Business Marketing 10 Tips 2021 || ব্যবসার মার্কেটিং করার ১০টি টিপস

বর্তমান সময়ে আপনাকে যদি বলা হয় আপনি ৫টা বড় কম্পানির নাম বলুন তো ? তাহলে আপনি কাদের নাম বলবেন জানেন ? নিজেকে প্রশ্ন করে দেখুন তো কি উত্তর আসে। দাড়ান আমি বলে দিচ্ছি আপনি সে সকল কম্পানির বিজ্ঞাপন দেখেছেন আর যে সকল কম্পানি সম্পর্কে তথ্য আপনি জানেন সেগুলোই বলবেন। এর বাইরে আপনার কোন নাম আসবে না। তাহলে আমরা আসলে আসলে যেভাবে কম্পানির নাম জানি সেই কম্পানির জানানোর পদ্ধতিটাকেই বলা হয় মার্কেটিং। আসুন জেনে নিই কিভাবে মার্কেটিং করবেন ! 

১. পণ্য সম্পর্কে তথ্য সকলকে জানানো 

আপনি কোন পণ্য সেল করবেন বা কি ধরনের ব্যবসা করবেন সেটা মানুষকে জানাতে হবে। শহরে দেখবেন বাসের মধ্যে বা ফ্লাই ওভার ব্রিজের উপরে লিফলেট বিতরণ করে থাকে আসলে এরা মূলত পণ্যের নামগুলো মানুষের কাছে পৌছায়। আর যেই পণ্য যত পরিচিত হবে সেই পণ্যের তত বেশি চাহিদা থাকবে মার্কেটে। আমরা অনেক সময় দেখি পরিচিত কম্পানির বা যেই নাম মনে থাকে সেই সকল পণ্য আগে গিযে কিনি। ধরুন আপনি জ্বরের সাধারণ একটা ঔষধ কিনবেন তো আপনি দোকানে গিযে কিন্তু নাপার কথাটাই বলবেন কারণ এই নামটা সকলের পরিচিত। এতটাই পরিচিত যে গ্রামের মুদির দোকানদাররাও এই ঔষধটা রাখে বা স্যালাইন কিনলে আপনি ওর স্যালাইন বা টেস্টি স্যালাইন এই দুইটাই আগে বলবেন। এই সবই হলো পণ্যে মার্কেটিং আর তাই আমি বলবো যতটা বেশি সম্ভব পণ্যের নাম মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিন। 

ইদানিং টেলিভিশানে বিভিন্ন নাটক বা সিনেমার ক্ষেত্রেও এই বিষয়টা দেখে থাকি। তারা আগে সেই নাটকের আসল কিছু দৃশ্য নিয়ে ট্রেলার বানাই আর এটা দেখে দর্শক আকৃষ্ট হয় এবং যেই দিন রিলিজ হবে সেই দিন দেখা যাচ্ছে যে সেটা দেখার জন্য অনেক বেশি দর্শক হয়। আর একজন আরেকজনকে বলে নিজেরাই মার্কেটিংটা বাড়িয়ে দেয়। আসলে মার্কেটিং এর বিভিন্ন ধরন আছে যার অন্যতম হলো পরিচিতি বাড়ানো। 

২. ওয়েব একটা ওয়েব সাইট রাখা 

আপনি যদি বড় করে কোন কিছু ভাবতে থাকেন তবে অবশ্যই চেষ্টা করবেন একটা নিজের প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসার নামে ওয়েবসাইট রাখার। একটা ওয়েবসাইট বানাতে বেশি খরচ হয় না তবে এটা ব্যান্ড হিসেবে কাজ করে। যখন একজন ক্রেতা দেখবে আপনার কম্পানির তথ্যগুলো গুগলেও খুজলে পাওয়া যায় বা বিভিন্ন আপডেট তথন ক্রেতারা বিশ্বস্ত জায়গা মনে করবেন এবং অনলাইন হলে তো অবশ্যই অনেক ভালো কাজে দেবে বিষয়টা। ওয়েব সাইটটাকে অবশ্যই আপডেট রাখতে হবে আর আপডেট না রাখলে ক্রেতারা আপনাদের আপডেট কোন তথ্য না পাওয়ার ফলে হিতের বিপরীত হবে। সপ্তাহে বা মাসে হলেও সেটাকে আপডেট করবেন তাহলে এটাও একটা মার্কেটিং হিসেবে কাজ করবে। কারণ বর্তমানে কেউ কোন পণ্য কিনলে আগে গুগল থেকে ধারণা নিয়ে আসে আর আপানর ওয়েব সাইটে যদি বর্ণনা ভালো থাকে তবে সেখান থেকেও আপানর ক্রেতা বাড়বে আশা করি। 

আমাদের দেশে অনেক কম্পানিরই ওয়েব সাইট আছে কিন্তু তা আপডেট রাখা হয় না। আর যার কারণে অনেক কম্পানি দেখা যায় তাদের পণ্যের মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে কিছু ভুল করে থাকে। বর্তমানে মানুষ সিকিউরিটি নিয়ে অনেক বেশি সচেতন আর আপনি যখন কোন ক্রেতাকে সিকিউরিটি নিশ্চিত করতে পারবেন তখন ক্রেতারা আপনার পণ্যই ব্যবহার করবে এবং তারা একজন আরেকজনকে বলবে। তাই চেষ্টা করবেন ব্যবসার শুরুর দিকে না হলেও মাঝপথে একটা ওয়েবসাইট বানানোর। 

৩. পণ্য ও ক্রেতার তালিকা সংরক্ষণ করা 

আপনার কাছে কি কি পণ্য আছে আর ক্রেতারা কি ধরনের পণ্য বেশি কিনছেন। একজন ক্রেতার কি কি পণ্য নিয়েছেন আর পরবর্তীতে এসে আবার কি ধরনের পণ্য নিচ্ছেন এবং সকল তথ্য অবশ্যই আপনার কাছে জমা থাকতে হবে। তবে বর্তমানে ডিজিটাল যুগে আপনি ডিজিটাল ভাবে জমা রাখতে পারলে এনালাইসিস করা আপনার জন্য অনেক সুবিধার হবে। বর্তমানে ডাটাবেজের মাধ্যমে আপনি সকল তথ্য রেখে দিতে পারবেন আর মাস বা বছর শেষে আপনি নিজের কম্পানির কোন কোন পণ্য বেশি আর কোন বয়স বা কোন ধরনের ক্রেতা বেশি আসছে সেটা নিয়ে গবেষনা করতে পারবেন। 

ধরুন মাস শেষে দেখছেন আপনার দোকানে টি-শার্ট এর অডার বেশি আসছে আর ১২-২২ বছর বয়সীরা বেশি আকৃষ্ট তাহলে আপনাকে সেই ধরনের পন্য বেশি রাখতে হবে যেন তারা আসলে আপনার পণ্যগুলো দেখে পছন্দ করে এবং কিনে। আসলে এই ধরনের এনালাইসিস অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা কম্পানির বড় হওয়ার জন্য। 

৪. ভালো মানের পণ্য ও বাজার দাম নিয়ে কাজ করা 

আপনাকে অবশ্যই ভালো মানের পণ্য নির্বাচন করতে হবে কারণ বর্তমান বাজার প্রতিযোগীতার বাজার। আপনার হাতে অনেক অপশান আছে তাই আপনি যদি ভালো পণ্য না দেন তবে রিপিট কাস্টোমার আপনি পাবেন না। আর রিপিট কাস্টোমা না পেলে বুঝবেন আপনার মার্কেটিং হচ্ছে না। ডিজিটাল যুগে মার্কেটিং এর ফলাফল পেতে বেশি সময় লাগে না শুধু টেকনিক আর বিশ্বস্ততা অর্জন করতে হয়। আপনি যদি ভালো মানের পণ্য নিশ্চিত করতে পারেন। 

বর্তমান বাজারে সবচেয়ে বেশি দামের মোবাইল হলো অ্যাপেলের মোবাইল কারণ কি জানেন ? তার মান আর প্রতি বছর বা প্রতি নতুন সেট আসার আগেই সকল পণ্য অনলাইনে প্রিঅডার দিযে শেষ হয়ে যায়। বিগত বছরগুলোতে দেখে থাকলে দেখবেন তাদের প্রত্যেকটা ফোন বাজারে আসার আগেই সেল হয়ে যেতো আর তারা নতুন করে নির্দিষ্ট সংখ্যার বেশি বানাতেন না। এতে করে তাদের পণ্যে একটা বৈশিষ্ট্য ক্রেতার কাছে থাকতো এবং খোজ রাখবে কিভাবে নতুন ফোন আসার আগেই অডার করতে হবে। আর এই পদ্ধতিটা অ্যাপেলকে কতগুলো ফোন বানাতে হবে সেই বিষয়টা এনালাইসিস করতে সহযোগীতা করে থাকে। আর অ্যাপেলের মানের জন্য দাম বেশি হওয়া সত্ত্বেও বিক্রি বেশি হয়। 

৫. বিক্রয়ের স্থান সুন্দর করা 

স্থান নির্ধারণ অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আপনি যখন কোন পণ্য সেল করবেন সেটার কাস্টোর কেমন হবে সেটা দেখেই স্থান নির্ধারণ করবেন। আপনি যদি কোন গ্রামের মধ্যে গাড়ির দোকান দেন তবে কিন্তু আপনার সেল হবে না কারণ গাড়ি কেনে এমন লোক শহরে অঞ্চলে থাকে আর গ্রামে চা-পানের দোকান বেশি চলে। তারপর আমরা যখন বাজারে বাজার করতে যায় তখন দেখবে যে কাঁচাবাজারের স্থানে কাঁচাবাজার এবং অন্য বাজারের স্থানে অন্য বাজার থাকে। মুরগী যেখানে বিক্রি করে সেখানে আপনি সবজির দোকান দিয়ে সেটা চলবে না আর এই জিনিসটা আপনাকে মাথায় রেখেই পণ্য বিক্রয়ের স্থান নির্ধারণ করবেন। বর্তমানে অনলাইনে দেখবেন আপনি সকল পণ্যগুলা একটা কম্পানির থাকলেও তারা কাট্যাগরি ভাগ করে দেয় যার ফলে তারা অনেক সহজেই কাস্টোমারের কাছে পৌছাতে পারে। 

৬. সময়মত যোগাযোগ করা 

শীতের সময় যেই পণ্য চলে সেই পণ্য নিয়ে আপনি মার্কেটিং করলে বা কাস্টোমারের সাথে যোগাযোগ করলে আপনি ভালো সাড়া পাবেন। কিন্তু আপনি যদি শীতের সময় গরমের পোশাক বা পণ্য নিয়ে কাস্টোমারের সাথে যোগাযোগ করেন তাহলে কিন্তু আপনি তেমন সাড়া পাবেন না। আর কাস্টোমারদের Data রেখে মাঝে মাঝে আপনি তাদেরকে অভার দেবেন তাতে আপনার পণ্যের মার্কেটিং হয়ে যাবে। বয়স অনুসারেও আপনি এই কাজটা করতে পারবেন। আপনি কোন কাস্টোমারকে যখন একটা নির্দিষ্ট সময় বলে দেবেন আপনার সেই সময়টাতেই কিন্তু কাস্টোমারের সাথে যোগাযোগ করতে হবে এতে করে আপনি কাস্টোমারের মনোযোগ আকর্ষন করতে পারবেন। আমরা মানুষ আরেকজন আমাকে মূল্যায়ণ করবে। এই বিষয়টাকে অনেক বড় করে দেখি আর কাস্টোমারের সাথে আপনি নিজে থেকে যোগাযোগ করবেন বিনয়ী হয়ে। এটা অবশ্যই আপনার পণ্য বা কম্পানিকে অনেক ভালো পজিশানে নিয়ে যেতে সহযোগীতা করবে। 

৭. কাস্টামার সেন্টার 

কম্পানি বড় হলে এই বিষয়টা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। Shopify.com এর কথা আমরা সবাই জানি তাদের বিজনেস পলিসিও আমরা দেখে থাকবো হয়তো। তারা প্রথমে মানুষকে ফ্রি ই-কমার্স এর সাইট তৈরি করে দিতো আর যখন কম্পানি বড় হযে গেলো তখন বিভিন্ন জায়গায় কাস্টোমার সেন্টার তৈরি করে মানুষকে বোঝাতে শুরু করলো যে তাদের কম্পানির সুবিধা গুলো। এতে করে কিছুদিনের মধ্যে কম্পানির সেলস অনেক বেড়ে গেলো। আসলে এটা একটা পদ্ধতি। কাস্টোমাররা কোন কম্পানির সেবা দেখে আগ্রহী হয়ে থাকে। আমি একটা মোবাইল কিনেছিলাম তো কিছুদিন যাওয়ার পর সমস্যা দেখা দেয় আমি কাস্টোমার সেন্টারে নিয়ে যায় এবং তারা তিনদিনের মধ্যেই সেটা ঠিক করে আমাকে দেয়। এর ফলে আমি অন্যদেরকে সেই কম্পানির মোবাইল কিনতে বলি কারণ সমস্যা হলে ঠিক করার ব্যবস্থা আছে। 

৮. রিপিট কাস্টোমার বাড়ানো 

আপনি যখন রিপিট কাস্টোমার পাবেন তখন বুঝবেন আপনার পণ্যে বা কম্পানি আগাচ্ছে। আর এই কাজটার জন্য আপনাকে অবশ্যই ডাটা এনালাইসিস করতে হবে। রিপিট কাস্টোমার একটা কম্পানির বা পণ্যের জন্য অনেক বড় একটা বিষয়। আমরা অনেকেই বিষয়টাকে বেশি গুরুত্ব দিতে চায় না। কিন্তু পণ্যের মান ভালো না মন্দ তা রিপিট কাস্টোমার আসলে বোঝা যায়। আপনি যখন পণ্য পাঠাবেন বা দেবেন সেই সময়টাতে পণ্য সম্পর্কে যেই রকম তথ্য দিয়েছে সেরকম তথ্য যদি বাসায় গিয়ে সে না দেখে তবে রিপিট কাস্টোমার আসবে না। আর যদি আপনার বর্ণনা মত পণ্যটা হয় বা বর্ননার চাইতেও ভালো হয় তবে সেই কাস্টোমার আসবে। সার্ভে করতে হবে যেটা বড় বড় কম্পানিরা করে থাকে। কিছুদিন আগে আমাকে একজন F-Comarce এর এক ভাই বলল সে প্রথম পণ্যটা একজন যখন দিয়েছে তখন বেশি ভালো দিতে পারে নাই। আমি তাকে বললাম যদি পণ্যের পরিমাণ কমও হয় তবে তাকে আবার পাঠাতে এটাই মার্কেটিং এর ইনভেস্ট। কাস্টোমার যখন দেখবে আপনি কাস্টোমারকে মূল্যায়ন করছেন তখন সে আপনার পণ্যের প্রতি আকৃষ্ট হবে। 

৯. নির্দিষ্ট পরিমাণ সেলস এর জন্য অফার দেওয়া 

এটা একটা টেকনিক। দেখে থাকবেন বড় বড় শপিং মলে বা দোকানে মোট ৫ হাজার টাকার উপরে কিনলে বা ১০ হাজার টাকার উপরে কিনলে ডিসকাউন্ট বা টোকেন দেয় যেন পরবর্তীতে আসলে আরও কম রাখতে পারে। এটা ব্যবসার একটা পদ্ধতি। অনেক সময় ক্রেতারা পরে সেই টোকেনের জন্য আবার আসে। আর যদি পণ্যের মান ভালো হ তবে সে পারমানেন্ট ক্রেতাও হয়ে যেতে পারে। আমি গত বছর আমার স্থানীয় এক দোকান থেকে মুদি জিনিসপত্র কিনতাম কিন্তু কিছুদিন পরে বা একদিন দেখি ওনার দোকান বন্ধ পরে অন্য দোকানে জিনিসটা কিনে দেখি আগে যার কাছে থেকে কিনতাম সে দাম বেশি রাখতো। তারপর থেকে আমি আর তার দোকানে জিনিস কিনি না। এভাবে কিছু নিত্যপণ্যের দাম কম রাখলে অনেক সময় ক্রেতারা আকৃষ্ট হয়। 

আপনার কোন পদ্ধতিটা কাজে লাগবে আর কোনটার কারণে আপনার সেলস বাড়বে বা মার্কেটিং হবে সেটা কিন্তু বলা মুসকিল তবে অবশ্যই চেষ্টা করা উচিত এসব পদ্ধতিগুলো সঠিকভাবে ব্যবহার করা। 

১০. কাস্টোমারদের সাথে ভালো ব্যবহার করা 

কাস্টোমারদের সাথে অবশ্যই আপনাকে ভালো ব্যবহার করতে হবে। কারণ একজন কাস্টোমার আপনাকে আরও কাস্টোমার এনে দেবে আর আপনি যদি তাদের সাথে ভালো ব্যবহার না করেন তবে আপনি কখনই ভালো করতে পারবেন না। এজন্য অনেক কম্পানিই দেখে থাকবে সুন্দর করে কথা বলতে পারে এমন কাউকে সামনে রেখে দেয় আর সে স্বাগত জানায়। আপনার ব্যক্তিগত কোন কাজের চাপ বা কোন খারাপ অবস্থা যেন কাস্টোমার বুঝতে না পারে সেই দিকটা মাথায় রেখে তাদের সাথে সর্বোচ্চ্য ভালো ব্যবহার ব্যবসায়ে মার্কেটিং এর অন্যতম একটা ধাপ। কারণ কাস্টোমার নিজেরা বলতে থাকবে এই কম্পানির ব্যবহার ভালো আর এরা অনেক বিনয়ী। এসব বিষয় আপনাকে অনেক বড় কম্পানি করতে সাহায্য করবে। 

উপরের ১০টা পয়েন্ট আমরা যদি মাথায় রাখি তাহলে অনেক সহজেই আমরা মার্কেটিং করতে পারবো এবং মার্কেটিং এ ভালো করতে পারবো। উদ্যোক্তা হতে গেলে আপনাকে অবশ্যই ভালো সেলসম্যান হতে হবে। আর ভালো সেলসম্যান না হলে আপনি কখনই ভালো উদ্যোক্তা হতে পারবেন না। প্রত্যেকটা ব্যবসারই আসল নীতি হলো দিনশেষে কাস্টোমারদেরকে খুশি রাখা। 


Leave a Comment