ব্লগারে অরগানিক ভিজিটর বাড়ানোর উপায়

ভিজিটর বাড়ে না কেন ? অরগানিক ভিজিটর কিভাবে বাড়াবো ? অরগানিক ভিজিটর ছাড়া অ্যাড লিমিট হয়ে গেলে তখন কি করবো ? সবচেয়ে ভালো উপায়ে কিভাবে অরগানিক ভিজিটর বাড়ানো যায় ? আমার ব্লগার সাইটে কিভাবে দ্রুত অরগানিক ভিজিটর বাড়ানো যাবে ? ওয়েবসাইটে অরগানিক ভিজিটর বাড়ানোর উপায় কি ? এসব নানা প্রশ্ন নিয়েই থাকছে আজকের আর্টিকেল। আজকের আর্টিকেলে কিছু পিপস শেয়ার করবো কিভাবে অরগানিক ভিজিটর বাড়াবেন আর তার জন্য আপনাকে কি করতে হবে সে সকল বিষয়গুলো। 


ব্লগারে অরগানিক ভিজিটর বাড়ানোর উপায়

একটি ওয়েবসাইট বা ব্লগ সাইট থেকে আয় করার জন্য প্রথমেই আপনার লাগবে ভিজিটর বা ট্রাফিক। আর এই ট্রাফিক বা ভিজিটর বাড়ানোর জন্য আমরা নানা রকমভাবে চেষ্টা করে থাকি। কখনও কখনও সঠিক পদ্ধতি আবার কখনও কখনও বা সঠিক নয় এমন পদ্ধতি। সঠিক নয় এমন পদ্ধিতির কারণের অনেক সময় আমাদের অ্যাড লিমিট হয়ে যায়। আর এই লিমিট কাটানোর জন্য আবার নানা রকমের শর্ত মানতে হয়। 


আমি নিচে কিছু পয়েন্ট উল্লেখ করার চেষ্টা করছি যেটা জানলে হয়তো আপনি অনেক সহজেই বুঝতে পারবেন আর সেগুলো করলেই আপনার ভিজিটর বাড়বে আশা করি। যেমন, 






(১) সোসিয়াল মিডিয়ার প্লাটফরম ব্যবহার করা

আপনি যখন একটা ব্লগ তৈরি করেছেন তখন সেটি তৈরি করার পর আপনার প্রথম কাজ হবে প্রচার-প্রচারণা করা এবং তা সম্পর্কে সবাইকে জানানো। তবে এই জানানোর কাজটা করবেন অ্যাডসেন্স আবেদন করার আগেই। কারণ অনেক সময় ফেইসবুক বা অন্যন্যা সোসিয়াল মিডিয়ার ট্রাফিক যদি বেশি হয় তাহলে আপনার ব্লগের অ্যাডসেন্সকে লিমিট করে দেবে। আর এই কারণে যত বেশি সম্ভব আপনি আপনার সাইটের প্রচার বাড়াবেন সোসিয়াল মিডিয়ার মাধ্যমে। তবে লক্ষ্য রাখবেন অবশ্যই গুগল সার্চ কনসোল থেকে যে, কোন সাইট থেকে বেশি ভিজিটর আসছে আপনার ওয়েবসাইটে। 


সোসিয়াল বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে ভিজিটর বাড়ানোর জন্য আপনাকে অবশ্যই একটু কৌশলি হতে হবে। যেমন, সেই সাইটের নামে একটা পেজ থাকতে হবে এবং একটা মেইল ও একটা ইনস্ট্রাগ্রাম একাউন্ট সহ একটা ‍টুইটার একাউন্ট থাকতে হবে। তবে মনে রাখবেন ফেইসবুক একাউন্ট থেকে লিংক বেশি শেয়ার করলে অ্যাডসেন্স যেমন লিমিট হতে পারে তেমনি আপনার আইডিটাও ডিজএবল হয়ে যেতে পারে। বর্তামনে ফেইসবুকের নিয়মে যেটা স্পষ্ট লিখা আছে। তাই লিংক শেয়ার করার ক্ষেত্রে কৌশলী হওয়ার কোন বিকল্প নেই। 



আরো পড়ুন >> Droid Premium Theme Free Download Link.



(২) অনেক বেশি পরিমাণে কনটেন্ট দেওয়া

আমি এই পয়েন্টটাকেই সবচেয়ে বেশি মূল্যায়ন করবো। কারণ আপনার সাইটে ভিজিটর বিশেষ করে অরগানিক ভিজিটর কেন আসবে ? অবশ্যই বলবেন ভিজিট করার জন্য আর পড়ার জন্য। তাহলে উত্তরটা আপনিই দিয়ে দিয়েছেন কনটেন্ট যদি বেশি না থাকে তাহলে ভিজিটর এসেই চলে যাবে আর বাউন্স রেটটাও তখন বেড়ে যাবে যেটাও ওয়েবসাইটের জন্য ক্ষতিকর। একজন ভিজিটর আপনার ব্লগার সাইট বা ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট বলেন আসলে তাকে ২-৩ মিনিট যদি ধরে রাখা না যায় তবে আপনার সাইটের ভিজিটর বাড়বে না। কারণ গুগল সেই সকল সাইটকেই বেশি মূল্যায়ন করে থাকে যেসব সাইট অনেক বেশি পরিমাণে কনটেন্ট পাবলিশ করে। 


কিছুদিন আগে একজন নিউজ সাইট তৈরি করেছি আজকের যখন পোস্টটা লিখছি তার ঠিক ৪ মাস আগে হবে একটা নিউজি সাইট পাবলিশ করেছিল তিনি তিন মাস পরে আমাকে জানান যে, তার সাইট ডেইলি ৪০ হাজারের মত ভিজিটর আসে। সব সময় প্রায় ৩০০-৪০০ ভিজিটর থাকেই তবে মাঝে মাঝে কমেও যায় আর এইটা কমন বিষয়। যে কোন নিউজ সাইটে অলটাইম ভিজিটর থাকে তার অন্যতম কারণ হলো নিউজ সাইটগুলো আপডেট থাকে সব সময় আর প্রচুর পরিমাণে কনটেন্ট থাকে। আর আমি যার সাইটের কথা বললাম তার সাইটে তখন ৫০০+ কনটেন্ট ছিল। আমি আরেকটা সাইট যেটাতে কনটেন্ট ছিল ২০০ এর মত হবে তার সাইটে প্রতিদিন ভিজিটর আসে ১০০-৪০০ এর মত মানে মাঝমাঝি বা ৩০০+ নিয়মিতই থাকে বলা যায়। তবে সবগুলোই যে অরগানিক ভিজিটর বিষয়টা তা নয় অবশ্য। 




তাই আমি বলবো অরগানিক ভিজিটর বাড়ানোর জন্য কনটেন্ট বাড়ানোর চাইতে ভালো অপশান আর একটাও নেই। আপনি যদি অ্যাডসেন্স নিয়ে বিক্রি করার জন্য সাইট বানাতে চান সেক্ষেত্রে বিষয়টা আলাদা হবে আর যদি মনে করেন না আমি সেটা রেখে দেবো আর ভিজিটর বাড়াবো তাহলে অনেক বেশি কনটেন্ট দেওয়ার চেষ্টা করুন। 




(৩) নিয়মিত আর্টিকেল বা কনটেন্ট পাবলিশ করা

কনটেন্ট বাড়ানোর জন্য আপনি যদি মনে করেন আপনি এক দিনেই ১০০টার মত আর্টিকেল লিখবেন তাহলে সেটি আপনার ভুল ধারণা। নিউজ রিলেটেড সাইট হলে অবশ্য আপনি কাজটা করতে পারেন তবে আপনি যদি নির্দিষ্ট নিশ রিলেটেড আর্টিকেল লিখেন তাহলে অবশ্যই আপনাকে নিয়মিত প্রতিদিন বা সপ্তাহে একটা নির্দিষ্ট সময়ে আর্টিকেল লিখতে হবে। আপনি একদিনে যদি ১০টা আর্টিকেল লিখেন তাহলে সেটি অবশ্যই টাইম সিডিউল করে দিতে পারেন। তাহলেই আপনার আর কোন সমস্যা হবে না। 


কারণ আপনি আগামী ১০ দিনে প্রতিদিন একটা নির্দিষ্ট সময় করে ১টা করে পাবলিশ করছেন সিডিউল করে দেওয়ার মাধ্যমে। আর সেটি ঠিক সেই সময়ই আপনার সাইটে সো করবে। এটা অনেক ভালো পদ্ধতি আমিও আগে জানতাম না পরে একজন ভাইয়ের কাছ থেকে শিখেছিলাম যে নিয়মিত একটা নির্দিষ্ট সময়ে যদি পোস্ট বা কনটেন্ট পাবলিশ করা হয় তাহলে গুগলের রোবট সেটাকে অনেক বেশি গুরুত্ব দেয়। 





(৪) কী-ওয়ার্ড রিসার্চ করে কনটেন্ট লিখুন 

কী-ওয়ার্ড অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ব্লগ বা ওয়েবসাইটের জন্য। ফ্রিতেই গুগলের একটি কী-ওয়ার্ড রিসার্চ করার সিস্টেম আছে এছাড়াও আপনি অনেক সাইট থেকেই ফ্রিতেই করতে পারবেন কাজটা। যদিও পেইড বেস্ট তারপরেও যতটুকু সম্ভব কী-ওয়ার্ড রিসার্চ করবেন। কারণ কী-ওয়ার্ড রিসার্চ ছাড়া অরগানিক ভিজিটর বাড়ে না। কী-ওয়ার্ড রিসার্চ মূলত কোন কী-ওয়ার্ড দিয়ে কি পরিমাণ প্রতি মাসে ভিজিটর আগে কোন দেশ থেকে বেশি আসে আর কোন দেশের জন্য কোন কী-ওয়ার্ড বেস্ট হবে সেসব বিষয় সম্পর্কে একটা পরিপূর্ণ ধারণা দেয়। 








ধরুন আপনি “কিভাবে ভিজিটর বাড়াবো আমার ওয়েবসাইটে” এটি দিয়ে মানে এটিকে টাইটেল ধরে একটা কনটেন্ট লিখবেন তাহলে এটি যদি আপনি গুগলে সার্চ দেন তাহলে কেমন সংখ্যা দেখাবে  জানেন ? নিচের চিত্রটি লক্ষ করুনঃ


ব্লগারে অরগানিক ভিজিটর বাড়ানোর উপায়




About এ লক্ষ্য করুন 14 হাজারের বেশি দেখাচ্ছে আর নিজে ১ম পেজে ১মটাতে একটা ওয়েবসাইটের যেটা ছিল 2017 সালের। আপনি যদি এই টাইটেলে কনটেন্ট লিখতে চান তাহলে এইটাতে কেমন ভিজিটর আসে মাসে সেটি আগে দেখুন। তারপর আপনি ১ম থেকে ১০টা সাইট দেখে সেগুলোর চাইতে ভালো SEO করে যদি আপনি কনটেন্ট পাবলিশ করতে পারেন তাহলে আপনিই টপে চলে আসবেন। ১ম পেজের ১মে থাকার জন্য কনটেন্টে অনেক বেশি ইউনিক শব্দ ও অনেক বেশি লিংকযুক্ত বিষয় থাকতে হবে। মানে আপনি এই কনটেন্ট রিলেটেড পোস্ট আপনার সাইটে যুক্ত থাকতে হবে। 


যদি আপনার সাইটে না থাকে তাহলে আপনি অন্য সাইটের ব্যাংক লিংক দেবেন যেটাকে বলা হয় এক্সটারনাল লিংক। আর আপনি যদি আপনার নিজের সাইটেই এমন টাইটেল রিলেটেড কনটেন্ট থাকে তাহলে সেগুলোকে লিংক করে দেবেন সেটাকে বলা হবে তখন ইনটারনাল লিংক। 








আমি কয়েকটি বিষয় বোঝানোর মাধ্যমে আসলে কিভাবে অরগানিক ভিজিটর বাড়ানো যায় সে বিষয়ে কিছু ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেছি আশা করি সবাই ‍বুঝতে পেরেছেন। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে মূল্যবান সময় নিয়ে আর্টিকেলটি পড়ার জন্য। 

Leave a Comment