পদ্মা বহুমুখী সেতু নিয়ে যত কথা

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ও ব্যয়বহুল সেতু হলো এই পদ্মা সেতু। রেকর্ডময় পদ্মা সেতুর যত রেকর্ড আছে তা নিয়েই আজকের আর্টিকেল। পদ্মা সেতু চালু হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলা রাজধানী ঢাকাসহ অন্যান্য অঞ্চলের সাথে যুক্ত হবে। একই সাথে শিল্পায়নসহ মোংলা ও পায়রা বন্দরের কার্যক্রমে গতি বাড়বে।


পদ্মা বহুমুখী সেতু


স্বপ্নের পদ্মা সেতু বর্তমান পরিস্থিতি 

প্রমত্ত পদ্মার ওপর নির্মাণ হবে একটি সেতু, তার ওপর দিয়ে বাস-ট্রেনে বাড়ি ফিরবে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমের মানুষ এ স্বপ্ন বহুদিনের। ১৯৯৯ সাল থেকে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ বসানো হয় পদ্মা সেতুর প্রথম স্প্যান। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ১০ ডিসেম্বর ২০২০ পদ্মা সেতুর শেষ স্প্যানটি বসে। সংযুক্ত হয় পদ্মার দুই পাড় মুন্সিগঞ্জের মাওয়া এবং শরীয়তপুরের জাজিরা। দৃশ্যমান হয় পদ্মা সেতুর পুরো কাঠামো। সড়ক ও রেলের স্ল্যাব বসানো সম্পন্ন হলে শুরু হবে যানযাহন ও ট্রেন চলাচল। দৃশ্যমান স্বপ্নের পদ্মা সেতুর বর্তমান পরিস্থিতি জানুন আমাদের প্রচ্ছদ আয়োজনে। 


পদ্মা সেতুতে প্রতিবছরে সার্বিক প্রভাব

  • দেশের GDP’র হার বাড়বে ১.২৩% 
  • দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমের GDP বাড়বে ২.৩% 
  • দারিদ্র্য বিমোচনের হার বাড়বে ০.৮৪% 

আরো পড়ুন >> উদ্যোক্তা হওয়ার ১০টি কারণ জেনে নিন।

আরো পড়ুন >> ৩০বছরের আগে যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরী।


রেকর্ডময় পদ্মা সেতুর বর্ননা নিচে দেওয়া হলো। পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি রেকর্ড জন্ম দিয়েছে বাংলাদেশের এই পদ্মা সেতু। পদ্মা সেতুর যে দিকেই তাকানো যায় সেদিকেই কোন না কোন রেকর্ড রয়েছে। যেমন, 

(১) বিশ্বের গভীরতম পাইলের সেতু 

বিশ্বের সবচেয়ে গভীরতম পাইলের সেতু হলো আমাদের এই পদ্মা সেতু। পদ্মা সেতুর খুঁটির নিচে সর্বোচ্চ ১২২ মিটার গভীরে স্টিলের পাইল বসানো হয়। এসব পাইল তিন মিটার ব্যাসার্ধের। বিশ্বে এখন পর্যন্ত কোনো সেতুর জন্য এত গভীরে পাইলিং প্রয়োজন হয়নি এবং এমন মোটা পাইল বসানো হয়নি। 


(২) পদ্মা সেতুর বিয়ারিং 

পদ্মা সেতুতে “ফ্রিকশন পেন্ডুলাম বিয়ারিংয়ের” সক্ষমতা হলো ১০ হাজার টন। এখন পর্যন্ত কোনো সেতুতে এমন সক্ষমতার বিয়ারিং লাগানো হয়নি। পৃথিবীর ইতিহাসে এটিই প্রথম যেখানে সবচেয়ে বেশি সক্ষমতার বিয়ারিং ব্যবহার করা হয়েছে। 


(৩) নদীশাসন এর ক্ষমতা 

পৃথিবীর বহুদেশে নদীশাসনের ইতিহাস আছে। কিন্তু পদ্মা সেতুর নদী শাসনের ইতিহাস পৃথিবীতে এটিই প্রথম। নদীশাসনে চীনের ঠিকাদার সিনোহাইড্রো কর্পোরেশনের সাথে ১১০ কোটি মার্কিন ডলারের চুক্তি হয়। এর আগে নদীশাসনে এককভাবে এতবড় দরপত্র আর হয়নি। 


(৪) পৃথিবীর দীর্ঘতম সেতুর ইতিহাস 

ইন্দো-গাঙ্গেয় সমভূমিতে নির্মিত দ্বিতীয় সেতু পদ্মা। বর্তমানে ইন্দো-গাঙ্গেয় সমভূমি অঞ্চলের দীর্ঘতম সেতু ভারতের আসানের “ভূপেন হাজারিকা সেতু”। ভারতের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের নিয়ে গঠিত ইন্দো-গাঙ্গেয় সমভূমি। 


(৫) ভার্টিক্যাল আরসিসি বোর্ড 

কোনো নির্মাণ কাজে বিশ্বে প্রথমবারের মতো ব্যবহার করা হয় ভার্টিক্যাল আরসিসি বোর্ড পাইলে গ্রাউটিং ইনজেক্ট স্কিন ফিকশন, যা সেতুর দৃঢ়তা বৃদ্ধি করে এবং নদীর তলদেশে বহিঃভাবে শক্তি করে। অপরটি স্টিল টিউবুলার ড্রিভেন পাইলে গ্রাউটিং ইনজেক্ট করে পাইলের তলদেশের স্কিন ফিকশন সক্ষমতা বৃদ্ধি করে। 


(৬) বিশ্বের দীর্ঘতম ট্রাস সেতু 

পদ্মা সেতু পৃথিবীর বা বিশ্বের দীর্ঘতম ট্রাস সেতু। এতদিন ট্রাস-প্রযুক্তিতে নির্মিত দীর্ঘতম সেতু ছিল ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের গোদাবরী সেতু। এ সেতুর স্প্যান সংখ্যা ছিল ২৭ টি। ট্রাস সেতু মূলত ভার বহন করবে বেশি, কিন্তু নির্মাণ উপকরণের ব্যবহার হবে কম। নির্মাণে নেই খুব একটা জটিলতা, নকশাও হবে দৃষ্টিনন্দন। এসব কারণে বিশ্বজুড়েই জনপ্রিয় ট্রাস সেতু। 

আরো পড়ুন >> করোনার ঝুকিতে বাংলাদেশের অর্থনীতি।

আরো পড়ুন >> বাংলাদেশে যে প্রযুক্তিতে তৈরি হচ্ছে পরিবেশবান্ধব ভবন।

পৃথিবীর ইতিহাসে এমন সেতুর রেকর্ড ভাঙতে বেশ খানিকটা সময় লাগবে। যেখানে নদীশাসন নামের একটা বড় বিষয় জড়িত যেটা হয় অ্যামাজান এর উপর সেতু দিতে গেলে পুরো বিশ্ব বুঝতে পারবে যা এখন কল্পনা মাত্র। 

Leave a Comment