উদ্যোক্তাদের জন্য ফেইসবুক মার্কেটিং

ফেইসববুক মার্কেটিং কি ? ফেইসবুকের মাধ্যমে কিভাবে বিক্রি বাড়ানো যায় ? ফেইসবুক মার্কেটিং উদ্যোক্তাদের জন্য কেন জরুরী ? ফেইসবুকে সহজেই কিভাবে পণ্য বিক্রি করা যায় ? এমন প্রশ্নগুলো যদি আপনার মনের মধ্যে থেকে থাকে তবে আর্টিকেলটি আপনার জন্যই। আর্টিকেলটির মাধ্যমে আপনি জানতে পারবেন কেন তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ফেইসবুক মার্কেটিং জরুরী। 


উদ্যোক্তাদের জন্য ফেইসবুক মার্কেটিং


বর্তমানে আমাদের দেশের নতুন উদ্যোক্তাদের মার্কেটিং সাধারণত ফেইসবুকের মাধ্যমেই হয়ে থাকে। বিগত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বা বিভিন্ন মিডিয়া তাদের মার্কেটিং এর সবচেয়ে ক্যাম্পেইনটা ফেইসবুকের মাধ্যমেই করে থাকে। আর তাই আপনি যদি একজন উদ্যোক্তা হতে চান আর নিজের পণ্যকে সারাদেশ বা বিশ্বকে দেখাতে চান তবে এই প্লাটফরমের কোন বিকল্প নেই। 

বেশ কয়েক বছর ধরেই সামাজিক যোগাযোগের অন্যতম এই মাধ্যমটি বিজনেস করার বা বিজনেসের পরিচিতি বাড়ানোর একটা মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। ইতোমধ্যই আমাদের দেশে ফেইসবুকের মাধ্যমে পণ্য ক্রয় ও বিক্রয় অনেক বেড়ে গিয়েছে। ২০২০ সালের অনলাইন জরিপ ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ই-ক্যাব এর হিসেব অনুসারে প্রায় ৩০ কোটিং টাকা বিজনেস হয়েছে এই অনলাইনের মাধ্যমে। যার মধ্যে প্রায় ১৭ কোটি টাকা সেল করা হয়েছে শুধু এই ফেইসবুকের মাধ্যমে। তাই নিশ্চয় বুঝতে পারছেন অনলাইন জগতে ফেইসবুকের মার্কেটিংটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ বা জরুরী। 

উদ্যোক্তাদের জন্য ফেইসবুক পেজ 

একজন উদ্যোক্তার তার নিজের পণ্য নিয়ে বিস্তারিত বর্ননা করতে পারবে এরকম একটা পেজ রাখবে এটা অনেক জরুরী। কারণ পেজে সেই পণ্য নিয়ে বিস্তারিত বলা থাকবে। এতে করে কোন ক্রেতা তার পরিচয় বা সেই পন্য নিয়ে বিস্তারিত জানতে পারবে। প্রথমেই একজন ‍উদ্যোক্তা মার্কেটিং করার পেছনে বেশি খরচ করতে চাইবে না বা আগ্রহী হবে না। আর সবচেয়ে সহজে এবং কম টাকায় এমনকি ফ্রিতেও আপনি আপনার বিজনেসের মার্কেটিং করতে পারবেন এই পেজের মাধ্যমে। 

আপনার নিজের আইডিতে অনেক সময় সকল বর্ননা বা সকল ধরনের পোস্ট করা যায় না তাতে করে আইডিটার পারসোনালিটি থাকে না। আর সেদিকটা বিবেচনা করে আপনি আপনার বিজনেসের জন্য একটা সুন্দর পেজ খুলে নিতে পারেন। অনলাইনে বিভিন্ন টিউটোরিয়াল পাওয়া যায় কিভাবে বিজনেস পেজ খুলবেন সে বিষয়ে। ফেইসবুকের পরিপূর্ণ টিউটোরিয়াল পেতে (ক্লিক এখানে) ক্লিক করে দেখে নিতে পারেন অনেক সহজেই। 

পেজে আপনি আপনার বিভিন্ন পণ্যের দাম ও গুন উল্লেখ করবেন। তবে আপনাকে একটিভ থাকতে হবে সব সময় পেজে কারণ পেজের র‌্যাংকিং অনেক সময় একটিভ থাকার উপরেও নির্ভর করে থাকে। 

উদ্যোক্তাদের জন্য ফেইসবুক গ্রুপ 

পেজ থাকার পাশাপাশি সেই পেজের নামেই একটা গ্রুপও রাখবেন। তাতে করে আরেকটা সুবিধা হবে যেমন, আপনি কিছু নিয়মিত কাস্টোমার পাবেন এই গ্রুপের মাধ্যমে। বা অনেকেই আপনার কাছ থেকেই পণ্য কিনবে সে অনেক সহজেই আপনাকে খুজে বের করতে পারবে যেটা পেজের ক্ষেত্রে একটু সময় লাগে। আর গ্রুপ থাকার ফলে আপনি আপনার পণ্যের রিভিওটাও জানতে পারবেন নিয়মিত। 

নতুন কি আপডেট করতে হবে বা কাস্টোমাররা কি ধরনের পণ্য পেতে চায় আপনার কাছ থেকে সেটাও জানতে পারবেন এই গ্রুপের মাধ্যমে। ফেইসবুক পেজ আর ফেইসবুক গ্রুপের মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য হলো আপনি পেজে শুধু নিজেই পোস্ট করছেন আর এখানে বক্তা একজন বলা যায়। যেখানে ফেইসবুক গ্রুপে বক্তা অনেক থাকে। আপনি পেজে শুধু পণ্যের পজেটিভ দিকটাই তুলে ধরতে পারেন যেটা অনেক সময় একমুখী হয়ে যায়। তব গ্রুপ থাকার কারণে কাস্টোমাররাও তাদের নিজেদের মতামত ব্যক্ত করার সুযোগ পায় যেটা আপনার পণ্যের মার্কেটিং এর জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। 

তাই নিজের বিজনেস পেজ থাকার পাশাপাশি একটা গ্রুপও তৈরি করে নেবেন শুরুতেই। আর নিয়মিত আপডেট রাখবেন পেজের মত ্গ্রুপটাকেও। 

ফেইসবুক পেজ ও গ্রুপের মধ্যে পার্থক্য 

আমি যদি সহজে বলি তবে বলতে হবে ফেইসবুক পেজ হলো One Way Communication Channel আর ফেইসবুক গ্রুপ হলো Two Way Communication Channel. ফেইসবুক পেজে শুধু আপনিই কথা বলতে পারেন আর ফেইসবুক গ্রুপের মাধ্যমে সবাই কথা বলতে পারে। যার ফলে কাস্টোমাররা পেজে ছবি বা পণ্যের বিজ্ঞাপন দেখলেও গ্রুপ থেকে সেই পণ্য বা আপনার রিভিওটা জেনে নিতে পারবে। যেটা আপনার নতুন বিজনেসের জন্য পজেটিভ একটা বিষয়। অনেক সময় দেখা গেছে যে অনেক অনেক পেজের ভিড়ে আপনার পেজের পোস্টটা সময় মতো কাস্টোমারের কাছে পৌছায় নাই কিন্তু গ্রুপে থাকার কারণে সে অনেক তাড়াতাড়িই সেই পণ্যের বিষয়ে আপডেট পেয়ে যাবে। 

পেজ ও গ্রুপের মধ্য অনেক পার্থক্য আছে। বর্তমানে বিভিন্ন গ্রুপের মাধ্যমে অনেক বেশি পণ্য সেল করা হয়ে থাকে বিভিন্ন ধরনের পন্য। উই গ্রুপ নামের একটা গ্রুপ আছে এবং নিজের বলার মত গল্প নামেরও একটা গ্রুপ আছে যেখানে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার পণ্য সেল হয়ে থাকে। আপনি ভেজালমুক্ত কোন পণ্য নিয়ে কাজ করতে পারলে অনেক দ্রুতই আপনার সেল বাড়াতে পারবেন। 


কেন উদ্যোক্তারা ফেইসবুকে মার্কেটিং করবে 

এই প্রশ্নের সহজ উত্তরটা হলোে এখানে কাস্টোমারের সংখ্যা অনেক বেশি থাকে বিধায় উদ্যোক্তারা ফেইসবুক পেজ বা গ্রুপের মাধ্যমে মার্কেটিং করবে। একটা বিষয় লক্ষ্য করুন আপনি যখন একটা গ্রুপে ২ লক্ষ বা বিভিন্ন গ্রুপে তার চাইতেও অনেক বেশি সদস্য থাকে যেমন, উই গ্রুপে প্রায় দেড় মিলিয়নের মত সদস্যা আছে। তাহলে আপনি দেড় মিলিয়ন কাস্টোমার সহজেই পেয়ে যাচ্ছেন। আর যদি আপনি শতকরা ১% কাস্টোমারের কাছেও আপনার পণ্যের নাম ও বিজ্ঞাপন পৌছাতে পারেন তবে দেখবেন প্রতিদিন অনেক বেশি পরিমাণে সেল হবে। 

ফিজিক্যালী দোকানে আপনাকে নির্দিষ্ট সময় আর নির্দিষ্ট এলাকা মধ্যেই পণ্য সেল করতে হবে কিন্তু ফেইসবুক পেজ বা গ্রুপের মাধ্যমে আপনি পুরো দেশেই পণ্য সেল করতে পারবেন। কিছু কিছু পণ্য আছে যেগুলো অনেক দিন থাকে তবে কাচামাল ছাড়া পণ্যগুলো সবচেয়ে বেশি অনলাইনে সেল হয়ে থাকে আর তাই আপনি সেই ধরনের পণ্য নিয়ে কাজ করতে পারবেন। 

ফেইসবুক পেজ বা গ্রুপে মার্কেটিং করার কিছু পদ্ধতি 

(১) অনেক সময় আপনি নতুন হলে সহজেই মানুষের কাছে পৌছাতে পারবেন না সেক্ষেত্রে আপনি পেজ বুস্ট করতে পারেন। 

(২) বিভিন্ন বড় গ্রুপের এডমিনের সাথে যোগাযোগ করেও মার্কেটিং করতে পারবেন। 

(৩) বিভিন্ন গ্রুপে প্রতিযোগীতা করে পুরস্কার দিয়েও আপনি আপনার পণ্যের মার্কেটিং করতে পারেন। 

(৪) নিয়মিত মানুষের প্রয়োজন হয় এমন কিছু তথ্য আপডেট রেখেও আপনি আপনার পণ্যের মার্কেটিং করতে পারেন। 

(৫) কিছু ডিজিটাল মার্কেটিং টুলস ব্যবহার করেও আপনি দ্রুত পরিচিত লাভ করতে পারেন। 

(৬) বিভিন্ন পণ্যের অভার দিয়েও আপনি মার্কেটিং বাড়াতে পারেন। 

এছাড়াও আরও অনেক উপায় আছে ফেইসবুকে আপনার পণ্যের বিজ্ঞাপন বাড়ানোর। তবে বর্তমানে সবাই বুস্ট করেই মার্কেটিং করাকে বেশি পছন্দ করে থাকে তাতে করে আপনি আপনার টার্গেট কাস্টোমার ঠিক করে মার্কেটিং করতে পারেন যেটাতে অনেক বেশি কাস্টোমার বা ক্রেতা পাওয়া যায়। 


সবশেষে বলবো একজন নতুন উদ্যোক্তার জন্য বর্তমানে ফেইসবুক বা ফেইসবুক পেজ বা ফেইসবুক গ্রুপ এসব বিষয়ে একটিভ থাকাটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ যদি সে অনলাইনের মাধ্যমে সেল বাড়াতে ও অনলানের মাধ্যমে তার ব্যবসাকে বড় করতে চায়। আশা করি আর্টিকেলটি সবার কিছুটা উপকারে আসবে উদ্যোক্তা হওয়ার ক্ষেত্রে।  

অনেক ধন্যবাদ মূল্যবান সময় নিয়ে আর্টিকেলটি পড়ার জন্য। আমাদের সাথে যোগাযোগের ঠিকানাঃ 

(১) ফেইসবুক আইডি = ডিজিটাল আইটি সেবা

(২) ফেইসবুক পেজ = ডিজিটাল আইটি সেবা

(৩) ফেইসবুক গ্রুপ = ডিজিটাল আইটি সেবা

(৪) ই-মেইল = [email protected]

Leave a Comment