গুগল অ্যাডসেন্স এর জন্য আবেদন করার আগে যা করণীয়

গুগল অ্যাডসেন্স এর মাধ্যমে সহজেই আয় করা যায়। বাংলা কনটেন্ট এ গুগল অ্যাডসেন্স এ বর্তমানে সমস্যা হচ্ছে কেন ? গুগল অ্যাডসেন্স এর জন্য আবেদন করার আগে যা করণীয় তা জেনে নিতে হবে। আমাদের আজকের আর্টিকেলের বিষয়গুলো এইগুলোই থাকবে। আসলে আপনি একটা সাইট তৈরি করলে আর তাতে গুগল অ্যাডসেন্স এর জন্য আবেদন করলে কিন্তু কোন কারণে সেটি রিজেক্ট করলে পরবর্তীতে নিজেও বঝতে পারছেন কেন রিজেক্ট করেছে। তাই আপনি যদি আগে থেকে জানেন কি কারণে রিজেক্ট করে আর আবেদন করার আগে কোন কোন বিষয় জেনে আবেদন করতে হবে তবে বিষয়টা অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে আশা করি। 


গুগল অ্যাডসেন্স এর জন্য আবেদন করার আগে যা করণীয়



আরো পড়ুন >> Super Seo Premium Theme Download Link.



বর্তমানে গুগল অ্যাডসেন্স আবেদন করার আগে আপনাকে জানতে হবে কি কি বিষয় মাথায় রেখে বা আপনার সাইটে থাকলে আপনি অনেক দ্রুত অ্যাপ্রুভাল পাবেন। নিচে কি কি বিষয় চেক করে আপনি গুগল অ্যাডসেন্স আবেদন করবেন সেগুলো পয়েন্ট করে দেওয়া হলো।






(১) ব্লগের বয়স কত হওয়া উচিত

আমি প্রথমেই এই বিষয়টা বলছি তার অন্যতম কারণ হলো এই প্রশ্নটা সবার মধ্যেই থাকে যে, ব্লগের বয়ষ কত হলে আবেদন করা উচিত ? কত হলে আবেদন করলে অ্যাপ্রুভাল পাবে এমন কিছু বিষয়। আমি আমার প্রথম ব্লগের কথা যদি বলি তবে বলবো আমি ২ মাস পরে আবেদন করছিলাম। 


আপনি হয়তো বলবেন ভাইয়া আরেকজন তো ডোমেইন কেনার পরপরই আবেদন করেছে সে তো অনেক তাড়াতাড়িই পেয়েছে। আসলে এসব বিষয় আলাদা। কারণ অনেকেই আছেন অনেক দ্রুত পাচ্ছেন আবার অনেকেই আছেন পাচ্ছেন না। এসব বিষয় গুলোকে আমি যদি বলি তবে বলবো অভিজ্ঞতা। আসলে ব্লগের বয়ষ আর ডোমেইনের বয়স আলাদা বিষয়। আপনি একটা পোস্ট করেছেন সেটা ইনডেক্স কিনা সেটাও জানার একটা বিষয়। 


এরকম ইনডেক্স চেক করে কমপক্ষে ১ মাস যদি আপনার ব্লগের বয়স হয় তবে আপনি আবেদন করতে পারেন। হ্যা এর কমেও হয়তো হয় তবে সেগুলোর আলাদা কিছু ইউনিক বৈশিষ্ট্য আছে যেটার জন্য আপনাকে গুগলের পলিসিগুলো ভালোমত জানতে হবে। তবে শেষটাতে এসে বলবো ব্লগের বয়স যত বেশি হবে ততটাই দ্রুত পাবেন। 




(২) ব্লগে পোস্ট এর সংখ্যা কত হওয়া উচিত 

ইদানিং অনেকের ধারণা হয়তো অনেক কম পোস্ট করলেই আবেদন করা যাবে। আপনারা হয়তো রিজেক্ট করার কারণের মধ্যে এমনটা দেখেছেন যে, গুগল অ্যাডসেন্স পলিসি অনুসরণ করা হয় নাই এমন কিছু কথা লিখা আছে। আসলে বিষয় যদি সহজে বলা যায় তবে বলতে হবে যে, আপনি যদি ইউনিক পোস্ট করেন এবং আপনার সাইটের বয়স যদি একটা মিনিমাম সময়ের হয় তবে আপনি অনেক দ্রুতই পাবেন আর যদি আপনার সাইটের বয়স কম থাকে আপনি পোস্ট করেছেন সেগুলোও ইউনিক নয় তবে রিজেক্ট করে দিতে পারে। তবে একটা সাধারণ হিসেব যদি বলা হয় তবে ৩০টা ইনডেক্স পোস্ট হলে আবেদন করা উচিত। 


আমি অনেককেই দেখি মাত্র ১০-১৫ টা  ইউনিক কনটেন্ট এবং ইনডেক্স আর্টিকেল নিয়ে আবেদন করেছে ২৪ ঘন্টার মধ্যেই অপ্রুভাল পেয়েছে। এখন ক্ষেত্র বিশেষে কিছু পার্থক্য থাকতে পারে তবে আপনাকে গুগল অ্যাডসেন্স অপ্রুভাল পাওয়ার জন্য নিয়ম মেনেই আবেদন করতে হবে। 



(৩) ‍গুগল অ্যাডসেন্স এর জন্য ভিজিটর কত আসলে আবেদন করা উচিত

আমি যতটুকু জানি গুগল অ্যাডসেন্স এর জন্য ভিজিটর অনেক বেশি জরুরী না। তবে হ্যা কিছু ইউনিক ভিজিটর আসলে ভালো তবে যদি আপনি বাকি শর্তগুলো না মানেন আর হাজার হাজার ইউনিক ভিজিটর আসে তাহলে আপনি পাবেন না অপ্রুভাল। কিন্তু বাকি শর্ত মানেন আর পোস্ট বা আর্টিকেলগুলোও ইউনিক তাহলে আপনি ভিজিটর সংখ্যা কম হলেও সমস্যা হবে। 


সব সময় মাথায় রাখবেন গুগল অ্যাডসেন্স অপ্রুভালের জন্য ইউনিক বিষয়টা অনেক জরুরী তবে ভিজিটরের সংখ্যাটা তেমন জরুরী বিষয় না। তাহলে আপনি কনটেন্ট এর উপর প্রাধান্য দিন ভিজিটরের চিন্তা মাথা থেকে ফেলে দিন। ভিজিটর কনটেন্ট বাড়লে আপনা-আপনিই বাড়বে বলে আমি নে করি। 



(৪) ওয়েবমাস্টার টুল সাবমিট কিনা চেক করুন 

Webmaster Tools অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ গুগলে পোস্ট ইনডেক্স হওয়ার জন্য গুগল ওয়েব মাস্টার টুলস অনেক জরুরী। আপনি চেক করে নিবেন এখানে আপনার ডোমেইন বা আপনার ওয়েবসাইটটা সাবমিট করা আছে কিনা। আমি এটা নিয়ে আর বেশি কিছু বলছি না কিভাবে সাবমিট করতে হবে সেটি আপনি ইউটিউব থেকে দেখে নিতে পারেন। আমি শুধুমাত্র কোন কোন বিষয় লক্ষ্য রাখবেন আবেদন করার আগে সেটা বলছি। 



(৫) কত শব্দের আর্টিকেল হওয়া জরুরী সাইটে 

সাধারণত গুগলে পোস্ট বা আর্টিকেল ইনডেক্স হওয়ার জন্য ৩০০ এর বেশি বা ৫০০ এর বেশি শব্দ প্রয়োজন। এখন প্রশ্ন হলো যদি ৩০০ শব্দ যুক্ত আর্টিকেল ইনডেক্স হয় তাহলে কেন ১০০০ শব্দ ব্যবহার করবো বা ২০০০ শব্দ ব্যবহার করবো। হ্যা বিষয়টা আসলে একটু বুঝিয়ে যদি বলি তবে বলতে হবে যে, আপনি যদি একজন ভিজিটরকে আপনার সাইটে ভিজিটর হিসেবে ধরে রাখতে চান তাহলে তাকে মিনিমাম কিছু সময় আপনার সাইটে রাখতে হবে তাছাড়া বাউন্স রেট বেড়ে যাবে যদিও আবেদনের আগে জরুরী না বাউন্স রেট কমানো। তারপরেও ভিজিটর আসলে তাকে তো কনটেন্ট দিয়ে রাখতে হবে সাইটে আর এই জন্যই আপনি বেশি শব্দের আর্টিকেল লিখতে হবে। 


সাধারণত ছোট ছোট পোস্টগুলোতে ভিজিটর আসলেও তা গুগল কাউন্ট করে না কারণ একজন ভিজিটরকে কিছু সময় হলেও আপনার সাইটে ধরে রাখার মত কনটেন্ট থাকতে হবে। 



(৬) ব্লগের ডিজাইন কেমন হওয়া উচিত 

সাইট বা ব্লগের স্পিড যেন ভালো থাকে আর ভিজিটর যেন আকৃষ্ট হয় এমন সাইট হলে ভালো হয়। আর ভিজিটর পছন্দ ও স্পিড ভালো রাখার জন্য অবশ্যই আপনি প্রিমিয়াম থিম ব্যবহার করবেন। কারণ একটা সাইট তৈরি করবেন তা থেকে আয় করবেন আর শুরুতে কিছু খরচ করবেন না তা তো হয় না। হ্যা নরমাল দিয়েও হয় আর পরে তাতে সমস্যাও হয় সেটার জন্য আমার পরামর্শ হলো আপনি প্রিমিয়াম থিম ব্যবহার করুন আর ডিজাইনটা একটু ভালো মানের করুন। ্আবেদনের আগে সাইটের স্পিড চেক করে নিতে পারেন ভালো স্পিড সাধারণত প্রিমিয়াম থিম ছাড়া হয় না। যদি কিছু বা অল্প পোস্ট এ হতে পারে তবে পোস্ট ও শব্দ সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে কমতে থাকে। 



(৭) কি ধরনের ডোমেইন ব্যবহার করা ভালো 

এক কথায় যদি উত্তর দেই তবে বলবো .com ব্যবহার করেন। আবার আপনি যে কোন ধরনের মাস্টার ডোমেইন ও হাইলেবেন ডোমেইনই ব্যবহার করতে পারবেন। তবে ফ্রি ডোমেইন থেকে বিরত থাকুন। আমি বলবো একটা সাইট থেকে যদি আপনি আয় করতে চান তাহলে অবশ্যই কিছু টাকা খরচ করে সাইট বানান তাহলে অনেক ভালো করতে পারবেন আশা করি। 


যদিও অনেকেই ফ্রি ডোমেইন দিয়েও পেয়েছে তবে আমি ফ্রি ডোমেইন দিয়ে পাওয়াটাকে সফলতা মনে করি না কারণ যদি ফ্রি ডোমেইন দিয়ে অনেক ভালো আয় করা যেতো তাহলে বড় বড় যারা সাইট তৈরি করেন আর মাসে অনেক ভালো আয় করেন তারা এত বেশি খরচ করতো না। অবশ্যই কোন না কোন বিষয় তো আছে যেটা আপনি এখন হয়তো বুঝতেছেন না তবে অবশ্যই মিনিমাম কিছু খরচ করার মানসিকতা রাখুন। 







(৮) ব্লগার নাকি ওয়ার্ডপ্রেস কোনটা ভালো গুগল অ্যাডসেন্স এর জন্য

কোনটা ভালো তার চাইতে কনটেন্ট এর উপর নজর দিন। আসলে আমার মত ওয়ার্ডপ্রেস বেস্ট হবে তবে আমি যতটুকু জানি যারা অ্যাডসেন্স নিয়ে কাজ করে তারা বেশিরভাগই খরচ করতে চায় না। তাহলে বিষয়টা দেখুন আপনি খরচই করতে চান না সেখানে ওয়ার্ড ভালো না ব্লগার ভালো সেটা তো না দেখলেও চলবো। কেন বললাম তার কারণ হলো হলো ব্লগার ফ্রিতে হোস্টিং দেয় বিধায় অনেক নিয়ম মেনে চলার পর আবেদন করতে হবে অপরপক্ষে ওয়ার্ড হোস্টিং কিনতে হয় বিধায় স্পিড মোটামুটি ভালো থাকে তারজন ব্লগারের মত নিয়ম এতটা বেশি মানতে হয়। 


যদিও নিয়ম বা পলিসি দুটোর জন্যই জরুরী তারপরেও কিছুটা কমবেশি তো থাকবেই। তবে আপনি নতুন হলে আনাকে বলবো .com একটা ডোমেইন আর প্রিমিয়াম একটা থিম দিয়ে চেষ্টা করেন। 








(৯) অন্যন্যা কিছু বিষয় 

Blogsport.com ফ্রি হলেও অ্যাডসেন্স পাওয়া যেতো কিন্তু বর্তমানে যায় কিনা আমার জানা নাই। আমি যতটুকু মনে করি এখন আর যায় না। Home, Contact, Privacy এসব পেজগুলো চেক করে নেবেন আবেদন করার আগে। সেটিং থেকে কিছু বিষয় চেক করে নেবেন। আসলে আগে এতটা চেক করার দরকার পড়তো না কিন্তু দিন যত বাড়তেছে গুগল অ্যাডসেন্স অপ্রুভাল ততটাই কঠিন হয়ে যাচ্ছে। 









ব্লগ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন ও তার উত্তরঃ

প্রশ্নঃ আমার নিউজ সাইটের বয়স মাস এবং পোস্ট শব্দ সংখ্যা অনেক তারপরেও গুগল অ্যাডসেন্স পাচ্ছি না কেন ?


উত্তরঃ এই প্রশ্নটার উত্তর সবচেয়ে ভালোভাবে গুগল দিতে পারবে। তবে গুগল তো তাদেরকে রিপ্লাইও দেয় না তাই তাদের প্রশ্নগুলোর একটু অভিজ্ঞতা থেকে ব্যাখ্যা করা যাক। নিচের কয়েকটি বিষয় লক্ষ্য করুন,

() নিউজের পিকচারগুলো কি ইউনিক বা কপিরাইট ফ্রি ?

() নিউজের শব্দগুলো কি ইউনিক বা কপিরাইট ফ্রি ?

() প্রত্যেকটা আর্টিকেলে শব্দ সংখ্যা কি ৫০০+ হবে ?

() ট্রাফিক কি ইউনিক নাকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ?

() থিম কি প্রিমিয়াম বা সাইটের স্পিড কি ভালো ?

এসব প্রশ্নে উত্তর যদি আপনি নিজেই নিজেকে করেন তাহলে বিষয়য়টা আমার থেকে ভালো বুঝবেন। কারণ আমাকে যদি আপনি আপনার সাইটের লিংক দেন তখন আরও বেশ কয়েকজনও কিছু সমস্যার প্রশ্ন করে থাকে। নিয়ম অনুসারেই আপমি সেগুলোর উত্তর দিতে গেলে আপনার এই বিষয়গুলো আমি এতটা ভালো বুঝতে পারি না যতটা আপনি নিজে বুঝবেন। যদিও আমি আমার কথা বললাম যারা এই ধরনের প্রশ্ন যাদেরকেই করেন তাদের সকলের ব্যাখ্যাটা প্রায় একই রকমই হওয়ার কথা আশা করি। তাপরেও আমি বলবো গুগল আগের থেকে এখন সাইটগুলো ভালো মতো চেক করে থাকে কোন সমস্যা হলে সেটি ঠিক করে তারপর অপ্রুভভাল দেয়। এর সমাধান কি হতে পারে সেটা আরেকটা বিষয় তবে এই সকল কারণেই সাধারণত দেয় না আমার কাছে যতটুকু মনে হয়। ভিন্ন মতামত অবশ্যই গ্রহণযোগ্য। 

Leave a Comment