৯ম ও ১০ম শ্রেণির জীব বিজ্ঞানের ৩ অধ্যায়ের নোট (সংক্ষিপ্ত ও অন্যন্যা প্রশ্ন এবং সাজেশান)

এস. এস. সি. জীব বিজ্ঞানের ৩ অধ্যায়ের নোট। এস. এস. সি. জীব বিজ্ঞানের নোট। আজকের আর্টিকেলে এস. এস. সি. জীব বিজ্ঞানের ৩ অধ্যায়ের নোট। ৯ম ও ১০ম শ্রেণির জীব বিজ্ঞানের ৩ অধ্যায়ের নোট। ৯ম ও ১০ম শ্রেণির জীব বিজ্ঞানের ৩ অধ্যায়ের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও অন্যন্যা সংক্ষিপ্ত প্রশ্নাবলি ও সাজেশান।



৯ম ও ১০ম শ্রেণির জীব বিজ্ঞানের ৩ অধ্যায়ের নোট (সংক্ষিপ্ত ও অন্যন্যা প্রশ্ন এবং সাজেশান)

 



কোষ : জীবদেহের গঠন ও কাজের একককে কোষ বলে। প্রতিটি জীবদেহ কোষ দিয়ে গঠিত। একটিমাত্র কোষ দিয়ে প্রতিটি জীবের জীবন শুরু হয়।

কোষ বিভাজন : যে পদ্ধতিতে মাতৃকোষ থেকে দুই বা দুইয়ের বেশি অপত্যকোষের সৃষ্টি হয় তাকে কোষ বিভাজন বলে।

অপত্যকোষ : যে কোষগুলোর গুণাগুণ মাতৃকোষের মতো হয় তাদের অপত্যকোষ বলে।

কোষ বিভাজনের প্রকারভেদ : কোষ বিভাজন তিন প্রকারের। এই তিন ধরনের কোষ বিভাজনঃ- 

১. অ্যামাইটোসিস, ২. মাইটোসিস এবং ৩. মিয়োসিস।


অ্যামাইটোসিস বা প্রত্যক্ষ কোষ বিভাজন : এ ধরনের বিভাজনে নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম সরাসরি বিভক্ত হয়ে দুটি অপত্য কোষ সৃষ্টি করে।


মাইটোসিস : যে কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় দেহকোষের মাতৃকোষটি বিভাজিত হয়ে সমগুণসম্পন্ন ও সমসংখ্যক ক্রোমোসোমবিশিষ্ট দুটি অপত্য কোষ সৃষ্টি হয়, তাকে মাইটোসিস বলে। প্রকৃত নিউক্লিয়াসযুক্ত জীবদেহের দেহকোষে মাইটোসিস কোষ বিভাজন ঘটে। মাইটোসিস বিভাজন ঘটে না প্রাণীদের স্নায়ু কোষে, স্তন্যপায়ীদের পরিণত লোহিত রক্তকণিকায় ও অণুচক্রিকায় এবং উদ্ভিদের স্থায়ী টিস্যুর কোষে।


মাইটোসিস প্রধানত দুটি পর্যায়ে সম্পন্ন হয়ঃ- ১. ক্যারিওকাইনেসিস এবং ২. সাইটোকাইনেসিস। এর মধ্যে ক্যারিওকাইনেসিস একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় ঘটে।


ক্যারিওকাইনেসিস : এ পর্যায়ে মাতৃকোষের নিউক্লিয়াসের বিভাজন ঘটে এবং কোষের নিউক্লিয়াসটি ধারাবাহিকভাবে কয়েকটি জটিল পরিবর্তনের মাধ্যমে বিভক্ত হয়। ধারাবাহিকভাবে নিউক্লিয়াসের বিভাজনকে পাঁচটি ধাপে ভাগ করা হয়েছে। যথা : (১) প্রোফেজ (২) প্রোমেটাফেজ (৩) মেটাফেজ (৪) অ্যানাফেজ ও (৫) টেলোফেজ।


সাইটোকাইনেসিস : এ পর্যায়ে বিভাজিত কোষের সাইটোপ্লাজম বিভাজিত হয়ে দুটি অপত্যকোষ সৃষ্টি করে।

মিয়োসিস : যে কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় জীবের জনন মাতৃকোষের নিউক্লিয়াসটি পরপর দুইবার বিভাজিত হয়ে জনন মাতৃকোষের অর্ধেক ক্রোমোসোমসহ চারটি অপত্য জননকোষ সৃষ্টি করে, তাকে মিয়োসিস কোষ বিভাজন বলে।

সমীকরণিক বা ইকুয়েশনাল বিভাজন : মাইটোসিসে ক্রোমোসোমের একবার বিভাজন ঘটে এবং অপত্য কোষে ক্রোমোসোম সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোসোম সংখ্যার সমান থাকে। এজন্য এই ধরনের কোষ বিভাজনকে সমীকরণিক বা ইকুয়েশনাল বিভাজনও বলে।

হ্রাসমূলক কোষ বিভাজন : মিয়োসিসে ক্রোমোসোমের দুইবার বিভাজন ঘটে এবং অপত্যকোষে ক্রোমোসোমের সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোসোম সংখ্যার অর্ধেক হয়ে যায়। এজন্য মিয়োসিসকে হ্রাসমূলক কোষ বিভাজন বলে।

ইন্টারফেজ : কোষ বিভাজনের পূর্বে কোষে কিছু প্রস্তুতিমূলক কাজ হয়। কোষের এ অবস্থাকে ইন্টারফেজ বলে।

প্রোফেজ ধাপে নিউক্লিয়ার জালিকা ভেঙে কতকগুলো নির্দিষ্ট সংখ্যক সুতার মতো অংশের সৃষ্টি হয়। এগুলোকে ক্রোমোসোম বলে।

প্রোমেটাফেজ : বিভাজিত কোষের মেটাফেজ ধাপের পূর্ব অবস্থা।

স্পিন্ডল তন্তু : প্রো-মেটাফেজ ধাপে নিউক্লিয়াসের বিলুপ্তি ঘটে এবং উদ্ভিদ কোষে সাইটোপ্লাজম থেকে এবং প্রাণিকোষে সেন্ট্রিওল থেকে কোষের উত্তর ও দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত কতকগুলো তন্তুর আবির্ভাব ঘটে। একে স্পিন্ডল তন্তু বলে।

স্পিন্ডল যন্ত্র : কোষের মধ্যভাগকে বিষুবীয় অঞ্চল বলে। স্পিন্ডল তন্তগুলো কোষের বিষুবীয় অঞ্চলে বিস্তৃত হয়ে মাকুর আকার ধারণ করে একে স্পিন্ডল যন্ত্র বলে।

আকর্ষণ তন্তু : যেসব স্পিন্ডল তন্তুর সাথে ক্রোমোসোমের সেন্ট্রোমিয়ার সংযুক্ত থাকে তাদেরকে আকর্ষণ তন্তু বা ক্রোমোসোমাল তন্তু বলে।

অ্যানাফেজ : অ্যানাফেজ ধাপে ক্রোমাটিডগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ অবস্থায় প্রতিটি ক্রোমাটিডকে অপত্য ক্রোমোসোম বলে।

টেলোফেজ : ক্যারিওকাইনেসিসের শেষ ধাপটির নাম টেলোফেজ। টেলোফেজে কোষের দুই মেরুতে দুটি অপত্য নিউক্লিয়াস গঠিত হয় এবং ক্যারিওকাইনেসিসের সমাপ্তি ঘটে।

কোষ প্লেট : উদ্ভিদ কোষে টেলোফেজ ধাপের শেষে বিষুবীয় তলে এন্ডোপ্লাজমিক জালিকার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অঙ্গগুলো জমা হয় এবং পরবর্তীতে মিলিত হয়ে যে প্লেট গঠন করে তাকে কোষ প্লেট বলে।

ডিপ্লয়েড : দেহকোষে ক্রোমাসোম সংখ্যাকে ডিপ্লয়েড সংখ্যা বা 2n বলে। ডিপ্লয়েড অবস্থায় ক্রোমাসোমগুলো জোড়ায় জোড়ায় থাকে। উদাহরণস্বরূপ মানুষের দেহকোষে ক্রোমোসোম সংখ্যা ২৩ জোড়া বা ৪৬টি।

হ্যাপ্লয়েড : জনন কোষের ক্রোমোসোম সংখ্যাকে হ্যাপ্লয়েড সংখ্যা বা n বলে। জনন মাতৃকোষ থেকে উৎপন্ন জনন কোষগুলো হ্যাপ্লয়েড হয়। উদাহরণস্বরূপ মানুষের জনন কোষের ক্রোমোসোম সংখ্যা ২৩ অর্থাৎ n বা হ্যাপ্লয়েড। 

বংশগতি বা Heredity : মাতাপিতার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য যে প্রক্রিয়ায় সন্তানসন্ততিতে সঞ্চারিত হয় তাকে বংশগতি বা হেরেডিটি (Heredity) বলে।

ক্রোমোসোম : কোষ বিভাজনের সময় নিউক্লিয়ার জালিকা থেকে উৎপন্ন সুতার মতো যে অংশগুলো জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্যের বাহক হিসেবে কাজ করে তাদের ক্রোমোসোম বলে।

অ্যানাফেজ ক্রোমোসোমগুলোর আকারঃ- অ্যানাফেজে সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থান অনুযায়ী ক্রোমোসোমগুলো V, L, J  বা I এর মতো আকার ধারণ করে। এদেরকে যথাক্রমে মেটাসেন্ট্রিক, সাবমেটাসেন্ট্রিক, অ্যাক্রোসেন্ট্রিক বা টেলোসেন্ট্রিক বলে।

জীবের প্রতিটি প্রজাতির কোষে ক্রোমোসোমের সংখ্যা ধ্রুবক।

ক্রোমাটিডঃ- মাইটোসিসের প্রোফেজ ধাপে প্রতিটি ক্রোমোসোম লম্বালম্বিভাবে বিভক্ত হওয়ার পর যে দুটি সমান আকৃতির সুতার মতো অংশ গঠন করে তাকে ক্রোমাটিড বলে। ক্রোমোসোমের ক্রোমাটিড দুটি পরস্পর যে অংশে যুক্ত থাকে তাকে সেন্ট্রোমিয়ার বলে।



১. মাইটোসিস ও মিয়োসিস কোষ বিভাজনের বৈশিষ্ট্যসমূহঃ
মাইটোসিস বিভাজনের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যগুলো হলো :
(১) এ প্রক্রিয়ায় মাতৃকোষের নিউক্লিয়াসটি একবার মাত্র বিভাজিত হয় এবং দুটি অপত্য কোষ সৃষ্টি করে।
(২) মাতৃকোষের ক্রোমোসোম সংখ্যা অপত্য কোষে অপরিবর্তিত থাকে অর্থাৎ মাতৃ ও অপত্য কোষের ক্রোমোসোম সংখ্যা সমান থাকে।
(৩) অপত্য কোষের নিউক্লিয়াস মাতৃকোষের নিউক্লিয়াসের মতো সমআকৃতি বিশিষ্ট এবং সমগুণ বিশিষ্ট হয়।
(৪) এ প্রক্রিয়ায় ক্রোমোসোম একবার মাত্র বিভাজিত হয়।



২. মিয়োসিসের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলোঃ- 
(১) এ প্রক্রিয়ায় এটি ডিপ্লয়েড (2n) মাতৃ জননকোষ। পরপর দুবার বিভাজিত হয়ে চারটি হ্যাপ্লয়েড (n) জনন কোষ সৃষ্টি করে।
(২) প্রথমবারের বিভাজনে ক্রোমোসোমের সংখ্যা হ্রাস পায় অর্থাৎ মাতৃকোষের 2n সংখ্যক ক্রোমোসোম প্রথম সৃষ্ট অপত্য কোষ দুটিতে n সংখ্যক ক্রোমোসোম হয়। এজন্য মিয়োসিসকে হ্রাস বিভাজন বলা হয়।
(৩) মিয়োসিস বিভাজনের প্রথম ও দ্বিতীয় বিভাজনকে যথাক্রমেঃ- মিয়োসিস-১ এবং মিয়োসিস-২ বলা হয়।
(৪) এ ধরনের বিভাজন পদ্ধতিতে ক্রোমোসোমের বিভাজন একবার মাত্র ঘটে, কিন্তু নিউক্লিয়াসটি দু’বার বিভাজিত হয়।



৩. মাইটোসিস কোষ বিভাজনের অ্যানাফেজ পর্যায়। এ পর্যায়ের বৈশিষ্ট্যঃ- 
(১) ক্রোমোসোমের সেন্ট্রোমিয়ার দুভাগে বিভক্ত হয়ে যায়, ফলে ক্রোমাটিড দুটি আলাদা হয়ে পড়ে। 
(২) ক্রোমাটিড দুটি স্পিন্ডল যন্ত্রের দুই বিপরীত মেরুর দিকে অগ্রসর হয়। আকর্ষণ তন্তুগুলোর সংকোচনের ফলে এদের মেরুমুখী চলন ঘটে। 
(৩) ক্রোমাটিড তথা অপত্য ক্রোমোসোমের মেরুমুখী চলনে সেন্ট্রোমিয়ার অগ্রগামী এবং বাহুদ্বয় অনুগামী হয়। 
(৪) অপত্য ক্রোমোসোমে সেন্ট্রোমিয়ারের বিভিন্ন অবস্থানের জন্য চলনের সময় এদেরকে V, L, J  বা I এর মতো দেখায়। 
(৫) এ পর্যায়ের শেষ দিকে অপত্য ক্রোমোসোমগুলো স্পিন্ডল যন্ত্রের মেরুপ্রান্তে অবস্থান নেয় এবং ক্রোমোসোমের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পেতে থাকে। 

Leave a Comment