরা হয়তো যারা উদ্যোক্তা জীবনে সফলতা লাভ করে তাদেরকেই দেখে থাকি কিন্তু যারা ব্যার্থ হয় তাদেরকে আমরা চিনিই না। আসলে সকল উদ্যোক্তারই জীবনে সুন্দর গল্প থাকে। তেমনি আপনি যদি উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের জীবনের গল্প তৈরি করতে চান তবে অবশ্যই আপনাকে অন্যদের গল্পগুলো শুনে তারপর উদ্যোগ নেওয়া শুরু করতে হবে। 

 

৪. আমাকে নিয়ে যেন আমার পরিবার গর্ব বোধ করে

 

আপনি যদি কোন মাল্টিন্যাশনাল কম্পানিতে চাকরী করবেন তখন আপনাকে পরিবার পরিচয় দেবে একটা চাকরীজীবি হিসেবে। কিন্তু আপনি যদি একটা ছোট কোন প্রতিষ্ঠানের মালিক হন তবে আপনাকে আপনার পরিবার পরিচয় দেবে একটা প্রতিষ্ঠানের মালিক হিসেবে। চাকরীজীবি পরিচয়ের চাইতে উদ্যোক্তা পরিচয়টা অনেক বড় আর পরিবার অনেক গর্ব করে যখন আপনার পরিচয়টা অন্যদেরকে দেয়। কারণ উদ্যোক্তারা নিজেই শুধু বাচে না তারা সবাইকে নিয়ে বাচে। 

 

৫. নিজের ইচ্ছা শক্তি প্রয়োগ

 

একটা উদ্যোগ গ্রহণের জন্য আপনার নিজের ইচ্ছা শক্তি থাকাটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর এই ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে আপনি ছোট উদ্যোগকে আস্তে আস্তে অনেক বড় করতে পারবেন। আপনার ইচ্ছা একটা কুটির শিল্প তৈরি করার আর এর প্রয়োগের জন্য আপনাকে অবশ্যই ‍ব্যবসা করতে হবে। চাকরীর মাধ্যমে এই সুযোগটা পাওয়া যায় না তাই নিজের ইচ্ছা শক্তির প্রয়োগ করাতে চাইলে আপনি আজই শুরু করে দিন উদ্যোক্তা হওয়ার কাজ। এখন আগের মত এতটা কষ্ট করতে হয় না উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য তবে নিজের চেষ্টা ও ইচ্ছা শক্তি অনেক বেশি থাকতে হয়। 

 

৬. নিজের মেধা কে কাজে লাগানোর সুযোগ

 

আমাদের দেশের অনেক মেধাবী তরুন আজ তাদের মেধাকে কাজে লাগিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছে। বর্তমানে পড়াশোনা করে চাকরী করবে এমন মানসিকতা আর তেমন একটা দেখা যায় না তবে তারা মধ্যে অনেক বড় একটা অংশই উদ্যোক্ত হতে চায় বা হওয়ার চেষ্টা করে। নিজের মেধাকে কাজে লাগাতে চাইলে আপনাকে এই একটা পথকেই বেছে নিতে হবে। আর আমাদের দেশে এখন অনেক সম্ভবনা ব্যবসা করার। 

 

৭. নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান চালানোর সুযোগ

 

আপনি নিজেই একটা ব্যবসা শুরু করার অর্থ হলো আপনি একটা প্রতিষ্ঠানের মালিক। আপনি যে কোন ব্যবসা শুরু করার পর আপনি আরেকজনকে বলতে পারবেন আপনি সেই প্রতিষ্ঠান চালান এবং সেটা আপনার নিজের। তাই নিজে প্রতিষ্ঠানোর কোন সুযোগ পেতে চাইলে অবশ্যই আপনাকে উদ্যোক্তা হতে হবে। অনলাইনে আয় করার মতই এটাও একটা সুযোগ যা আপনি নিজের স্বাধীনতা অনুসারে করতে পারবেন।

 

৮. পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষমতা

 

আপনি নারী উদ্যোক্তাদের দিকে তাকে বুঝবেন যে তারা চাকরী না করে ব্যবসা করে বা উদ্যোক্তা হয়ে কিভাবে পরিবারের পাশে দাড়িয়েছে। আমি কিছুদিন আগে SME ফাউন্টেশানের উদ্যোক্তা অনুষ্ঠানে একটা নারী উদ্যোক্তাকে দেখেছিলাম যে ছোট করে একটা উদ্যোগ গ্রহন করেছিল এবং আস্তে আস্তে এতটাই বড় হয়ে গিয়েছে তার ব্যবসাটা যে পরবর্তীতে তার পরিবারের সবাই সেখানে যুক্ত হয়েছে। আসলে এরকম কম হয় তবে চেষ্টাও কিন্তু কম মানুষই করে। 

 

৯. মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা

 

অনেকেই উদ্যোক্তার হতে চায় এই কারণে যে সে জানে কিভাবে ব্যবসা করতে হয় আর সে অনেকের দায়িত্ব নিতে পারবে। আর এই জিনিসটা অনেক বড় মনের পরিচয় বহন করে। আমাদের দেশে অন্যতম একটা সমস্যা হলে বেকার সমস্যা আর এই বেকার সমস্যা সমাধানের জন্য সরকার সহ অনেকেই অনেক চেষ্টা করতেছেকিন্তু কোন ভাবেই সফল হচ্ছে না। আর এই বেকার সমস্যা দুর করার একমাত্র মাধ্যম হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। আর কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হলে উদ্যোক্ত বাড়াতে হবে। তাই অনেকেই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার জন্য উদ্যোক্তা হতে চায়। বর্তমানে সরকারও এই দিকটাকে মূল্যায়ন করে। 

 

১০. স্বাধীন ভাবে ব্যবসা পরিচালনা করা

 

স্বাধীনভাবে কোন কিছু করার জন্য অন্যতম মাধ্যম হলো ব্যবসা করা বা উদ্যোক্তা হওয়া। এখানে কিছু রিক্স আছে তারপরেও স্বাধীন থাকা যায়। একজন মুদির দোকানী সে যদি ইচ্ছে করে ১ সপ্তাহ কোথায় বেড়াতে যেতে পারে এবং সে তার ব্যবসাকে কিছুদিনের জন্য ছুটি দিতে পারে তবে আপনি যদি কোথাও চাকরী করেন তবে আপনি আপনার ইচ্ছা মত চলতে পারবেন না। কম্পানি আপনাকে যেভাবে বলবে আপনাকে সেভাবেই চলতে হবে। আর এই জন্যই অনেকেই চাকরী ছেড়ে দিয়ে ব্যবসী হতে চায়। 

 

উপরে ১০টি কারণ বলা হয়েছে একজন মানুষ কেন উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে দেখতে চায় আর কেন সে এই কাজটাকে পছন্দ করে সেটার। আসলে নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন কেন একজন মানুষ উদ্যোক্তা হতে চায়। অনেকেই রিক্স নিতে পছন্দ করে না আর অনেকেই চায় নিজের উপরের গুণগুলো থাকুক কারণ আগ্রহী মানুষের সংখ্যাটাও তো পৃথিবীতে কম না। তাছাড়া অ্যামাজনের মত প্রতিষ্ঠান কখনও গড়ে উঠতো না। 

Leave a Comment