Blog and Blogger information || ব্লগ, ব্লগার এবং ব্লগিং সম্পর্কে সকল তথ্য

প্রথমেই জানা যাক ব্লগ কি ?

বিশ্বের প্রত্যেকটি মানুষ তার নিজের মতামত প্রকাশ করার জন্য যে সকল মাধ্যম ব্যবহার করে থাকে তাদের মধ্যে অন্যতম একটি মাধ্যম হলো ব্লগিং। ব্লগিং করার সময় কিছু লিখা বা আপনার মনের কথাগুলো লিখতে হয় সেগুলোকেই ব্লগ বলা হয়। একটা ব্লগার সাইটে অনেকগুলো ব্লগ থাকতে পারে। যেগুলো যিনি লিখে থাকেন তাকে ব্লগার বলা হয়। আপনি আপনার ব্যাক্তিগত মতামত বা ধর্ম সংক্রান্ত সকল তথ্য বা সামাজিক বিভিন্ন সমস্যা সবকিছুই এখানে প্রকাশ করতে পারবেন। 


আমাদের দেশে যদিও এই সাইটের বিস্তার এতটা বেশি নেই তারপরেও আগে থেকে এখন অনেকেই ব্লগিং করাকে ক্যারিয়ার হিসেবে নিচ্ছে। আসলে ব্লগার সাইট দিয়ে ব্লগিং করার সুবিধা আছে অনেক আর এখানে আপনি চাইলে নিজের নামে ডোমেইন কিনেও করতে পারেন আবার শুরুর দিকে আপনি গুগলের ব্লগার সাইটটিও ব্যবহার করতে পারেন। 


Blog and Blogger information

 

অর্থ্যাৎ বাক স্বাধিনতার একটা অন্যতম মাধ্যম হলো এই ব্লগ। মুক্তমনা সহ আরও যারা আছেন আমাদের দেশে তারা অনেকেই আছেন নিজেদের লিখাকে বাইরের দেশের কাছে পৌছানোর জন্য এই ব্লগিংটাকে অন্যতম একটা মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন। অনেকেই আছে সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে এটা করে থাকেন। আমি অনেককেই দেখেছি যারা ব্লগিং করে মাসে অনেক টাকাও আয় করে থাকে। এখানে আপনি নিজের ক্যারিয়ারও গড়ে তুলতে পারবেন। ধরুন আপনি আপনার দেশের শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে লিখবেন বা বলবেন সেটাও আপনি আপনার ব্লগের তুলে ধরতে পারেন। যেটা অনেক সময় বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন বড় বড় ব্যাক্তিদের নজরে চলে আসতে পারে আর যার মাধ্যমে আপনি আপনার মতামতকে পুরো বিশ্বের কাছে দাড় করাতে পারবেন। কিছুদিন আগে বাইরের দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে একটা ব্লগ রচিত হয়েছিল যেটা আসলে অনেক আলোচনায় এসেছিল। গত কয়েক বছর আগের আমাদের দেশের ব্লগাররা তাদের নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের কাছে তাদের মতামত জানিয়েছিল এসব আসলে অনেক সময় সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই হয়ে থাকে। 

 

ব্লগের প্রকারভেদ সমূহ

আমরা সাধাণত দুই ধরনের ব্লগ দেখে থাকি। অর্থ্যৎ ব্লগ দুই প্রকার। যথাঃ

(ক) ব্যাক্তিগত ব্লগ এবং।

(খ) সামাজিক ব্লগ।

 

(ক) ব্যাক্তিগত ব্লগ বা Personal Blog

এই ধরনের ব্লগ সাধারণত ব্যাক্তিগত হয়ে থাকে। এখানে আপানি আপনার নিজের মতামতগুলো প্রকাশ করবেন। এখানে আপনি আপনার নিজের লেখাগুলোই প্রকাশ করবেন। ধরুন আপনি আপনার কম্পানির তথ্যগুলো সুন্দর করে তুলে ধরবেন বা আপনার কোন একটা বিজনেস আছে সেটা লিখবেন এই ধরনের ব্যাক্তিগত কাজের জন্য যেসকল ব্লগ ব্যবহার করা হয়ে থাকে সেগুলোকে ব্যাক্তিগত ব্লগ বা Personal Blog  বলে। ব্যাক্তিগত ব্লগাররা একটু অন্য রকমের হয়ে থাকে তারা নিজেদেরকে সমাজের আড়ালেই রাখতে চায়। তারা সব সময় নিজের তথ্যগুলো গোপন করে রাখতে চায়। তবে যারা অনেক বড় তারা নিজেদেরকে লুকিয়ে রাখতে পারে না। ব্যাক্তিগত ব্লগের নিরাপত্তা ব্যাক্তি নিজেই বা ব্লগার নিজেই নিয়ে থাকেন। অনেক সময় যারা বাইরের দেশে বসবাস করে থাকেন তারা এই ব্লগের সাথে যুক্ত থাকেন।

Personal Blog

 

এখন আসুন জেনে নেওয়া যাক ব্যাক্তিগত ব্লগ বা  Personal Blog এর সুবিধা বা অসুবিধা কি কি। আমরা আসলে অনেকেই ব্যাক্তিগত ব্লগের প্রতি বেশি আগ্রহী কারণ এখানে আপনি নিজেই সব অন্য কারো উপর নির্ভর করতে হয় না। আর সামাজিক ব্লগ করলে আপনাকে অবশ্যই সমাজের প্রতিটি সমস্যাগুলো উল্লেখ করতে হবে যেটা অনেক সময় সামাজিক শত্রুতা বৃদ্ধি করতে পারে। তাছাড়া আপনি যদি অ্যাফিলেট মার্কেটিং করতে চান তবে সহজেই ব্যাক্তিগত ব্লগের মাধ্যমে করতে পারবেন তবে সামাজিক ব্লগ হলে সেটা দ্রুত প্রচার বা প্রচারণা করা যায় যেটা ব্যাক্তিগত ব্লগের করা গেলেও সময় বেশি লাগে। প্রত্যেকটারই কিছু সুবিধা যেমন আছে তেমনি আছে কিছু অসুবিধা নিচে সুবিধা ও অসুবিধাগুলো দেওয়া হলো। এখানে বিস্তারিত বলবো না যেটা আপনি পয়েন্টটা পড়লেই বুঝবেন। যদি কোন বিষয় বুঝতে সমস্যা হয় তবে কমেন্ট করে জানাবেন চেষ্টা করা হবে বিস্তারিত জানানোর জন্য। 

 

ব্যাক্তিগত ব্লগের কারণসমূহ

(ক) নিজের মতামতগুলো সবার সামনে পৌছানো।

(খ) এখানে কোন মিডিয়ার প্রয়োজন পড়ে না।

(গ) এখানে অর্থ কম খরচ হয়।

(ঘ) গুরুত্বপূর্ণ ব্লগের কারনে সহজেই জনপ্রিয় হওয়া যায়।

(ঙ) ব্যাক্তিগত ব্লগগুলোতে নিজের গবেষণা প্রকাশ করা যায়।

 

ব্যাক্তিগত ব্লগের অসুবিধাসমূহ

(ক) এখানে নিজের অর্থ ব্যয় হয় বেশি।

(খ) অনেক বেশি সময় লাগে পরিচিতি বাড়াতে।

(গ) ব্যাক্তিগত হওয়ার করণে সকল লিখা নিজেকেই লিখতে হয়।

(ঘ) কিছু তথ্য জানার জন্য সময় বেশি দিতে হয়।

(ঙ) ব্লগ প্রকাশে সময় বেশি লাগে।


আরো পড়ুন >> ব্লগিং কি ? বিস্তারিত আলোচনা জানুন।

আরো পড়ুন >> ব্লগারে পোস্ট ইনডেক্স হওয়ার নিয়মাবলি।

 

(খ) সামাজিক ব্লগ বা Community Blog

এই ধরনের ব্লগ সাধারণত অনেকের মতামতের উপর নির্ভর করে হয়ে থাকে। আপনি এটাকে একটা নিউজ পেপার সাইটের সাথেও তুলনা করতে পারবেন। নিউজ পেপারে যেমন সকল ধরনের তথ্যই উপস্থাপন করা থাকে তেমনি সামাজিক ব্লগেরও এই ধরনের সকল বিষয় উল্লেখ থাকে। সাধাণত ক্যাটাগরি ভেদে আলাদা হয়ে থাকে কিছু কিছু তবে এখানে আপনি সমাজের বিভিন্ন সমস্যা বা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে পারবেন। সহজেই যদি বলা হয় যেই সকল ব্লগের সমাজের সমস্যা আলোচনা করা হয় সাথে সমাধানটাও সেই সকল ব্লগকেই সামাজিক ব্লগ বা Community Blog বলে। আমাদের দেশে  সামাজিক ব্লগের সংখ্যাই অনেক বেশি ব্যাক্তিগত ব্লগের চাইতে। এটির কিছু বিশেষ ‍সুবিধা আছে বিধায় এটাতেই বেশি আগ্রহী আমাদের দেশের ব্লগাররা। 

 

Community Blog

আসুন সামাজিক ব্লগ বা Community Blog এর কিছু সুবিধা ও অসুবিধা আলোচনা করা যাক। আমি এখানে পয়েন্ট উল্লেখ করবো যদিও পয়েন্ট পড়লেই আপনি নিজে থেকেই বিস্তারিত বুঝতে পারবেন। আসলে আমাদের দেশের কেউ ব্লগিংটাকে ক্যারিয়ার বা ধরে রাখতে চায় না। অনেক সময় ব্যাক্তিগত ব্লগ মার্কেটিং করতে বা পরিচিতি লাভ করতে সময় বেশি লাগে বিধায় অনেকেই আছেন যারা এতটা সময় অপেক্ষা করতে আগ্রহী হয় না। তাই তারা যদি সামাজিক ব্লগের যুক্ত থাকে তবে ব্যাক্তিগত কাজের পাশাপাশি ব্লগটা চালানো সহজ হয় আর ব্লগিংটা শেখাও যায়। অনেকেই বলে থাকেন কেউ ব্যক্তিগত ব্লগ করার আগে তাকে অবশ্যই সামাজিক ব্লগ করা উচিত এতে করে সে অনেক বেশি অভিজ্ঞতা অর্জন করবে এবং ব্যক্তিগত ব্লগিং করাটা তখন সহজ হবে তার জন্য। কারণ সামাজিক ব্লগের অনেক সময় আছে অনেক অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ ব্যক্তি যুক্ত থাকে সেখানে কোন ভুল করলে সেটা ধরিয়ে দেওয়া হয় যেটা ব্যাক্তিগত ব্লগে হয় না। তাই আমি ব্যক্তিগতভাবে কেউ ব্লগিং করতে চাইলে তাকে প্রথমে সামাজিক ব্লগ করতে বলবো তারপর সে অভিজ্ঞতা অর্জন করলে পাশাপাশি ব্যক্তিগত ব্লগ করতে পারবে। 

 

 

সামাজিক ব্লগ বা Community Blog এর সুবিধা

(ক) অনেক বেশি তথ্য প্রকাশ করা যায়।

(খ) সামাজিক দায়ব্ধতা ঠিকমত পালন করা যায়।

(গ) অনেক সময় সামাজিক সমস্যা সহজেই দূর করা যায়।

(ঘ) সামাজিক সচেতনতা তৈরি করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

(ঙ) এর মাধ্যমে আয়টাও ব্যাক্তিগত ব্লগের চাইতে বেশি হয়।

(চ) অনেকের যুক্ত থাকে বিধায় ভাষাগত বিষয়টা ভালো থাকে।

(ছ) পরিচিতি অনেক দ্রুত লাভ করা যায় বা জনপ্রিয় হওয়া যায় দ্রুত। 


আরো পড়ুন >> ব্লগিং কি ? বিস্তারিত আলোচনা জানুন।

আরো পড়ুন >> ব্লগারে পোস্ট ইনডেক্স হওয়ার নিয়মাবলি।


Community Blog1

সামাজিক ব্লগ বা Community Blog এর অসুবিধা

(ক) সামাজিক ব্লগের অনেকেই যুক্ত থাকে বিধায় নিজেদের মধ্যে সমস্যা হয় বেশি। 

(খ) অনেক সময় আছে দায়িত্ব পালনের অবহেলা দেখা যায। 

(গ) সামাজিক সমস্যা গুলো তুলে ধরাতে শত্রুতা বেশি হয়। 

(ঘ) সামাজিক ব্লগ ঠিকঠাক করে রাখতে অনেকটা সময় লাগে। 

 

এখন আসুন জেনে নেওয়া যাক কোন ব্লগিং ক্যারিয়ার হিসেবে ভালো এবং কোনটা করা সহজ

আমার মনে হয় ক্যারিয়ার হিসেবে ব্যক্তিগত ব্লগ করাটা ভালো। তবে আপনাকে ব্যক্তিগত ব্লগিং করার আগে অবশ্যই সামাজিক ব্লগিং করতে হবে বেশ খানিকটা সময়। কারণ এতে করে আপনি ব্লগিং শিখবেন এখানে কী-ওয়ার্ড রিচার্স করাসহ আরও অনেক টুলস এর ব্যবহার আছে যেটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ আর এসকল তথ্যগুলো আপনি ব্যক্তিগত ব্লগ করার সময় জানতে পারবেন না। শুরুর দিকে আপনি সামাজিক ব্লগ করলে ব্লগ সম্পর্কে অনেক তথ্যই জানতে ও বুঝতে পারবেন যেটা আপনাকে আর অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ করে তুলবে।




Community Blog2

 

ব্লগার হিসেবে আপনাকে যা যা জানতে হবে !

(ক) ব্যক্তিগত ব্লগ হলে সপ্তাহে একটা হলেও ব্লগ প্রকাশ করার চেষ্টা করতে হবে আর সামাজিক হলে তো নিয়মিতই সেটা করা হয়ে থাকে। অনেক সময় ব্যক্তিগত ব্লগের ব্লগের সংখ্যা কম থাকে যেটা ব্লগার হিসেবে পরে কোন কাজে আসবে না।

(খ) ব্লগের চেষ্টা করবেন লিখাটা যেন ইউনিক হয়। কারণ গুগল আপনার ইউনিক তথ্যকে বেশি মূল্যায়ন করে থাকে।

(গ) সবাই যেন বুঝতে পারে এরকম ভাষা ব্যবহার করবেন।

(ঘ) বিতর্ক তৈরি করতে পারে এরকম লিখা প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকবেন।

(ঙ) কোন টিপস বা নিয়ম শেয়ার করার আগে ভালোমত রিভিও করে নিবেন যেন ভুল না হয়।

(চ) টিউটোরিয়াল প্রকাশ করলে তার ধারাবাহিকতা ধরে রাখবেন।

(ছ) অন্যের ট্রপিকস নিতে পারেন তবে লেখাগুলো যেন কপিপেস্ট না হয় সেই দিকটা খেয়াল রাখবেন। এজন্য আপনি গুগলের বা বিভিন্ন টুলস ব্যবহার করতে পারেন।

 

উপরের বিষয়গুলো ব্লগার হিসেবে আপনাকে জানতেই হবে। কারন অনেক সময় অপ্রয়োজণীয় লিখা ব্লগের আসলে সেটা গুগল পছন্দ করে না। গুগল এর এলগোরিদম নতুন শব্দগুলোকে বেশি পছন্দ করে আর কোন ব্লগের নতুন কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হলে সেটা গুগল অনেক দ্রুত সবার কাছে পৌছে দেওয়ার চেষ্টা করে। প্রতিদিন গুগল তার স্টোরটাকে বাড়ানোর জন্য কাজ করে যাচ্ছে আর এই কাজের অন্যতম একটা বিষয় গুলো প্রচুর পরিমাণে শব্দ বা প্রচুর পরিমাণে নতুন শব্দ যোগ করা। 


আরো পড়ুন >> ব্লগারে ভিজিটর বাড়ানোর ১৫টি টিপস।

 

blogger3

সেরা কিছু ব্লগার সাইট নিয়ে আলোচনা করা যাক

আমি এখানে ১২টি ব্লগার সাইট নিয়ে কথা বলার চেষ্টা করবো। আমার জানা এই ব্লগার সাইটে আপনি আপনার মতামত প্রকাশ করতে পারবেন আশা করি।

 

(১) ব্লগার ডট কম বা Blogger.com

এটি একটা গুগলের প্লাটফরম । আপনি www.blogger.com লিখে সার্চ করলে যদি আপনার জিমেইলটা লগইন করা থাকে তবে আপনাকে সরাসরি যেই সাইটে নিয়ে যাবে সেটিই মূলত ব্লগার ডট কম সাইট। এই সাইটটি তৈরি হয়েছে ২০০৩ সালে। এখানে আপনি কোন অর্থ ব্যয় করা ছাড়াই ব্লগার হিসেবে কাজ করতে পারবেন যেটা অন্য কোন সাইটে করা যায় না। এখানে হোস্টিং করার প্রয়োজন পড়ে না গুগল অটো জায়গা দিয়ে দেবে আপনাকে। আপনি চাইলে একটা টপলেবেলের ডোমেইন কিনে সহেজেই করতে পারবেন এই কাজটা।

 

blogger site1

(২) ওয়ার্ডপ্রেস বা WordPress

বর্তমান সময়ে ব্লগার সাইটের পরেই বা সবচেয়ে জনপ্রিয় সাইটের নাম হলো এই ওয়ার্ডপ্রেস সাইট। এখানে আপনি আরেকজনের প্লাটফরম ব্যবহার করেই ব্লগ তৈরি করতে পারবেন। www.wordpress.com এই সাইট থেকে আপনি ফাইল নিয়ে নির্দিষ্ট নিয়মে আপনি ইচ্ছে করলেই ব্লগিং করতে পারবেন। তবে এখানে ব্লগিং করতে গেলে আপনাকে বেশ খরচ করতে হবে। ওয়ার্ডপ্রেসের ফ্রি থিম আছে ব্যবহার করতে পারলেও আপনাকে একটা টপলেবেল ডোমেইন কিনতে হবে এবং সাথে আপনাকে হোস্টিংটাও কিনে নিতে হবে তারপর পোস্ট করা বা উপরের নিয়মে ব্লগিং করতে পারবেন। ওয়ার্ডপ্রেসের ই-কমার্স সাইটা বেশি জনপ্রিয় আমাদের দেশে কারণ এখানে সহজেই আপনি আমাদের দেশীয় পণ্য বিক্রি করতে পারবেন। আর আমাদের দেশের অনলাইন প্লাটফরমও ব্যবহার করতে পারবেন এই ওয়ার্ডপ্রেসের মাধ্যমে অনলাইনে বিজনেস করার ক্ষেত্রে। এক জরিপে দেখা গেছে আমাদের দেশের ৯০% ওয়েব সাইট এবং পুরো পৃথিবীর ই-কমার্সের ৭০% ওয়েব সাইট এই প্লাটফরমে তৈরি করা।



 আরো পড়ুন >> ভালো কনটেন্ট লিখার নিয়মগুলো জানুন।

(৩) টাম্বলর

এটিও উপরের দুইটার মতই। তবে ব্যবহার কম এইটার। এইটার ওয়েবসাইট লিংক হলো www.tumblr.com এখানে আপনি লেখা, ভিডিও, ছবি, লিংক, উক্তি ও অডিও ইত্যাদি আপলোড করতে পারেন। ব্যবহারকারীরা একজন আর একজনকে অনুসরণ বা ফলো করে এসব পড়ে থাকে।

 

blogger site2

(৪) মিডিয়াম

ওয়েবসাইট লিংক www.medium.com এটি ব্লগিং এর সাথে মিল রেখে করা হয়েছিল। টুইটারের সহপ্রতিষ্ঠা এই প্লাটফরমটি তৈরি করেছিলেন। এখানেও আপনি আপনার মতামত ও লেখা প্রকাশ করতে পারবেন।

 

(৫) লাইভ জার্নাল

ওয়েবসাইট লিংক হলো www.livejournal.com এটি মূলত অনলাইন কমিউনিটি যেখানে ব্যবহারকারীরা ব্লগ, প্রকাশনা বা ডায়েরী লিখেন। এটি ওয়েন সোর্স হিসেবে পরিচিত বেশি। এটা ব্লগিংকে আলাদা একটা পরিচয় প্রদান করেছে। আপনি কোন গবেষণা এখানে প্রকাশ করতে পারবেন অনেক সময় ব্লগিং এ এসব দেওয়া থাকে না যেটা এই জার্নালে প্রকাশিত হয়ে থাকে।

 

blogger site3

আরো পড়ুন >> কিভাবে ব্যাকলিংক তৈরি করবেন ?

(৬) কুরা

ওয়েবসাইট লিংক www.quora.com এটা পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি সাইট। এখানে আপনি পাবেন না এরকম কোন বিষয় নাই। আপনার ঘুম থেকে উঠা থেকে শুরু করে ঘুমাতে যাওয়ার পর্যন্ত সকল ধরনের প্রশ্ন আপনি এই সাইটে পাবেন যার উত্তরটাও আপনি পাবেন এখানেই। একটি ফেইসবুকের মত হলেও এখানে আপনি সার্চ করতে পারবেন। এবং সার্চ করে আপনার প্রয়োজনী বিষয়গুলো পড়ে নিতে পারবেন এবং পরে সেটা আপনি নিজের মত করে বর্ণণাও করে দিতে পারবেন। প্রতিদিন এখানে অনেক তথ্য আলোচনা করা হয়ে থাকে। এখানে আপনি কোন বিষয় জানতে চাইলে সেটা প্রশ্ন আকারে পোস্ট করে রাখবেন বা প্রশ্নটা লিখলেও সেটা আপনি অনেক সহজেই পাবেন দেখতে। আপনার মতামতের সাথে মিল রেখে যারা উত্তর প্রদান করেছে আপনিদেখতে পারবেন আপনি চাইলে আপনার মতামতও শেয়ার করতে পারবেন।

 

(৭) উইবলি 

ওয়েব সাইট লিংক www.weebly.com এটি ২০০৬ সালে তৈরি। এখানে ১০০ এর অধিক প্রফেশনাল টেমপ্লেট এবং ওয়েব সাইট তৈরির অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছিল। এখানেও আপনি আপনার নিজের নামে ব্লগার এর মতই ব্লগ তৈরি করতে পারবেন।

 

blogger site4

আরো পড়ুন >> ব্লগারের জন্য কেন মাস্টার ডোমেইন কিনবেন ?

(৮) ইডু ব্লগ

ওয়েব সাইট লিংক www.edublogs.org এখানে পৃথিবীর সর্বাধিক জনপ্রিয় শিক্ষা বিষয়ক ব্লগিং করার একটা জনপ্রিয় প্লাটফরম। পড়াশোনার জন্য যদি কোন সাইট নিজে তৈরি করতে চান বা দেখতে চান তবে শেষে .org যুক্ত ওয়েবসাইটগুলো ভিজিট করতে পারেন। আপনি এখানে ভিডিও, ছবি, অডিও সকল বিষয়ই দিতে পারবেন। আর এই সাইটে যেহেতু শিক্ষা বিষায়ক তথ্য পাওয়া যায় তাই আপনি শিক্ষামূলক ছাড়া কোন তথ্য দিলে সেটির গ্রাহক খুব বেশি আশা করবেন না। এখানে যারা ভিজিট করতে আসে তারা সবাই শিক্ষা নিয়ে কাজ করে বা শিক্ষা নিয়ে ব্লগ পড়তে আসে। তাই এই ধরনের সাইট বানানোর আগে একটু চিন্তা করে বানাবেন।

 

(৯) ব্লগ ডট কম

ওয়েব সাইট লিংক www.blog.com প্রথমে আমি বলেছিলাম ব্লগার ডট কম এটা কিন্তু সেটার মত না এটা একটু আলাদা। এটা মূলক ব্লগার ডট কম এর নামের সাথে মিল রেখেই করা হয়েছিল। এখানেও আপনি আনলিমিটেড হোস্টিং ও ব্যান্ডউইথ পাবেন যেটার মাধ্যমে আপনি ব্লগার ডট কমের মতই কাজ চালাতে পারবেন।

 

blogger site5

(১০) গোস্ট অর্গ

ওয়েব সাইট লিংখ www.ghost.org আমি এর আগে বলেছিলাম .org দিয়ে যত সাইট দেখবেন সবগুলোই শিক্ষার সাথে যুক্ত। আর এটাও ব্যাতিক্রম নয়। এই সাইটটা দেখতে অনেকটা ওয়ার্ডপ্রেস সাইটের মতই এখানে আপনি ভুতের গল্প পাবেন অনেক বেশি পরিমাণে। এটি ২০১৩ সালে তৈরি করা হয়েছিল। কিছু সিমাবদ্ধতা থাকলেও এটি অনেক ভালো একটি ব্লগিং সাইট হিসেবে পরিচিত।

 

(১১) উইক্স

ওয়েব সাইট লিংখ হলো www.wix.com অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায় যে, এই সাইটটা অনেক ভালো একটি সাইট। আপনি ইউটিউবে ভিডিও দেখার সময় সবচেয়ে বেশি যেই সাইটের বিজ্ঞাপন দেখবেন সেটাই এই সাইটে। এখানে আপনাকে অনেক সুন্দর করে দেখানো হবে কিভাবে কি করবেন আর ই-কমার্সের সাইট বানানোর জন্য অনেক সহজেই ড্রাগ এন্ড ড্রক করে আপনি নিজের কাজ চালাতে পারবেন। বর্তমানে জনপ্রিয় সাইটের মধ্যে এই সাইটটা অন্যতম। আপনি গুগলে এর রিভিওটাও দেখে নিয়ে ব্লগিং হিসেবে কাজ শুরু করতে পারেন।

 

(১২) হাবপেইজ

ওয়েবসাইট লিংক www.hubpages.com এখানে সকল ধরনের কন্টেন্ট ও আর্টিকেল যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল বা যুক্ত এসব এখানে অন্যতম কনটেন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যারা নতুন হিসেবে ব্লগিং শুরু করতে চাইছেন তারা এই প্লাটফরম টা ব্যবহার করতে পারেন শেখার জন্য।

 

ব্লগার বা ব্লগিং সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য এখানে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে এর বাইরে তেমন কোন তথ্য নেই তবে আপনি আরও কিছু জানার জন্য প্রশ্ন লিখে কমেন্ট করতে পারেন। এতে করে আপনাকে পরে বিস্তরিত জানানো হবে ইনশাআল্লাহ। কিছুদিন আগেও নানা প্রশ্ন ছিল তবে বর্তমানে অনেকেই ব্লগিটাকে ক্যারিয়ারের অন্যতম একটা মাধ্যম হিসেবে নিচ্ছে। এখন কিছু প্রশ্ন ও উত্তর বলি। 

 

প্রশ্ন-১  ব্লগিং কেন করবো ? 

উত্তরঃ- সহজ কথায় আপনি ব্লগিং করে অনলাইনে আয় করতে পারবেন তাই ব্লগিং করবেন। আর এখানে যেহেতু আপনার মতামত প্রকাশ করা যাবে তাই এটাকে আপনি মতামত প্রকাশের মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহার করতে পারবেন। 

 

প্রশ্ন-২ আমি অ্যাফিলেট মার্কেটিং করতে চায় তাহলে কি ব্লগিং করতে হবে আমাকে ? 

উত্তরঃ- ব্লগিং একটা বড় বিষয়। আর এর মধ্যে ছোট একটা বিষয় হলো এফিলেট মার্কেটিং। আপনি অ্যাফিলেট মার্কেটিং করতে চাইলে ব্লগিং করারটা অনেক জরুরী। তবে ব্লগিং করে আপনি আরও অনেক ভাবেই আয় করতে পারবেন। আপনাকে যখন একটা ব্লগার সাইট দেখাবেন তখন আপনাকে অ্যাফিলেট একাউন্ট সহজেই পারমিট করবে বিভিন্ন মার্কেটপ্লেস। তাই আপনি অবশ্যই অ্যাফিলেট মার্কটিং করতে চাইলে ব্লগিং থেকে শুরু করতে পারেন। 

 

প্রশ্ন-৩  ব্লগিং করে কেমন আয় করা যায় ? 

উত্তরঃ- আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো আমরা কোন কাজ করার আগেই টাকার প্রসঙ্গ তুলে আনি। আসলে আপনি ব্লগিংটাকে আগে থেকেই যদি টাকার উপর্জনের একমাত্র মাধ্যম হিসেবে মনে করেন তবে আপনি এখান থেকে ভালো আয় করতে পারবেন না তাই আপনাকে অবশ্যই ব্লগিংটাকে মত প্রকাশ ও উপরের বিষয়টার মত দেখতে হবে। তারপরেও আপনি জনপ্রিয় হয়ে গেলে আয় অনেক সহজেই করতে পারবেন। এখানে আপনি সহজেই ২০-৩০ হাজার টাকা আয় করতে পারবেন। 

 

প্রশ্ন-৪  ব্লগার সাইটের আয়ের মাধ্যম গুলো কি কি ? 

উত্তরঃ- ব্লগিং করে আপনি গুগলের এ্যাডসেন্স থেকে আয় করতে পারবেন, অ্যাফিলেট মার্কেটিং করে আয় করতে পারবেন, আবার বিভিন্ন পণ্যে বিজ্ঞাপন দিয়েও আয় করতে পারবেন। অনলাইনে অনেকেই তাদের নিজেদের পেজ বা কোর্সকে প্রমোট করতে চায় তাদের কোর্স বা পেজকে বা ওয়েবসাইটকে প্রোমেট করার মাধ্যমেও আপনি আয় করতে পারবেন। এখানে আয়ের অনেক মাধ্যম আছে আপনি যে কোন একটা বা সবগুলোকেই বেছে নিতে পারবেন। 

 

প্রশ্ন-৫  ব্লগিং এর নিয়ম কেমন ? সহজ নাকি অনেক কঠিন ? 

উত্তরঃ- আমি বলবো শুরুর দিকে একটু কঠিন তবে আপনি লেগে থাকলে আপনার জন্য নিয়ম কোন বিষয় হবে না। কারণ আপনি যদি ভালো মানের কনটেন্ট দিতে পারেন বা ইউনিক আর্টিকেল লিখেন তাহলে আপনি অনেক দ্রুতই ব্লগিং করে আয় করতে পারবেন। আপনি অনলাইনে কোন কাজকেই অনেক কঠিন মনে করবেন না তবে আবার অনেক সহজও মনে করবেন না। তবে নিয়ম জেনে শুরু করা অনেক ভালো। 

 

 

Leave a Comment