ওয়েবসাইট বা ব্লগে ভিজিটর বাড়ানোর ১৫টি কার্যকরী উপায়

ব্লগের ভিজিটর কিভাবে বাাড়ানো যায় ? ১৫টি কার্যকরি উপায় ব্লগে  বা ওয়েবসাইটে ভিজিটর বাড়ানোর। কিভাবে ব্লগে অর্গানিক ট্রাফিক আনবেন তার ১৫টি কার্যকরি উপায় জেনে নিন। ওয়েবসাইট বা ব্লগে ভিজিটর বাড়ানোর ১৫টি কার্যকরী উপায়। এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনি উপরের বিষয়গুলো জানতে পারবেন। সবার আগে ওয়েবসাইটের ভিজিটর সম্পর্কে জেনে নিন।

ভিজিটর কি ? 


ব্লগিং এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভিজিটর নিয়ে আসা। অর্থ্যৎ আপনি যেসকল পোস্ট লিখেন সেগুলো যেন লোকজন পড়ে। 


আপনি যা লিখবেন সেটা যত মানুষ পড়বে এবং গুগলে সার্চ করা হয় এমন কিছু পোস্ট যদি আপনি করতে পারেন তবে আপনার ব্লগিং থেকে ভালো আয় হবে। মূলত ভিজিটর বাড়ানো হয় ্‌আয় বাড়ানোর জন্য। 


অনেকেই ভিজিটর কিভাবে আনতে হয় জানে না  বিধায় অ্যাডসেন্স থাকলে তা লিমিট করে ফেলে। আসলে অর্গানিক বা ইউনিক ভিজিটর না আসলে অ্যাডসেন্স এর সমস্যা হয়। 


বেশি বেশি পাঠক নিয়ে আসাকেই ভিজিটর বাড়ানো বলা হয়। আর ব্লগে পাঠকদেরকেই মূলত ভিজিটর হিসেবে বিবেচনা করা হয়।



ওয়েবসাইট বা ব্লগে ভিজিটর বাড়ানোর ১৫টি কার্যকরী উপায়



ভিজিটর বাড়ানোর প্র্রয়োজন কি ? 


আসলে যারা প্রফেশনাল ব্লগিং করে আর যারা পারসোনাল ব্লগিং করে তাদের মধ্যে কিছু পার্থক্য আছে। 

আমাদের দেশে এমন অনেক মানুষ আছে যারা নিয়মিত ব্লগিং করে মাসে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা আয় করে থাকে। আপনি যদি প্রথম আলোর মত সাইটের কথা  চিন্তা করেন তবে দেখে থাকবেন তাদের মাসিক ্আয়টা কেমন। 

আমার মনে হয় তাদের ফিজিক্যাল পত্রিকা বিক্রি করে যত টাকা আয় হয় তার দ্বিগুণ টাকা আয় হয় অনলাইনের ওয়েবসাইট থেকে। কারণ ফিজিক্যাল পেপার বিক্রি করার জন্য লোকজন লাগে এবং কাগজ লাগে যেটা ছাপার ও প্রিন্টিং এর জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন পড়ে। 

কিন্তু আপনি অনলাইন একটা লিখা শুধু বাংলাদেশের মানুষের নয় পুরো পৃথিবীর মানুষকে পড়াতে পারছেন সেটাও  ্আবার একটা লিখা দিয়েই। 





অর্থ্যৎ যারাই ব্লগে বা তাদের ওয়েবসাইটে ভিজিটর বাড়ানোর জন্য কাজ করবে তাহলে আপনি ‍বুঝে নিবেন সে প্রফেশনাল এবং আয় বাড়ানোর জন্য চেষ্টা করছে। 


কারণ ব্লগের ভিজিটর বাড়ানোর মুল বিষয়টাই হলো আয় বাড়ানো। আর আয় বাড়ানোর জন্য ভিজিটর বাড়ানো ছাড়া  কোন বিকল্প নেই। বিভিন্ন ভাবে ব্লগে বা ওয়েব সাইটে ভিজিটর বাড়ানো হয়ে থাকে। 


আমি আজকের আর্টিকেলে ১৫টি কার্যকরি উপায় বলা এবং সেগুলো নিয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করবো। আশা করি আর্টিকেলটি পুরোটা পড়লে আপনি বিষয়টা বুঝতে পারবেন। 



(১) ইউনিক আর্টিকেল লিখা 

ব্লগারে বা ওয়েবসাইটে ভিজিটর বাড়ানোর সবচেয়ে কার্যকরি উপায় হলো ইউনিক কনটেন্ট বা আর্টিকেল লিখা। 


আপনি যত বেশি নতুন আর্টিকেল লিখবেন আর সেটা যদি সার্চ করে শুধু ্‌আপনার লিখাটাই পায় তবে ভিজিটররা আপনার সাইটেই ঢুকবে। ধরুন আমি আমার সাইটের কথাই বলি। 


আপনি যদি আমার সাইটের অর্থ্যৎ ডোমেইন নাম গুগলে সার্চ করি তবে আমার সাইটটাই প্রথমে আসবে কারণ ডোমেইন কিন্তু ইউনিক আর এটা নিয়ে আর্টিকেল লিখলে  আমার সাইটটাই সবার আগে আসবে এটাই স্বাভাবিক। 


এরকম ইউনিক আর্টিকেল লিখলে অবশ্যই আপনার ব্লগে বা ওয়েবসাইটে ভিজিটর বাড়বে। বর্তমানে মানুষের প্রয়োজন হয় ্এমন আর্টিকেল যদি আপনি নিয়মিত লিখতে পারেন তবে ভিজিটর পাওয়াটা অনেক সহজ হবে আপনার সাইটের জন্য। 


আরেক যা লিখেছে আপনি যদি সেটা কপি করেন তবে আপনি খুব বেশি ভিজিটর পাবেন না। গুগল নতুন নতুন শব্দ চায় ্আর নতুন শব্দ গুগল ইনডেক্স করে অনেক দ্রুত। 


যে বিষয়ে লিখা আছে সে বিষয়ে লিখলে ভিজিটররা অনেক লিখা পাবে আর যাদের লিখাতে তথ্য বেশি আছে সেটাই বেশি সামনে আসবে। 


তাই ইউনিক আর্টিকেল লিখতে পারলে অবশ্যই আপনি অনেক বেশি ভিজিটর পাবেন। এবং অর্গানিক ভিজিটরের জন্য আপনাকে ভালো মানের কী-ওয়ার্ড নিয়ে কাজ করতে হবে। কী-ওয়ার্ড রিসার্চ করে আপনি ইউনিক আর্টিকেল বের করে সেই বিষয়ে লিখতে পারেন। 





(২) প্রিমিয়াম থিম ব্যবহার করা 

বিষয়টা সহজে বোঝানোর জন্য আপনি যখন কোন থিম ডাউনলোড করবেন তখন দেখে থাকবেন ফ্রি থিমে কিছু ফিচার দেওয়া থাকে না। আর প্রিমিয়াম থিমে কিছু ফিচার যা আপনার ওয়েবসাইটের জন্য ভালো এমন কিছু ফিচার যুক্ত করা থাকে। 


আবার প্রিমিয়াম থিম ইউজার ইউজেবল হয়ে থাকে বিধায় আপনি ওযেবসাইটের জন্য অবশ্যই এই প্রিমিয়াম থিম ব্যবহার করতে পারেন। অনেক সময় ফ্রি থিমগুলো অনেক বেশি কোড থাকে যার কারণে লোড নিতে সময় লাগে অনেক বেশি। 


আর আপনি সেকারণে যদি প্রিমিয়াম থিম ব্যবহার করেন তবে কম সময়ে লোড নেওয়া সহ আরও কিছু সবিধা পাবেন। 


বর্তমানে অনেকেই প্রফেশনালভাবে ওয়েবসাইটের কাজ করছে আর যারা প্রফেশনাল ভাবে কাজ করছে তাদের জন্য সবচেয়ে কার্যকরি ও ভালো পদ্ধতি হলো প্রিমিয়াম থিম ব্যবহার করা। 


প্রিমিয়াম থিমের মালিক আপডেট করলে আপনার থিমটাও অটো আপডেট নেবে যেটা আপনার থিমের জন্য অনেক ভালো। অনেক সময় গুগল প্রিমিয়ামের থিমের আর্টিকেলগুলোকে বেশি মূল্যায়ন করে থাকে ফ্রি থিমের চাইতে। 


ধরুন একই নিশ নিয়ে আর্টিকেল লিলেখেন একই ধরনের শব্দ বা দুইটাতেই ২ হাজার করে শব্দ এবং একটার থিম প্রিমিয়াম এবং আরেকটার ফ্রি তাহলে বলুন তো কোনটা উপরের দিকে থাকবে। 


উত্তরটা সহজ প্রিমিয়াম থিমের আর্টিকেলটা সবার উপরে থাকবে কারণ এটি পেইড থিম বিধায় এটা অনেক দ্রুত লোড নেবে এবং সার্চ করলে সেটা ভিজিটরকে আগে দেখাবে। 





(৩) বেশি শব্দ দিয়ে আর্টিকেল লিখা 


(৪) কনটেন্ট এ আকর্ষণীয় ছবি যুক্ত করা 


(৫) SEO করা বা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশান করা 


(৬) ভালো মানের পেইড থিম ব্যবহার করা 


(৭) কমেন্ট এর রিপ্লাই অনেক দ্রুত দেওয়া 


(৮) লিংক যুক্ত করা বেশি 


(৯) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করা 


(১০) অন্যের পোস্ট এ কমেন্ট করা বিশেষ করে নিশ রিলেটেড 


(১১) নিয়মিত আর্টিকেল পাবলিশ করা 





(১২) সঠিক কী-ওয়ার্ড বাছাই করা 

কী-ওয়ার্ড অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভিজিটর বাড়ানোর জন্য। ধরুন বর্তমানে সবাই অনলাইনে আয় করতে চায়  ্আর আপনি এটা নিয়ে খুব ভালো কিছু সাইটের লিংক বা কিছু গ্রুপকে রেফারেন্স করে একটা আর্টিকেল লিখলেন। যেটাতে যেসব তথ্য দেওয়া আছে সেসব তথ্য পড়ে মেম্বার বা ভিজিটররা উপকৃত হবে আর এ রকম কী-ওয়ার্ড নিযে কাজ করতে পারলে আপনার জন্য অনেক সুবিধা হবে। তাই এই পয়েন্টের মূল কথা হলো আপনি কম আর্টিকেল লিখলেও সেটা যেন মানুষ পড়ে সেরকম কী-ওয়ার্ড নির্বাচন করুন। 


সঠিক কী-ওয়ার্ড অনেক সময় অনেক বেশি ট্রাফিক যেটা অর্গানিক হয়ে থাকে। কী-ওয়ার্ড রিসার্চ করার বিভিন্ন টুলস আছে আপনি ইচ্ছা করলে সব টুলসও ব্যবহার করতে পারেন আপনার ওয়েবসাইটের ভিজিটর বাড়ানোর জন্য। 


(১৩) অথোরিটি বা অথোর বাড়ানো 

একটিভ থাকতে হলে অথোরিটি বাড়ানোর কোন বিকল্প নেই। কারণ একটা গ্রুপে একজন এডমিন ও একজন মোডারেটর যদি থাকে তবে সেই গ্রুপের মেম্বারদের জন্য তা ক্ষতিকর। 


কারণ একজন এডমিন সকল মেম্বারদের সুবিধা ও অসুবিধা বুঝবে না। আর যদি অনেক বেশি মেম্বার থাকে তবে হয়তো কাজ ভাগ করে নিতে পারবেন। আমি অনেক ভালো ভালো কিছু গ্রুপও দেখেছি যেখানে দিনের মধ্যে সময় ভাগ করে দেওয়া থাকে। ধরুন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত একজন দেখতে যারা কমেন্ট করে বা পোস্ট করে তাদের পোস্ট এপ্রুভ করা বা কমেন্ট এর উত্তর দেওয়া এসব। 


এ ক্ষেত্রে একটিভি বাড়ানোর জন্য আপনাকে অথোরিটি বাড়াতে হবে। অনেক সময় অথোরিটি গ্রুপের সুবিধাগুলো বুঝতে পারে আর তারা এই জন্য গ্রুপটাকে অন্য গ্রুপ থেকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে। 


অবশ্যই গ্রুপের গুরুত্বটা বোঝাতে হবে গ্রুপের মেম্বারদেরকে। এতে করে গ্রুপের সুবিধা হবে। ঠিক তেমন করেই আর্টিকেল লিখলে সেটা নিয়ে কেউ কমেন্ট করলে সেটার উত্তর দেওয়ার জন্য অবশ্যই আপনাকে চেষ্টা করতে হবে। আর সেক্ষেত্রে এডমিন বেশি অথবা অথোরিটি বেশি থাকলে সুবিধা হবে। 





(১৪) গ্রুপ বা প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মাধ্যমে 

অনেক সময় নতুনরা কমেন্ট করে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে। তাদের কমেন্ট এর উত্তরের ক্ষেত্রে আপনি ্আপনার সাইটের সেই রিলেটেড লিংক দিয়েও ভিজিটর বাড়াতে পারবেন।


সেক্ষেত্রে অবশ্যই প্রশ্ন রিলেটেড পোস্ট থাকতে হবে এবং ভিজিটর আসলে যেন সেখানে বেশ কিছু সময় থাকে এবং সে ওয়েবসাইটটার গুররুত্ব বুঝতে পারে সে ধরনের কিছু কনটেন্ট ওয়েবসাইটে যুক্ত থাকতে হবে। যেমন ধরুন, কিভাবে ব্লগিং এ ভিজিটর বাড়াতে  হবে ? 


এমন প্রশ্ন করলে আমি যদি আমার এই আর্টিকেলটির লিখ দেই তবে ভিজিটর এসে পুরো আর্টিকেলটা পড়বে তার নিজের জানার জন্য। আর এ ধরনের আর্টিকেল সে বারবার পড়তে চাইবে তাই এমন কিছু প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মাধ্যমেও আপনার ব্লগেভিজিটর আসবে। 



(১৫) বাউন্স রেট চেক করা নিয়মিত 

সবার আগে জানতে হবে বাউন্স রেট কি ? বাউন্স রেট বলা হয় ভিজিটর কত জন আপনার সাইটে ঢুকে আর্টিকেল পড়ছে তার একটা শতকরা হিসেব। যেমন ধরুন, ১০০ জন ভিজিটরের মধ্যে ৫০ জন ভিজিটর আপনার ওয়েবসাইট বা ব্লগে ঢুকে কোন পেজ ভিজিট না করেই বন্ধ করে দিয়েছে তাহলে আপনার বাউন্ট রেট হবে ৫০% আর যদি ১০০ জনে ৪০ জন এরকম করে তবে আপনার বাউন্স রেট হবে ৪০%। 



ভিজিটর দের ধরে রাখার মত কনটেন্ট বা আর্টিকেল থাকতেহবে ওয়েবসাইটে কারণ ভিজিটর আসলে সেটাকে ধরে রাখার কাজটা আপনাকেই বা আর্টিকেল রাইটারকেই করতে হবে। 


একজন ভালো মানের আর্টিকেল রাইটার সব সময় এই সকল বিষয় চেক করেন এবং ভিজিটর আসলে সেস যেন সেই সাইটে বেশ খানিকটা সময় থাকেন এবং আর্টিকেলগুলো পড়েন সেই বিষয়টা খেয়াল রাখেন। 


বাউন্স রেট কেমন হলে ভালো মনে করা হয় ? 

আমি বাউন্স রেট এর একটা জরিপ বা হিসেবে নিচে তুুলে ধরছি। এতে করে আপনাদের বুঝতে সুবিধা হবে বাউন্স রেট সম্পর্কে। যেমন, 

(ক) ভালো বাউন্স রেট = ৩০% 

(খ) খুব ভালো ধরা হয় = ৪০% থেকে ৫৫%

(গ) মোটামুটি ভালো = ৫৫% থেকে ৭০% 

(ঘ) একটু খারাপ বলা হয় = ৭০% থেকে ৮০% 

(ঙ) খুব খারাপ ও সাইটের জন্য ক্ষতিকর = ৮০% থেকে ৯৫% 


আশা করি বাউন্স রেট সস্পর্কে বুঝতে পেরেছেন। এটা চেক করাও অনেক জরুরী। নিয়মিত উপরের পদ্ধতি অবলম্বন করে ভিজিটর আনলেন কিন্তু সেটাতে কোন লাভ যদি না হয় তবে আপনার সাইটের জন্য সেটা খারাপ হবে। আর ইউনিক ভিজিটর আসলে অবশ্যই তারা আপনার সাইটে কিছু সময় থাকবে অবশ্যই। 



সবশেষে বলবো ওয়েবসাইটে প্রচুর শব্দের ব্যবস্থা করুন তাতে করে ভিজিটর আসবে বেশি। কারণ ভিজিটরদের দরকার শব্দ তারা তো পড়তে ও শিখতে চায় তাই তাদের জন্য শব্দ বেশিযুক্ত করুন। অনেক ধন্যবাদ মূল্যবান সময় নিয়ে আর্টিকেলটি পড়ার জন্য। 

Leave a Comment