কিভাবে ব্লগিং করে অনলাইনে আয় করা যায়

কিভাবে ব্লগিং করে অনলাইনে আয় করা যায়

 

কিভাবে ব্লগিং করে গুগল অ্যাডসেন্স এর মাধ্যমে অনলাইনে আয় করা যায় এবং অনলাইনে আয় করার জন্য ব্লগিং একটা মাধ্যমে হিসেবে কাজ করে। সেসব বিষয়ে আলোচনা করা হবে আজকের আর্টিকেলে।

 

 

কিভাবে ব্লগিং করে অনলাইনে আয় করা যায়

 

অনলাইনে আয় করার জন্য অনেক জনপ্রিয় মাধ্যম রয়েছে। ব্লগিং তার মধ্যে অন্যতম একটি জনপ্রিয় মাধ্যম অনলাইনে আয় করার জন্য। একজন প্রফেশনাল ব্লগার অনলাইন থেকে প্রতিমাসে ৫০ থেকে ৮০ হাজার টাকা আয় করে থাকে। ব্লগিং থেকে আয় করাকে প্যাসিফ আর্নিং সোর্স বলা হয়। 

 

বর্তমান সময়ে অনলাইনে আয় করার জন্য ব্লগিং অনেক জনপ্রিয় একটি মাধ্যম। আপনি একজন ব্লগার হিসেবে নিজেকে অনলাইন জগতে পরিচয় করিয়ে দিয়ে ব্লগিং করেও প্রতিমাসে নির্দিষ্ট পরিমাণে অনলাইন থেকে আয় করে নিতে পারেন।

 

আজকের আর্টিকেলে আমি ব্লগিং থেকে কিভাবে আয় করতে পারবেন সে সমস্ত বিষয় গুলো আলোচনা করার চেষ্টা করব। আশা করব ব্লগিং সম্পর্কে আপনার কোন ধারনাই পাল্টে যাবে পূর্বের ধারণা থেকে। 

 

এবং ব্লগিং করে প্রতিমাসে নির্দিষ্ট পরিমাণে আয় করা যায় সে সম্পর্কে পরিপূর্ণ একটি ধারণা দিতে পারবেন। এজন্য আমি স্টেপ বাই স্টেপ আলোচনা করার চেষ্টা করব। 

 

 

 

প্রথমেই আসি ব্লগিং কি ?

 

 

কোন একটি বিষয় নিয়ে আপনি আপনার মন্তব্য গুগল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করার নামই হল ব্লগিং। আরো সহজ ভাষায় যদি বলতে হয় একটা নির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে আপনি আপনার মন্তব্য অনলাইনে প্রকাশ করবেন। এবং আপনি আপনার মন্তব্যটি পুরা পৃথিবী কে দেখাবেন অনলাইনের মাধ্যমে হয়ে থাকে এটিই মূলত ব্লগিং। 

 

এখন প্রশ্ন আসে কি নিয়ে ব্লগিং এবং আমার মন্তব্যটি কি সম্পর্ক হবে ?

 

ধরুন আপনি একটি সাইটের জন্য কাজ করবেন। আপনি আপনার এলাকার প্রতিদিনের নিউজ গুলো সেই সাইটে আপলোড করবেন এটিও একপ্রকার ব্লগে। আবার আপনি আপনার এলাকার বিভিন্ন বিষয়গুলো পুরা পৃথিবীর মানুষের কাছে উপস্থাপন করবেন। 

 

 

 

এই জন্য একটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আপনি আপনার এলাকার তথ্যগুলো প্রকাশ করলেন। কোথায় কি পাওয়া যায় এবং আপনার এলাকার জন্য সুবিধা কি কি বিষয় আছে অসুবিধার কি কি বিষয় আছে সে সমস্ত বিষয় গুলো আপনি আপনার ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রকাশ করলেন।

 

 

 

এই প্রকাশ করা ওয়েবসাইট অনলাইনে লাইভ থাকার কারণে পুরা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ গুলো সেই লেখাগুলো পড়তে পারে। এবং তারা অনেক কম সময়ের মাধ্যমে আপনার এলাকা সম্পর্কে একটি ভালো ধারণা নিতে হবে। আপনি এরকম একটা সাইট নিয়ে ব্লগিং করতে পারবেন।

 

 

আবার ধরুন আপনি বিভিন্ন পণ্য কেনেন। সে সমস্ত পণ্য সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণে আপনি আপনার ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রকাশ করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে বিভিন্ন মানুষ এই পণ্যটি কেনার আগে আপনার রিভিউটি দেখে নিয়ে সেটা কিনতে পারে। 

 

 

এক্ষেত্রে আপনি সেই প্রোডাক্ট নির্বাচনের জন্য প্রোডাক্ট কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করে সেটিং করে ওয়াই করে নিতে পারেন। অনলাইনে আয় এর জগতে ব্লগিংয়ের মাধ্যমে ফ্লির্টিং করা অনেক সহজ এবং জনপ্রিয় একটি অনলাইনে আয় করার মাধ্যম।

 

 

নিচে আমি কিছু পদ্ধতি বলার চেষ্টা করব যেভাবে আপনি আপনার ব্লগিং ক্যারিয়ার তৈরি করে নিতে পারেন।

 

 

১.  প্রথম ধাপঃ

প্রথমে আপনার নিজের একটি ডোমেইন এবং হোস্টিং প্যানেল থাকতে হবে। ডোমেইন নির্বাচনের ক্ষেত্রে আপনি কি ধরনের ব্লগিং করতে চান সে ধরনের একটি ডোমেইন কিনে নিতে পারেন। ধরুন আপনি প্রোডাক্ট রিভিউ করবেন। 

 

 

তাহলে আপনি সে ধরনের একটি ডোমেইন কিনে নিয়ে কাজ শুরু করতে পারেন। এরপর আপনাকে একটি ভালো মানের হোস্টিং কোম্পানি থেকে অবস্থান নিতে হবে। ডোমেইন এবং হোস্টিং এর মাধ্যমে আপনি একটি ব্লগ ওয়েবসাইট তৈরী করে নিতে পারেন।

 

 

 

২.  দ্বিতীয় ধাপঃ

ওয়েবসাইট চাইলে আপনি নিজেই তৈরি করে নিতে পারেন অথবা ফ্রিল্যান্সারের মাধ্যমে তৈরি করে নিতে পারবেন। বর্তমান সময়ে বিভিন্ন অনলাইন গ্রুপ এবং বিভিন্ন অনলাইন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এ ধরনের কাজগুলো করে দেওয়া হয়। 

 

 

আবার আপনি বিভিন্ন গ্রুপের মাধ্যমে প্রশ্ন করেও এ সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারণা নিতে পারেন। ইউটিউবে সার্চ করলে বা ব্লগিং টিউটোরিয়াল লিখেছে আপনি অনেক সহজে ব্লগিং সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারণা নিতে পারবেন। 

 

 

কিভাবে ডোমেইন এবং হোস্টিং নিয়ে কাজ করতে হয় এবং পরিপূর্ণ ভাবে একটি ওয়েবসাইট পাবলিশ করতে হয় সে সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারণা আপনি ইউটিউব চ্যানেল থেকে নিতে পারেন।

 

আরো পড়ুন >> গুগোল অ্যাডসেন্সে গুগল এনালাইটিক্স এর কি কি সুবিধা

আরো পড়ুন >> Google Adsense এ CPC, CTR, RPM কি

 

৩.  তৃতীয় ধাপঃ

ডোমেইন এবং হোস্টিং করার পর আপনাকে অবশ্যই একটি ভালো মানের থিম নির্বাচন করতে হবে। আপনি প্রোডাক্ট রিভিউ নিয়ে ব্লগিং করলে সে ধরনের ডেভলপারের কাছে বললে তিনি আপনাকে সাজেস্ট করবে। 

 

 

অবশ্যই আপনি প্রিমিয়াম থিম কিনে নিয়ে ব্লগিং করবেন সে ক্ষেত্রে  ঝুঁকি কম থাকবে। একটি ভাল মানের থিম কয়েক হাজার টাকা দিতে পারে। তারপর আপনি আপনার ওয়েবসাইটটিকে কাস্টমাইজ করে নিতে পারেন। জেনি নিজেও কাজটি করতে পারবেন অনলাইনে বিভিন্ন টিউটোরিয়াল দেখে দেখে।

 

অথবা কিছু টাকা ফ্রিল্যান্সারকে দিয়ে আপনি আপনার কাজটি করে নিতে পারেন। সবচেয়ে ভালো উপায় হলো কোনো প্রফেশনাল ফ্রিল্যান্সারকে দিয়ে কাজটি করে নেওয়া।

 

 

 

৪.  চতুর্থ ধাপঃ

উপরের নিয়ম গুলো যদি পড়ে থাকেন তাহলে আপনার একটি ডোমেইন এবং একটি ওয়েবসাইট রয়েছে। এখন আপনি বিভিন্ন প্রোডাক্ট নির্বাচন করবেন যেগুলো আপনি দিয়ে কিছু কনটেন্ট পাবলিশ করতে পারবেন আপনার ওয়েবসাইটে।

 

 

প্রোডাক্ট এবং বিভিন্ন পণ্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রথমে আপনাকে অবশ্যই মানুষের প্রয়োজন বেশি এমন কোনো নির্বাচন করবেন। এবং সেগুলো গুগলের সার্চ করে কিনা বা বিভিন্ন মানুষ এগুলো নিয়মিত কিনে কিনা সে সম্পর্কে একটি পরিপূর্ণ ধারণা নিয়ে এই কাজটি শুরু করে দিতে পারেন।

 

 

আশা করব ব্লগিং সম্পর্কে পরিপূর্ণ একটি ধারণা পেয়েছেন। আর্টিকেল কে যদি ভালো লাগে তবে আপনি আপনার মন্তব্যটি কমেন্ট করে জানাতে পারেন। 

 

 

এছাড়া বিভিন্ন মন্তব্য থাকলে আপনি কমেন্ট করে আমাদেরকে জানালে সময় করে সেগুলোর উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। এছাড়াও আরো কিছু বিষয় যদি আর্টিকেল লেখার প্রয়োজন অনুভব করেন তবে আমাদেরকে অবশ্যই জানাবেন আমরা পরবর্তীতে সে সমস্ত বিষয় গুলো নিয়ে আর্টিকেল লেখার চেষ্টা করব।

 

 

আপনাকে অনেক ধন্যবাদ মূল্যবান সময় নিয়ে আর্টিকেলটি পড়ার জন্য।

 

Leave a Comment