Wi-Fi Password বা ওয়াই-ফাই পাসওয়ার্ড কিভাবে হ্যাক করা থেকে সুরক্ষিত রাখা যায়

Wi-Fi নিয়ে আমাদের অনেক দিনেরই অনেক গবেষণা চলে আসছে। কিভাবে চলে  এটি কিভাবে তার ছাড়াই নেটওয়ার্ক

দিয়ে থাকে নানা প্রশ্ন আমাদের মনে আছে এই বিষয়টা নিয়ে। আসলে এসব অনেক সময় না জানার কারণে হয়ে থাকে। এখানে আলোচনা করা হবে কিভাবে আপনি আপনার রাউটারের Wi-Fi Password বা ওয়াই-ফাই পাসওয়ার্ড হ্যাক হওয়া থেকে বিরত রাখবেন। আর ব্লগের শেষের দিকে আপনাদেরকে ওয়াই-ফাই এর স্পিড বাড়ানোর টেকনিক শেখানোর কিছু টিপস বা Tricks and Tips দেওয়া হবে 

Wi-Fi Password

১. ফ্রি Wi-Fi ব্যবহারে সাবধান

প্রযুক্তি গবেষকরা বলেছেন যে, আপনি ফ্রি ওয়াই-ফাই ব্যবহার করার সময় সচেতন থাকুন। কারণ আপনি যখন কোন শপিং মলে বা কফি সপে গিয়ে Wi-Fi এর আইডি পাসওয়ার্ড নিবেন তখন আপনার ব্রাউজারের History সেই আইপিতে জমা থেকে যায়। এতে করে আপনার Gmail এবং Facebook এর মত গুরুত্বপূর্ণ একাউন্ট এর পাসওয়ার্ড হ্যাক হতে পারে। তাই কোন গুরুত্বপূর্ণ কাজে যখন ফ্রি ব্যহার করবেন তখন এই বিশেষ সাইটগুলোতে ঢুকবেন না। তখন আপনি মোবাইল ডেটা ব্যবহার করুন। আর যদি করতেই হয় তবে ইউটিউব বা অন্য যেগুলোতে আপনার কোন তথ্য চুরির ভয় নাই সেগুলো ব্যবহার করুন। তাতে করে আপনার একাউন্ট এর সমস্যা হবে না। গান শোনা, ব্লগ পড়া, ইউটিউব দেখার কাজে আপনি ইচ্ছে কররে ফ্রি ওয়াই-ফাই ব্যবহার করতে পারবেন। মনে রাখবেন ফ্রি ওয়াই-ফাই থেকে অনলাইন ব্যাংকিং বা অনলাইনের কোন যোগাযোগ মাধ্যমে লগইন করতে যাবেন না। তবে আপনি VPN বা Virtual Private Network ও ব্যবহার করতে পারেন যদি নিতান্তই প্রয়োজন হয়। 

 

২. ওয়াই এর নামের ব্যপারে সচেতন থাকুন 

অনেক সময় হ্যাকাররা পরিচিত নামের বানানে সামান্য পরিবর্তন করে দিয়ে সেটার মাধ্যমে আপনার ডেটাগুলো নিয়ে নেয়। অনেক সময় আপনি যদি ফ্রি ওয়াই ব্যবহার করে থাকেন দেখবেন অটো যেসব ওয়াই ফাই এ ঢুকে যায সেগুলোর চাইতে যে সব ওয়াই-ফাই এর পাসওয়ার্ড লাগে সেগুলো ব্যবহার একটু নিরাপদ। তবে হ্যাকারদের তৈরি করা নেটওয়ার্কে প্রবেশ করতে আপনার কোন পাসওয়ার্ড নাও লাগতে পারে। সেক্ষেত্রে আপনি যখন কোন রেস্তোরাই যাবেন তখন ওয়াই-ফাই এর সঠিক বানান ও পাসওয়ার্ডটি জেনে তারপর ব্যবহার করবেন। 

 

৩. Wi-Fi এর পাসওয়ার্ডের ব্যপারে সচেতন থাকুন 

আমরা অনেক সময় দেখা যায় যে, একবার কোন ওয়াই-ফাই লাগানোর পর সেটি আর পরিবর্তণ করি না আসলে এটা কোন ভাবেই ঠিক না। আপনি মাঝে মাঝে না হলেও মাসে একবার নির্দিষ্ট সময়ে অবশ্যই পরিবর্তণ করবেন। তাতে করে হ্যাকাররা বুঝবে আপনি সচেতন। আর যদি পরিবর্তন না করেন তবে হ্যাকাররা বুঝবে আপনি সিকিউরিটির ব্যপারে বেশি সচেতন না। তখন সমস্যায় পড়বেন। তাই প্রতি মাসে একবার হলেও নাম ও শক্ত একটি পাসওয়ার্ড নির্বাচন করুন। অনেক সময় আমরা অটো কানেক্ট করে রাখি যখনই সেই এরিয়াতে যায় একবার কানেক্ট করার পর আবারও তখন অটোভাবেই কানেক্ট হয়ে যায়। এভাবে অনেক সময় হ্যাকারটা আপনার ডিভাইসটি হ্যাক করে ফেলতে পারে। 

 

৪. URL পরীক্ষা করে ব্যবহার করুন 

আপনি যখন কোন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করবেন তখন দেখবেন সেখানে https:// আছে কিনা। এটি ব্যবহার করা নিরাপদ আপনি এই URL যুক্ত সকল সাইটে ঢুকতে পারবেন আর যদি দেখেন http:// শেষে s অক্ষরটি নেই তবে সেই ওয়েব সাইট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে সাবধান হোন বা ব্যবহার করা থেকে দূরে থাকুন। তবে সন্দেহ হয় এমন কোন লিংক থেকে ডাউনলোড করা থেকে বিরত থাকুন। আপনি ভালো ব্রাউজার ব্যবহার করতে পারেন অথবা https:// নামে extension ব্যবহার করতে পারেন তাতে আপনার ব্যবহারটা নিরাপদ হবে। 

 

৫. ডিভাইসের নিরাপত্তা 

ডিভাইসের নিরাপত্তার জন্য আপনি অবশ্যই এন্টিভাইরাস ব্যবহার করুন। তবে ফ্রি নয় একটি ভালো মানের এন্টিভাইরাস ব্যবহার করুন তাতে আপনাকে অনিরাপদ ওয়েবসাইট ব্রাউজ করার ক্ষেত্রে সচেতন করবে। আমরা অনেক সময় কোন এন্টিভাইরাস ব্যবহার করি না বা ডিভাইসের নিরাপত্তার ব্যপারে সচেতন থাকি না। আর এই জন্য আমাদের অনেক সময় দেখা যায় যে কোন লিংক বা কোন সাইট নিরাপদ কোন সাইট নিরাপদ নয় বুঝি না। আর যারা সচেতন তাদের ক্ষেত্রে বিষয়টা আলাদা। উইনড্রোস অপারেটিং সিস্টেমে Firewall অপশান চালু রাখুন অথবা আপনি মোবাইলে Do not tract me অপশানটি চালু রাখুন এতে করে আপনি নিরাপদ থাকবেন। 

 

উপরের নিয়ম গুলো মেনে চললেই যে আপনি নিরাপদ সে বিষয়ে কিন্তু ১০০% গ্যারান্টি নেই। তবে সহজেই যে আপনি কারো টার্গেটে পড়বেন না সে বিষয়ে নিশ্চিত। 

 

কিভাবে ওয়াই-ফাই এর স্পিড বাড়াবেন ! 

    (ক) ৫ গিগাহার্টজ ডুয়েল ব্যান্ড বা ট্রাই-ব্যান্ড রাউটার ব্যবহার করুন। অর্থ্যৎ দুইটি বা তিনটা এন্টেনা যুক্ত রাউটার ব্যবহার করুন।

    (খ) ইথারনেট তারের মাধ্যমে কম্পিউটারের সাথে রাউটারের সংযোগ দিয়ে নিন।ইথারনেট তারের মাধ্যমে সংযোগ দেওয়া থাকলে ইন্টারনেট স্পিড অনেক ভালো থাকে।

    (গ) যেখানে ইন্টারনেট ব্রাউজ করা বেশি হয়, রাউটারটি তার কাছাকাছি রাখুন।

    (ঘ) রাউটারটি মাটিতে না রেখে টেবিলে বা ওপরে কোথাও খোলা জায়গায় রাখুন। তবে দেয়ালে ঘেষে না রেখে খোলা যায়গায় রাখলে ভালো হয়।

    (ঙ) রাউটারের উল্টোপাশে একটা রূপালি রঙের ফয়েল পেপার বসাতে পারেন। তাতে করে আপনার সিগনাল বেশ ভালো পাবে যেই ব্রান্ড তা ফলো করে বসাতে পারেন ফুয়েল পেপার।

    (চ) মেশ ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করুন।

    (ছ) নিয়মিত রাউটারের ফার্মওয়্যার আপডেট করুন।

    (জ) বাসা বা কাজের যায়গা অনেক বেশি বড় হলে রিপিটার, ওয়াইফাই রেজ্ঞ এক্সটেন্ডার বা পাওয়ার লাইন অ্যাডাপ্টার ব্যবহার করুন। বুস্টারও ব্যবহার করতে পারেন। 

    (ঝ) ওয়াইফাই সিগনালে ঝামেলা হতে পারে এমন ডিভাইস যেমন, টিভি, রেডিও, স্পিকার, ওভেন, হ্যালোজেন বাতি ইত্যাদি থেকে রাউটারটি দূরে রাখুন। 

    (ঞ) স্পিড দরকার এমন কাজগুলো অফ পিক টাইমে সেরে নিন। তারপরেও যদি দেখেন স্পিড কম পাচ্ছেন তবে ভিডিও কল বা ডাউনলোড বন্ধ করে অডিও কল ব্যবহার করুন। 

(a) Web Design and Development guideline


Leave a Comment