বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর জীবনপঞ্জি (১৯২০-১৯৭৫)

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর জীবনপঞ্জি (১৯২০-১৯৭৫)। যার জন্ম না হলে বাঙ্গালী জাতির স্বাধীনতা হতো না যিনি নেতৃত্ব না দিলে হয়তো বাঙ্গালী সারাজীবন পরাধীনই থাকতো তার নাম হলোই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আজকের Article এ আমরা সেই বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনপঞ্জি সম্পর্কে বিস্তারি জানার চেষ্টা করবো। 


বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর জীবনপঞ্জি (১৯২০-১৯৭৫)

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর জীবনপঞ্জি (১৯২০-১৯৭৫)


বঙ্গবন্ধুর ১৯২০ সাল
শেখ মুজিবুর রহমান ফরিদপুর জেলার তৎকালীন গোপালঞ্জ মহকুমার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে এক সভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন ১৯২০ সালের ১৭ই মার্চ মাসে। শেখ লুৎফুর রহমান তার বাবার নাম এবং সায়েরা বেগম তার মায়ের নাম। চার কন্যা ও দুই পুত্রের মধ্যে শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন তৃতীয় সন্তান। বাবা ও মা তাকে আদর করে খোকা বলে ডাকতেন। 
শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯২৭ সাল

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মাত্র ৭ বছর বয়সে গিমাডাঙ্গা প্রাইমারি স্কুলে ভর্তি হন। ৯ বছর বয়সে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গোপালগঞ্জ পাবলিক স্কুলে ৩য় শ্রেণিতে ভর্তি হন। 


শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৩৮ সাল

মাত্র ১৮ বছর বয়সেই শেখ মুজিবুর রহমান ও বেগম শেখ ফজিতালাতুন্নেসার আনুষ্ঠিানিক বিয়ে হয়। তাদের বিয়েটা পারিবারিক ভাবেই হয়েছিল। শেখ মুজিবুর রহমান ও বেগম ফজিলাতুন্নেসার দুই কন্যা সন্তান শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা ও তিন পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শেখ রাসেল ছিল। 



শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৪০ সাল 

শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৪০ সালে নিখিল ভারত মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনে যোগদান করেন এবং এক বছরের জন্য বেঙ্গল মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। এই একই বছর তাকে গোপালগঞ্জ মুসলিম ডিফেন্স কমিটির সেক্রেটারি নিযুক্ত করা হয়। 



শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৪২ সাল 

এই বছর তিনি এসএসসি পাশ করেন। সেই সময়ে এন্ট্রান্স পাস বলা হতো। শেখ মুজিবুর রহমান কলকাতা ইসলামিয়া কলেজে মানবিক বিভাগে ইন্টারমিডিয়েটে ভর্তি হন। 


শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৪৬ সাল 

শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৪৬ সালে কলকাতা ইসলামিয়া কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) নির্বাচিত হন। 


শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৪৮ সাল 

তিনি এই বছরের ৪ জানুয়ারি মুসলিম ছাতলীগ প্রতিষ্ঠা করেন।  এই বছর বয়সে ২ মার্চ ভাষার প্রশ্নে মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে সংগঠিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মীদের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ফজলুল হক মুসলিম হলে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে শেখ মুজিবুর রহমানের প্রস্তাবক্রমে সর্বদলীয় রাষ্ঠ্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। 


শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৪৯ সাল 

তিনি এই বছরের ২৩ জুন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ গঠিত হয়। তিনি দলের পূর্ব পাকিস্তান অংশের যুগ্ম সাধারণ সম্মাদক নির্বাচিত হন। 


১৯৫২ সাল 

শেখ মুজিবুর রহমান “পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু” এর প্রতিবাদ করার কারণে তাকে কারাবন্দি হন। বন্দি থাকা অবস্থায় ২১ ফেব্রুয়ারিকে রাজবন্দি মুক্তি এবং বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি দিবস হিসেবে পালন করার জন্য রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি ভাষা আন্দোলনের জন্য অনেক পরিশ্রম করেন আর তিনি ছোট বয়স থেকেই দেশের বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে কথা বলতেন। 



শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৬৬ সাল 

শেখ মুজিবুর রহমান ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরের বিরোধী দলগুলোর জাতীয় সম্মেলনে ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবি পেশ করেন। 


শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৬৮ সাল 

শেখ মুজিবুর রহমান ৩ জানুয়ারি পাকিস্তান সরকার তাকে এক নম্বর আসামি করে মোট ৩৫ জন বাঙালি সেনা ও অফিসারের বিরুদ্ধে পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ এনে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা (রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিব) দায়ের করে। 



শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৬৯ সাল 

এই বছরে শেখ মুজিবুর রহমানকে আগর তলার ষড়যন্ত্র মামলা থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। ২২ ফেব্রুয়ারি জনগনের অব্যহত আন্দোলনের কারণে কেন্দ্রীয় সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করেন। তারপর তাকে এই দিনে ২২ ফেব্রুয়ারি মুক্তি দেওয়া হয়। 



শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭০ সাল 

৬ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৭ অক্টোবর দলের নির্বাচনী প্রতীক “নৌকা” প্রতীক পছন্দ করেন। 


শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭১ সাল 

৭ মার্চ রেসকোর্সের জনসমুদ্র থেকে বঙ্গবন্ধু ঘোষণা করেন, “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, জয় বাংলা।” ২৫ মার্চ রাত ১২টা ২০ মিনিটে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এই ঘোষণা ওয়্যারলেস, টেলিফোন-টেলিগ্রামের মাধ্যমে প্রচারিত হয়। ১টা ৩০ মিনিটে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। 


১৯৭২ সাল 

৮ জানুয়ারি পাকিস্তান সরকার বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দেয়। ১০ জানুয়ারি স্বদেশে আসেন। ১১ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন। 


১৯৭৫ সাল

২৫ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি পদ্ধতির সরকারব্যবস্থা প্রবর্তন এবং বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ। 

১৫ ্ই আগষ্ট ভোরে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিজ বাসভবনে সেনাবাহিনীর কিছু উচ্চাভিলাষী অফিসার-বিশ্বাসঘাতকের হাতে নিহত হন।


বি. দ্র. তথ্যগুলো অনলাইন ও বাংলাদেশের পত্রিকা থেকে নেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment