অনলাইন বিজনেসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ভূমিকা

ফেইসবুক ও ইউটিউবের মাধ্যমে বিজনেস করতে চাইলে আপনাকেক অবশ্যই একটিভিটি বাড়াতে হবে। অনলাইন বিজনেসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ভূমিকা অপরিসীম। আমাদের কোন বিষয়গুলোর প্রতি নজর দিতে হবে অনলাইন বিজনেসের ক্ষেত্রে তা জানার জন্য আর্টিকেলটি পড়ুন। 


অনলাইন বিজনেসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ভূমিকা



সবার আগে আপনাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সম্পর্কে জানতে হবে। আসলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হলো সেই মাধ্যম যেখানে সামাজিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা ও আমরা সহজেই নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ তৈরি করতে পারি অন্যের সাথে এমন একটি মাধ্যম। 


বর্তমানে কোনগুলোকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে ধরা হয়।


বর্তমানে ফেইসবুক, টুইটার, ইনস্ট্রাগ্রাম, লিংকিং ইত্যাদিকে সামাজিক যোগাযোগ মধ্যম ধরা হলেও ইউটিউবও কিন্তু এর বড় একটা অংশ জুড়ে অবদান রাখছে। 


বর্তমানে ফেইসবুক ও টুইটার ও ইউটিউবকেই প্রধান সামাজিক যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ধরা হয়। যদিও ওয়ান ওয়ে মাধ্যম হলো শেষের দুইটা আর মাল্টিওয়ে হলো ফেইসবুক। আর আমাদের দেশের পরিস্থিতিতে ফেইসবুককেই প্রধান সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 


এখন জানা যাক অনলাইন বিজনেস কি ? 

অনলাইন বিজনেস হলো ইন্টারনেট ব্যবহার করে ব্যবসা করা। অর্থ্যৎ আপনি ইন্টারনেটের মাধ্যমে কোন কিছু সেল করলে বা ব্যবসা করলে সেটাকেই মূলত অনলাইন বিজনেসে বলা হয়। বর্তমান পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মার্কেটপ্লেস অ্যামাজান ও আলিবাবার মত প্রতিষ্ঠানকে যদি চিন্তা করা হয় তবে এদের পণ্য বিক্রি ও সেবার পরিধিটা অনেক বেশি বড়। আর শেষ কযেক বছর বিশেষ করে ২০২০ সালে অনলাইন ব্যবসা প্রসারের অন্যতম একটা বছর হিসেবে বিবেচনা করেন গবেষকরা। 


করোনা মহামারিতে অনেকেই এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাতায়াত করতে পারে নাই। আর এই সময়টাতে ঘরে বসে পণ্য অর্ডার করা থেকে শুরু করে তা বাসায় পৌছে দেওয়া এসব কাজগুলো এতটা বেশি বেড়ে যা হয়তো ৫ বছরের কাজ এক বছরেই হয়ে গেছে। আমাদের মত দেশে অনলাইন বিজনেসের ধারণাটা আগে থেকেই থাকলেও ২০২০ সালের পর থেকে তা অনেক গুণ বেড়েছে। 


অনলাইন বিজনেসের সুবিধা কি ? 

অনলাইন বিজনেসের অনেক বেশি সুবিধা রয়েছে। তবে অনলান বিজনেসের কিছু অসুবিধাও রয়েছে। 


আরো পড়ুন >> অনলাইন বিজনেসের সুবিধা ও অসুবিধা জানতে আর্টিকেলটি পড়ুন। 


আমি নিচে সামান্য কয়েকটা বিষয় উল্লেখ করছি। যেমন, 

(+) বাসায় বসেও বিজনেসটি করা যায়। 

(+) অনলাইন হওয়ার কারণে নির্দিষ্ট কোন এলাকা বা জায়গার প্রয়োজন পড়ে না। 

(+) কাস্টোমারের সংখ্যা বেশি পাওয়া যায় অফলাইন থেকে। 

(+) বিজনেস পরিচালনার জন্য ব্যয় কম হয়। 

(+) আর্থিক লেনদেন সুবিধা হয় এবং হিসেব রাখতেও সুবিধা হয় অফলাইনের বিজনেস থেকে। 

এছাড়াও আরও সুবিধাগুলো জানতে উপরের আর্টিকেলটি পড়ুন। 



অনলানি বিজনেসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম

এখন বলবো আসলে এই অনলাইন বিজনেসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভূমিকা সম্পর্কে। আসলে কেন আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করবো এবং কেনই বা এর মাধ্যমেই আমাদের বিজনেসের পরিধী বাড়ানোর চেষ্টা করবো। বিষয়টা আসলে যুগের সাথে মিল রেখেই হয়েছে। 


বর্তমান পৃথিবীকে বলা হয় প্রযুক্তির পৃথিবী বা ইন্টারনেটের পৃথিবী। আর এই ইন্টারনেটের পৃথিবীতে আমরা অনেক সময় ইন্টারনেটকে ব্যবহার করে নিজেরা নিজেদের কাজগুলো করে থাকি যা দিন যাওয়ার সাথেসাথে বেড়েই চলেছে। আমি কিছু কারণ বা ভূমিকা নিচে উল্লেখ করছি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের। যেমন, 


(+) ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার কারণে সবাই এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশি সময় দেয়। আর আপনি এই সুযোগটাকে কাজে লাগাতে পারেন। যেমন ধরুন বর্তমানে বড় বড় কিছু গ্রুপ আছে সেখানে আপনি আপনার প্রডাক্ট বা আপনি অনলাইন কি ধরনের পণ্য নিয়ে বিজনেস করবেন সেটা নিয়ে আলোচনা করতে পারেন। 





(+) নিজের একটা গ্রুপ বা পেজ থাকলে ব্রান্ডিং করা অনেক সহজ হয়। আর নিজের নামে বা নিজের প্রতিষ্ঠানের নামে পেজ থাকার কারণে ক্রেতাকে আকৃষ্টও করানো যায়। 


(+) বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই বেশি অ্যাড দেওয়া হয়। আর এখানে এ্যাড দেকেই কাস্টোমাররা এর রিভিউটা দেখার আগ্রহ প্রকাশ করে। আপনি অনলাইন একটা ভালো আইডি ও একটা ভালো পেজ ও গ্রুপ যদি করে নিতে পারেন তবে খুব বেশি দিন অপেক্ষা করতে হবে কাস্টোমার বাড়ানোর জন্য। 


(+) অফলাইনের ব্রান্ডিং বা প্রচারণার চাইতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা করা অনেক সহজ। এতে কাস্টোমারও অনেক বেশি বাড়ে অফলাইনের চাইতে। 


(+) প্রত্যেক মানুষই একটা পরিবারে বাস করে আর পরিবারের সদস্যা জন্য হলেও প্রত্যেকটি প্রডাক্টই প্রযোজনীয় যদি কোন ভাবে এমন কাস্টোমারকে অ্যাডটা পৌছানো যায় তবে পণ্য বিক্রির পরিমাণ অনেকগুণ বেড়ে যাবে। 


(+) অফলাইনে একটা নির্দিষ্ট এলাকা থাকে কিন্তু অনলাইনের পরিধিটা অনেক বড় হওয়ার কারণে আপনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা করে এর পরিধিটা আরও বেশি বাড়াতে পারেন। 


(+) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের পরিচিত লোকের সংখ্যা এতটাই বেশি থাকে যা বাস্তবে কোন অফলাইন বিজনেসে হয় না। 






(+) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একজনের নামে প্রতিষ্ঠান থাকলেও ট্রেইনিং দেওয়ার মাধ্যমে মালিকের মত উত্তর অনেকেই দিতে পারে বিধায় ব্যবসার প্রচারণা অনেক বেশি সহজ। 


(+) একটিভ থাকলে মাত্র ৩-৬ মাসের মধ্যেই আপনার পণ্যের বা প্রতিষ্ঠানের ব্রা্ন্ডিং অনেক বেশি সহজ হয়। 


(+) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পণ্যের বিজ্ঞপন দেওয়া অনেক বেশি সহজ আর ব্যয়টাও অনেক কম। 


(+) অনলাইনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কারণে পণ্য নিয়ে কাস্টোমারের আলোচনার একটা রেকোর্ড থাকে যা বাস্তবে অফলাইনে বিজনেসের ক্ষেত্রে থাকে না বিধায় রিপিট কাস্টোমারের সংখ্যাও বাড়ে। 






(+) পণ্যে মান ভালো হলে অফলাইনের চাইতে বেশি বিক্রি করা সম্ভব শুধু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করেই। 


(+) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পাশাপাশি প্রতিষ্টান নিয়ে একটা ইউটিউব চ্যানেল ও একটা ওয়েবসাইট থাকলে সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে প্রচারটা অনেক বেশি আকর্ষণীয় করানো যায়। এবং এমন বিজ্ঞপনে মানুষ অনেক বেশি বিশ্বাস করে প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে। 


(+) আপনার পণ্যের রিভিওটা অন্য কাস্টোমারও দেখতে পাই বিধায় কাস্টোমারের সংখ্যাটাও বাড়তে থাকে দ্রুত। 


আরো পড়ুন >> ব্লগিং করে কিভাবে প্রতিদিন ৫ ডলার আয় করবেন।


অনলাইনে কেনাটার কাটার কিছু অসুবিধা থাকলেও সুবিধাটাও কম না। অনেক ভালো মানের প্রতিষ্ঠান আছে যারা ক্রেতার বর্ণনামত বা চাহিদামত পণ্য সরবরাহ করে থাকে এবং তারা অনেক বেশি ভালোও করে থাকে বিজনেসে। অনলাইনে কেনাকাটাতে সময় কম ব্যয় হওয়ার কারণে অনেক বেশি সুবিধা হয় ক্রেতার। 






বর্তমানে বিজনেসের প্রচারের জন্য চিন্তা করা হয় মানুষের সংখ্যা কোথায় বেশি। আর গবেষকরা মনে করেন মানুষ ভারচুয়্যালী এখন বেশি একটিভ অফলাইনের চাইতে। কারণ তারা মনে করেন অনলাইনে কম সময়ে অনেকের সাথে যোগাযোগ করা যায় আর এখানে সামান্য পরিশ্রমেই বেশি সুবিধা বা কাজ আদায় করে নেওয়া সম্ভব বিধায় এই অনলাইনেই বেশি মানুষ সরব থাকে বেশিভাগ সময়। 

Leave a Comment