করোনা পরবর্তী শিক্ষাব্যবস্থা পাঠ ৩

করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ খাতগুলোর মধ্যে শিক্ষাখাত অন্যতম। করোনা পরবর্তীতে শিক্ষাব্যবস্থার কি হবে সে সকল বিষয় নিয়ে এবারের পাঠ-৩ আলোচনা করবো। 


করোনা পরবর্তী শিক্ষাব্যবস্থা পাঠ ৩


আরো পড়ুন >> করোনা পরবর্তী শিক্ষাব্যবস্থা পাঠ ১


আরো পড়ুন >> করোনা পরবর্তী শিক্ষাব্যবস্থা পাঠ ২


আরো পড়ুন >> করোনা পরবর্তী শিক্ষাব্যবস্থা পাঠ ৩


উপরের দুইটা পাঠ পড়লেই বুঝতে পারবেন আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি ও অবনতিসহ আরও অনেক গুলো বিষয়। তবে বলতেই হয় করোনায় অনেক কিছুই ব্যপক পরিবর্তন হয়েছে তবে শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন হয়েছে সবচেয়ে বেশি। যার উদাহারণ আমি আমার আর্টিকেলটিতে প্রকাশ করার চেষ্টা করেছি। আর আজকের আর্টিকেলে আমি চেষ্টা করবো আরও কিছূ তথ্য দেওয়া যা আপনাকে সামনের শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে একটা ধারণা দেবে। 


ইন্টারনেট নির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা


বর্তমানে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইনের মাধ্যমে তাদের পড়াশোনার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আর গবেষকরা অনেকটাই ধারণা করছেন যে, আগামী দিনে করোনার পরবর্তীতেও এই ইন্টারনেট বা অনলাইন নির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার ব্যপক প্রচলন ঘটবে। কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে যে, আমাদের দেশে অনলাইনের সুবিধা বা অসুবিধা নিয়ে এর আগে এতটা বেশি আলোচনা বা সমালোচনা তৈরি হয় নাই যা বর্তমানে হচ্ছে। তবে করোনাকালীন এক মাস অন্য সময়ের এক বছরের সমান কাজ করেছে অনলাইনের অগ্রগতিতে। 


অন্যন্যা সময় আমরা এতটা বেশি অনলাইনের উপর নির্ভর করি না যতটা বর্তমানে করছি। আর এই অভ্যাসটা হয়তো করোনার পরবর্তীতেও থেকে যাবে বলেই মনে করা হচ্ছে। বর্তমানে ইন্টারনেট ছাড়া কোন কিছু ভাবাই যায় না। এমনকি আপনি দৈনিক বাজার করা থেকে শুরু করে সকল ধরনের কাজই বর্তমানে ইন্টারনেটের উপর নির্ভর করে করতে হয়। আর শিক্ষাব্যবস্থায় আগে এতটা বেশি ব্যবহার করা হতো না যা বর্তমানে করোনা ভাইরাসের কারণে হয়েছে। অনেক বিদ্যালয়ে বা কলেজে মোবাইল ফোন ব্যবহার করা নিশেধ ছিল যা বর্তমানে নেই। আমার মনে হয় সামনে শিক্ষাব্যবস্থায় এই ধরনের ডিভাইসের মধ্যে একটা পরিবর্তন করে সেটাকে অনুমতি দেওয়া হলেও হতে পারে। কারণ ইন্টারনেট চাকদিকে ছড়িয়ে পড়লে জ্ঞানের একটা নির্দিষ্ট অংশ আহরণ করতে সুবিধা হবে যা অনেক সময় ইন্টারনেট ছাড়া সম্ভব নয়। 



শিক্ষাব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়বে

বর্তমান দেখে যেটা বোঝা যাচ্ছে আগের চাইতে সামনে শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যপক পরিমাণে প্রযুক্তির ব্যবহার হবে। যেমন, অনেক বিদ্যালয় বা কলেজ স্যারদের লেকচারগুলো সংরক্ষন করে রাখবে বা যাদের লেকচার আছে শিক্ষক না থাকার সময় সেটা দিয়েই কাজ চালিয়ে নেবে। সেক্ষেত্রে গবেষকরা একটা বিষয় ভাবতেই পারেন তা হলো শিক্ষক শ্রেণির হয়তো সামনে কিছু কষ্ট হবে। কারণ আপনি প্রতিদিন একই লেকচার না দিয়ে একটা অধ্যায়ের জন্য একটা দিয়ে বাকি ক্লাস বা সেকশানগুলোতে সেটা দেখালেই হয়ে যাবে। আবার সমাধানের জন্য সলভ ক্লাসের ব্যবস্থা করলেই হয়ে যাবে। যদিও বিষয়টা অনেক গভীরভাবে ভাবলে আমাদের দেশের আলোকে এই পদ্ধতি আসতে হয়তো এখনও অনেকটা দেরি তবে বড় বড় স্কুল বা কলেজ গুলো এই পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারে। 


কারণ তাদের একাডেমিক ব্যয়গুলো কমানোর চেষ্টা করবে হয়তো সামনের দিকে। আর এই একাডেমিক ব্যয় কমানোর অন্যতম একটা উপায় হতে পারে শিক্ষকদের বেতন কমানো বা তাদের সংখ্যা কমানো। এখন যদিও খাতায় নাম ডাকা হয় এই করোনার কারণে এই প্রচলনটা উঠে গেছে বললেই চলে। আর অনলাইন নির্ভর হওয়াতে শুধু অনলাইনে তার উপস্থিতি থাকলেই হবে। অনেক স্কুল ও কলেজ স্কুলের জন্য সপ্টওয়্যার বা ওয়েবসাইট তৈরি করে ফেলেছে বর্তমানে বা অনেকেই আছেন যারা প্রসেসিং করার মধ্যে রয়েছেন এসব কাজ করার ক্ষেত্রে। আসলে প্রযুক্তির ব্যবহার আমাদেরকে অনেকটাই ডাটা নির্ভর করে ফেলবে। তবে সুবিধার দিকটা বিবেচনা করেই করা হবে এসব বিষয়। কারণ এখন একটা স্টুডেন্ট এর একাডেমিক বিষয় দেখার জন্য ফাইল দেখতে হয় আর ডাটা নির্ভর হলে শুধু আইডি দিয়ে সার্চ করলেই পাওয়া যাবে। 



মধ্যবিত্তদের পড়াশোনার বাধা

আমাদের দেশের সকল পরিবার উন্নত নয়। বেশিভাগই মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ।আর এই মধ্যবিত্তরা অনেক সময় এবং প্রযুক্তির ছোয়া হয়তো সেভাবে নেবে না যেভাবে আমাদের উন্নত পরিবারের সদস্যগুলো নেবে। বর্তমানে শহর ছাড়া অনলাইনের বিষয়টা গ্রামে বোঝানোটা অনেকটাই কঠিন যদিও শহরের মধ্যে মধ্যবিত্তরা করার সুযোগ পাচ্ছে। তবে গ্রামের দিকে তাকালে দেখা যাবে শতকরা ৫% হওয়াটাও অনেক কঠিন হবে। 



সেক্ষেত্রে বলাই যায়, প্রযুক্তির একটা বড় অংশ যেমন সুবিধা পাবে তেমনি একটা বড় অংশ সমস্যায় পড়বে সামনে। আর এই সমস্যায় পড়ার মধ্যে মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষগুলো অন্যতম। আসলে একটা সমস্যা থেকে মুক্ত হতে গেলে আরেকটা সমস্যা অটো তৈরি হয়ে যায়। আমাদের উচিত সুবিধা ও অসুবিধাগুলো বিশেষভাবে বিবেচনা করে এর মধ্যে যেটা ভালো সেটা করা। বর্তমানে অনলাইনের প্রচলনটা অনেকটাই বেশি প্রভাবিত করেছে আমাদের দেশের ছাত্র-ছাত্রীদেরকে আর এই প্রভাবটাকে কাজে লাগিয়ে এর সাথে সাথে অন্যন্যা সুবিধা দিয়ে শিক্ষা ক্ষেত্রটাকে ডিজিটালাইজ করার জন্য একটা বড় সুযোগ হলেও হতে পারে বর্তমান সময়টা। যদিও সরকার বা বিত্তশালীদের উচিত মধ্যবিত্ত শ্রেণির দিকে তাকিয়ে পুরোটা না করে আংশিক করা। অথবা মধ্যবিত্তরাও যেন এর আওতায় আসতে পারে সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়াটাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। 




মেধাবীদের মেধার বিকাশ রোধ

অনেক গবেষকরা মনে করেন স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীরা গেলে তাদের মেধা বিকাশ ঘটে। যেটা বাসায় থেকে পড়াশোনা করলে অনেক সময় হয়ে উঠে না। আর এই দিকটা বিশেষ বিবেচনা করলে দেখা যাবে যে, আগে যে হারে মেধাবী তৈরি হতো বর্তমানে সেই হারে মেধাবী তৈরি হচ্ছে না। আর এই বিষয়টা আমাদের মধ্যে যারা এক্সপার্ট আছেন তারা ভালো করে বিচার বিশ্লেষণ করতে পারবেন। গ্রাম থেকে উঠে আসতো মেধাবী আর তাদের আর্থিক অবস্থা বেশিরভাগেরই খারাপ থাকতো যা শিক্ষাব্যবস্থা ডিজিটালাইজ করা হলে অনেকটাই কমে যাবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। 


আরো পড়ুন >> PDF চাকরীর সহ বিভিন্ন বই ডাউনলোড করার জন্য আর্টিকেলটি পড়ুন।

আরো পড়ুন >> ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কে জানতে আর্টিকেলটি পড়ুন।


আরো পড়ুন >> ব্লগার বিষয়ে জানতে আর্টিকেলটি পড়ুন।



মেধার বিকাশের জন্য পুথিগত বিদ্যার পাশাপাশি আশপাশের বিদ্যা বা জ্ঞান লাভ করা অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেটা অনলাইন নির্ভর পড়াশোনার মাধ্যমে হয়ে উঠে না। দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে এখন যদিও অনলাইনেই চলছে পাঠদান তারপরেও অনেক বড় একটা অংশ বাদ পড়ে যাচ্ছে কাংখিত শিক্ষা থেকে। হয়তো এসব শিক্ষার্থীর খবর সরকার বা যথাযথ কতৃপক্ষের নিকট পৌছাবে না। আসলে মেধাবী তৈরির জন্য আমাদের পুথিগত বিদ্যার পাশাপাশি হাতে কলমে বিদ্যার অনেক বেশি ‍গুরুত্ব দিতে হবে। আর এই হাতে কলমে বিদ্যার গুরুত্ব দিতে হলে আমাদেরকে অবশ্যই এমন কিছু পরিকল্পা তৈরি করতে হবে যেটা আমাদের সকলের জন্য গ্রহণযোগ্য যেন হয় সেই বিষয়টা নিশ্চিত করতে হবে। হয়তো শতকরা ১০০% হবে না তারপরেও যতটুকু সম্ভব ততটুকুই করা উচিত। 



হাতে-কলমের শিক্ষার প্রসার কম হওয়া

এটাই স্বাভাবিক অনলাইনে তো আমাদের ভারচুয়্যাল কমিউনিকেশান হয়ে থাকে এখানে স্বশরীরে তো দেখার কোন সুযোগ নেই। বিদ্যালয়ে গেলে যেমন হাতে কলমে শিক্ষার একটা বড় অংশ কাজ করানো যায় সেটা আর অনলাইন নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থায় সম্ভব নয়। বাইরর দেশের কথা বিবেচনা করে চললে আমাদের আসলে অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। যেমন, বাইরের যেসব দেশকে আমরা অনুসরণ করবো সেসব দেশের শিক্ষাব্যবস্থা এতটাই উন্নত যে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা সেদিকে যেতে আরো অনেকটা সময় পার করতে হবে। কারণ তাদের দেশটা উন্নত। 


আমাদের দেশের যেখানে শিক্ষকরা তাদের বেতন ও গ্রেড নিয়ে আন্দোলন করে সেখানে অন্য দেশের শিক্ষকদের বা শিক্ষাব্যবস্থার সাথে তুলনা করলে আমাদের চলবে না। সেখানে মেধার অনেক বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। আমাদেশের দেশেদ যেমন মেধাবীরা আর্থিক সহযোগীতা খোজে সেখানে আর্থিক সহযোগীতা করা প্রতিষ্ঠান মেধাবীদেরকে খোজ করে। আসলে মেধার বিকাশ ঘটানোর জন্য এমন কিছু পরিকল্পনা করা উচিত যেখানে দেশের মেধাবীরা অনেক বেশি সম্মান পাবে এবং তাদেরকে দেখে দেখে আরও অনেক লাখো মেধাবী তৈরি হবে। 


আরো পড়ুন >> ৯ম ও ১০ম শ্রেণির গণিতের হ্যান্ড নোট পেতে লিংকটি দেখুন।


আরো পড়ুন >> ৯ম ও ১০ম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞানের হ্যান্ড নোটগুলো পেতে পড়ুন।


আরো পড়ুন >> ৯ম ও ১০ম শ্রেণির উচ্চতর গণিতের হ্যান্ড নোটগুলো পেতে আর্টিকেলটি দেখুন।


আশা করি উপরের আর্টিকেলটি আপনাদের কাছে অনেক ভালো লাগবে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে করোনার পরবর্তী শিক্ষাব্যবস্থা কেমন হবে তার কিছুটা ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে এখানে।

Leave a Comment