৯ম ও ১০ম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান ১৪ অধ্যায়ের সাজেশান, জ্ঞান ও অনুধাবণ প্রশ্নসহ তথ্যবলি

এস. এস. সি. বা ৯ম ও ১০ম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞানের ১৪ অধ্যায়টি অনেক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। আজকের আর্টিকেলে ৯ম ও ১০ম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান ১৪ অধ্যায়ের সাজেশান, জ্ঞান ও অনুধাবণ প্রশ্নসহ তথ্যবলি দেওয়া থাকবে ইনশাআল্লাহ। 


৯ম ও ১০ম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান ১৪ অধ্যায়ের সাজেশান

৯ম ও ১০ম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞানের ১৪ অধ্যায়ের নোট। এখানে এই অধ্যায়ের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেওয়া হলো। 

জীবপদার্থবিজ্ঞানঃ- জীবপদার্থবিজ্ঞান হলো এমন এক বিজ্ঞান যা বিজ্ঞানের অনেক শাখার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জীবপদার্থবিজ্ঞানে জীববিজ্ঞানের কোনো ব্যবস্থা অধ্যয়নের জন্য ভৌতবিজ্ঞানের তত্ত¡ ও পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। জীববিজ্ঞান হলো জীবজগৎ অধ্যয়নের বিজ্ঞান।


আমরা জানি, পদার্থবিজ্ঞানের নিয়মগুলো সর্বজনীন। ফলে শুধু জড়জগৎ নয়, প্রাণিজগৎকেও পদার্থবিজ্ঞানের নিয়মে অনেক ক্ষেত্রে ব্যাখ্যা করা সম্ভব। এটিই জীবপদার্থবিজ্ঞানের ভিত্তি। 


মানবদেহঃ- মানবদেহ অনেক  অঙ্গ নিয়ে গঠিত। প্রতিটি অঙ্গ স্বতন্ত্রভাবে কাজ করে। তবে সবার কাজের মধ্যে একটা সুষম সম্পর্ক থাকে। মানবদেহের প্রতিটি অঙ্গ মেশিনের এক একটা অংশের মতো আচরণ করে। তাই মানবদেহকে জৈবযন্ত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। 


এক্সরেঃ- এক্সরে হলো এক ধরনের তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ। এক্সরের তরঙ্গদৈর্ঘ্য সাধারণ আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যরে চেয়ে অনেক কম। এই রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য ১০১০ স এর কাছাকাছি। ১৮৯৫ সালে উহ্লহেলোম রন্টজেন এক্সরে আবিষ্কার করেন। এক্সরে বা  রঞ্জনরশ্মির প্রকৃতি যখন জানা ছিল না তখন অজানা রশ্মি হিসেবে এর নামকরণ করা হয় এক্সরে। তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত ছোট হবে এক্সরের ভেদন ক্ষমতাও তত বেশি হবে। 

নিচে এক্স-রে এর ব্যবহার উল্লেখ করা হলোঃ- 

(ক) স্থানচ্যুত হাড়, হাড়ে ফাটল, ভেঙে যাওয়া হাড় ইত্যাদি।

(খ) দাঁতের গোড়ায় ঘা এবং ক্ষয় নির্ণয়। 

(গ) অন্ত্রের প্রতিবন্ধকতা শনাক্ত করতে। 

(ঘ) পিত্তথলি ও কিডনির পাথর শনাক্ত। 

(ঙ) ফুসফুসের রোগ শনাক্ত করতে। 

(চ) ক্যান্সার কোষকে মেরে ফেলতে। 


আল্ট্রাসনোগ্রাফিঃ- আল্ট্রাসনোগ্রাফি হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যা উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দের প্রতিফলনের ওপর নির্ভরশীল। উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দ যখন শরীরের গভীরের কোনো অঙ্গ বা পেশি থেকে প্রতিফলিত হয় তখন প্রতিফলিত তরঙ্গের সাহায্যে ঐ অঙ্গের অনুরূপ একটি প্রতিবিম্ব মনিটরের পর্দায় গঠন করা হয়। রোগ নির্ণয়ের জন্য যে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হয় সেই শব্দের কম্পাঙ্ক ১-১০ মেগাহার্টজ হয়ে থাকে। 


সিটিস্ক্যানঃ- সিটিস্ক্যান শব্দটি ইংরেজি ঈড়সঢ়ঁঃবফ ঞড়সড়মৎধঢ়যু ঝপধহ-এর সংক্ষিপ্ত রূপ। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটি প্রতিবিম্ব তৈরির একটি প্রক্রিয়া। যে প্রক্রিয়ায় কোনো ত্রিমাত্রিক বস্তুর কোনো ফালি বা অংশের দ্বিমাত্রিক প্রতিবিম্ব তৈরি করা হয় সে প্রক্রিয়াকে টমোগ্রাফি বলে। সিটিস্ক্যান একটি বৃহৎ যন্ত্র যেখানে এক্সরে ব্যবহৃত হয়। এক্সরে যেখানে শরীরের অভ্যন্তরের কোনো ত্রিমাত্রিক অঙ্গের দ্বিমাত্রিক প্রতিবিম্ব গঠন করে, সেখানে সিটিস্ক্যান যন্ত্র দ্বারা সৃষ্ট প্রতিবিম্ব ত্রিমাত্রিক। 


সিটিস্ক্যানের সাহায্যে শরীরের নরম টিস্যু, রক্তবাহী শিরা বা ধমনি, ফুসফুস, ব্রেন ইত্যাদির ত্রিমাত্রিক ছবি পাওয়া যায়। যকৃৎ, ফুসফুস এবং অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার শনাক্ত করার কাজে সিটিস্ক্যান ব্যবহৃত হয়। 


এমআরআইঃ- এমআরআই ইংরেজি গধমহবঃরপ জবংড়হধহপব ওসধমরহম-এর সংক্ষিপ্ত রূপ। এমআরআই যন্ত্রে শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র এবং রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে শরীরের কোনো স্থানের বা অঙ্গের বিস্তৃত প্রতিবিম্ব গঠন করা হয়। নিউক্লীয় চৌম্বক অনুনাদ বা ঘঁপষবধৎ গধমহবঃরপ জবংড়হধহপব-এর ভৌত এবং রাসায়নিক নীতির ওপর ভিত্তি করে এমআরআই যন্ত্র কাজ করে। এই নীতি ব্যবহার করে কোনো অণুর প্রকৃতি সম্পর্কে তথ্য জানা যায়। 


পায়ের গোড়ালির মচকানো এবং পিঠের ব্যথায় এমআরআই ব্যবহার করে জখমের বা আঘাতের তীব্রতা নিরূপণ করা হয়। ব্রেন এবং মেরু রজ্জুর (ঝঢ়রহধষ ঈড়ৎফ) বিস্তৃত প্রতিবিম্ব তৈরির জন্য এমআরআই একটি অত্যন্ত মূল্যবান পরীক্ষা। 


ইসিজিঃ- ইসিজি হলো ইলেকট্রোকার্ডিওগ্রাম শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ। ইসিজি এমন একটি রোগ নির্ণয় পদ্ধতি যার সাহায্যে নিয়মিতভাবে কোনো ব্যক্তির হৃৎপিণ্ডের বৈদ্যুতিক এবং পেশিজনিত কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করা যায়। আমরা জানি যে, বাইরের কোনো উদ্দীপনা ছাড়াই হৃদযন্ত্র ক্ষুদ্র বৈদ্যুতিক সংকেত উৎপন্ন করে। এই বৈদ্যুতিক সংকেত হৃদযন্ত্রের পেশির মধ্য দিয়ে ছড়িয়ে পড়ে, এর ফলে হৃদযন্ত্র সংকুচিত হয়। ইসিজি যন্ত্রের সাহায্যে আমরা এই তড়িৎ সংকেতসমূহকে শনাক্ত করি। ইসিজির সাহায্যে আমরা হৃৎপিণ্ডের স্পন্দনের হার এবং ছন্দময়তা পরিমাপ করতে পারি। এটি হৃৎপিণ্ডের মধ্যে রক্তপ্রবাহের পরোক্ষ প্রমাণ দেয়। 



এন্ডোসকোপিঃ- এন্ডোসকোপি যন্ত্রে দুটি নল থাকে, এদের একটির মধ্য দিয়ে বাইরে থেকে রোগীর শরীরের নির্দিষ্ট অঙ্গে আলো প্রেরণ করা হয়। আলোক তন্তুর ভিতরের দেয়ালে আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের মাধ্যমে উজ্জ্বল আলো রোগীর দেহ গহŸরে প্রবেশ করে। এই আলো রোগাক্রান্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত অঙ্গকে আলোকিত করে। দ্বিতীয় আলোক তন্তু নলের ভিতর দিয়ে আলোর প্রতিফলিত অংশ একইভাবে ফিরে আসে। প্রতিফলিত আলো অভিনেত্র লেন্সের মাধ্যমে চিকিৎসকের চোখে প্রবেশ করে। ফলে চিকিৎসক পরীক্ষণীয় অঙ্গের অভ্যন্তরে কী ঘটছে বা হচ্ছে তা দেখতে পারেন। 


রেডিওথেরাপিঃ- রেডিওথেরাপি শব্দটি ইংরেজি ‘Radiation Therapy’  শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ। এটি ব্যবহার করে বিভিন্ন রোগ যেমন : ক্যান্সার, থাইরয়েড গ্রন্থির অস্বাভাবিক প্রকৃতি, রক্তের কিছু ব্যাধির চিকিৎসা করা হয়। সাধারণত রেডিওথেরাপি উচ্চশক্তিসম্পন্ন এক্সরে ব্যবহার করে ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করে। এটি টিউমার কোষের অভ্যন্তরস্থ ডিএনএ (উঘঅ)-কে ধ্বংসের মাধ্যমে কোষের সংখ্যাবৃদ্ধি করার ক্ষমতা বিনষ্ট করে ফেলে। মূলত এটি হলো কোনো রোগের চিকিৎসায় আয়নসৃষ্টিকারী (তেজস্ক্রিয়) বিকিরণের ব্যবহার। 


রেডিওথেরাপি দু’ধরনের : ১. বাহ্যিক বিম বিকিরণ বা বাহ্যিক রেডিওথেরাপি; ২. অভ্যন্তরীণ রেডিওথেরাপি। 


ইটিটি : ইংরেজি Exercise Tolerence Test-এর সংক্ষিপ্ত রূপ হলো ETT বা ইটিটি। উদ্দীপিত হৃদযন্ত্রের একটি পরীক্ষা হলো ইটিটি। ব্যায়াম বা অনুশীলন চলাকালীন হৃৎপিণ্ডের বৈদ্যুতিক সক্রিয়তা বা কার্যকলাপ (স্পন্দনের হার, ছন্দময়তা) ইটিটি পরীক্ষার মাধ্যমে রেকর্ড করা হয়। এটি আসলে অনুশীলনরত অবস্থায় রোগীর ইসিজি পরীক্ষা। করোনারি আর্টারি রোগের রোগ নিরূপণের জন্য এ পরীক্ষাটি খুবই উপকারী।  



এনজিওগ্রাফিঃ- এনজিওগ্রাফি হলো এমন একটি প্রতিবিম্ব তৈরির পরীক্ষা যেখানে শরীরের রক্তনালিকাসমূহ দেখার জন্য এক্সরে ব্যবহার করা হয়। এই পরীক্ষার মাধ্যমে রক্তবাহী শিরা বা ধমনিগুলো সরু, বøক ও প্রসারিত হয়েছে কিনা তা নির্ণয় করা যায়। রক্তনালিতে বøক এবং রক্তনালি সরু এবং অপ্রশস্ত হলে শরীরে রক্তের স্বাভাবিক প্রবাহ বিঘিœত হয়। এনজিওগ্রাম করার সময় চিকিৎসক রোগীর দেহে একটি তরল পদার্থ সরু ও নমনীয় নলের মধ্য দিয়ে প্রবেশ করান। তরল পদার্থটিকে ‘ডাই’ এবং নলটিকে ক্যাথেটার বলে। 


আইসোটোপঃ- বিভিন্ন ভরসংখ্যা বিশিষ্ট একই মৌলের পরমাণুকে ওই মৌলের আইসোটোপ বলে। অর্থাৎ কোনো মৌলের আইসোটোপসমূহে প্রোটনের সংখ্যা সমান থাকে কিন্তু নিউট্রনের সংখ্যা বিভিন্ন হয়। যেমন : কার্বনের তিনটি আইসোটোপ Ñ ১২৬ঈ, ১৩৬ঈ ও ১৪৬ঈ যাদের ভরসংখ্যা যথাক্রমে ১২, ১৩, ১৪। কার্বনের পারমাণবিক সংখ্যা ৬। অর্থাৎ প্রতিটি কার্বন পরমাণুতে ছয়টি প্রোটন আছে। ফলে কার্বনের আইসোটোপগুলোতে যথাক্রমে ৬, ৭ এবং ৮টি নিউট্রন রয়েছে।


জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্নঃ-১. জীবপদার্থবিজ্ঞানের ভিত্তি কী?

উত্তরঃ-  জড়জগৎ এবং প্রাণিজগৎকে পদার্থবিজ্ঞানের নিয়মে ব্যাখ্যা করা। 

প্রশ্নঃ-২. জীববিজ্ঞান ও পদার্থবিজ্ঞানের মধ্যে ‘সেতুবন্ধ’ বলা হয় কাকে?

উত্তরঃ-  জীববিজ্ঞান ও পদার্থবিজ্ঞানের মধ্যে ‘সেতুবন্ধ’ বলা হয় জীবপদার্থবিজ্ঞানকে। 

প্রশ্নঃ-৩. জগদীশচন্দ্র বসুর উল্লেখযোগ্য একটি গ্রন্থের নাম কী?

উত্তরঃ-  জবংঢ়ড়হংব রহ ঃযব খরারহম ধহফ ঘড়হ-খরারহম.

প্রশ্নঃ-৪. জগদীশচন্দ্র বসু কত সালে মৃত্যুবরণ করেন?

উত্তরঃ-  জগদীশচন্দ্র বসু ১৯৩৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন। 

প্রশ্নঃ-৫. বিভিন্ন উদ্দীপনায় উদ্ভিদের সাড়া দেয়ার প্রকৃতি কেমন?

উত্তরঃ-  বৈদ্যুতিক। 

প্রশ্নঃ-৬. সিটিস্ক্যান যন্ত্র কী ধরনের প্রতিবিম্ব তৈরি করে?

উত্তরঃ-  সিটিস্ক্যান যন্ত্র ত্রিমাত্রিক প্রতিবিম্ব তৈরি করে। 

প্রশ্নঃ-৭. থাইরয়েড গ্রন্থির চিকিৎসায় কী ব্যবহৃত হয়?

উত্তরঃ-  থাইরয়েড গ্রন্থির চিকিৎসায় আয়োডিনÑ১৩১ ব্যবহৃত হয় ।

প্রশ্নঃ-৮. হাড়ের ক্যান্সারের চিকিৎসায় কোন তেজস্ক্রিয় মৌল ব্যবহার করা হয়?

উত্তরঃ- হাড়ের ক্যান্সারের চিকিৎসায় তেজস্ক্রিয় স্ট্রনশিয়াম মৌল ব্যবহার করা হয়। 


অনুধাবণমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্নঃ- ১. এক্স-রে ব্যবহার কি ? 

উত্তরঃ- নিচে এক্স-রে এর ব্যবহার উল্লেখ করা হলোঃ- 

(ক) স্থানচ্যুত হাড়, হাড়ে ফাটল, ভেঙে যাওয়া হাড় ইত্যাদি।

(খ) দাঁতের গোড়ায় ঘা এবং ক্ষয় নির্ণয়। 

(গ) অন্ত্রের প্রতিবন্ধকতা শনাক্ত করতে। 

(ঘ) পিত্তথলি ও কিডনির পাথর শনাক্ত। 

(ঙ) ফুসফুসের রোগ শনাক্ত করতে। 

(চ) ক্যান্সার কোষকে মেরে ফেলতে। 

Leave a Comment