ওয়েবসাইট (Website) থাকার সুবিধা ও কিভাবে নিজের একটি ওয়েব সাইট বানানো যায়

একটা ওয়েবসাইট থাকার অনেক সুবিধা আছে আমি নিচে কিছু সুবিধা নিয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করবো। ওয়েবসাইটের সুবিধা জানার আগে আসুন ওযেব সাইট সম্পর্কে একটু জেনে নেই। আর ওয়েব সাইট কত প্রকার ও কি কি এসব বিষয়টাও একটু জেনে তারপর ওয়েব সাইটের সুবিধা নিয়ে আলোচনা করা যাক।

ওযেবসাইট এর সুবিধা


ওযেবসাইট (Website) কি ?

ওয়েবসাইট (Website) হলো একটি প্রতিষ্ঠানের অনলাইনের ঠিকানা। যেখানে সেই প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় তথ্য যা সকলেই ইন্টারনেট ব্যবহার করে দেখতে পারেন। বিস্তারিত জানার জন্য Click here এখানে ক্লিক করে আটিকেলটি পড়তে পারেন।

ওযেবসাইট (Website) কত প্রকার ও কি কি ?

ওযেবসাইট (Website) সাধারনত প্রকার। যথাঃ

(ক) স্ট্যাটিক ওযেবসাইট (Static Website)

(খ) ডাইনামিক ওয়েবসাইট (Dynamic Website)

স্ট্যাটিক ওযেবসাইট (Static Website) কি ?

যে সকল ওয়েবসাইট ডেটার ওযেবপেইজ প্রদর্শন করার পর পরিবর্তন করা যায় না তাকে স্ট্যাটিক ওযেবসাইট (Static Website) বলে। স্ট্যাটিক ওযেবসাইট (Static Website) তৈরীর করার জন্য স্ক্রিপ্টিং ভাষা ব্যবহার করা হয় না। HTML, CSS, JavaScript দিয়েই স্ট্যাটিক ওযেবসাইট (Static Website) তৈরি করা যায়।

স্ট্যাটিক ওযেবসাইট (Static Website) কি ?


ডাইনামিক ওয়েবসাইট (Dynamic Website) কি

যে সকল ওয়েবসাইটের তথ্যগুলো যে কোন সময় পরিবর্তন করা যায় প্রয়োজনমত তাকে ডাইনামিক ওয়েবসাইট (Dynamic Website) বলে। ডাইনামিক ওয়েবসাইট (Dynamic Website) তৈরি করার জন্য স্ক্রিপ্টিং ভাষা যেমন, PHP, ASP, Python ব্যবহার করা হয়। আর ওয়েব পেজটি ডিজাইন করার জন্য HTML, CSS, JS সহ আরও কিছু ভাষা ব্যবহার করা হয়। ডাইনামিক ওয়েবসাইট (Dynamic Website) এ ডেটাবেজের জন্য (SQL/MYSQL) সার্ভার ভাষারও প্রয়োজন পড়ে যা স্ট্যাটিক ওযেবসাইট (Static Website) প্রয়োজন পড়ে না।

এছাড়ও আরও কিছু প্রকারে ভাগ করা যায় ওয়েবসাইটকে। যেমন,

(+) আর্কাইভ সাইটঃ তথ্য সংগ্রহ করার জন্য।

(+) ই-কমার্স সাইটঃ পণ্য কেনা-বেচার জন্য।

(+) নিউজ সাইটঃ খবর পড়ার জন্য।

(+) ব্লগ সাইটঃ আর্টিকেল পড়ার জন্য।

(+) ডাউনলোড সাইটঃ ফাইল বা সপ্টওয়্যার রাখার জন্য।

(+) পোর্টফোলিও সাইটঃ নিজের তথ্য সিভির মত রাখার জন্য।

উপরের প্রকারভেদগুলোর বিস্তারিত আলোচনাতে এখানে যাবো না। তাহরে আর্টিকেলটি অনেক বড় হয়ে যাবে। আপনারা নিজেরাই বুঝতে পারবেন বা দেখতে পারবেন। আর বিস্তারিত জানার জন্য Click here বাটনে ক্লিক করতে পারেন।

আরো পড়ুন >> প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ সম্পর্কে জানতে পড়তে পারেন।

আরো পড়ুন >> নিয়মিত চাকরীর খবর জানতে পড়তে পারেন আর্টিকেলটি।

আসুন এবার জেনে নেওয়া যাক ওয়েব সাইট থাকার সুবিধাগুলো।

(১) ব্যবসার প্রসার ঘটাতে সাহায্য করে।

বর্তমান পৃথিবীতে ব্যবসার প্রসার ঘটানোর জন্য ওয়েবসাইট অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম। পৃথিবীর যত বড় বড় ব্যবসায়ী আছে তাদের প্রত্যেকেরই ওয়েবসাইট (Website) আছে। Amozon, e-Bay , Paypal আরও বড় বড় প্রতিষ্ঠান যেগুলো তাদের ওয়েবসাইট (Website) এর কারণেই এতটা প্রসারতা লাভ করেছে। আগামীতে আরও বেশি প্রসার লাভ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আমাদের দেশেও অনেক বড় বড় কম্পানি আছে যারা তাদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমেই ব্যবসার প্রচার ও প্রসার লাভ করেছে।

(২) তথ্য সহজেই সবাই দেখতে পারে।

আজকে দিনে কোন তথ্য জানার জন্য আর গাদাগাদা বই দেখতে হয় না। আপনার মনে একটা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে আপনি অনেক সহজেই google নামক ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জানতে পারবেন। আবার Youtube এর মত ওযেবসাইটও আজকে টপ লেবেলে চরে গেছে তথ্য সরবরাহের জন্য। এই দুইটা সাইট ব্যবহার করে অনেক তথ্য আমরা পেতে পারি। আবার বিভিন্ন কম্পানি নিজের সাইটগুলো তারা তাদের সকল তথ্য সরবরাহ করে থাকে। এভাবেই আমরা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনেক সহজেই তথ্য দেখতে পারি।

(৩) ওয়েবসাইটের তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

আপনি আমেরিকার তথ্য আগে শুনতে হলে অনেকটা সময় লাগতো কিন্তু বর্তমানে ওয়েবসাইটের কারণে আপনি অনেক সহজেই জানতে পারছেন। Forbes, CNN, সহ নানা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আমরা অনেক কম সময়েই সকল তথা জানতে পারি। খেলাধূলা থেকে শুরু করে সকল ধরনের তথ্যেই আমরা অনেক কম সময়েই মুহুত্বের মধ্যেই পেতে পারি এই সকল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে।

(৪) লিখা, অডিও ও ভিডিওসহ আরোও অনেক কিছু যুক্ত করা যায়।

ইউটিউব আমরা সবাই চিনি যেখানে শুধুমাত্র ভিডিও আপলোড করা হয়। আর এই ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করার মাধ্যমে আমরা নিজেরা অনেক সময় বুঝতে না পারলেও আশেপাশে দেখতে পারি অনেকেই অনেক টাকা আয় করে থাকে। আমাদের দেশে অনেকে ইউটিউবার আছেন যারা প্রতি মাসে ইউটিউবের মাধ্যমে ৮ থেকে ১০ লক্ষ টাকা আয় করে। নিজের লেখা যেটাকে আমরা কনটেন্ট রাইটিং বলে থাকি। আবার অনেকেই নিজের কণ্ঠ দিয়ে কোন কিছু আবৃত্তি করে বা গান গেয়ে তা দিয়ে বা ডাউনলোডের মাধ্যমেও আয় করে থাকে।

আরো পড়ুন >> ব্লগিং করে কিভাবে আয় করবেন।

(৫) প্রয়োজনীয় তথ্য যে কোন সময় ব্যবহার করা যায়।

আপনি ওয়েবসাইটে আপনার নিজের নামে কোন একাউন্ট করে ডাটাবেজ তৈরি করে কিছু তথ্য রেখে দিতে পারেন যেটা আপনার পারসোনাল সিকিউরিটি দিয়ে রেখে দিতে পারেন। আর এই ডাটাবেজের তথ্য আপনি দেশের যে কোন প্রান্তে বসেই একসিস করতে পারবেন এমনকি আপনি বিদেশে গেলেও শুধু ইন্টারনেট থাকলেই আপনি তা দেখতে ও প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারবেন।

আরো পড়ুন >> ওয়েবসাইট কি ও ওয়েবসাইট থাকার ১০টি সুবিধা জানুন।

(৬) বিশ্বস্ততা অর্জন করা সহজ হয়।

আপনার নিজের কম্পানির বা নিজের নামের কোন ওয়েবসাইট থাকলে একজনকে আপনি অনেক সহজেই আপনার প্রতি বিশ্বস্ততা অর্জন করাতে পারবেন। অনেক সময় কাগজের বা চোখের দেখার চাইতে অনলাইনে একটা ডকুমেন্টস এর অনেক দাম হয়ে যায়। আর এই কারণেই প্রত্যেকটা কম্পানি তাদের নিজের নামে একটা করে ওয়েবসাইট রেখে দেয়। আর বাইরের দেশের ক্লায়িন্টদের সাথে এর মাধ্যমেই তারা যোগাযোগ করে থাকে অনেক সহজেই।

(৭) দেশ ও বিদেশের সাথে দ্রুত যোগাযোগ করা যায়।

আমাদের দেশের ফ্রিল্যান্সাররা বর্তমানে আমাদের দেশে বসবাস করে বাইরের দেশের কাজ করছে। আর এটা সম্ভব হয়েছে ওয়েবসাইটের মাধ্যমেই। কিছূদিন আগে আমাদের দেশের একটা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বাইরের দেশের ডাটাবেজের কাজ করার দৃশ্য আমি দেখেছিলাম। আর এই কারণেই বলা যায় যে, অনেক দ্রুত দেশ ও দেশের বাইরের সাথে দ্রুত যোগাযোগ করার জন্য ওয়েবসাইট অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

আরো পড়ুন >> ২০২১ সালে চাকরীর জন্য যেসব দক্ষতা প্রয়োজন।

আরো পড়ুন >> ওয়েব ডিজাইনের পরিপূর্ণ গাইডলাইন।

(৮) তথ্য অনেক দিন ধরে রাখা যায়।

ওয়েব সাইটের মাধ্যমে আপনি আপনার মূল্যবান তথ্যগুলো অনেক দিন সার্ভারে রেখে দিতে পারবেন। অনেক কম্পানির তথ্যগুলো সার্ভারে থাকার কারণে অনেক সময় অফিশিয়াল কোন ফাইল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনেক দ্রুত পাওয়া যায়। ডাটাবেজের ফাইলগুলো অনেক দিন পর্যন্ত রাখা অনেক গুরুত্বপূর্ণ আর সেই কারণে একটা ওয়েবসাইট অনেক জরুরী বর্তমান সময়ে।

(৯) সরকারী ও বেসরকারী নিয়োগ বা তথ্য রাখা সুবিধা হয়।

বর্তমানে আমরা কোন চাকরীর জন্য নিয়োগ পরীক্ষার তথ্য ও আবেদন করার জন্য সরকারী বা বেসরকারী বিভিন্ন ওয়েবসাইট ব্যবহার করে থাকি। সরকারী সকল নিয়োগ আমরা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জানতে পারি। আর সরকারী সকল আবেদনই আমরা বর্তমানে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বা অনলাইনের মাধ্যমে করতে পারি। যার ফলে আমরা আমাদের ঘরে বসেই এই কাজগুলো অনেক সহজেই করে ফেলতে পারি অনেক কম সময়ে। সরকারী বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও পদ্ধতি যা আগে সরকারী অফিসে গিয়ে নিয়ে আসতে হতো কিন্তু প্রযুক্তির কল্যাণে এখন আমরা তা ওয়েবসাইটের মাধ্যমেই করে ফেলতে পারি। এটা অনেক বড় সুবিধা সরকারী কাজগুলো অনেক দ্রুত করার জন্য।

(১০) আয় করার একটা মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহার করা যায়।

অনলাইনে আয় করার সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হলো ওয়েবসাইটগুলো। বিভিন্ন ওয়েবসাইটে আপনি লিখালেখি করে, ওয়েবসাইটি তৈরি করে, কনটেন্ট তৈরি করে আরও নানা রকম ভাবে আপনি অনলাইনে আয় করতে পারবেন। ফ্রিল্যান্সিং করার মাধ্যমেও আপনি অনেক ভালো আয় করতে পারবেন। বর্তমানে আমাদের দেশে অনেক যুবক ও যুবতী তাদের চাকরীর পাশাপাশি অনলাইনে আয় করার জন্য বিভিন্ন ধরনের কাজ করছে।

আরো পড়ুন >> চিকিৎসা ও সেবা কিভাবে সহজেই আমরা অনলাইনের মাধ্যমে নিতে পারি।

আরো পড়ুন >> অনলাইনে অনেক সহজেই কিভাবে আয় করবেন।


Leave a Comment