Why Enterpreneur 2021 || কেন আপনি ব্যবসায়ী হবেন ?

কেন আপনি ব্যবসা করবেন এটা জানার আগে আপনাকে জানতে হবে Enterpreneur কি বা এটা আসলে কি কাজ করে। চাকরী বা Job শব্দটা আমরা সবাই জানি আর অনেকেই একটা চাকরীকে চাকরের সাথে তুলনা করে থাকেন। তবে চাকরীর সুবিধা যেমন আছে তেমনি আছে অসুবিধাও আমি এখানে এসব আলোচনা করবো না। তবে একটা বড় অসুবিধা বলেই Enterpreneur সম্পর্কে বলবো। আপনি চাকরীজীবি হলে পরাধিন আর Enterpreneur হলে স্বাধীন। এখন আপনি নিজেই চিন্তা করুন স্বাধীন লাইফ আর পরাধীন লাইফের পার্থক্যটা কি। তবে বড় সুবিধা হলো মাস শেষে চাকরী করলে আপনি কোন সমস্যা ছাড়াই বেতন পাবেন কিন্তু Enterpreneur হলে আপনাকে বেতন দিতে হবে। 

Enterpreneur1


এই বিষয়টা যদিও মানসিক চাপের তবে আপনি একজন ভালো Enterpreneur হলে এটা কোন বিষয় না। কারণ এখন তো অনেক তথ্য আমরা আগে থেকেই জেনে কাজ শুরু করি। আগের মত আর অবস্থা নেই। Enterpreneur হওয়ার আগে আমরা অনেকের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে তারপর তা শুরু করি। যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা রিচার্স করা একটা প্রতিষ্ঠান গবেষনা করে বের করেছে যে বর্তমান শতকের মধ্যেই আমাদের দেশ বা এশিয়ার মধ্যে যারা জনসংখ্যার দিক দিয়ে বেশি তারাই বিশ্ব নেতৃত্ব দেবে। আর এই লিষ্টে অন্যতম একটি দেশ হলে বাংলাদেশ। একটা পরিসংখ্যান বলি, ২য় বিশ্বযুদ্ধের ২৫ বছর পরে জাপানে ‍যুবকদের সংখ্যা চিল ৬৫% যা বর্তমান বাংলাদেশে যুবকের শতকরা হার ৬৫% আর বৃদ্ধ ৩৫%। সেই সময়কার জাপান আজকের বিশ্বে সবচেয়ে প্রযুক্তিতে উন্নত দেশ হিসেবে নাম লিখিয়েছে। আপনি যদি কোন গাড়ি কিনতে চান তবে চোখ বন্ধ করেই জাপানের গাড়ি কিনতে পারবেন কোন সমস্যায় পড়বেন না কখনও। 

আর আগামী ২০-৩০ বছরের মধ্যেই পুরো পৃথিবীতে এশিয়ার দেশগুলো থেকে নেতৃত্ব দেওয়া শুরু হবে যার অন্যতম দেশকে বলা হচ্ছে BRICS = Brazil, Rasia, India, China, South Africa আর এর পরবর্তীতেই আসবে N11 যার অন্যতম একটা দেশ হিসেবে ধরা হচ্ছে বাংলাদেশকে। পুরো পৃথিবীর দেশগুলোর মধ্যে যারা আজকে নেতৃত্ব দিচ্ছে তারা শুধু এই জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে পরিণত করার কারণেই দিচ্ছে। হয়তো আমরা সাময়িক সময়টাতে বুঝতে পারছি না কেন আমাদের দেশের এত সম্ভবনা। প্রত্যেকটা দেশ তাদের ব্যবসার মাধ্যমেই উন্নত বিশ্বের খাতায় নাম লিখেছিয়ে তেমনি আমাদের দেশও এক সময় দেখা যাবে ব্যবসার মাধ্যমে অনেক বেশি উন্নতি লাভ করবে। হয়তো সেই দিন আর বেশি দূরে নয় যখন আমাদের দেশে Enterpreneur এর সংখ্যা অনেক বেশি পরিমাণে বৃদ্ধি পাবে। এখন আসুন জেনে নেওয়া যাক কেন আপনি Enterpreneur হবেন বা ব্যবসায়ী হবেন। 

enterpreneur2


উদ্যোক্ত হওয়ার প্রধান কিছু কারণ

=> স্বাধীনভাবে কাজ করা যায়

ধরুন আপনি সরকারী চাকরী করেন বা কোন কম্পানিতে চাকরী করেন। যদি সরকারী চাকরী করেন তবে যেখানে পোস্টিং হবে সেখানেই আপনাকে চাকরী শুরু করতে হবে আর ইচ্ছে করলেও আপনি আপনার নিজের মত করে চলতে পারবেন। আমার পরিচিত একজন সরকারী চাকরীজীবি তিনি চাকরী পাওয়া আগের অনেক চেষ্টা করেছিলেন একটা সরকারী চাকরীর জন্য কিন্তু চাকরীর ৬ মাস পর থেকে চিন্তা করেন আগে থেকেই যদি ব্যবসার করার চিন্তা করতাম তাহলে আজকে হয়তো অনেক ভালো করতে পারতাম। কম্পানির অবস্থাটা বললামই না। কারণ সরকারী চাকরীকেই বর্তমানে বলা হয় সোনার হরিণ। তবে আসলেও সোনার হরিন কিনা তা সদ্য চাকরী প্রাপ্ত ব্যাক্তিদেরকে জিজ্ঞেস করলেই পাবেন। একটা সময় ছিল মানুষের টাকার চাইতে সম্মানের দাম ছিল অনেক বেশি কিন্তু এখন পরিবারের জন্য হলেও চলার জন্য যথেষ্ট টাকা না থাকলে আপনাকে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে। তাই এক জরিপে দেখা গেছে আমাদের দেশের বেশিভাগ সরকারী চাকরীজীবি ৫ বছর পর চাকরী ছাড়তে চায় কিন্তু পরিবেশের কারণে তারা চাকরী করতে বাধ্য থাকে। 

=> নিজের মত করে লাইফ সাজানো যায়

আপনি নিজের লাইফটাকে মনের মতো করে সাজাতে চাইলে অবশ্যই আপনাকে Enterpreneur বা ব্যবসার দিকে অগ্রসর হতে হবে। কারণ একজন সরকারী চাকরীজীবি প্রতি ৩ বছর পর পর তার চাকরীর জায়গা পরিবর্তন হয় যেটা একজন Enterpreneur বা বাবসায়ীর হয় না। আপনি আপনার ব্যবসাটাকে বড় করতে পারবেন তবে আপনার নিজের অবস্থানটা আপনার নিজের মত করেই রেখে সেটা করতে পারবেন। আমাদের দেশের অনেক ব্যবসায়ী আছেন যারা দেশের বাইরে পর্যন্ত ব্যবসা করেন এবং বিভিন্ন সময় দেখা যায় তারা বিভিন্ন দেশের জায়গা কিনে রাখেন। আপনি দেশের বাইরে ভ্রমন করতে চাইলেও একজন Enterpreneur বা ব্যবসায়ীর জন্য সুযোগটা অনেক বেশি থাকে যেটা একজন চাকরীজীবির থাকে না। 

=> অন্যদেরকে চাকরী দেওয়া যায়

সরকারী চাকরীর বয়স সীমা অনেক বেশি বা ৬৫ বছর। অর্থ্যৎ একজন চাকরীতে প্রবেশ করার ৬৫ বছর পর্যন্ত সে কাজ বা চাকরী করতে পারবেন। এখানে আপনি অন্যদেরকে চাকরীর সুযোগ তৈরি করে দিতে চাইলে অবশ্যই আপনাকে ব্যবসায়ী বা উদ্যোক্তা হতে হবে। কারণ আপনি একটা ছোট পরিসরে কোন কাজ শুরু করতে গেলে আপনাকে অবশ্যই কিছু লোকজন নিয়ে শুরু করতে হবে যেখানে কর্মসংস্থান তৈরি হবে। আসলে একজন সাহস করে এগিয়ে আসলেই কিন্তু এই সমস্যা থেকে হয়তো একটু দেরি লাগবে তারপরেও সমাধান করা যাবে। আমাদের দেশে বর্তমানে ব্যবসায়ী হয়ে উঠার বা ব্যবসায়ীদেরকে সাহায্য সহযোগীতা করার জন্য অনেক বেশি লোকজন বা এজেন্সি তৈরি হয়ে গেছে। আপনি আপনার বিজনেস আইডিয়া শেয়ার করার মাধ্যমেও চারকীর সুযোগ তৈরি করতে পারবেন। 

=> দেশের বেকার সমস্যার সমাধান করা যায়

আমাদের দেশের সরকারী বা কম্পানির মোট চাকরী প্রতি বছর ১ থেকে ১.৫ লাখের মত হয়ে থাকে। তবে প্রতি বছর পড়াশোনা শেষ করে চাকরী বাজারে আসে মোট ২২ লাখের মত শিক্ষার্থী। আর এই সংখ্যাটা প্রতি বছরই আসে আমাদের চাকরীর বাজারে। এখন আসল কথা হলো এক বছর পরে সংখ্যাটা গত বছরেরটার সাথে যুক্ত হয়ে থাকে যা ডাবল হয়ে যায় এবং বর্তমানে বেকারের হার অনেক বেশি। আমাদের দেশে মধ্যবিত্ত পরিবারের চাহিদাই থাকে সরকারী চাকরী। খুব কম মানুষই ব্যবসার দিকে যায় এবং ব্যবসা করতে আগ্রহী হয়। আমাদের দেশের ব্যবসা বান্ধব পরিবেশটাও এতটা বেশি হয়ে উঠে নাই এখনও। তবে আপনি ব্যবসায়ী বা Enterpreneur হলে দেশের বেকার সমস্যার সমাধান করতে পারবেন। বেকার সমস্যা সমাধানের জন্য এর চাইতে ভালো কোন সুযোগ নেই। যেখানে আপনি আপনার নিজের পরিবারের জন্য কাজ করতে পারবেন আবার আপনি আপনার চারপাশের লোকজনকে চাকরীর মাধ্যমে বেকারত্ব দূরও করতে পারবেন। 

=> সামাজিক উন্নয়ন করা যায়ে 

একটা সমাজের উন্নতির জন্য সবচেয়ে বেশি যারা অবদান রাখে তারাই হলো Enterpreneur  বা ব্যবসায়ী। এখানে চারকীজীবিদের মাসিক আয় ও ব্যয় সমান থাকে আর বাড়তি কিছু টাকা জমানোর চেষ্টা করে যেন ভবিষ্যতে তাদের কাজে আসে। কিন্তু একজন ব্যবসায়ী ব্যক্তি নিজে বাচার পাশাপাশি সে অনেকের জন্য কাজ করে। আমি যদি এক কথায় বলি তবে বলবো যে, ব্যবসায়ীদের মানসিকতাটা চাকরীজীবিদের মানুসিকতা থেকে ভালো হয় আর্থিক অবস্থার কারণে। আমি অনেক চাকরীজীবিকে দেখেছি দিনশেষে সে ব্যবসার দিকেই আকৃষ্ট হয়ে থাকে। আসলে তারা চাকরীর একটা পর্যায়ে গিয়ে যখন নিজের অবস্থানটা যাচাই করে তখন সে বুঝতে পারে তার আসলে ব্যবসায়ী বা Enterpreneur হওয়া উচিত। কারণ আপনি একটা বিষয় লক্ষ্য করুন আপনি যদি একটা চাকরী করেন তবে সেই চাকরীটা যে আপনার সন্তান করতে পারবে বিষয়টা কিন্তু তা নয় কিন্তু আপনি যদি একটা ব্যবসা শুরু করেন আর আপনি যদি চান পরবর্তীতে আপনার সন্তান সেই ব্যবসাটা চালাতে পারবে। আর সামাজিক উন্নয়নের কাজে আমরা সর্বপ্রথম ব্যবসায়ীদের কাছেই সাহায্য চেয়ে থাকি তবে হ্যা সমাজে চাকরীজীবি লোকেরও অনেক প্রয়োজন আছে। 

=> দ্রুত আর্থিক অবস্থার উন্নতি করা যায় 

কেউ যদি বলে সে দ্রুত তার আর্থিক অবস্থার উন্নতি করা দরকার। তবে তার জন্য আমার পরামর্শ হলো আপনি ব্যবসা শুরু করেন। তবে হ্যা ব্যবসা শুরু করার আগে তার নিয়ম বা নীতি সম্পর্কে আপনাকে আগে জানতে হবে তবেই আপনি ভালো করতে পারবেন। কারণ শুধু মুখে বললেই যে আপনি ভালো করতে পারবেন বিষয়টা কিন্তু তা নয়। আপনি তখনই ভালো করতে পারবেন যখন ব্যবসাটাকে আপনি চাকরীর মত করে নেবেন। তাছাড়া শুধু শুধু টাকা নষ্ট করা হবে। চাকরী করে দ্রুত আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন করা যায় না। কারণ চাকরীতে আপনার আয়টা লিমিটেড এখানে আপনি প্রতি মাসে চাইলেও বাড়তি আয় করতে পারবেন না যেটা আপনি ব্যবসা করে করতে পারবেন। তাই একজন Enterpreneur হওয়াটা অনেক জরুরী তবে অবশ্যই আপনাকে জেনে এবং যেটা আপনি বা যেই সেক্টরটা আপনি ভালো বোঝেন সেটা নিয়ে কাজ করাটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। 

২০১৯ সালের জরিপ অনুযায়ী আমাদের দেশের যুবকদের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ৬৫% আর বৃদ্ধ আছে ৩৫% যেটা একটা দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য অনেক বড় একটা বিষয়। এই বিপুল সংখ্যা জনসংখ্যাকে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারলে একটা সময় দেখা যাবে এই বাড়তি জনসংখ্যাই জনসম্পদে পরিণত হয়েছে। আর সেই দিন হয়তো খুব বেশি দেরি নেই যখন আমাদের দেশের পণ্য সারা পৃথিবীতে বিক্রি হবে। পৃথিবীর মোট জনসংখ্যা যেখানে নেগেটিভ সেখানে বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার পজেটিভ। শুধু প্রয়োজন এই জসংখ্যাকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো। একটা দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতির জন্য ব্যবসা বাদ্ধব পরিবেশ তৈরি করাটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি আর্টিকেলটি আপনাকের সকলেরেই অনেক উপকারে আসবে। ধন্যবাদ সবাইকে মূল্যবান সময় নিয়ে আর্টিকেলটি পড়ার জন্য। 


Leave a Comment