২০২১ সালের গুগল অ্যাডসেন্স এর শর্তবলি বা পলিসি এবং এর সুবিধা-অসুবিধা সম্পর্কে জানুন

গুগল অ্যাডসেন্স এর শর্তাবলি কি ? কি কি কারণে গুগল অ্যাডসেন্স দিয়ে থাকে। 


২০২১ সালের গুগল অ্যাডসেন্স এর শর্ত ও সুবিধা-অসুবিধা সম্পর্কে জানুন। গুগল অ্যাডসেন্স থেকে আয় করতে হলে গুগল অ্যাডসেন্স সম্পর্কে আপনাকে বিস্তারিত জানতে হবে। 


একটা সময় আপনি স্প্যামিং করে গুগল অ্যাডসেন্স থেকে ভালো আয় করতে পারতেন কিন্তু বর্তমানে তা অনেকটাই কঠিক কাজ। 



আজকের আর্টিকেলে আমি গুগল অ্যাডসেন্স এর নতুন কিছু আপডেট ও নতুন কিছু শর্ত যা অনেকেই জানেন না এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো। আর এই নতুন নিয়মের কারণে কি কি সুবিধা হয়েছে আর কি কি অসুবিধা হয়েছে সেসব বিষয়ও তুলে ধরার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ। 



২০২১ সালের গুগল অ্যাডসেন্স এর শর্ত ও সুবিধা-অসুবিধা সম্পর্কে জানুন




২০১৮ সালের পর থেকে গুগল অ্যাডসেন্স পলিসিতে বেশ কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। প্রতি বছরই কিছু আপডেট করা হয়েছে এই পলিসিতে। এবার ২০২১ সালে কি কি  বিষয় আপডেট করা হয়েছে সেসব তথ্য জানানো হবে আজকের আর্টিকেলটিতে। আসলে ‍অনলাইনে ইউটিউবিং ও ব্লগিং করে আয় করার অন্যতম একটা মাধ্যম হলো এই গুগল অ্যাডসেন্স থেকে আয় করা। 




গুগল অ্যাডসেন্স ছাড়া নতুন অবস্থাতে বাইরের কোন অ্যাড পাওয়া যায় না। তাই নতুন ব্লগাররা এই আয়টাকেই বেশি মূল্যায়ন করে থাকেন। তবে আয় করার আগে নিয়ম জেনে রাখাটা অনেক বেশি জরুরী বিষয়। শুরুতেই অ্যাডসেন্স পলিসিতে পরিবর্তন গুলো জেনে নেওয়ার চেষ্টা করবো। 







(১) এই নিয়মে বর্তমানে একজন ব্যক্তির নামে একটি মাত্র একাউন্ট থাকতে হবে। একাধিক একাউন্ট একই ব্যক্তির নামে একই ঠিকানাতে গ্রহণযোগ্য না। অনেকেই এই পয়েন্টটাতে একটু ভুল করে থাকেন যদিও নিয়মটা শুরু থেকেই ছিল তবে কিছুটা আপডেটেড। 


ধরুন আপনার নামে গুগল Account আছে আপনি TIN সার্টিফিকেট করেছেন বা আরও বেশ কয়েকটি জিমেইল আছে আপনার যেগুলো অনেক জায়গায় আপনার অরজিনাল নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করে অনেক গুরুত্বপূর্ন পেমেন্ট এর কাজ করেছেন অনলাইনেই। 


তবে এরকম যদি করে থাকেন বা আপনার মেইলে যদি টিন সার্টিফিকেট করা হয়ে থাকে বা কোন ভাবেই আপনার আসল ঠিকানা ও নাম ব্যবহার করা হয়ে থাকে আর আপনি সেই একই ঠিকানা ও নাম গুগল অ্যাডসেন্স এর জন্য আবেদন করেন। 


তাহলে আপনাকে ডাবল একাউন্ট আছে বলে রিজেক্ট করা হবে। অনেকেই বলে থাকেন আপনার আগে কোন গুগল অ্যাকাউন্ট নেই তারপরেও “You Have Another Google Add-sense Account” এরকম ম্যাসেজ দিযে রিজেক্ট করে দেয়। 


এসব সমস্যার জন্য বলবো আপনি দ্রুতই আপনার নাম ও আইডির ঠিকানা পরিবর্তন করে আবার আবেদন করুন অথবা নতুন নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করুন। 



(২) নতুন আপডেটে আপনাকে একাধিকবার ভেরিফাই করতে হবে আপনার একাউন্টটি। প্রথমে ১০ ডলার হয়ে গেলে পিন ভেরিফাই করা হলেও আবার আপনাকে নাম্বার ভেরিফাই করতে হবে যদিও নাম্বার ভেরিফাই আগেই করা যায়। 


তারপরেও আপনাকে আরও ভেরিফাই করতে হবে নতুন আপডেটে। এইটা হলো আইডি কাড বা NID কার্ড ভেরিফাই বা Passport ভেরিফাই। 



(৩) যদি আপনার সাইটিটা ইউটিউব চ্যানেল হয়ে থাকে তাহলে আপনাকে USA ট্যাক্স ভেরিফাই করতে হবে। তাছাড়া আপনি যদি USA থেকে আয় করেন সেটির বড় অংশ কেটে নেওয়া হবে। 


এই সমস্যার সমাধান এতিমধ্যেই ইউটিউবে অনেকেই দিয়েছেন দেখে নিতে পারেন। কিভাবে আপনি আমেরিকার নাগরিক না হয়েও USA TAX Information তৈরি করবেন বা এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন সেটা জানুন। তবে ধারণা করা হচ্ছে এইটা সকল মানে ব্লগারেও করা হবে নতুন ও পুরাতন সকলের একাউন্ট এই এই আপডেট ম্যাসেজটি আসবে পর্যায়ক্রমে। যাদের এখনও আসে নাই তারা অপেক্ষা করুন আর যাদের এসেছে তারা সমাধান করে ফেলুন। 



(৪) আপনার একাউন্ট সকল ভেরিফাই করা হয়েছে তারপরে যদি আপনার একাউন্ট এ 1500$ থাকে আর আপনার একাউন্ট টি যদি Disable / Suspend হয়ে যায় তাহলে আপনি আর কোন টাকা ফেরত পাবেন না আপনার একাউন্ট এ ডলার থাকার পরেও। 


এই আপডেটের আগে আপনি ডিজএবল হয়ে গেলে জমাকৃত ডলার আপনার অ্যাডকৃত ব্যাংক একাউন্ট এ চলে আসতো কিন্তু নতুন আপডেটে এই ডলার গুগল রেখে দেবে। 



উপরের গুলো অ্যাডসেন্স এর শর্তাবলি বা আসল নিয়ম এইগুলো আপনাকে জানতেই হবে এমন বিষয়। এছাড়াও (ব্লগারে গুগল অ্যাডসেন্স অ্যাপ্রুভ হওয়া শর্তসমূহ) এই আর্টিকেল থেকে আপনি গুগল অ্যাডসেন্স কি ও কি কি শর্ত আছে জেনে নিতে পারেন বিস্তারিত। আমি বেশ কিছু এখানে বলার চেষ্টা করছি তারপরেও। 






গুগল অ্যাডসেন্স এর শর্তাবলিঃ

(১) কমপক্ষে ১২+ গুগল ইনডেক্স হয় এমন আর্টিকেল থাকতে হবে। কিভাবে পোস্ট ইনডেক্স হয় সেটির জন্য (ব্লগারে পোস্ট ইনডেক্স সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন) আর্টিকেলটি পড়তে পারেন। 


(২) Privacy, About Us, Home, Contact Us এই চারটি পেজ অবশ্যই থাকতে হবে আর Sitemap & Disclaimer এই দুইটি পেজ থাকলে আরও ভালো হয় এমন কিছু পেজ থাকতে হবে। 


(৩) কোন ধরনের পপ-আপ বা Pop-Up বা আন্ডার পপ-আপ থাকা জাবে না। 


(৪) প্রতিটি আর্টিকেলে ৫০০+ শব্দ বা ১ হাজার হলে ভালো হয় থাকতে হবে। এই বিষয়টা আপনি উপরে ১ নং এর মতও বলতে পারেন। কারণ ইনডেক্স করার জন্য শর্তগুলো জানলেই এই সমস্যা ফেস করতে হবে না। 


(৫) SEO Friendly থিম থাকতে হবে। যেন ইউজাররা অনেক সহজেই দেখতে পারে এবং সহজেই আপলোড হয় এমন। 




(৬) SEO Friendly আর্টিকেল থাকতে হবে। বা আপনার ব্লগস্পর্ট যেন SEO Friendly হয় সেদিকে নজর রাখবেন। 


(৭) মাস্টার ডোমেইন জরুরী না হলেও হলে ভালো হয়। (কেন আপনি মাস্টার ডোমেইন কিনবেন) আর্টিকেলটি পড়তে পারেন বিষয়টা বোঝার জন্য। 


(৮) ডোমেইনের বয়স কমপক্ষে ১ মাস বা সাইটের বয়স কমপক্ষে ১ মাস হলে ভালো হয়। অনেকেই ব্লগস্পট এর ফ্রি সাইটেও গুগল অ্যাডসেন্স পেতে আগ্রহী তাদের জন্য বলবো নিয়ম কিছুটা আপডেট হওয়ার কারণে আপনাকে অবশ্যই নিয়মগুলো জেনে আবেদন করতে হবে। 


(৯) নিয়মিত কিছু অরগানিক ভিজিটর আনতে হবে। যদিও অ্যাডসেন্স পাওয়ার জন্য জরুরী না তবে কোন কারণে অ্যাডসেন্স পেলেন অথচ অরগানিক ভিজিটর পেলেন না তাহলে অ্যাডসেন্স ডিজেএবল বা সাসপেন্ড হয়ে যেতে পারে। তাই আগে থেকেই শতর্ক থাকুন। 


(১০) নতুন শব্দ যুক্ত পোস্ট পাবলিশ করা। ১নং জানলে এটি আর নতুন করে জানতে হবে না। ইনডেক্স করার জন্য শর্তগুলোর মধ্যে কপিপেস্ট নয় এমন পোস্ট যেমন জরুরী তেমনি নতুন শব্দ যুক্ত করে পোস্ট লিখাটাও জরুরী। 


আশার করি শর্তগুলো সাবই বুঝতে পেরেছেন। আমি চেষ্টা করেছি আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলার। সবগুলো হয়তো আমিও জানি না তবে যেগুলো জানি সেগুলো চেষ্টা করেছি জানানোর। আপনি আমার থেকে আরও নতুন কিছু জানলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন তাহলে আমি আমার আর্টিকেলে আপডেট করে নিবো পরবর্তীতে। 







গুগল অ্যাডসেন্স এর নতুন আপডেটের সুবিধাঃ

(১) আসল কনটেন্ট তৈরি করা ও তাদের সুবিধা বাড়ানো। 

(২) স্প্যামিং করে আয় করা বন্ধ করা বা অরজিনাল মালিকদের মূল্যায়ন করা।

(৩) CPC ভালো আসবে নতুন আপডেটের কারণে। তাতে করে আগের থেকে আয়টাও বাড়বে। আগে যেসব কনটেন্ট এ CPC কম ছিল বর্তমানে সেসব কনটেন্ট এ CPC অনেক বেশি থাকবে। 

(৪) ফেইক একাউন্টগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। যার ফলে আসল ব্যক্তিই গুগল থেকে আয় করতে পারবে। এটাতে কোন কনটেন্ট যদি ্‌আপনি তৈরি করে থাকেন আর সেটার স্বত্ত্ব যদি আপনার থাকে তবে আপনিই কেবলমাত্র সেই কনটেন্ট থেকে আয় করতে পারবেন। 


(৫) যাদের ইউটিউব আছে বা ইউটিউব নিয়ে কাজ করছেন তাদের জন্য সুবিধা বা অসুবিধা দুটোই হতে পারে এটি সেটি হলো, প্রথমত আপনার চ্যানেলটি ১০ হাজার ভিউ হতে হবে। 

দ্বিতীয়ত ১ হাজার সাবসক্রাইবার হতে হবে। তৃতীয়ত ৪ হাজার ঘন্টা ওয়াচ-টাইম থাকতে হবে। চতুর্থ হলো উপরের তিনটা পূরণ করার জন্য সময় মাত্র ১ বছর। অনেকেই কাজের প্রতি প্রফেশনাল থাকবে আবার অনেকেই এটিকে সমস্যা হিসেবে দেখছেন। 







গুগল অ্যাডসেন্স এর নতুন আপডেটের অসুবিধাঃ

(১) যারা স্প্যামিং করে আয় করতো তারা সেটি আর পারবে না। 

(২) অনেকেই আছেন যাদের NID কাড বা পাসপোর্ট নেই তাদের জন্য সমস্যা বেশি। যদিও সমস্যাটা আগেও ছিল তবে বর্তমানের অনেক রেসট্রিকটেড। যদি একই একাউন্ট আগামীতে ফেইস ভেরিফাই চায় তবে সেটি হবে আরও অসুবিধার হয়তো আগামীতে এমন নিয়মও আসতে পারে বলে অনেকেই ধারণা করছেন। 


(৩) যারা নতুন তাদের নিয়মগুলো মেনে কনটেন্ট তৈরি করা সমস্যা। অনেকেই শুরুতে কিছুটা কপিপেস্ট করতো যা বর্তমানে করা সম্ভব হচ্ছে না। 


(৪) ভেরিফাই এর ঝামেলা অনেকটা বেশি আগের থেকে। বিধায় অনেকেই আগ্রহ হারাচ্ছেন। 

(৫) প্রতিযোগীতা আগের থেকে বেড়েছে নতুন নিয়মেই অনেকেই সুবিধা মনে করছেন বিধায়। 

(৬) আগের মত আর অনেক কনটেন্ট নিজের নামে চালানো যাবে না। ইউটিউবে এই্ আপডেটটা অনেক বেশি করা হয়েছে এমনকি চুরি করা হলে কনটেন্ট আপনার চ্যানেলে স্ট্যাইক বা ডিজএবল করার মত সমস্যারও সৃষ্টি হচ্ছে পারে বা অনেকেরই এমনটা হয়েছে। 







আজকের আর্টিকেলে গুগল অ্যাডসেন্স কি ও গুগল অ্যাডসেন্স অ্যাপ্রুভ হওয়ার শর্তসমূহ জানানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এছাড়াও গুগল অ্যাডসেন্স এর নতুন কিছু আপডেট নিয়ম ও এর সুবিধা ও অসুুবিধাগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। আশা করবো আর্টিকেলটি অনেক ভালো লেগেছে আপনাদের। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে মূল্যাবান সময় নিয়ে আর্টিকেলটি পড়ার জন্য। 

Leave a Comment