বঙ্গবন্ধুর প্রত্যেকদিন ইতিহাসের পাতায়

কেমন ছিল বঙ্গবন্ধুর ডিসেম্বর মাস ? কেমন ছিলেন বঙ্গবন্ধুর শৈশব ? কেমন ছিল বঙ্গবন্ধুর রাজনীতি ? কেমন ছিল বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ ? কেমন ছিল বঙ্গবন্ধুর রাজনীতির দিনগুলি ? এসব প্রশ্ন অনেকেরই মনে আছে। বঙ্গবন্ধুর প্রত্যেকদিন ইতিহাসের পাতায়। বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে আমাদের অনেক কিছুই জানার আছে। 


এই আর্টিকেলটিতে বঙ্গবন্ধুর প্রত্যেকদিন ইতিহাসের পাতায় ডিসেম্বর মাস সম্পর্কে আলোচনা করা হবে। অন্যান্য মাসেরগুলো জানতে লিংকগুলো অনুসরন করুন। 


আরো পড়ুন >> বঙ্গবন্ধুর প্রত্যেকদিন ইতিহাসের পাতায় (নভেম্বর)


আরো পড়ুন >> বঙ্গবন্ধুর প্রত্যেকদিন ইতিহাসের পাতায় (জানুয়ারী)


আরো পড়ুন >> বঙ্গবন্ধুর প্রত্যেকদিন ইতিহাসের পাতায় (ফেব্রুয়ারী)


আরো পড়ুন >> বঙ্গবন্ধুর প্রত্যেকদিন ইতিহাসের পাতায় (মার্চ)


ডিসেম্বরঃ বঙ্গবন্ধুর প্রতিদিন

বঙ্গবন্ধুর ্প্রতিদিন বলতে এখানে বোঝানো হয়েছে ডিসেম্বর মাসের বঙ্গবন্ধুর প্রত্যেকটা সস্মরণীয় দিনগুলো। যা ইতিহাসের পাতায় স্মরণীয় হয়ে রয়েছে সেগুলোই এখানে প্রতিলিপিত হবে। তার ডিসেম্বর মাসের প্রত্যেকটা দিন ও মাস ও প্রত্যেকটা বছরের ডিসেম্বর এখানে আর্টিকেলে উল্লেখ করার চেষ্টা করা হবে।
ডিসেম্বর ১৯৪৯ঃ ঢাকার নাজিরাবাজার এলাকায় প্রথম বাসা ভাড়া নেন শেখ মুজিবুর রহমান।
১ ডিসেম্বর
১৯৭২ সালঃ উপকূলীয় বাঁধপ্রকল্প ও উপকূলীয় বনজসম্পদ এবং বন্য পশু সংরক্ষণের ব্যবস্থা দেখতে তিন দিনের সফরে উপকূলীয় এলাকায় যান প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। 
২ ডিসেম্বর 
১৯৭২ সালঃ এই দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সফল কূটনৈতিক উদ্যোগে জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভের যোগ্যতা সম্পর্কে ঐক্যমত্য ঘোষণা করে বিশ্বসভা অনুষ্ঠিত হয়। আর এর মাধ্যমে বাংলাদেশ সার্বভৌমত্ব স্বীকার করে নেয় বিশ্ব সংস্থাটি। 
৩ ডিসেম্বর 
১৯৬৪ সালঃ  এই দিনে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে জননিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করা হয়। আদালতে হাজির হয়ে ২,০০০ টাকার জামিনে মুক্তি লাভ করেন তিনি। 
১৯৭৪ সালঃ এই দিনে চারদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে সন্ত্রীক বাংলাদেশে আসেন মালয়েশিয়ার রাজা তুংকু আবদুল হালিম মোয়াজ্জেম শাহ। বিমানবন্দরে তাদের অভ্যর্থনা জানান প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
৪ ডিসেম্বর 
১৯৭২ সালঃ আজকের এই দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে ভূমি সংস্কার বৈপ্লবিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে সরকার। 
১৯৭৩ সালঃ আজকের এই দিনে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির দ্বিতীয় কংগ্রেস উদ্বোধন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। 
৫ ডিসেম্বর 
১৯৪৭ সালঃ আজকের এই দিনে খাজা নাজিমুদ্দীনের বাসভবনে মুসলিম লীঘ ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক চলাকালে ছাত্রনেতা শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে বিশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। 
১৯৭৪ সালঃ আজকের এই দিনে ঢাকার পিলখানায় বাংলাদেশ রাইফেলস এর (বর্তমান বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) তৃতীয় দলের শিক্ষা সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। 
৬ ডিসেম্বর 
১৯৭২ সালঃ আজকের এই দিনে জাতীয় রক্ষীবাহিনীর দ্বিতীয় দলের শিক্ষা সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। 
১৯৭৩ সালের আজকের এই দিনঃ চট্টগ্রামের দেশবাংলা পত্রিকা পুনঃপ্রকাশের অনুমতি প্রদান করে বঙ্গবন্ধুর সরকার আজকের এই দিনে। 
৭ ডিসেম্বর
১৯৫৯ সালঃ পাকিস্তান সরকারের মামলার বিচারে নির্দোষ প্রমাণিত হন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমান আজকের এই দিনে। 
১৯৬০ সালঃ হাইকোর্টে রিট আবেদন করে মুক্তি লাভ করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আজকের এই দিনে। 
বাংলাদেশ নামকরণের ইতিহাসঃ গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ৫ ডিসেম্বর ১৯৬৯ ঢাকায় আওয়ামী লীগের এক আলোচনা সভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানকে “বাংলাদেশ” নামকরণের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, “এক সময় এদেশের বুক হইতে, মানচিত্রের পৃষ্ঠা হইতে “বাংলা” কথাটির সর্বশেষ চিহ্নটুকুও চিরতরে মুছিয়া ফেলার চেষ্টা করা হইয়াছে। …… একমাত্র “বঙ্গোপসাগর” ছাড়া আর কোন কিছুর নামের সঙ্গে “বাংলা” কথাটির অস্তিত্ব খুঁজিয়া পাওয়া যায় নাই। …….. জনগণের পক্ষ হইতে আমি ঘোষণা করিতেছি …. আজ হইতে পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশটির নাম “পূর্ব পাকিস্তান” এর পরিবর্তে শুধুমাত্র “বাংলাদেশ”। 
১৯৭০ সালঃ পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে প্রাদেশিক পরিষদ ও জাতীয় পরিষদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ আজকের এই দিনে। (ভয়াবহ ঘূর্নিঝড়ের কারণে জাতীয় পরিষদের ৯টি ও প্রাদেশিক পরিষদের ২১টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৭ই জানুয়ারী ১৯৭১ সালে।) 
১৯৭৩ সালঃ মন্ত্রিসভার দায়িত্ব পুনবন্টন করেন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। 
৮ ডিসেম্বর 
১৯৭২ সালঃ আজকের এই দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সফল কূটনৈতিক উদ্যোগে স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে আফ্রিকার দেশ ঘানা। 
১৯৭৩ সালঃ আজকের এই দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চট্টগ্রাম বন্দরে আকস্মিক পরিদর্শনে যেয়ে বন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্ব দেন সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীকে। 
৯ ডিসেম্বর 
১৯৭০ সালঃ আজকের এই দিনে জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিপুল জয়লাভের পর দেশি ও বিদেশি সাংবাদিকদের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগের এই বিজয় প্রকৃত পক্ষে বাংলাদেশের লাখো নির্যাতিত মানুষেরই বিজয়। 
১৯৭১ সালঃ আজকের এই দিনে “বঙ্গবন্ধু নৌবহর” নামে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রথম নৌবহর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন মুজিবরগর সরকারের স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী ও এইচ এম কামরুজ্জামান। বঙ্গবন্ধু নৌবহর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে নিয়মিত বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত হয় বাংলাদেশ নৌবাহিনী। 
১৯৭২ সালঃ আজকের এই দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় মেয়ে শেখ হাসিনার গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন তার নাতনি সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। 
১০ ডিসেম্বর 
১৯৭৪ সালঃ আজকের এই দিনে বাংলাদেশ নৌবাহিনী দিবসের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, “আমি বাংলাদেশকে বিক্রি করতে চাই না, মর্টগেজ রাখতে চাই না। বিক্রি করলে বা মর্টগেজ রাখলে জিনিসের অভাব হয় না। কিন্তু আমি নিজের অস্তিত্ব বজায় রেখে সাহায্য চাই। আমি আস্তে আস্তে নৌবাহিনী গড়বো। নৌকায় করে আমার নৌবাহিনীর ছেলেরা চলবে। তবুও আমি বাংলাদেশকে মর্টগেজ দিয়ে কারো কাছ থেকে কিছু আনবো না। অবশ্য যারা বন্ধু রাষ্ট্র, যারা আমাদের স্বাধীনতা আর সার্বভৌমত্বকে সম্মান করে সাহায্য করতে চায়, তাদের কাছ থেকে আমি নিশ্চয়ই সাহায্য নেবো। 
১১ ডিসেম্বর 
১৯৬৪ সালঃ আজকের এই দিনে নরসিংদীর মনোহরদীতে অনুষ্ঠিত এক বিরাট জনসভায় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমান দেশের সর্বনাশ প্রতিরোধে ঐক্যবন্ধ হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান। 
১৯৭০ সালঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, ৬ দফার উপর ভিত্তি করেই দেশের শাসনতন্ত্র প্রণীত হবে। 
১২ ডিসেম্বর 
১৯৭২ সালঃ আজকের এই দিনে বিকেলে রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের একদল ছাত্র গণভবনে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ ‍মুজিবুর রহমানের সাথে দেখা করে “জুলিও কুরি শান্তি পুরস্কার” পাওয়ায় বঙ্গবন্ধুকে অভিন্দন জানান। এসময় ্প্রধানমন্ত্রী দেশের ক্যাডেট কলেজকে শিক্ষা মন্ত্রালয় থেকে দেশ রক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে দেয়ার জন্য নির্দেশ দেন। 
১৩ ডিসেম্বর 
১৯৭৩ সালঃ আজকের এই দিনে ঘূর্ণিঝড়ে লন্ডভন্ড দক্ষিণের জেলাগুলো পরিদর্শনে যান প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। 
১৪ ডিসেম্বর 
১৯৭২ সালঃ ত্রিশ লাখ শহিদের রক্তে লেখা সংবিধানে স্বাক্ষর করেন গণপরিষদ সদস্যরা। গনপরিষদে অনুমোদিত এ সংবিধানের কপিতে প্রথম স্বাক্ষর করেন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এরপর স্বাক্ষর করেন পরিষদের অন্যান্য সদস্যরা। 
১৫ ডিসেম্বর 
১৯৬৩ সালঃ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুতে জাতীয় সভায় আবেগ আপ্লুত কণ্ঠে বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আজকের এই দিনে। 
১৯৭২ সালঃ মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় খেতাব প্রদানের কথা ঘোষণা করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকার। 
১৯৭২ সালঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সফল কূটনৈতিক উদ্যোগে বাংলাদেশ-মিসর বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় আজকের এই দিনে। 
১৯৭৪ সালঃ বিজয় দিবসের প্রাক্কালে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বেতার-টিভিতে ভাষণ দেন আজকের এই দিনে। 
১৬ ডিসেম্বর 
১৯৭২ সালঃ রেসকোর্স ময়দানের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, “বাংলার মাটিতে যুদ্ধাপরাধীর বিচার হবেই।” 
১৯৭২ সালঃ আজকের এই দিনে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও মিরপুর শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
১৯৭২ সালঃ আজকের এই দিনে বঙ্গবন্ধু বললেন, “মুজিবুর রহমান নরম মানুষ। বাংলার মাটি যেমন নরম, পলি মাটি যেমন বৃৃষ্টিতে নরম হয়, আমিও তেমনি নরম মানুষ। আবার চৈত্র মাসের প্রথম রোদ্রে যখন শক্ত হয় বাংলার মাটি, প্রথম রোদ্রে যখন শক্ত হয় বাংলার  মাটি, আমি তেমনি শক্ত হতেও জানি।” 
১৯৭২ সালঃ আজকের এই দিনে বাংলাদেশ বেতারের একশ কিলোওয়াট শর্টওয়েভ ট্রান্সমিটার চালু করা হয়। 
১৭  ডিসেম্বর 
১৯৪৯ সালঃ লাহোরের পথে রওনা দেন শেখ মুজিবুর রহমান আজকের এই দিনে। 
১৯৫৯ সালঃ রাজনৈতিক কর্মকান্ডে পাঁচটি শর্ত জুড়ে দিয়ে জেল থেকে মুক্তি দেয়া হয় শেখ মুজিবুর রহমানকে আজকের এই দিনে। পূর্ব পাকিস্তানের দুর্নীতি দমন আইনের ৫ (ক) ধারায় ১২ অক্টোবর ১৯৫৮ নিবর্তনমূলক আইনে গ্রেফতার হওয়া পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শেখ ‍মুজিবুর রহমান প্রায় ১৪ মাস আগে আটক হন। 
১৯৭২ সালঃ আজকের এই দিনে সংবিধান মোতাবেক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার পুনরায় শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হয় বঙ্গভবনে। 
১৮ ডিসেম্বর 
১৯৭২ সালঃ আজকের এই দিনে বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট উদ্বোধন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। 
১৯৭৪ সালঃ আজকের এই দিনে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে সংযুক্ত আরব আমিরাত যান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আবুধাবি বিমানবন্দরে তাকে উষ্ণ সংবর্ধনা জানান দেশটির রাষ্ট্রপ্রধান শেখ জায়েদ আল নাহিয়ান। 
১৯ ডিসেম্বর 
১৯৭২ সালঃ আজকের এই দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সফল কূটনৈতিক উদ্যোগ বাংলাদেশ ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে সাংস্কৃতিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। 
১৯৭৪ সালঃ আজকের এই দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রপ্রধান শেখ জায়েদ আল নাহিয়ানের মধ্যে শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। 
২০ ডিসেম্বর 
১৯৭২ সালঃ আজকের এই দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানে সফল কূটনৈতিক উদ্যোগে বাংলাদেশ ও বুলগেরিয়ার মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। 
১৯৭৪ সালঃ আজকের এই দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সফল কূটনৈতিক উদ্যোগে স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বাকৃতি প্রদান করে ইউরোপের দেশ পর্তুগাল। 
১৯৭৪ সালঃ সংযুক্ত আরব আমিরাতে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে দেশে ফিরেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আজকের এই দিনে। 
২১ ডিসেম্বর 
১৯৬৭ সালঃ আজকের এই দিনে কারারুদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রধান শেখ মুজিবুর রহমান গুরুতর অসুস্থ হন। 
২২ ডিসেম্বর 
১৯৭১ সালঃ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনকে েএক বার্তায় জুলফিকার আলী ভুট্টো লিখেন, “মুজিবকে দ্রুতই মুক্তি দেয়া হবে।” কলকাতা থেকে মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রীরা ঢাকায় ফিরেন।
১৯৭২ সালঃ আজকের এই দিনে বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতির সম্মানে স্মৃতিস্তম্ভের ফলক উন্মোচনকালে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শহিদদের স্বপ্ন সফল ও আদর্শ বাস্তবায়নের জন্যে দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। 
২৩ ডিসেম্বর 
১৯৫৪ সালঃ আজকের এই দিনে কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন শেখ মুজিবুর রহমান। 
২৪ ডিসেম্বর 
১৯৭২ সালঃ আজকের  এই দিনে গণভবনে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কর্মীদের আয়োজিত অনুষ্ঠানের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশবাসীকে সতর্ক করে বলেন, শকুনেরা এখনো উড়ছে, শত্রুরা ঘুমিয়ে নেই। 
স্বাধীনতা নস্যাৎ করে দেয়ার জন্যে চেষ্ঠা চলছে, সাম্প্রদায়িকতাকে ছড়াবার অপচেষ্টা চলছে। পুঁজিপতি শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চাচ্ছে। চক্রান্তকারী, দৃষ্ঠৃতকারীদের এই খেলাকে ধ্বংস করে দেয়ার জন্য দেশবাসীকে আহ্বান জানান তিনি। 
২৫ ডিসেম্বর 
১৯৭০ সালঃ পাবনা পুলিশ ময়দানে আহমদ রফিকের স্মরণে আয়োজিত শোকসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, তথাকথিত বিপ্লবীদের রাজনৈতিক হত্যাকান্ডের মতো মারাত্মক উস্কানিমূলক তৎপরতা সত্ত্বেও পূর্ণ শান্তি বজায় রাখার জন্য আপনাদেরকে অনুরোধ করছি। 
১৯৭২ সালঃ আজকের এই দিনে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ভিয়েতনামের মাটি থেকে সমস্ত বিদেশি সৈন্য হটানোর দাবি জানান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সশস্ত্র সংঘর্ষের পথ পরিত্যাগ করে শান্তিপূর্ণ নিরাপত্তার পথ অনুসরণ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। 
২৬ ডিসেম্বর 
১৯৭১ সালঃ আজকের এই দিনে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে যাওয়া হয় পশ্চিম পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডির বাইরে সিহালা অতিথি ভবনে। 
২৭ ডিসেম্বর 
১৯৭১ সালঃ বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জাতির পিতা রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি প্রদানের দাবি জানানো হয়। ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর মুক্তির জন্য পাকিস্তান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি। 
তিনি বাংলাদেশের স্থপতি, কাজেই পাকিস্তানের কোনো অধিকার নেই তাকে বন্দি করে রাখার। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে বহু রাষ্ট্রের স্বীকৃতি লাভ করেছে। 
১৯৭১ সালঃ আজকের এই দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে সিহালা অতিথি ভবনে দেখা করতে আসেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলী ভুট্টো। 
২৮ ডিসেম্বর 
১৯৭৪ সালঃ আজকের এই দিনে দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। 
২৯ ডিসেম্বর 
১৯৬৫ সালঃ পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার সওয়াল-জবাব সমাপ্ত। 
৩০ ডিসেম্বর 
১৯৭২ সালঃ আজকের এই দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সফল কূটনৈতিক উদ্যোগে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সাংস্কৃতিক চুক্তি স্বাক্ষরিত। 
৩১ ডিসেম্বর 
১৯৪৯ সালঃ আজকের এই দিনে লাহোরে জনসংযোগ শেষে ঢাকায় ফিরে আসার পর শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। 
বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর
১১ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জারি করেন অস্থায়ী সংবিধান আদেশ। এ পরিপ্রেক্ষিতে ১১ এপ্রিল ১৯৭২ ড. কামাল হোসেনকে প্রধান করে গঠিত হয় ৩৪ সদস্যবিশিষ্ট খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি। ১৭ এপ্রিল ১৯৭২ কমিটির প্রথম বৈঠক বসে। সর্বমোট ৪৭টি বৈঠকের মাধ্যমে প্রণয়ন করা হয় খসড়া সংবিধান। ১১ অক্টোবর ১৯৭২ সালে খসড়া সংবিধানের চূড়ান্ত রূপ গৃহীত। ৪ নভেম্বর ১৯৭২ সালে গণপরিষদ কর্তৃক খসড়া সংবিধান গৃহীত হওয়ার পর ১৪ ডিসেম্বর গণপরিষদের সদস্যরা হস্তলিখিত মূল সংবিধানের বাংলালিপি ও ইংরেজী লিপিতে স্বাক্ষর করেন। ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২ সালে কার্যকর হয় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধান। 



বি. দ্র. আর্টিকেলটির কথাগুলো ফেব্রুয়ারী ২০২১ এর কারেন্ট অ্যাফোয়াসের ৩৯ পৃষ্ঠা থেকে নেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment