Five Skill For Entrepreneur || নতুনদের জন্য ব্যবসা শুরুর ৫টি পরামর্শ

Entrepreneur বলা হয় তাদেরকে যারা কেবল মাত্র ব্যবসা বা উদ্যোক্তার খাতায় নাম লিখিয়েছে বা যারা নতুন ব্যবসায়ী। একজন Entrepreneur এর জন্য কিছু নিয়ম বা স্কিল বা কি কি স্কিল থাকা জরুরী সেটা জানা অনেক বেশি জরুরী কারণ আমরা নতুন অবস্থাতে অনেক সময়ই ব্যবসাটাকে গুছিয়ে নিতে পারি না। আর দেখা যায় ৬ মাস পর হাল ছেড়ে দেয় আর এই স্কিলগুলো যদি একজন নতুন Entrepreneur এর মধ্যে শুরুতেই থাকে তবে আমার মনে হয় সে অনেক ভালো করতে পারবেন। আসুন এবার আলোচনা করা যাক স্কিলগুলো নিয়ে। 

 

Five Entrepreneur Skill

 

১. ডেড লাইন ছোট করা বা Set 24 Hours Goal Or Weekly Goal

 

আমরা অনেকেই মানে আমি নিজেও এই কাজটা করে থাকি যে, একটা প্রজেক্ট শুরু করতে হবে বা বাসার একটা কাজটা করতে হবে দেখি আগামী মাস থেকে শুরু করবো। কিছুদিন আগেই তো আমি ভেবেছিলাম একটা ওয়েবসাইটে ডোমেইন ও হোস্টিং কিনতে হবে অথচ তিনমাস হলেও সেটা আর হয় নাই। অবশেষে সেদিন রাতে বসে তখনই অনলাইন ব্যাংকিং থেকে টাকা দিয়ে সাথে সাথেই কিনে ফেললাম। আসলে একটা কাজ করতে হবে আর সেটা আজকেই শুরু করবো এমন প্রতিজ্ঞা করলে অবশ্যই সেটা করা সম্ভব তাছাড়া আসলে করা সম্ভব হয়ে উঠে না। আপনি কোন কাজ শুরু করবেন যতটা সম্ভব দ্রুত শুরু করার চেষ্টা করুন। কারণ আপনি যদি অনেক দেরি করে শুরু করার জন্য স্থির করেন তবে সেটা আর হয়ে উঠবে না। 

 

মনোবিজ্ঞানীরা বলেন আমরা যখন রেগে যায় তখন আমরা যদি ৩০ সেকেন্ড নিজেকে নিয়ন্ত্রন করতে পারি তবে সেই রাগের প্রভাবটা বেশি আসে না। আর যদি ৩০ সেকেন্ড নিয়ন্ত্রণ করতে না পারি তবে রাগ বাড়তেই থাকবে। এরকমই আমরা যখন কোন কাজ শুরু করার জন্য লম্বা সময় নির্ধারণ করবো তখন আসলে সেটা আমাদের অলসতা বাড়িয়ে দেবে আর মনে হবে সময় তো আছেই পরেও তো করা যাবে। আসলে এই পরে আর হয়ে উঠে না। তাই যখন কোন কিছু ভাববেন তার To-Do লিস্টে রেখে দ্রুতই শুরু করে দেবেন। সর্বোচ্চ্য এক সপ্তাহ সময় নিতে পারেন তবে আমার মনে হয় ২৪ ঘন্টার মধ্যে শুরু করা বেস্ট। 

 

২. নিজের Value যুক্ত করা বা Add More Value To Your Product

 

আপনার ধরুন কোন প্রডার অনেক ভালো যেমন ধরুন আপনি অনেক ভালো রান্না করতে পারেন। আর এই কাজটা আপনি নিজের পছন্দতেই করে থাকেন আমি বলবো সেই কাজতেই আপনি অনেক বেশি সময় দিন। কারণ মানুষ তার পছন্দের কাজে কখনও বিরক্ত হয় না। আপনি পছন্দের কাজগুলোতে নিজে থেকে সময় দিয়ে করার চেষ্টা করুন। দেখে থাকবেন একটা কম্পানির মালিক যখন কোন কাজে নিজে যুক্ত থাকে তখন সেটার গুরুত্বটা অনেক বেড়ে যায়। আর প্রত্যেক কম্পানিরই একটা সিগনেচার প্রডাক্ট থাকে সেই প্রডাক্টটা যেন মানের দিক থেকে সর্বোচ্চ্য থাকে সেই বিষয়টা নিশ্চিত করার জন্য সেই প্রডাক্ট এর পেছনে আপনি নিজেই সময় দিন। 

 

আপনি একটা কাজ করতে করতে আরেকটা শুরু করবেন না আগে সেটা শেষ করুন তারপর শুরু করুন তাতে সেই কাজটা ভালো হবে। কারণ আপনি কোন কাজের মাঝপথে আরেকজনে দায়িত্ব দিলে সে তার গুরুত্বটা বুঝবে না। আর যিনি কোন কাজ শুরু করেন তার গুরুত্বটা তিনি অনেক ভালো বোঝেন আমার ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে আমি বলতে পারি। আমি যেমন ওয়েব ডিজাইনের কাজটার মধ্যে ডাটাবেজের কাটা ভালো বুঝি বা পারি। আমি কোন প্রজেক্ট করার সময় ডাটাবেজের কাটা আমি নিজেই ডিজাইন করার চেষ্টা করি তাতে আমার নিজের সময় লাগলেও কাজটা অনেক ভালো হয়। তাই আমি বলবো আপনি নিজেই নিজের প্রডাক্ট এ কিছু সময় বের করে দিন তাতে আপনি অনেক ভালো ফলাফল পাবেন। 

 

৩. নিজের সময়ের মূল্যায়ণ করা বা Value Your Time, Outsource Your Work As Much As you Can

 

আমরা আসলে নিজের সময়ের মূল্যায়ন অনেক মানুষই করি। আমরা নিজেরাই সব কাজ করতে চায় বা সব কিছুই জানতে চায়। আপনাকে যদি বলা হয় আপনি কি নিজে একা ডাক্তার, নার্স, উকিল, শিক্ষক, বিমানচালক একা সব হতে পারবেন। উত্তর অবশ্যই না আসবে কারণ একজন মানুষের পক্ষ্যে একাকী সব কাজ করা কখনই সম্ভব নয়। আমরা নিজেরা এই ভূলটা অনেক সময় করে থাকি। ধরুন আপনার বাসার একটা রুম রং করা দরকার। তো আপনি রং মিস্ত্রিকে ডাকলে সে যা টাকা চাইলো আপনি মনে করলেন এত টাকা দিয়ে করানোর চাইতে আমিই তো করতে পারি। কারণ অনলাইনে ভিডিও দেখলে বা পরিচিত কাউকে জিজ্ঞেস করলে আপনি নিজেও সেটা পারবেন। আমারও বিশ্বাস আপনি পারবেন তাই বলে কি আপনি সেটা শুরু করে দেবেন ? 

 

একটা কিন্তু নিজের সময়টা নষ্ট করার বা নিজের সময়ের অবমূল্যায়ন করার মতই। কারণ আপনি যতটুকু সময় দিয়ে শিখবেন বা করবেন তাতে একজন রং মিস্ত্রির এতটা সময় লাগবে না কার সে এই কাজে অভিজ্ঞ। আপনি নতুন বিধায় আপনার সময়টা বেশিই লাগবে। তাই আপনার উচিত হবে তাকে দিয়েই কাজ করা আর নিজের সময়টা নিজের ব্যাক্তিগত কাজে দেওয়া এতে করে আপনার সময়ের সঠিক মূল্যায়ন করা হবে। আপনার নিজের কাজের গুরুত্বটা যদি আপনার কাছে না থাকে তবে আরেকজনের কাছে থাকবে না এটাই স্বাভাবিক। তাই নিজের কাজের গুরুত্ব দিন এবং নিজের সময়ের মূল্যায়ন করুন। 

 

৪. বিভাবে বিক্রি হবে জানতে হবে বা Learn How To Sell

 

ইংরেজতে একটা কথা আছে, Sell Skill is more important any kind of business. অর্থ্যৎ বিক্রিয় বাড়ানোর দক্ষতাটা অনেক বড় একটা দক্ষতা যে কোন ব্যবসার জন্য। এটা একজন সেলসম্যানের জন্য অনেক বড় একটা গুন। আর এই গুণ শেখার জন্য আপনাকে যা যা করার দরকার সেগুলো যত দ্রুত সম্ভব করার চেষ্টা করুন। প্রত্যেকটা নতুন ব্যবসায়ীর উচিত ব্যবসায়ী হওয়ার আগে সেলসম্যান হওয়া। কারণ একজন ভালো সেলসম্যান এক সময় অনেক বড় ব্যবসায়ী হতে পারে। 

 

আমাদের দেশের অনেক অভিজ্ঞ আছে যারা সুন্দর করে শেখায় বা ট্রেইনিং করাই কিভাবে বিক্রি বাড়বে তা নিয়ে। আমার মতে তাদের সেশান বা তাদের কাছে আপনি কিছু সময় দিতে পারেন। আর হ্যা বর্তমানে কিন্তু আপনি জানেন কিনা জানি না ইউটিউবে সব পাওয়া যায়। আপনি কিভাবে ওয়েব পেজ করবেন কোথায় থেকে কিনবেন ডোমেইন ও হোস্টিং করবেন কোথায় থেকে। কোন কম্পানি টপ কোন কম্পানির সেবা ভালো সব তথ্যই পাবেন আপনি গুগল বা ইউটিউব থেকে। আপনার হাতের কাছেই সব কিছু আছে আপনাকে শুধু একটু কষ্ট করে বের করে নিতে হবে এই যা। আসলে আমরা এই সময়টাও দিতে চায় না। আমার ব্যাবসা ও উদ্যোক্তা ক্যাটাগোরিতেও কিছু পোস্ট আছে আপনি চাইলেই দেখে নিতে পারেন কিভাবে বিক্রয় বাড়াবেন সেটা দেওয়া আছে সুন্দর করে। 

 

একটা প্রতিষ্ঠানের বা কম্পানির মার্কেটিং এবং সেলস করা বিষয়টা কিন্তু এক নয়। কারণ মার্কেটিং মানে কম্পানির নামটা শুধু প্রচার করা আর সেলস করা মানে আপনার কম্পানির প্রডাক্ট আরেকজনকে দিয়ে কেনানো যেটা অনেকটা কঠিন কাজ। সেলস করার ক্ষেত্রে অনেক সময় নিজেকে সেল করতে হয়, অনেক সময় রিপিট কাস্টোমার পাওয়ার জন্য অনেক পদ্ধতি সেল করতে হয আবার অনেক সময় আপনি আপনার কম্পানির জন্য বা প্রডাক্ট এর জন্য আপনার কথার মাধ্যমে প্রডাক্টগুলোকে সেলস করতে হয়। আসলে আপনি নিজের যদি পারেন তবে আপনি ভালো রিডাশিপ দিতে পারবেন আর ভালো লিডারশিপ ছাড়া ব্যবসা বড় করা যায় না। 

 

৫. বেশি মিটিং না করা বা Stop Doing Meeting

 

মিটিং যত কম করতে পারবেন আপনার প্রডাক্ট এর প্রডাক্টটিভিটি ততটাই বাড়বে। এই করতে হবে, ঐ করতে হবে, কালকে এখানে তো পরশু আরেকস্থানে মিটিং এসব করে করে আপনি আপনার সময়টা নষ্ট করা থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করুন। আমি নিজেও যখন একটা স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলাম তখন আমার প্রতিষ্ঠানের মালিক প্রতি বৃহস্পতিবার মিটিং করার জন্য বলতেন আর পুরো সপ্তাহের কথাগুলো বা সমস্যাগুলো সেখানে আলোচনা করা হতো। আসলে এটা সময় নষ্ট করে অনেক সময়। তবে আপনি মিটিং যদি করতেই হয় তবে সেটাকে কিভাবে সময় বাচিয়ে করা যায় সেই বিষয়টা মাথায় রাখবেন। তবে লাইভ মিটিং এর চাইতে ইমেইল মিটিং অনেক গুরুত্বপূর্ণ আপনি ইমেইলে প্রতি সপ্তাহে যাদের সাথে মিটিং করবেন মতামত জানিয়ে দিযে তাদের মতামত জানার জন্য মেইল করতে পারেন। সেটা আপনাকে ফিজিক্যাল মিটিং এর চাইতে ভালো সুবিধা দেবে এবং কষ্ট কমানোর বিষয়ে সহযোগীতা করবে। 

 

মিটিং না করার কথা আসলে কেন বলা হচ্ছে জানেন। কারণ আপনি যখন লাইভ মিটিং করবেন বা ফিজিক্যাল মিটিং করবেন তখন আপনি আগে সবার সাথে ভাব বিনিময় করবেন, কেমন আছে বা বর্তমান পরিস্থিতি বর্ননা করবেন এসব করতে করতে দেখা যাবে যে আপনার অনেকটা সময় চলে যাবে আর এই সময়টা নষ্ট না করার জন্যই মূলত মিটিং না করা বা পদ্ধতি পরিবর্তন করার কথা বলা হয়েছে। 

 

আসলে প্রত্যেকটা ব্যবসার জন্য আপনাকে বেশ সময় দিতে হবে। আপনি আজকে ব্যবসা শুরু করলে আর আগামী মাস থেকেই আয় করবেন এটা যদি আপনি ভাবেন তবে আপনার জন্য ভাই ব্যবসা না আপনি আগেই ব্যবসা বা উদ্যোক্তা হওয়ার আশা ছেড়ে দিয়ে আগে পুরো বিষয়গুলো শিখতে থাকেন। একজন নতুন ব্যবসায়ী হিসেবে এই বিষয়গুলো আপনাকে মানতেই হবে বিষয়টা এরকম নয় তবে আপনাকে অবশ্যই নিজের হলেও কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। কারণ নিয়ম ছাড়া আমরা কোন ব্যবসাতেই ভালো করতে পারবো না। আশা করি উপরের পয়েন্টগুলো আপনাদের উপকারে আসবে আর আপনারা বিষয়গুলো জেনে তা মেনে ব্যবসা শুরু করবেন। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ মূল্যবান সময় নিয়ে ব্লগটি পড়ার জন্য। 


Leave a Comment