Affiliate Marketing এর মাধ্যমে সফল হওয়ার সম্পূর্ণ গাইডলাইন

গাইডলাইন শুরু করার আগে জেনে নেওয়া যাক Affiliate Marketing বা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং টা আসলে কি সেটা। Affiliate Marketing বা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হচ্ছে মুক্ত বাজার ব্যবস্থা। যা হলো অনলাইনে আপনি আরেকজনের মালামাল বা পণ্য বিক্রি করে দেবেন এবং তার বিনিময়ে আপনি কমিশান নেবেন। এটাকে Win Win Condition হিসেবেও ধরা যায়। এখানে যার পন্য বিক্রি করে দেবেন সেও যেমন লাভবান হবে তেমনি লাভবান হবেন আপনিও। বর্তমানে অনলাইন মার্কেটিং এর জগতে Affiliate Marketing বা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর ধারণা অন্যতম একটা ধারণা। 

Affiliate Marketing এর মাধ্যমে সফল হওয়ার সম্পূর্ণ গাইডলাইন

একটা উদাহারণ দেওয়া যাক। ধরুন আপনি একটা মার্কেটে দোকান নিয়েছেন। সেখানে আপনি বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করেন। প্রতিদিন আপনি আয় করেন ৫০০ টাকার মত আর যদি গড়ে কাস্টোমারের সংখ্যা ধরির তবে প্রতিদিন গড়ে আপনার দোকানে ১৫০ জন কাস্টোমার আসে। তো আপনি মনে করলেন আপনার দোকানের বিক্রি আরও বাড়ানো দরকার। তাই আপনি অনলাইনে বা অফলাইনে কিভাবে বিক্রি বা কাস্টোমার বাড়ানো যায় সে জন্য অনেককেই বললেন। তাদেরকে আপনি বললেন তারা যদি পণ্য বিক্রি করে দেয় তবে পণ্য বিক্রির লাভের একটা অংম তারাও পাবেন। তো আপনি এভাবে ৫ জনকে বললেন তারা ৫ জন আপনার দোকানে প্রতিদিন আরও কাস্টোমার আসার ব্যবস্থা করে দিল। ধরা যাক তারা ৫ জন মিলে ৫০০ কাস্টোমার ব্যবস্থা করলো। তো ১৫০ জনে যদি আপনার ৫০০ টাকা লাভ থাকতো এখন তো আরও বেশি থাকবে। আর সেই লাভের একটা কমিশান তাদেরকে দেবেন অর্থ্যৎ যদি আপনি সেই বাড়তি ৫০০ জনের মাধ্যমে আরও ২ হাজার টাকা লাভ করেন তবে সেটার যদি ৫০% ও আপনি তাদেরকে দেন তারপরেও আপনার থাকছে ১ হাজার টাকা। আর আগের ৫০০ মিলে মোট ১৫০০ টাকা এখানে আপনিও লাভবান হলেন আপনার তারাও লাভবান হলো। এটাকেই মূলত বলা হয় Affiliate Marketing বা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং। 

Affiliate Marketing বা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার আগে আপনি কিছু বিষয় জানতে হবে তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় আমি আলোচনা করছি। যেগুলো জানার পর আপনি Affiliate Marketing বা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করলে অনলাইনে আয় করতে পারবেন। বিষয়গুলো হলোঃ 


(ক) ভালো Niche বা নিশ নির্বাচন করা শিখতে হবে 

(খ) ভালো Affiliate Network বা অ্যাফিলিয়েট নেটওয়ার্ক এ যুক্ত হতে হবে 

(গ) ভালো অফার তৈরি করতে জানতে হবে 

(ঘ) ভালো ল্যান্ডিং পেজ বা Landing Page বানাতে হবে 

(ঙ) ভিজিটর বা Visitor বাড়ানোর চেষ্টা করতে হবে 


উপরের বিষয়গুলো জেনে যদি আপনি Affiliate Marketing বা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করা শুরু করেন আশা করা যায় আপনি অনেক ভালো করতে পারবেন। কারণ এই বিষয়গুলোই অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ Affiliate Marketing বা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর জন্য। যাইহোক এখন বিস্তারিত আলোচনা করলে হয়তো বুঝবেন বিষয়গুলো সম্পর্কে। 

(ক) ভালো Niche বা নিশ নির্বাচন করা শিখতে হবে 

নিশ বলা হয় সেই জিনিসকে যেটা আপনি বিক্রি করবেন। একটা ভালো নিশ বা পন্য নির্বাচন করা এফিলেট মার্কেটিং করার জন্য অনেক বড় একটা বিষয়। অনেকেই দেখবেন জিজ্ঞেস করে কি নিয়ে বিজনেস করলে ভালো করা যাবে বা কি নিয়ে ব্যবসা করবো বা কোন ব্যবসায় লাভ কেমন হবে বা কোনটা ভালো হবে। এমন নানা প্রশ্ন আর এই প্রশ্নের সবচেয়ে ভালো উত্তরটাই হলো একটা ভালো নিশ। নিশ নির্বাচনের ক্ষেত্রে আপনাকে অনেকটা সময় যদি নিতে হয় তবে নেবেন কারন একটা ভালো মানের নিশ ছাড়া আপনি ভালো লাভ করতে পারবেন না। বর্তমান সময় অনলাইনের সময় এখানে আপনি অনলাইনের ঘরে বসেই সকল তথ্য অনায়াসে পাচ্ছেন বা বিভিন্ন পন্যও পাচ্ছে ঘরে বসেই। আর এই ঘরে বসে পণ্য পাওয়ার জন্য আপনাকে অবশ্যই অনলাইন গিয়ে খোজ করতে হচ্ছে। এখন আপনি লক্ষ্য করেন কোন ধরনের পণ্য মানুষ ঘরে বসেই পাচ্ছে বা কোন ধরনের পণ্যগুলো মানুষ অনেক বেশি কিনছে। 

এভাবে আপনি একটা ভালো মানের পণ্য নির্বাচন করে সেটা নিয়ে Affiliate Marketing করতে পারেন। Affiliate Marketing করার ক্ষেত্রে নিচের তিনটা বিষয় লক্ষ রাখতে পারেন। যেমন, 


(১) কিভাবে টাকা উপার্জন করা যায় অনলাইনে 

(২) স্বাস্থ্য নিয়ে কোন পণ্য 

(৩) ফিজিক্যাল কোন পণ্য 

উপরের তিনটা বিষয় নিয়ে আপনি নিশ তৈরি করলে সেটা অনেক ভালো চলবে Affiliate Marketing এর ক্ষেত্রে। আমার ব্যক্তিগত পরামর্শ থাকবে আপনি উপরের তিনটা বিষয় নিয়ে কোন পণ্য নির্বাচন করুন। 

(খ) ভালো Affiliate Network বা অ্যাফিলিয়েট নেটওয়ার্ক এ যুক্ত হতে হবে 

ভালো অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য যেমন ভালো মানের নিশ নির্বাচন করা অনেক জরুরী তেমনি জরুরী বিষয় হলো ভালো মানের Affiliate Network বা অ্যাফিলিয়েট নেটওয়ার্ক এর সাথে যুক্ত থাকা। ভালো Affiliate Network বা অ্যাফিলিয়েট নেটওয়ার্ক ছাড়া আপনি ভালো আয়ের কথা চিন্তাও করতে পারবেন না। কারণ আপনি একটা নিশ নির্বাচন করে সেটাকে তো পাবলিশ করতে হবে। আর Affiliate Network বা অ্যাফিলিয়েট নেটওয়ার্ক এই কাজের জন্য অনেক বেশি সহযোগীতা করে থাকে। আমি নিচে কিছু Affiliate Network বা অ্যাফিলিয়েট নেটওয়ার্ক এর সাইটের লিংক উল্লেখ করছি। 


  1. Clickbank

  2. Warrior Plus 

  3. Jvzoo

  4. Widi Trade 

  5. Adwork Media 

  6. Maxbounty 


এই Affiliate Network বা অ্যাফিলিয়েট নেটওয়ার্ক গুলো অন্যতম। এই সকল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে আপনি আপনার নিশকে পাবলিশ করতে পারবেন। যারা ভালো মানের অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার তারা ভালো কিছু নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত থাকার কারণে অনেক বেশি পরিমাণে আয় করতে সক্ষম হয়। 

(গ) ভালো অফার তৈরি করতে জানতে হবে 

প্রত্যেকটা কম্পানি তাদের পণ্য গুলো যখন মার্কেটে ছাড়ে তখন চিন্তা করে কোন অফারের মাধ্যমে সেটি সকল মানুষের কাছে পৌছানো যাবে। আর তাদের মার্কেটিং টিম প্রথমে সেই অফার তৈরি করে থাকে আর সেটা কিছুদিন কনটিনিউ করে থাকে যেন সেটা একটা মার্কেটিং হিসেবে কাজ করে। আর যখন মার্কেটিং এর কাজ হয়ে যায় তখন তারা খুব ভালো মতই অফার পরিবর্তন করে নিজেদের প্রফিটের বিষয়টা চিন্তা করে থাকে। আসলে একজন ভালো অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার সব সময় ভালো অফারের চেষ্টা করে থাকে। বিশেষ করে আমাদের মত দেশে আপনি ভালো প্রডাক্ট নিয়ে কাজ করা বা ভালো নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত থাকার সাথে সাথে ভালো একটা অফার তৈরি করার কাজটাও অনেক জরুরী। 

(ঘ) ভালো ল্যান্ডিং পেজ বা Landing Page বানাতে হবে 

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বা সিপিএ মার্কেটিং এর অফার সরাসরি ফেইসবুক বা গুগলে প্রমোট করা যায় না। করলে আপনার একাউন্ট ব্যান্ড হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে। তাই একটা ভালো ল্যান্ডিং পেজ বা Landing Page তৈরি করতে হয় যেমন ভিজিটর সেখানে থাকে। একজন ভিজিটরের চাহিদাগুলো যদি আপনার পেজে থাকে তবে তারা বেশি সময় থাকবে আপনার সাইটে। আর যত বেশি ভিজিটর থাকবে তত বেশি আপনার তৈরিকৃত অফার দেখে তার প্রতি আকৃষ্ট হবে। তাই একটা ভালো মানের ল্যান্ডিং পেজ বা Landing Page তৈরি করে ভালো কনটেন্ট দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। ল্যান্ডিং পেজ বা Landing Page ডিজাইনের ক্ষেত্রে ভিজিটরদের আকর্ষনের বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে দেখতে হবে। 

(ঙ) ভিজিটর বা Visitor বাড়ানোর চেষ্টা করতে হবে 

সবার শেষে এসে যেই বিষয়টা থাকে সেটা হলো অনলাইনে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে সফল বা ভালো করার জন্য অনেক বেশি পরিমাণে ট্রাফিক বা ভিজিটর। আর এই কোয়ালিটিফুল ট্রাফ্রিক বা ভিজিটর আসলে অনেক বেশি আয় করা কোন ব্যাপারই না। আর কোয়ালিটিফুল ভিজিটর আসার বা আনার ক্ষেত্রে ফেইসবুক, গুগল বা অন্যন্যা সোসিয়াল বা মাধ্যমে Add দেওয়া যেতে পারে। আপনি ভালো ক্যাম্পেইন করতে পারলে দিনে অনেক বেশি আয় করতে পারবেন। তবে ক্যাম্পেইন সেট করার ক্ষেত্রে কিছু বিষয় আপনাকে মাথায় রেখে করতে হবে। কারণ আপনার পণ্য ও টার্গেট কাস্টোমার নির্বাচন করাটা অনেক বেশি জরুরী। 

আমি উপরের ৫টি বিষয়ের মাধ্যমে Affiliate Marketing বা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর মৌলিক বিষয়গুলো আলোচনা করার চেষ্টা করেছি। আর আপনি উপরের বিষয়গুলো পাশাপাশি অবশ্যই অভিজ্ঞ কোন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটারের পরামর্শ নিতে পারেন। এতে করে আপনি আরও ভালো ধারণা পাবেন কারণ অনেক সময় অভিজ্ঞতা অনেক বেশি উপকার করতে পারে এই সেক্টরে। একজন ভালো মানের অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হতে গেলে আপনাকে অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হবে। আর একটা উপরের দিকে উঠে গেলে আপনার আর পেছনের দিকে তাকানোর প্রয়োজন হবে না আশা করি। আশা করি আর্টিকেলটি অনেক ভালো লাগবে যারা Affiliate Marketing বা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে চাইছেন তাদের জন্য। অনেক সময় কিভাবে শুরু করবেন কিভাবে করলে ভালো করবেন এসব ধারণা থাকে না আমার মনে হয় এর পরে আর কোন কনফিউশান থাকবে না। অনেক ধন্যবাদ মূল্যবান সময় নিয়ে পড়ার জন্য। 

Leave a Comment